রমজানের পবিত্র মাসে মানবিকতার বার্তা দিতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে রাস্তায় নেমে ইফতারি তৈরিতে হাত লাগিয়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী ডেইজি শাহ। তবে সেই মানবিক উদ্যোগই সামাজিক মাধ্যমে হয়ে উঠেছে বিতর্কের বিষয়। ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক কটাক্ষে যখন তোপের মুখে পড়েন এই তারকা, তখন চুপ থাকেননি তিনি—বরং দৃঢ় কণ্ঠে দিয়েছেন জবাব, যা নতুন করে জন্ম দিয়েছে আলোচনার ।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ডেইজি শাহর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে রাস্তার পাশে ইফতারি প্রস্তুতিতে সাহায্য করতে দেখা যায়। এই ভিডিওর নিচে এক নেটিজেন ডেইজির পূর্বের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বিদ্রূপ করেন। গত বছর দীপাবলিতে আতশবাজি ফোটানোর প্রতিবাদ করেছিলেন এই অভিনেত্রী। সেই সূত্র ধরে ওই ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ইনি ডেইজি শাহ। আতশবাজি নিয়ে তার সমস্যা আছে, অথচ তিনি ইফতারের আয়োজনে অংশ নিয়ে রান্না করছেন।
এই মন্তব্যের জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ৪১ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, জননিরাপত্তার স্বার্থে আতশবাজির বিরোধিতা করা আর ইফতারি রান্না করা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। ওই নেটিজেনকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ধর্মের দোহাই দিয়ে ঘৃণা ছড়ানোর এই প্রচেষ্টার জন্য আপনাকে শুভকামনা। আপনার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। মূলত গত বছর মুম্বাইয়ের বান্দ্রা এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় অনিয়ন্ত্রিত আতশবাজির কারণে একটি আবাসিক ভবনে আগুন লেগে গিয়েছিল।
ডেইজির নিজের বাসার পাশের সেই ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিনি জননিরাপত্তা নিয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন। সেই পুরোনো প্রতিবাদের সঙ্গে বর্তমান ইফতারি বিতরণের বিষয়টিকে মিলিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ডেইজি।
উল্লেখ্য, কোরিওগ্রাফার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা এই অভিনেত্রী ২০১৪ সালে সালমান খানের বিপরীতে অভিনয় করে বিশেষ পরিচিতি পান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। বিশ্বখ্যাত পপ তারকা রিহানার লস অ্যাঞ্জেলেসের বিলাসবহুল বাসভবনে হঠাৎই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ভয়াবহ সেই মুহূর্তে গায়িকা নিজেই বাড়ির ভেতরে অবস্থান করছিলেন। ঘটনার পরপরই এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩০ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৮ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর সোয়া ১টার দিকে বেভারলি হিলস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ (এলএপিডি) জানিয়েছে, একটি সাদা টেসলা গাড়ি থেকে রিহানার বাড়ি লক্ষ্য করে প্রায় ১০ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এর মধ্যে একটি গুলি বাড়ির দেয়াল ভেদ করে ভেতরে ঢুকে যায়। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নারীকে হেফাজতে নেয় এবং একটি অস্ত্র উদ্ধার করে। তবে এ ঘটনায় রিহানা বা অন্য কেউ হতাহত হননি। