অন্যান্য

নির্দেশনা অমান্য করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখায় কড়া বার্তা

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬

পবিত্র রমজান মাসে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। তবে নির্দেশনা থাকলেও টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে কিছু স্কুলে ক্লাস ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালু রাখার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের সতর্ক করেছে।

 
এর আগে ছুটি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং-৩৭.০০.০০০০০৯.০৮.০০২.০২(অংশ)-৭২ অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে পবিত্র রমজান, শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব, শবেকদর, জুমাতুল বিদা, ঈদুল ফিতর এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত মোট ৩৬ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
 
এতে আরো বলা হয়, সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কালিহাতি উপজেলায় কিছু কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাঠদান ও শ্রেণি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে মর্মে বিভিন্ন মহল হতে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে; যা সরকারি নিদের্শনার পরিপন্থী। নির্দেশনা অনুযায়ী ২৬ মার্চ পর্যন্ত ছুটি নিশ্চিত করার জন্য সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ করা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যান্য

আরও দেখুন
বিএনপি ও জামায়াতের লোগো
বিএনপি-জামায়াতের বিরোধিতা কি ‘লোকদেখানো’

নির্বাচনের আগে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে তুমুল বিরোধিতা দেখা গেলেও সরকার গঠনের পর থেকেই সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। দল দুটি সরকার ও বিরোধী আসনে থাকলেও তাদের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে এক ধরনের ‘বোঝাপড়া আছে’ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি ও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা নিয়েও দুপক্ষের অঘোষিত ঐক্য দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে সরকারপ্রধান ও বিরোধীদলীয় নেতার মাঝে বৈঠক, জ্বালানি ইস্যু, বিরোধী এমপিদের এলাকায় উন্নয়ন, স্থানীয় পর্যায়ে বিচার-সালিশ ও হাঁট-বাজারের ইজারাসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে দুইপক্ষের মধ্যেই এক ধরনের সমন্বয় রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একটি অংশ। তারা বলছেন, দুই দলের দৃশ্যমান বিরোধিতা দেখা গেলেও ভেতরে ভেতরে তাদের মধ্যে ঐক্য ঠিকই আছে।  ক্ষমতাসীন বিএনপি ও প্রধান বিরোধী দল জামায়াতের সঙ্গে মিত্রতা ছিল দীর্ঘদিনের। গত দুই দশক রাজপথ থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা সব ক্ষেত্রেই ছিল তাদের দহররম-মহররম সম্পর্ক। তবে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই দলেরই পথ হয়ে যায় আলাদা। বিশেষ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় দুই দলের শীর্ষ নেতারাই একজন আরেকজনকে লক্ষ্য করে অভিযোগের তির ছোড়েন। বিএনপির পক্ষ থেকে জামায়াতকে ‘স্বাধীনতাবিরোধী’, আবার জামায়াতের নেতারা বিএনপিকে ‘চাঁদাবাজ’ আখ্যায়িত করে বক্তব্য দেন। রাজধানী থেকে তৃণমূল পর্যায়ে বেশ কয়েকটি সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। তবে নির্বাচনের পর এ চিত্রের অনেকটা পরিবর্তন ঘটে। ‘আমরা বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করবো না। সরকারের ভালো কাজেরও প্রশংসা করবো,’ সম্প্রতি বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের এমন বক্তব্যের পর এ ধরনের আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। অবশ্য দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এমন ঐক্য সময়োপযোগী বলেও মনে করছেন কেউ কেউ। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, ‘দেশের ব্যাংকিং খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতি ভঙ্গুর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট—সব মিলিয়ে দেশের অবস্থা ভালো নয়। তাই দেশের স্বার্থে সরকার যদি বাণিজ্যিক কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চায়, সেটি ইতিবাচক হলে অবশ্যই বিরোধী দলের সহযোগিতা করা উচিত। আর আওয়ামী লীগ প্রশ্নেও তাদের বোঝাপড়া থাকা দরকার। কারণ দুইপক্ষই বিগত দিনে নির্যাতিত হয়েছে। তাই দেশের প্রয়োজনে সরকার ও বিরোধী দলের ঐক্য জরুরি।’ জ্বালানি সংকট নিয়ে ঐক্যের সূচনা ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে গত ফেব্রুয়ারি থেকেই দেশে জ্বালানি সংকট চরম আকার ধারণ করে। প্রতিটি পাম্পেই ছিল যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। এ নিয়ে যখন অচলাবস্থা বিরাজ করছিল, তখন সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে এক ধরনের ঐক্য তৈরি হয়। গত ২৪ এপ্রিল সংসদের ২০তম অধিবেশনে দুপক্ষের মধ্যে কমিটি গঠন করা হয়। সেদিন বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারকে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে সারা দেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কথা বলার আগ্রহ জানিয়ে স্পিকারের কাছে বার্তা পাঠান তিনি। বক্তব্যে তুলে ধরেন ১০ সদস্যের কমিটি গঠনের মাধ্যমে আলোচনা করার। পরে বিদ্যুৎ জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে প্রধান করে সরকার দলের ৫ সদস্যের নাম ঘোষণা করেন সংসদ নেতা। এদিকে, বিরোধী দল থেকেও পাঁচ সদস্যের নাম চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। পরে পাঁচ সদস্যের তালিকা দেয় বিরোধী দল। এসব কমিটির কারণে এ সংকট নিরসন হয় বলে দুই পক্ষেরই দাবি। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধে অভিন্ন অবস্থান জুলাইয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত কোনও সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিধান যুক্ত করে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে জাতীয় সংসদ। গত বছর ওই অধ্যাদেশের বলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। সেখানেও সরকার ও বিরোধী দলের তেমন দ্বিমত নেই। গত ৯ এপ্রিল দুপুরে জাতীয় সংসদে এ সংক্রান্ত ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল’ পাস করা হয়। এই অধ্যাদেশের বিষয়বস্তুতে কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। এতে কোনও সত্তাকে নিষিদ্ধের পাশাপাশি তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার ক্ষমতাও এই আইনে থাকছে। আগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোনও ব্যক্তি বা সত্তাকে নিষিদ্ধের বিধান থাকলেও কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিধান ছিল না। ওই অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দিতে জাতীয় সংসদে বিল পাস হয়। এর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। সেখানে জামায়াতের আমির সংসদে আলোচনার কথা বললেও সরকারি দল এতে আগ্রহ দেখায়নি। আর বিরোধী দলও তেমন জোরালো আপত্তি করেনি। বাণিজ্যচুক্তিতে দুইপক্ষের সম্মতি নিয়ে আলোচনা নির্বাচনের তিন দিন আগে করা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তির বিষয়েও সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলের এক ধরনের ঐক্য রয়েছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে কথা উঠেছে। বিশেষ করে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতের পক্ষ থেকে সংসদে আলোচনা বা রাজপথে কোনও আন্দোলন না থাকায় এ ধরনের আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। বিরোধী দল যখন সংসদে এ সংক্রান্ত আলোচনা উপস্থাপন করেনি, সেখানে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা আলোচনা করতে চাইলেও সুযোগ দেয়নি সরকারপক্ষ। তবে এই চুক্তিতে নিজেদের সম্পৃক্ততা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে বিরোধী দল জামায়াত। সর্বশেষ গত ১৬ মে রংপুরে দলীয় কর্মসূচিতে এ নিয়ে মুখ খোলেন দলটির আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত দায়িত্ব নিয়ে বলছি, তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে কোনও একজন মানুষও এ বিষয় নিয়ে আমাদের সঙ্গে একটি শব্দ উচ্চারণ করেনি। এটাই হচ্ছে আমাদের ওপিনিয়ন।’ জানতে চাইলে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘‘তথাকথিত বিরোধী দল যতই সরকারের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করুক, দেশের মানুষের তা বোঝার বাকি নেই। তারা মূলত ‘আমরা আর মামুরা’ টাইপের সরকার চালাচ্ছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘বাণিজ্যচুক্তিতে দুইপক্ষেরই সম্মতি ছিল। আমাদের বিশ্বাস—তারা এ নিয়ে জবাবদিহি করবে না। তাই রাজপথে বিরোধী দল হিসেবে আমাদেরই ভূমিকা রাখতে হবে।’’ দুই ধরনের ব্যাখ্যা নেতাদের সরকার ও বিরোধী দল আসলে কি লিয়াজোঁ রক্ষা করে চলছে? এমন প্রশ্নে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সহ-সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, ‘বর্তমান সরকার ও বিরোধী দল একে অপরের সহযোগী। অথচ বাইরে বিরোধিতার অভিনয় করছে। এতে জনগণের অধিকার বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কা থাকবে।’ এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, ‘আমরা জনগণের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারকে ছাড় দিচ্ছি না। তবে ইতিবাচক কাজের প্রশংসা করলেও যেকোনও অন্যায় সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সংসদ ও রাজপথে আমাদের ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।’ তবে ভিন্ন কথা বলছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান।তিনি বলেন, ‘সরকার তার নিজস্ব গতিতেই চলছে। জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনও পদক্ষেপ এখনও পর্যন্ত নেয়নি। আর বিরোধী দল কখন কী অবস্থান নেয়, সেটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার।’

