ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে রাজধানীতে শুরু হতে যাচ্ছে সপ্তাহব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা-৪১৬’ চলচ্চিত্র উৎসব। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবে ঢাকাই চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ ১৩টি সিনেমা প্রদর্শন করা হবে। পাশাপাশি চলচ্চিত্র অঙ্গনে অবদানের জন্য ৫৮ জন শিল্পী ও কলাকুশলীকে সম্মাননা দেওয়া হবে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলের মধুমিতা হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উৎসবের বিস্তারিত কর্মসূচি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। তিনি জানান, ঢাকার চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মকে নগর সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন।
আগামী ২২ আগস্ট (শনিবার) বিকেল ৪টায় মধুমিতা সিনেমা হলে উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এছাড়া সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ও ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
উৎসবে যেসব সিনেমা প্রদর্শিত হবে:
২২ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টায় আব্দুল জব্বার খানের ‘মুখ ও মুখোশ’ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শন শুরু হবে।
২৩ আগস্ট বিকেল ৩টায় খান আতাউর রহমানের ‘নবাব সিরাজদ্দৌলা’ এবং সন্ধ্যা ৬টায় বশির হোসেনের ‘১৩ নং ফেকুওস্তাগার লেন’ দেখানো হবে।
২৪ আগস্ট বিকেল ৩টায় জহির রায়হানের ‘জীবন থেকে নেওয়া’ এবং সন্ধ্যা ৬টায় গাজী মাজহারুল আনোয়ারের ‘নান্টু ঘটক’ প্রদর্শিত হবে।
২৫ আগস্ট বিকেল ৩টায় আজিজুর রহমানের ‘অশিক্ষিত’ এবং সন্ধ্যা ৬টায় জহিরুল হকের ‘রংবাজ’ প্রদর্শিত হবে।
২৬ আগস্ট বিকেল ৩টায় সুভাষ দত্তের ‘সবুজ সাথী’ এবং সন্ধ্যা ৬টায় অশোক ঘোষের ‘নাচের পুতুল’ দেখানো হবে।
২৭ আগস্ট বিকেল ৩টায় এহতেশামের ‘দূরদেশ’ এবং সন্ধ্যা ৬টায় শেখ নিয়ামত আলীর ‘দহন’ প্রদর্শিত হবে।
উৎসবের শেষ দিন ২৮ আগস্ট বিকেল ৩টায় দেওয়ান নজরুলের ‘দোস্ত দুশমন’ এবং সন্ধ্যা ৬টায় কাজী জহিরের ‘বধু বিদায়’ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী শেষ হবে।
এ ছাড়া ঢাকাই চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রবীণ ও নবীন শিল্পী, পরিচালক, লেখক, সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও চিত্রগ্রাহকসহ মোট ৫৮ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিনয়শিল্পী দিলারা জামান, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি চৌধুরী মাজহার আলী (শিবা শানু), মধুমিতা সিনেমা হলের ব্যবস্থাপক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদসহ ডিএসসিসির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে রাজধানীতে শুরু হতে যাচ্ছে সপ্তাহব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা-৪১৬’ চলচ্চিত্র উৎসব। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবে ঢাকাই চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ ১৩টি সিনেমা প্রদর্শন করা হবে। পাশাপাশি চলচ্চিত্র অঙ্গনে অবদানের জন্য ৫৮ জন শিল্পী ও কলাকুশলীকে সম্মাননা দেওয়া হবে। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলের মধুমিতা হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উৎসবের বিস্তারিত কর্মসূচি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। তিনি জানান, ঢাকার চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মকে নগর সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন। আগামী ২২ আগস্ট (শনিবার) বিকেল ৪টায় মধুমিতা সিনেমা হলে উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এছাড়া সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ও ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। উৎসবে যেসব সিনেমা প্রদর্শিত হবে: ২২ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টায় আব্দুল জব্বার খানের ‘মুখ ও মুখোশ’ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শন শুরু হবে। ২৩ আগস্ট বিকেল ৩টায় খান আতাউর রহমানের ‘নবাব সিরাজদ্দৌলা’ এবং সন্ধ্যা ৬টায় বশির হোসেনের ‘১৩ নং ফেকুওস্তাগার লেন’ দেখানো হবে। ২৪ আগস্ট বিকেল ৩টায় জহির রায়হানের ‘জীবন থেকে নেওয়া’ এবং সন্ধ্যা ৬টায় গাজী মাজহারুল আনোয়ারের ‘নান্টু ঘটক’ প্রদর্শিত হবে। ২৫ আগস্ট বিকেল ৩টায় আজিজুর রহমানের ‘অশিক্ষিত’ এবং সন্ধ্যা ৬টায় জহিরুল হকের ‘রংবাজ’ প্রদর্শিত হবে। ২৬ আগস্ট বিকেল ৩টায় সুভাষ দত্তের ‘সবুজ সাথী’ এবং সন্ধ্যা ৬টায় অশোক ঘোষের ‘নাচের পুতুল’ দেখানো হবে। ২৭ আগস্ট বিকেল ৩টায় এহতেশামের ‘দূরদেশ’ এবং সন্ধ্যা ৬টায় শেখ নিয়ামত আলীর ‘দহন’ প্রদর্শিত হবে। উৎসবের শেষ দিন ২৮ আগস্ট বিকেল ৩টায় দেওয়ান নজরুলের ‘দোস্ত দুশমন’ এবং সন্ধ্যা ৬টায় কাজী জহিরের ‘বধু বিদায়’ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী শেষ হবে। এ ছাড়া ঢাকাই চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রবীণ ও নবীন শিল্পী, পরিচালক, লেখক, সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও চিত্রগ্রাহকসহ মোট ৫৮ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা দেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে অভিনয়শিল্পী দিলারা জামান, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি চৌধুরী মাজহার আলী (শিবা শানু), মধুমিতা সিনেমা হলের ব্যবস্থাপক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদসহ ডিএসসিসির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে ২৬ বছর বয়সি এক টিকটকারকে গুলি করে হত্যা করেছে একদল অজ্ঞাত পরিচয় হামলাকারী। শামসু বিবি (যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আয়েশা গিলামনা’ নামে পরিচিত) আর্থিক সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে খুন হয়েছেন বলে জানা গেছে। খবর দ্য প্রিন্টের। পুলিশ অপরাধীদের গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হওয়ায় নিহতের ভাই নিয়ামাতুল্লাহ জানান, তারা ন্যায়বিচারের জন্য পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মারিয়াম নওয়াজ শরিফের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এই হত্যাকাণ্ড পাকিস্তানে নারীদের ওপর চলমান সহিংসতার বিষয়টি আবারও জোর আলোচনায় নিয়ে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের একটি ভিডিও ফুটেজ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, একটি মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি বাজারে একটি গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিল। পরে তারা আয়েশার গাড়ির কাছাকাছি এসে ভেতরে একাধিক গুলি চালায় এবং স্থান ত্যাগ করে। মৃত্যুর পর আয়েশার টিকটক অ্যাকাউন্টটি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, যেখানে তার ফলোয়ার সংখ্যা ছিল ১৩ লাখেরও বেশি। রাওয়ালপিন্ডি-ইসলামাবাদ অঞ্চলে টিকটক কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও তরুণীদের লক্ষ্য করে হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিক ঘটনায় এটি নতুন সংযোজন। আয়েশার এই নির্মম হত্যাকাণ্ড নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। স্বতন্ত্র পাকিস্তানি সাংবাদিক আম্মারা আহমেদ সংবাদ পরিবেশনায় দেখা যাওয়া অসংবেদনশীলতা এবং নারীবিদ্বেষী দৃষ্টিভঙ্গির কড়া সমালোচনা করেছেন। একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজ তার জানাজায় মানুষের কম উপস্থিতি নিয়ে ব্যঙ্গ করে লেখে, ‘১৩ লাখ ফলোয়ার থাকার পরও তার জানাজায় খুব অল্প মানুষ উপস্থিত ছিল, যা সোশ্যাল মিডিয়ার আসল চেহারা তুলে ধরে।’ এই প্রসঙ্গে আম্মারা আহমেদ মন্তব্য করেন, ‘পাকিস্তানি নারীরা মৃত্যুর পরও ন্যুনতম সম্মান পান না। শামসু বিবি ট্যাক্সিলায় নিহত একজন তরুণ ইনফ্লুয়েন্সার ছিলেন। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পেজের শিরোনাম হলো এটি! ছবিগুলো তার আসল জানাজার কিনা তা স্পষ্ট নয়, তবে যিনি বা যারা এটি পোস্ট করেছেন তাদের জন্য লজ্জা।’
মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সমুদ্রের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা ‘মান্নাত’ শুধু শাহরুখ খানের বাড়ি নয়, তার কোটি ভক্তের কাছে যেন স্বপ্নের ঠিকানা। প্রতিদিনই এই বাড়ির সামনে ভিড় করেন ভক্তরা, এক ঝলক কিং খানকে দেখার আশায়। কিন্তু সেই ‘মান্নাত’-এই ঘটে গেল ভিন্ন এক ঘটনা। বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের বাড়ির ভেতর একসঙ্গে দেখা মিলল দুটি সাপের। মুহূর্তেই শুরু হয় হইচই। খবর দেয়া হয় বন দপ্তর ও সাপ উদ্ধারকারী দলকে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে এই তথ্য। সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত ৮টা নাগাদ মান্নতে সাপ দুটির দেখা মেলে। মান্নতের উঠোনের সিঁড়ির নিচে একটি সাপ লুকিয়ে ছিল। সেটিকে পরীক্ষা করে উদ্ধারকারীরা জানতে পারেন, এটি ইন্ডিয়ান র্যাট স্নেক। স্থানীয়ভাবে এই সাপ ঢ্যামনা বা দেশি দাঁড়াশ নামে পরিচিত। স্বস্তির বিষয় হলো, সাপটি বিষধর নয়। উদ্ধারকারীরা কাছে যেতেই আতঙ্কে কুণ্ডলী পাকিয়ে যায় সাপটি। কিছুক্ষণ চেষ্টার পর সেটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। পরে বন দপ্তরের নিয়ম মেনে প্রাকৃতিক পরিবেশে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে দ্বিতীয় সাপটির ভাগ্য ছিল অন্যরকম। মান্নতের চত্বরে মানুষের চলাচল ও উদ্ধারকারীদের তৎপরতায় ভয় পেয়ে সেটি পালিয়ে যায়। পরে অনেক খোঁজ করেও তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। শাহরুখের বাড়িতে এমন ঘটনা অবশ্য একেবারে নতুন নয়। কয়েক মাস আগে তার প্রতিবেশী ও বলিউড তারকা সলমন খানের বান্দ্রার গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টেও সাপ ঢুকে পড়েছিল। খবর পেয়ে সাপ উদ্ধারকারীকে ডাকা হয়। পরে সাপটিকে উদ্ধার করে বন দফতরের কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। এদিকে কাজের ব্যস্ততায় রয়েছেন শাহরুখ খানও। তার পরবর্তী সিনেমা ‘কিং’ নিয়ে চলছে জোর প্রস্তুতি। ছবিতে শাহরুখের সঙ্গে অভিনয় করছেন তার মেয়ে সুহানা খান। বড়পর্দায় এটিই সুহানার প্রথম ছবি। চলতি বছরেই সিনেমাটি মুক্তির কথা রয়েছে। যদিও মান্নতের বাসিন্দাদের স্বস্তি— জোড়া অতিথির একজনকে নিরাপদে বিদায় করা গেছে। তবে অন্যটি কোথায় লুকিয়ে আছে, সেটিই এখন কিছুটা আতঙ্কের বিষয়।