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস জানিয়েছে, এলএপিডির ডাকাতি ও হত্যা বিভাগ বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্ত করছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, ৩৮ বছর বয়সী রিহানা তার সঙ্গী র্যাপার এএসএপি রকি এবং তাদের তিন সন্তান- আরজেডএ, রায়ট ও রকির সঙ্গে এই বাড়িতে বসবাস করেন। ঘটনার সময় রিহানা ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যরা সেখানে ছিলেন কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে রিহানা বর্তমানে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ আছেন বলে জানানো হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রিহানা এ পর্যন্ত ২৫ কোটি ইউনিটের বেশি রেকর্ড বিক্রি করেছেন। ক্যারিবীয় ঘরানার গান দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও ‘গুড গার্ল গন ব্যাড’ অ্যালবামের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক তারকাখ্যাতি পান।
প্রেমের টানে স্বপ্নের সংসার গড়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি। ২০১১ সালে অস্ট্রিয়া প্রবাসী হোটেল ব্যবসায়ী পিটার হাগের সঙ্গে বিয়ের মাধ্যমে নতুন জীবনের সূচনা করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ভালোবাসার গল্পই সময়ের সঙ্গে রূপ নেয় দুঃসহ এক বাস্তবতায়। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে নাকি নীরবে সহ্য করেছেন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন— এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে এবার মুখ খুললেন এই অভিনেত্রী। তার দাবি, একজন সফল ও শিক্ষিত নারী হয়েও বছরের পর বছর ধরে তিনি এমন এক দাম্পত্য জীবনে আটকে ছিলেন, যা তার কাছে ছিল যেন নরকযন্ত্রণা। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করে নিজের জীবনের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন সেলিনা জেটলি। ডিভোর্সনামায় সেলিনা উল্লেখ করেছেন, বিয়ের পর থেকেই পিটার হাগ তাকে যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকেন। তার পরিবার থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকার গয়না ও উপহার দেওয়ার পরও শান্ত হননি পিটার। এমনকি ইতালিতে মধুচন্দ্রিমার সময় অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসকের কাছে যেতে চাইলে তার দিকে মদের গ্লাস ছুড়ে মারা হয়। তার কথায়, ইতালিতে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে যখন প্রিয়ডের তীব্র যন্ত্রণায় ভুগছি, পিটারকে বলেছিলাম, ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে। ও রেগে গিয়ে চেঁচিয়ে আমার দিকে গ্লাস ছুড়ে মারে। সেলিনার দাবি, যমজ সন্তান জন্ম দেওয়ার মাত্র তিন সপ্তাহের মাথায় তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার মতো নিষ্ঠুর আচরণও করেছেন তার স্বামী। এছাড়া ২০১২ সালের দিল্লিতে ধর্ষণের ঘটনার উদাহরণ টেনে তাকে ভয়াবহ হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সেলিনা আরও উল্লেখ করেন, ২০১৪-১৫ সাল থেকে আমাকে ওর অফিসের উচ্চপদস্থ কর্মীদের সঙ্গে যৌনতায় লিপ্ত হতে বাধ্য করত। বলত, এতে অফিসে ওর প্রোমোশন হবে। রাত হলেই আমাকে ওপরের ঘরে ডেকে পাঠিয়ে চলত অকথ্য যৌনঅত্যাচার। আমাকে ‘যৌন পুতুল’ হিসেবে ব্যবহার করতেন তিনি। এছাড়া নিয়মিত বিকৃত যৌনচার এবং নগ্ন ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করার মতো গুরুতর অভিযোগও এনেছেন সেলিনা। এছাড়া সম্প্রতি এক পোস্টে সেলিনা উল্লেখ করেন, যখন কেউ নিজের দেশ, পরিবার ও সংস্কৃতি ছেড়ে দীর্ঘ সময় বিদেশে কাটায়, তখন সে ধীরে ধীরে নতুন পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেয়। কিন্তু এক সময় সে বুঝতে পারে, যে মাটির সাথে তার শৈশবের স্মৃতি জড়িত নয়, সেখানে সে কখনোই পুরোপুরি ‘নিজের’ হতে পারে না। এদিকে বছরখানেক ধরে সিনেপর্দা, লাইমলাইটের অন্তরালে থাকলেও এক সমইয়ের ‘বোল্ড’ বলিউড নায়িকার এই পোস্ট নিয়ে রীতিমতো নেটিজেনদের মাঝে আলোচনা চলছে। বর্তমানে তার তিন সন্তান অস্ট্রিয়ায় রয়েছে এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি অভিনেত্রীর। এই পরিস্থিতিতে সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগের অধিকার ও উপার্জনের ক্ষতির ক্ষতিপূরণ বাবদ পিটারের কাছে খোরপোশ দাবি করেছেন তিনি।
‘আমি শাহজাহান ইসলাম নূর, বাংলাদেশি মুসলমান, মনে রাইখো?’ সংক্ষিপ্ত এ সংলাপেই আসন্ন ঈদুল ফিতরের সিনেমা ‘দম’-এর টিজারে বাজিমাত করলেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেতা আফরান নিশো। রোববার (০৮ ফেব্রুয়ারি) সদ্য প্রকাশিত ৫৪ সেকেন্ডের ফার্স্টলুক টিজারে ঘটলো যেন এক বিস্ফোরণ, কারণ সেখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপে হাজির হয়েছেন অভিনেতা নিশো। তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, রহস্যময় উপস্থিতি আর টানটান আবহ ইতোমধ্যেই দর্শকদের কৌতূহলকে পৌঁছে দিয়েছে চরমে। প্রকাশিত সেই টিজারে ফুটে উঠেছে উদ্বেগ, নির্যাতন ও বেঁচে থাকার কঠিন এক সংগ্রামের গল্প। টিজারটিতে দেখা যায়, কোনো এক রহস্যজনক ঘটনার পর পাহাড় আর মরুভূমির মতো দুর্গম পরিবেশে দিশেহারা হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন নিশো। সিনেমাটিতে তার চরিত্রের নাম শাহজাহান ইসলাম নূর। চরিত্রটির চোখেমুখে আতঙ্ক, চারপাশে বিপদের ঘনঘটা। একপর্যায়ে অস্ত্রধারী একটি দল তাকে আটক করে এবং নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে দেখা যায় তাকে। টিজারে ক্লান্ত, রুগণ ও ভীত এক লুকে ধরা দিয়েছেন নিশো। অন্যদিকে অভিনেত্রী পূজা চেরীর অভিব্যক্তিতে ফুটে উঠেছে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক। একই সঙ্গে বন্দি অবস্থায় দেখা যায় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীকে। টিজারের লোকেশন ও ভিজ্যুয়ালও দর্শকের নজর কেড়েছে। প্রতিটি দৃশ্য যেন প্রশ্ন তোলে—কে পালাচ্ছে, কে তাড়া করছে, আর শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে বেঁচে থাকার শেষ সুযোগ। ছবিটি নিয়ে নির্মাতা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘দম এখন আর শুধু আমাদের সিনেমা নয়, এটি এখন সবার। দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলেই আমাদের সার্থকতা। টিজারটি মূল সিনেমার একটি ঝলক মাত্র। দুর্গম লোকেশনে এমন ভিজ্যুয়াল হয়তো বাংলাদেশের সিনেমায় আগে খুব কমই দেখা গেছে।’ অভিনেতা আফরান নিশো বলেন, ‘দম একটি সারভাইভাল স্টোরি এবং খুবই ইমোশনাল গল্প। এমন একটি সিনেমা বানাতেও দম লাগে, যা আমাদের পুরো টিম মিলে দেখিয়েছে। টিজারটি দর্শকদের ভালো লাগছে জেনে আমাদেরও ভালো লাগছে।’ সিনেমাটিতে পূজা চেরীর চরিত্রের নাম ‘রানি’। চরিত্রটি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘রানি খুবই দৃঢ় ব্যক্তিত্বের একটি চরিত্র। টিজারে তার লুক মাত্র দেখা গেছে। চরিত্রটির বেশ কয়েকটি স্তর রয়েছে, যা দর্শকরা সিনেমা দেখলেই বুঝতে পারবেন।’ ছবিটি প্রযোজনা করেছে এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্ট এবং চরকি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার শাকিল জানান, গত আড়াই বছর ধরে সিনেমাটি নিয়ে কাজ করা হয়েছে এবং বাংলা সিনেমাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। সত্য ঘটনা অবলম্বনে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন পরিচালক রেদওয়ান রনি। ছবিটির বেশিরভাগ শুটিং হয়েছে কাজাখস্তানে, আর বাকি অংশের শুটিং হয়েছে বাংলাদেশে। নির্মাতা রেদওয়ান রনির সঙ্গে ছবিটির চিত্রনাট্য লিখেছেন সৈয়দ আহমেদ শাওকী, আল-আমিন হাসান নির্ঝর, মো. সাইফুল্লাহ রিয়াদ এবং রবিউল আলম রবি।