মারিয়া রহমান মে ১৮, ২০২৬
ছবি-সংগৃহীত

দেশে ইরেকটাইল ডিসফাংশন থাকা ৮০ ভাগ পুরুষের উচ্চ রক্তচাপ: জরিপ

হেফাজত আমিরের সঙ্গে মামুনুল হকের সাক্ষাত: জামায়াত নিয়ে বার্তা

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নতুন কমিটি, ছাত্রদল বলছে হাস্যকর

ছবি: সংগৃহীত
বেসিসের নেতৃত্বে ফিরছে আওয়ামী সিন্ডিকেট

গুরুতর অনিয়ম ও স্বচ্ছতা সংকটে পড়ছে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)। ২৭ জুন অনুষ্ঠেয় নির্বাচন ঘিরে ভোটার তালিকায় ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে আওয়ামী সিন্ডিকেটের ফেরার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সদস্যপদ যাচাই-বাছাই না করেই চূড়ান্ত করা হয়েছে তালিকা।  আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তৈরি হওয়া ‘ভুয়া’ ভোটারদের একটি বড় অংশ রয়ে গেছে তালিকায়। বাস্তবে যাদের কোনো প্রযুক্তি ব্যবসা নেই। তাদের প্র্রভাবেই বেসিস হয়ে উঠেছিল আওয়ামী দলীয় প্রযুক্তি সংস্থা। মেম্বারশিপ অডিট ছাড়াই নির্বাচনের তফসিল ও ভোটার তালিকা প্রকাশ করায় অনেক সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, বেসিসের নেতৃত্ব আবারও পুরোনো আওয়ামী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত প্রযুক্তি ব্যবসায়ী ছাড়া ভুয়া সদস্য বহাল থাকলে দীর্ঘ মেয়াদে সংকটে পড়বে দেশের প্রযুক্তি খাত।  বেসিসের সাবেক সভাপতি ফাহিম মাসরুর বলেন, বেসিস দেশের প্রযুক্তি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন। এখানে যোগ্য ও প্রকৃত প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা নেতৃত্বে না এলে পুরো খাতই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সদস্যপদ ও ভোটার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সংগঠনের বিশ্বাসযোগ্যতা যেমন নষ্ট হবে, তেমনই দেশের প্রযুক্তি শিল্পের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হবে। প্রযুক্তি খাতের স্বার্থে একটি নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি। বেসিস সংস্কার পরিষদের আহ্বায়ক বাংলা পাজেল লিমিটেডের সিইও মুহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, সংগঠনে বিপুলসংখ্যক ভুয়া সদস্য রয়েছে। তফসিল ঘোষণার আগেই আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে সদস্যপদ অডিট করে তাদের বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু অডিট ছাড়াই নির্বাচন আয়োজন করায় আবারও ভোট কারচুপির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। বেসিসে বর্তমানে সদস্যসংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৮০০। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ সদস্যই সরাসরি প্রযুক্তি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নয়। এমনকি তাদের অনেকের বেসিস সদস্য হওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতাও নেই। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নির্বাচনি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে এসব ‘ডামি ভোটার’ তৈরি করা হয়। ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আগের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক নিয়োগ দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগ স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব একেএম হাফিজুল্লাহ খান লিটনকে গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বেসিসের কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে প্রশাসক ১০ সদস্যের একটি সহায়ক কমিটি গঠন করেন। তবে প্রশাসক ও সহায়ক কমিটি ৬ মাসের বেশি সময় কাজ করলেও সদস্যপদ হালনাগাদ ও আর্থিক নিরীক্ষার (অডিট) কার্যক্রম সম্পন্ন করেনি। অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে গঠিত নির্বাচন বোর্ড মেম্বারশিপ অডিট সম্পন্ন না করেই ৫ এপ্রিল নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করে। ২৭ এপ্রিল ছিল ভোটার হওয়ার শেষ দিন। ৭ মে প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। যুগান্তরের হাতে আসা প্রাথমিক ভোটার তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এবারের নির্বাচনে ৭২৫ জন সদস্য ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করেন। এর মধ্যে জেনারেল ক্যাটাগরিতে ৪৩১, অ্যাসোসিয়েট ক্যাটাগরিতে ৯৬, অ্যাফিলিয়েট ক্যাটাগরিতে ৮৪ এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্যাটাগরিতে ৪ জন। প্রাথমিকভাবে ৬১৫ জন ভোটার হিসাবে অনুমোদন পান। ১১০ জনের আবেদন বাতিল করা হয়। ১৫ মে শুক্রবার ছুটির দিন গভীর রাতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। এতে দেখা যায়, ৭২৫ জন আবেদনকারীর বিপরীতে চূড়ান্ত তালিকায় ৯৩৫ জন ভোটার। সেখানে জেনারেলে ৬২৬, অ্যাসোসিয়েটে ১৯২, অ্যাফিলিয়েটে ১২২ এবং ইন্টারন্যাশনালে ৫ জন। অর্থাৎ, আবেদনকারীর চেয়েও ২১০ জন বেশি ভোটার যুক্ত হয়েছেন। বাড়তি ২১০ জন ভোটার কোথা থেকে কীভাবে এলেন, এ নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। অনেক ভোটারের বেসিসের সদস্য হওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতাই নেই, আবার অনেকেই প্রযুক্তি ব্যবসায়ও সক্রিয় নন।  