ভেনেজুয়েলা ও কলম্বিয়ায় কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে দুই দেশের উদ্ধার তৎপরতায় বড় পার্থক্য দেখা গেছে। ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে সাধারণ মানুষকেই দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়েছে। বিপরীতে কলম্বিয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা শুরুতে উদ্ধারকাজে এগিয়ে এলেও দ্রুত সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা সমন্বয় করে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
ভেনেজুয়েলায় জুনের শেষ দিকে পরপর ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল। দেশটিতে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বর্তমানে ৬ হাজার ৩০০ জনে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
লা গুয়াইরার লস কোকোস এলাকায় হুগো চাভেজের নামে নির্মিত প্রায় ১ হাজার ১০০ পরিবারের একটি আবাসন প্রকল্পের বেশির ভাগ ভবন ধসে পড়ে। সেখানে পরিবার, প্রতিবেশী ও স্থানীয় কিছু কর্মকর্তা দিনের পর দিন খালি হাতে, বালতি ও লাঠি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা করেন। পরে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল ও সীমিতসংখ্যক সরকারি কর্মী তাদের সঙ্গে যোগ দেন।
উদ্ধারকাজে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির ঘাটতিও ছিল প্রকট। স্থানীয় বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপ সরাতে ক্রেন ও অন্যান্য যন্ত্রপাতির দাবি জানালেও তা পেতে সময় লেগেছে। এমনকি ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ বের করে আনার সময় স্থানীয়দের পুরোনো গদি ব্যবহার করতে দেখা যায়। কয়েক দিন পর এক বা দুইজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ সেখানে পৌঁছান।
এর প্রায় এক মাস পর ঘটনাস্থলে দুটি ক্রেনসহ ভারী যন্ত্রপাতি আনা হয়। তবে ততদিনে উদ্ধারকাজ অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়ে। সরকারি কর্মকর্তারা ধ্বংসস্তূপের ভেতর ছয়তলা পর্যন্ত গর্ত করে কাজ করেন এবং সেনাসদস্যদের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করেন। উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের কেউ কেউ জানান, তাদের ব্যবহৃত কিছু যন্ত্রপাতিও ঠিকমতো কাজ করছিল না।
অন্যদিকে, কলম্বিয়ার ক্যালিতে ভূমিকম্পে একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবন ধসে পড়ার পর শুরুতে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকেরাই উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। প্রথম কয়েক ঘণ্টায় তারা ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রায় ২০ জনকে উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত স্থানীয় দমকল বাহিনী, পুলিশ, নৌবাহিনী ও অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
দুই দিনের মধ্যেই ক্যালির উদ্ধারকাজ বেশ সুশৃঙ্খল হয়ে ওঠে। স্বেচ্ছাসেবকদের নির্দিষ্ট কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়, যাতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত ভিড় না হয় এবং উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের শব্দ শুনতে পারেন। একই সঙ্গে নিয়মিত ট্রাক ও ক্রেন ব্যবহার করে ধ্বংসাবশেষ সরানো হয়। মরদেহ উদ্ধারের দায়িত্বে ছিল ফরেনসিক পুলিশ সদস্যরা।
কলম্বিয়ার ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৩৮০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ভূমিকম্পটির মাত্রা ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পগুলোর কাছাকাছি হলেও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রায় বড় পার্থক্য দেখা গেছে।
তবে শুধু ভূমিকম্পের মাত্রা দিয়ে এই পার্থক্য ব্যাখ্যা করা যায় না। ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল তুলনামূলক অগভীর এবং কিছু এলাকায় মাটির স্থিতিশীলতাও কম ছিল। অন্যদিকে কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পটি তুলনামূলক গভীরে হয়।
রয়টার্স বলছে, দুই দেশের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতাও দুর্যোগ মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রেখেছে। ভেনেজুয়েলা বছরের পর বছর অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি, দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি এবং সরকারি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটির অন্তর্বর্তী সরকার অবশ্য উদ্ধার তৎপরতায় কোনো ধরনের গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
অন্যদিকে কলম্বিয়ায় সরকারি সংস্থাগুলোর দ্রুত সমন্বয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ধারকাজ পরিচালনার সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর ছিল। তবে দেশটির দরিদ্রতম প্রদেশ চোকো নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ভূমিকম্পে সেখানে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘদিনের দারিদ্র্য, সরকারি সেবার ঘাটতি ও সশস্ত্র সংঘাতের কারণে ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ত্রাণকর্মীরা।
