বিনোদন

জিম ছাড়াই যেভাবে ১৮ কেজি ওজন কমালেন আমির খান

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১৬, ২০২৬

বয়স ৬০ ছুঁইছুঁই হলেও বলিউড অভিনেতা আমির খানের নতুন লুক দেখে তা বোঝার উপায় নেই। কোনো ধরনের জিম বা ব্যায়াম ছাড়াই ১৮ কেজি ওজন কমিয়ে ভক্তদের তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে তার এই বদল নিয়ে চলছে বেশ আলোচনা। তবে এই পরিবর্তনের নেপথ্যে শরীরচর্চা নয়, বরং কাজ করেছে তার বিশেষ খাদ্যাভ্যাস।

 

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আমির খান জানান, তার এই ওজন কমানোর নেপথ্যে রয়েছে ‘অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি’ বা প্রদাহ-বিরোধী ডায়েট। তবে মজার বিষয় হলো, ওজন কমানো তার মূল লক্ষ্য ছিল না। দীর্ঘদিনের যন্ত্রণাদায়ক মাইগ্রেনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতেই তিনি এই বিশেষ ডায়েট শুরু করেছিলেন।

 

আমির বলেন, আমি মাইগ্রেনের চিকিৎসার জন্য এই ডায়েট শুরু করেছিলাম। কিন্তু দেখলাম, আমার ১৮ কেজি ওজন কমে গেছে। এটি অনেকটা নিজে থেকেই হয়েছে। বর্তমানে আমার মাইগ্রেনের সমস্যাও অনেক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

 

পুষ্টিবিদদের মতে, শরীরে ‘ক্রনিক ইনফ্ল্যামেশন’ বা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি হলে ইনসুলিন ও লেপটিন হরমোনের কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত হয়, যা মেদ জমার অন্যতম প্রধান কারণ। অতিরিক্ত চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও মানসিক চাপের ফলে এই সমস্যা দেখা দেয়। আমিরের ক্ষেত্রে প্রদাহ-বিরোধী খাবারগুলো শরীরের মেদ ঝরাতে সাহায্য করেছে। এর আগে বলিউড অভিনেত্রী বিদ্যা বালানও একই পদ্ধতিতে ওজন কমিয়েছিলেন।

 

নিজের ডায়েট চার্ট থেকে বেশ কিছু খাবার পুরোপুরি বাদ দিয়েছিলেন আমির খান। এর মধ্যে রয়েছে, চিনিযুক্ত পানীয় (কোল্ড ড্রিংকস বা প্যাকেটজাত জুস), রিফাইন অয়েল বা সয়াবিন তেল, ফাস্ট ফুড, প্রক্রিয়াজাত মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য এবং সাদা চাল বা ময়দার তৈরি খাবার। মূলত ঘরোয়া ও স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়েই নিজেকে আমূল বদলে ফেলেছেন এই তারকা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

বিনোদন

আরও দেখুন
সৃজা । ছবি : সংগৃহীত
ঢাকার সৌন্দর্যে মুগ্ধ অভিনেত্রী সৃজা

ঢাকাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কলকাতার নায়িকাদের উপস্থিতি আগে থেকেই ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এটা বেড়েছে। গত কয়েক বছরে ইধিকা পাল, জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু, সুস্মিতা, কৌশানীকে আমরা দেখেছি ঢালিউড সিনেমায়। এবার প্রথম ঢাকার কাজে যুক্ত হলেন কলকাতার আরেক অভিনেত্রী সৃজা দত্ত। তিনি অভিনয় করেছেন ‘তাজমহল’ নামে একটি সিনেমায়। এতে তাকে নায়িকার ভূমিকায় দেখা যাবে।   ছবিটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বঙ্গ নির্মাণ করেছে। কাঁটাতার, দেশভাগ ভালোবাসাকে আটকাতে পারে না এমনই এক গল্প নিয়ে এ সিনেমা। এটি পরিচালনা করেছেন ওয়াহিদ অনম। প্রেমের গল্পের সিনেমা ‘তাজমহল’ মুক্তি পাবে ঈদের দিন। ঢাকায় সৃজার প্রথম কাজ হলেও, কলকাতায় তিনি বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করেছেন। নায়ক দেবের সঙ্গে ‘বাঘা যতীন’ সিনেমা দিয়ে তার বড় পর্দায় অভিষেক হয়। এরপর ‘টেক্কা’ সিনেমাতেও অভিনয় করেন। এ অভিনেত্রীকে সর্বশেষ বড় পর্দায় দেখা গেছে ‘রঘু ডাকাত’ সিনেমায়। সিনেমার বাইরে হইচইয়ের ‘নিশির ডাক’ সিরিজেও অভিনয় করেছেন সৃজা। এদিকে ঢাকার কাজের সুযোগ পেয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত এ অভিনেত্রী। সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি, তাই লুফে নিয়েছেন। ঢাকা থেকে কীভাবে ডাক পেলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যোগাযোগ হচ্ছিল। ডাকও পাচ্ছিলাম। শেষে ‘প্রেসার কুকার’ সিনেমার নায়ক ফইজুল ইয়ামিনের বিপরীতে সুযোগ এলো।” ঢাকায় কেমন কাটল জানতে চাইলে সৃজা বলেন, ‘বাংলাদেশ শান্ত। তারা ভারতীয়দের খুব ভালোবাসেন। কোথায় বসাবেন, কী খাওয়াবেন, বুঝে উঠতে পারেন না! কী যে আন্তরিক সবাই।’ অভিনেত্রী জানান, কলকাতায় ফেরার সময় ভুল পথে গিয়ে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছাতে দেরি করে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু তাকে কলকাতায় ফিরতেই হবে, কারণ পরের দিন তার পরীক্ষা। তিনি বলেন, ‘সেদিন বিমানবন্দরের সবাই আমাকে সহযোগিতা করেছেন। আমার জন্য বিমান দেরিতে উড়েছে। এ আন্তরিকতা ভুলব কী করে?’ ভালো অভিজ্ঞতা পাশাপাশি সৃজা একটি আক্ষেপের কথাও বলেন। তিনি জানান, তাড়াহুড়োয় তার ইলিশ খাওয়া হয়নি। তার বদলে কাচ্চি বিরিয়ানি খেয়েছেন। সৃজার সঙ্গে ঢাকায় তার মা-ও এসেছিলেন। তিনি নিজের আর মেয়ের জন্য ঢাকাই জামদানি কিনেছেন। সিনেমার দৃশ্য ধারণের কাজ হয়েছে সিলেট অঞ্চলে। সেখানকার ভাষা শিখতে হয়েছে সৃজাকে। তিনি আরও বলেন, “বিনোদন দুনিয়ায় বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে আসছে। এক মাসের কম সময়ে শুট শেষ হয়ে মুক্তি পাচ্ছে তাজমহল’।”

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

পরিবারজুড়ে ব্রাজিল সমর্থন, তবে খেলা খুব একটা বোঝেন না হিমি

সংগৃহীত ছবি

কানে ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে আরাধ্যার অভিষেক, প্রশংসায় ভাসছে নেটদুনিয়া

ছবি: সংগৃহীত

‘আই অ্যাম সাইকো’ সংলাপে আলোচনায় শুভ, অ্যাকশনে চমক মিম

জায়েদ খান ও নিউইয়র্ক সিটির বর্তমান মেয়র জোহরান কোয়াম মামদানি। ছবি : সংগৃহীত
ইমিগ্রেন্ট ডায়েরিসে নিউইয়র্ক মেয়রের সঙ্গে জায়েদ খান

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় চমক নিয়ে হাজির হলেন আলোচিত চিত্রনায়ক জায়েদ খান। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির বর্তমান মেয়র জোহরান কোয়ামে মামদানির সঙ্গে একই পর্দায় দেখা যাবে এই অভিনেতাকে। জন কবির ও সাদ আল আমীন পরিচালিত শর্টফিল্ম ইমিগ্রেন্ট ডায়েরিস এপিসোড ২-এ তারা একসঙ্গে কাজ করেছেন। প্রবাসীদের জীবনসংগ্রাম ও নানা গল্প নিয়ে তৈরি এই শর্টফিল্মটি আগামী ২৭ মে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় ঠিকানায় মুক্তি পাবে। এর আগে গত মার্চে এর প্রথম পর্বটি দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। এমন একজন বিশ্ববরেণ্য ও ক্ষমতাধর ব্যক্তিত্বের সঙ্গে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে জায়েদ খান বলেন ‘জোহরান মামদানি সরাসরি আমার সাথে এই শর্টফিল্মে অভিনয় করেছেন। তার সঙ্গে কাজ করতে পারা শুধু আমার একার নয় বরং লাল-সবুজের বাংলাদেশের পতাকার জন্যই এক বিশাল গর্বের বিষয়।’ মেয়রকে কীভাবে এই প্রজেক্টে যুক্ত করা হলো তার পেছনের গল্পও শোনান এই নায়ক। তিনি জানান, ঠিকানার রুহিন হোসেন ও তার স্ত্রী আনুভা শাহীন হোসেনের মাধ্যমেই এই অসাধ্য সাধন হয়েছে। তারাই মেয়রের দপ্তরে ইমেইল করে প্রজেক্টের বিস্তারিত জানান। এরপর বেশ কিছুদিন অপেক্ষার পর মেয়রের অফিস থেকে শুটিংয়ের শিডিউল পাওয়া যায়। শুটিং সেটে ক্ষমতাধর এই মেয়রের মাটির মানুষ রূপ দেখেও মুগ্ধ হয়েছেন জায়েদ। নিজের স্বপ্নের মতো এই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন ‘তিনি পৃথিবীর একজন সেলিব্রেটি মেয়র এবং অত্যন্ত ক্ষমতাধর। কিন্তু শুটিং সেটে তিনি কোনো অহংকার দেখাননি। বরং একজন সাধারণ অভিনেতার মতোই বারবার পরিচালকের নির্দেশ মেনে নিখুঁত শট দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কাজটি করে তিনি নিজেও ভীষণ আনন্দিত।’

মারিয়া রহমান মে ২৩, ২০২৬
পাঞ্জাবি গায়িকা ইন্দর কৌর। ছবি : সংগৃহীত

বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর গায়িকা নিহত, তদন্ত চলছে

ভারতে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতল বাংলাদেশের সিনেমা 'মানুষের বাগান'

শাকিব খান । ছবি : সংগৃহীত

রামিসা হত্যাকাণ্ডে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া অপু বিশ্বাসের

সংগৃহীত ছবি
তীব্র গরমে শরীরের যে তিন অঙ্গ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে

তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে তা মানুষের হার্ট, কিডনি ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার ওপর মারাত্মক এবং দীর্ঘমেয়াদি ‘নীরব ক্ষতি’ সৃষ্টি করে। এই চরম আবহাওয়ায় দীর্ঘ সময় থাকলে কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ ছাড়াই শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো বিকল হতে শুরু করে। তীব্র গরমে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি অঙ্গ যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা নীরব ঘাতকের রূপ ধারণ করে। আগে গ্রীষ্ম অবকাশ বলে টানা এক মাস ছুটি থাকত স্কুল। গরমের দাপট বাড়লে সেই ছুটির মেয়াদ আরও সপ্তাহখানেক চলত। কিন্তু এখন নিয়ম পাল্টে গেছে। গত কয়েক দশক ধরে গ্রীষ্মকালে তাপপ্রবাহ নির্দিষ্ট কোনো মাসে আবদ্ধ নেই। দিনের পর দিন গরম যেভাবে তার রেকর্ড গড়ছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে মারাত্মক জীবনঝুঁকিতে ফেলবে ফলে হিটস্ট্রোক দেখা দেবে।  এ বিষয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, দিনের পর দিন যে পরিমাণ গরম সহ্য করতে করতে মানুষের শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হচ্ছে। শরীর সেই ধকল কাটিয়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত সময়ও পাচ্ছে না। একটানা এ পরিমাণ গরমের সংস্পর্শে থাকলে মানুষের হৃদযন্ত্র, কিডনি, মস্তিষ্ক এবং পরিপাকতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।  তবে বয়সভেদে ঝুঁকির ধরন আলাদা। মানবদেহের নিজস্ব কিছু মেকানিজম রয়েছে। গরম বাড়লে সে নিজেকে ঠান্ডা করার জন্য অতিরিক্ত ঘাম উৎপন্ন করে এবং রক্ত সঞ্চালনের গতি বাড়িয়ে দেয়। ফলে শরীরে তরল ও ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি, ক্লান্তি, মাথাব্যথা এবং চরম অবসাদ তৈরি হয়।  সে জন্য প্রবল গরমের মধ্যে শুধু পানি খেলে শরীর পুরোপুরি সুরক্ষিত থাকে না। কারণ ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে প্রচুর লবণ ও প্রয়োজনীয় খনিজ বেরিয়ে যায়। তাই ওআরএস, ডাবের পানি, লবণ-চিনির পানি, ঘোল কিংবা বাটারমিল্ক এবং পুদিনাপাতা বা লেবু ইনফিউজড ওয়াটার নিয়মিত খেতে হবে। ঘরের তাপমাত্রা খুব বেশি হলে শুধু ফ্যান চালিয়ে লাভ হয় না। সে ক্ষেত্রে ঘরের ভেন্টিলেশন কিংবা বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা ঠিক রাখতে হয়। শরীর অতিরিক্ত গরম মনে হলে ঘাড়, হাত-পা এবং বুকে ঠান্ডা পানি দিয়ে স্পঞ্জ করা যেতে পারে। আর একটানা রোদে ঘোরাঘুরি বা অতিরিক্ত গরমে কাজ করার ফলে শরীরে বারবার ডিহাইড্রেশন কিংবা পানির ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে রক্তে টক্সিন বা বর্জ্য পদার্থের ঘনত্ব বেড়ে যায় এবং কিডনি তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারাতে শুরু করে। চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত গরমের কারণে পেশি নষ্ট হয়ে যায়, লিভারের ওপর চাপ পড়ে এবং রক্তে বিপজ্জনক ইলেক্ট্রোলাইট ইমব্যালেন্সও দেখা দেয়। তীব্র গরমের মধ্যে থাকা শ্রমিক ও চাকরিজীবীদের মধ্যে এখন কিডনিতে পাথর এবং ক্রনিক কিডনি ডিজিজ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। নিজেকে ঠান্ডা রাখতে শরীর রক্তপ্রবাহকে ত্বকের দিকে পাঠাতে চেষ্টা করে। তখন হার্টকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পাম্প করতে হয়। সে কারণে হৃদস্পন্দনের গতি বা হার্ট রেট স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা বেড়ে যায়। মাসের পর মাস এ অবস্থা চলতে থাকলে কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম বা সংবহনতন্ত্রের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে, যা পরবর্তীকালে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। আবার তীব্র গরমের মধ্যেও যদি কোনো ব্যক্তির ঘাম না হয়, তবে বুঝতে হবে— শরীরের নিজস্ব কুলিং সিস্টেম পুরোপুরি বিকল হয়ে গেছে এবং ওই ব্যক্তি হিটস্ট্রোকের শিকার হতে পারেন। মানুষের শরীর রাতের ঘুমের সময় স্বাভাবিক নিয়মেই নিজেকে ঠান্ডা করে এবং ব্রেন ও হরমোন নেটওয়ার্ককে পুনরুজ্জীবিত করে। কিন্তু রাতের তাপমাত্রা বেশি থাকলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, যা মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এর ফলে মনোযোগের অভাব, ভুলে যাওয়া, উদ্বেগ, খিটখিটে মেজাজ এবং মানসিক অবসাদ দেখা দেয়। শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে ভিন্ন লক্ষণ দেখা যায়। শিশুদের শরীর বড়দের তুলনায় দ্রুত গরম হয় এবং তারা প্রচণ্ড ঘামে। ফলে দ্রুত ডিহাইড্রেশনের শিকার হয়। অতিরিক্ত ক্লান্তি, খিটখিটে ভাব, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, খাওয়ার অনিচ্ছা ও অলসতা। নবজাতকদের ক্ষেত্রে চোখ বসে যাওয়া, কান্নার সময় চোখ দিয়ে পানি না পড়া বা শরীর অতিরিক্ত গরম কিন্তু ত্বক শুকনো থাকা অত্যন্ত বিপজ্জনক লক্ষণ। আর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমে যায়। তাই  ৪৫ ডিগ্রি গরমে প্রবীণদের স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক এবং অ্যারিদমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে সবচেয়ে বেশি। ডিমেনশিয়া বা স্নায়ুরোগে আক্রান্ত প্রবীণরা অনেক সময় তৃষ্ণা অনুভব করার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেন। হঠাৎ বিভ্রান্তি, অসংলগ্ন কথাবার্তা, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস বা হ্যালুসিনেশনও হতে পারে।

মারিয়া রহমান মে ২২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

দুধের স্বাদ ঘোলে মেটালেন হিরো আলম, এবার সঙ্গী ইধিকা পাল

ছবি: সংগৃহীত

রামিসা হত্যাকাণ্ডে বিচার দাবিতে উত্তাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও শোবিজ অঙ্গন

নিহত শিশু রামিসা ও মেগাস্টার শাকিব খান। ছবি : সংগৃহীত

রামিসার আর্তনাদ ছুঁয়ে গেল শাকিব খানকেও

0 Comments