নিয়ম অনুযায়ী বেসিসের সদস্যপদের ক্ষেত্রে সরাসরি সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টে যুক্ত এবং ন্যূনতম দুই বছরের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানকে জেনারেল সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সদস্যপদ যাচাইয়ের সময় প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট সচল আছে কি না, তা প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করার কথা থাকলেও বাস্তবে সে মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি। একাধিক সদস্য প্রতিষ্ঠানের কার্যকর ওয়েবসাইটই নেই। জেড কর্প সলিউশনের সামিরা জুবেরি হিমিকার নাম উঠে এসেছে ওই তালিকায়। তিনি বেক্সিমকো গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গিগাটেকের প্রতিনিধি হিসাবে যুক্ত থাকার পাশাপাশি নিজস্ব একটি প্রতিষ্ঠান থেকেও বেসিসের ভোটার হয়েছেন। তার প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট (http://www.zcorpsolutions.com/) বর্তমানে অকার্যকর।  এছাড়া ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন এনআরবি জবস লিমিটেডের দিলারা আফরোজ খান। বেসিস পোর্টালে তাদের ঠিকানা হিসাবে কাওরান বাজারের ভিশন টুয়েন্টি টুয়েন্টি ওয়ান উল্লেখ থাকলেও ভবনটিতে সংস্কারকাজ চলমান থাকায় সেখানে প্রতিষ্ঠানটির কোনো কার্যকর অফিস নেই। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটও সচল নয়। ভোটার তালিকায় আরও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন আওয়ামী সরকারের সাবেক মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য র‌্যাডিসন ডিজিটাল লিমিটেডের দেলোয়ার হোসাইন ফারুক, সালমান এফ রহমানের ব্যবসায়িক অংশীদার দোহাটেক নিউ মিডিয়া, সিসটেক ডিজিটালের এম রাশিদুল হাসান, বেক্সিমকো গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গিগাটেক লিমিটেডের সামিরা জুবেরি হিমিকা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিপক্ষে বেসিসে সভা আয়োজনের অভিযোগ থাকা টিম ক্রিয়েটিভের তসলিম আহমেদ রাসেলসহ বহু আওয়ামী দোসর। জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় কয়েকজন প্রার্থী অভিযোগ করেছেন, সব কাগজপত্র ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাদের প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিক ও চূড়ান্ত কোনো তালিকাতেই ভোটার হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট রুপম রাজ্জাক জানান, আপিল করার পরও তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম চূড়ান্ত তালিকায় আসেনি। একই অভিযোগ ব্যবসায়ী শোহিবুর রহমান খান রানার। তিনি যুগান্তরকে জানান, প্রয়োজনীয় সব যোগ্যতা পূরণের পরও তার প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা সাজিয়ে পুরোনো সুবিধাভোগী গোষ্ঠীকে আবারও বেসিসের নিয়ন্ত্রণে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেসিসের নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও উপসচিব তানিয়া ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না। বিতর্ক উঠেছে নির্বাচনকালীন প্রশাসনিক দায়িত্ব নিয়েও। জানা গেছে, বেসিসের প্রশাসক স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম-সচিব একেএম হাফিজুল্লাহ খান লিটন ৬ মে থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত হজ পালনের জন্য ছুটিতে থাকবেন। অথচ প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয় ৭ মে। এরপর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয় শুক্রবার গভীর রাতে। নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ সময়জুড়ে প্রশাসকের অনুপস্থিতি নিয়ে সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মারিয়া রহমান মে ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশদিন: ইবাদতের বিশেষ মৌসুম

ছবি: সংগৃহীত

এক পরিবারের কব্জায় সিকদার ইন্স্যুরেন্স

ছবি: সংগৃহীত

সরকার, ভারত ও প্রতিপক্ষকে কঠোর বার্তা জামায়াত আমিরের

ছবি: সংগৃহীত
সরকারের পারফরম্যান্সেই নির্ভর করবে মধ্যবর্তী নির্বাচন: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সরকারের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রয়োজন হবে কিনা। জনগণের ভোগান্তি কিংবা কোনো পরাশক্তির কাছে দেশের স্বার্থ বন্ধক রাখা দেখতে চায় না এনসিপি।   শনিবার রাজধানীর তোপখানা রোডের বিএমএ ভবন মিলনায়তনে জাতীয় যুবশক্তির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘তারুণ্যের ঐক্য: নতুন বাংলাদেশের শক্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।   নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচন হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলা হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। তিনি দায়িত্বশীলদের কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।   দেশে হামের প্রকোপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, চার শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং সরকার এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছে। তিনি দ্রুত মেডিকেল ইমার্জেন্সি ঘোষণা ও কয়েকটি হাসপাতালকে হাম চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত করার দাবি জানান।   সংস্কার কার্যক্রমে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, সরকার গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যান করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করেছে। যুবকদের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়িত হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।   ফারাক্কা দিবস প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, অভিন্ন নদীগুলোতে বাঁধ নির্মাণ করে ভারত বাংলাদেশকে পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করছে। গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।   সীমান্ত হত্যা নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পৃথিবীর অন্যতম রক্তাক্ত সীমান্তে পরিণত হয়েছে। প্রয়োজন হলে সীমান্ত লংমার্চের ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।   বাংলাদেশকে কোনো পরাশক্তির ‘প্লে গ্রাউন্ড’ হতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের পররাষ্ট্রনীতি জনগণের স্বার্থকে কেন্দ্র করেই নির্ধারিত হতে হবে। সম্প্রতি হওয়া আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো সংসদে আলোচনা ও জনসম্মুখে প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি।   সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিকভাবে দেশ পরিচালনার পরিবর্তে জনসংযোগ কৌশলের ওপর নির্ভর করা হচ্ছে। ভালো ও দক্ষ ব্যক্তিদের রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান এবং সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এনসিপি আহ্বায়ক। একইসঙ্গে বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের মিছিলের বিষয়ে সরকারের জবাবদিহি দাবি করেন তিনি।   অনুষ্ঠানে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক Ariful Islam Adib, যুগ্ম সদস্য সচিব Abdullah Al Aminসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৭, ২০২৬
এনসিপি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ভারতের সঙ্গে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি চলবে না: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ছবি : সংগৃহীত

তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন, জানালেন আসিফ নজরুল

ছবি: সংগৃহীত

একসঙ্গে পদত্যাগ করলেন এনসিপির ২২ নেতাকর্মী

0 Comments