উল্লেখ্য, দুই দেশেই জরুরি অবস্থা মোকাবিলার কাজ এখনো শেষ হয়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইউরোপজুড়ে বিভিন্ন বিমান সংস্থার ১৯টি উড়োজাহাজ বোমা হামলার হুমকি পেয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত দুটি বিমান বিকল্প বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়েছে। তবে যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হামলার হুমকি ভুয়া ছিল। একযোগে একাধিক বিমানে হামলার হুমকি আসায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুমকি পাওয়া ১৯টি বিমানের মধ্যে দুটি বিমানকে বিকল্প গন্তব্যে অবতরণ করানো হয়। অন্য বিমানগুলো নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছায়। এ ছাড়া হুমকির কারণে অন্তত দুটি বিমান উড্ডয়ন করেনি। পরে সেগুলোতে পুলিশের পক্ষ থেকে তল্লাশি চালানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত হুমকি পাওয়া কোনো বিমানে বোমার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী হেইদি আলেক্সান্ডার জানিয়েছেন, ইউরোপের বিভিন্ন বিমানে ভুয়া বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, ইউরোপের অল্পসংখ্যক বিমান এসব হুমকির কারণে সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ভুয়া হুমকি মোকাবিলায় প্রচলিত নিরাপত্তা নীতিমালা ও পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো এ ধরনের হুমকির কারণে ইউরোপের বিমান চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। এদিকে বিমান সংস্থাগুলো যেকোনো ধরনের বোমা হামলার হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে যাত্রী ও উড়োজাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সূত্র: বিবিসি
ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মন্তব্যের জেরে তাকে কটাক্ষ করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধের প্রভাবের কথা স্বীকার করে ভ্যান্সের দেওয়া এক বক্তব্যের জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এ মন্তব্য করেন তিনি। গালিবাফ ভ্যান্সকে এমন এক জুয়াড়ির সঙ্গে তুলনা করেন, যিনি হেরে যাওয়ার পরও জুয়ার টেবিল ছাড়তে পারেন না। এক্সে দেওয়া পোস্টে গালিবাফ লেখেন, ‘হেরে যাওয়া জুয়াড়ির মানসিকতা... বস যখন যুদ্ধের পরবর্তী পর্যায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন আমেরিকা ইসরায়েল-প্রথম নীতির খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে।’ ভ্যান্সের দীর্ঘ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি আরও লেখেন, ‘এত দীর্ঘ বক্তৃতা বাদ দিন। কথাগুলো আপনার বসকে গিয়ে বলছেন না কেন?’ এর আগে ভ্যান্স তার এক দীর্ঘ পোস্টে স্বীকার করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণে রিপাবলিকানরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে রাজনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের জলদস্যু মোকাবিলা বাহিনী চেওংহের তৎপরতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। আজ (বৃহস্পতিবার) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কেবিএস। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এ সম্প্রসারণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চেওংহের হরমুজ ইউনিটে আরও ৭৫ জন সদস্য যুক্ত করা হবে, যার ফলে মোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৯৫ জনে। গত কয়েক মাস ধরেই সিউল জানিয়ে আসছিল যে, তারা হরমুজ প্রণালিতে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং সেখানে সৈন্য পাঠানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়া এমন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেবে না, যার ফলশ্রুতিতে ভবিষ্যতে দেশটি কোনো বিদেশি সংঘাতের জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হতে পারে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, জাতীয় সংসদে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব পেশ করার আগে তারা মন্ত্রিসভার পর্যালোচনা এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে। ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই হরমুজ প্রণালিটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ‘চেওংহে’ ইউনিটটি ২০০৯ সাল থেকে হরমুজে মোতায়েন রয়েছে এবং প্রতি বছর এর কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য পার্লামেন্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। কেবিএসের তথ্য অনুযায়ী, এই ইউনিটটি মূলত সোমালিয়া উপকূলের কাছে এডেন উপসাগরে এবং ‘দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য নির্ধারিত জরুরি অঞ্চলগুলোতে’ মোতায়েন থাকে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী এই ইউনিটের কার্যক্রমের এলাকা ওমানের দুকম বন্দরের দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত হবে, যা হরমুজ প্রণালী থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, মন্ত্রণালয় এই ইউনিটের সক্ষমতা বাড়াতে সেখানে অতিরিক্ত সহায়তা পাঠাতে চায়। এর মধ্যে রয়েছে একটি পি-৮এ পোসেইডন সামুদ্রিক টহল বিমান, বিভিন্ন ধরনের চালকবিহীন মাইন-প্রতিরোধক সরঞ্জাম এবং বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী দল। সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি