যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্যচুক্তি বর্তমান সরকারের উদ্যোগে নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে “উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া”—এমন মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মঙ্গলবার (৫ মে) সচিবালয়ে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত কোনো চুক্তি ব্যক্তিগত চুক্তির মতো নয় যে ইচ্ছামতো বাতিল করা যাবে।”
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই বাণিজ্যচুক্তি পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। “যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিতে ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা থাকে। তাই এ চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগের কিছু নেই,” যোগ করেন তিনি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়েও কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিজেদের অবস্থান ইতোমধ্যে তুলে ধরা হয়েছে।
দেশের স্বার্থ রক্ষাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, “চুক্তির কোনো ধারা যদি বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী হয়, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।” এ কারণে এ বিষয়ে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত অতিরিক্ত শুল্কের প্রভাব কমাতে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
অলঙ্কারের বাজারে এখন স্বর্ণ যেন সোনার হরিণ। শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধির উপকরণ হিসেবেই নয়, বরং লাভজনক বিনিয়োগ এবং দেশের রিজার্ভের মূল্য ধরে রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এই মূল্যবান ধাতু। অস্থির বৈশ্বিক বাজারেও এটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্ববাজারের সঙ্গে দাম সমন্বয় করতে গিয়ে চলতি বছরের প্রথম ২৯ দিনে দেশে এক ভরি স্বর্ণের দাম ৬১ হাজার ৮১৯ টাকা বেড়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকায় পৌঁছায়। পরে দামের ওঠানামার মধ্যে ২৫ মে তা দাঁড়ায় ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকায়। অথচ ২০২১ সালের শুরুতে এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ৭৫ হাজার টাকারও নিচে। বিশ্ববাজারে বর্তমানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৫৩৯ মার্কিন ডলার। সেই হিসেবে এক ভরি স্বর্ণের দাম প্রায় ১ হাজার ৮৬৮ মার্কিন ডলার। প্রতি মার্কিন ডলার সমান ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা হলে দেশে এক ভরি স্বর্ণের দাম হওয়ার কথা ২ লাখ ২৯ হাজার ২৯৭ টাকা। তবে বর্তমানে দেশে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকায়। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ৫ শতাংশ ভ্যাট। যা গিয়ে ঠেকছে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ২৭ টাকায়। এমন মূল্যবৃদ্ধির কারণে অনেক ক্রেতাই এখন স্বর্ণ কেনার আশা ছেড়ে দিয়েছেন। তবে দাম বেড়ে মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেলেও দেশে স্বর্ণের ব্যবহার কমেনি; বরং বিশ্ববাজারের তুলনায় কিছুটা বেশি দামেই দেশে মূল্যবান ধাতু কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এতে ব্যবসায়ও মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ব্যবসার অবস্থা এখন খুবই খারাপ। দাম আজ কমে, কাল বাড়ে; এই পরিস্থিতির কারণে ক্রেতাও কমে গেছে। তার ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট ক্রেতাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে। তবে বাজুসের দাবি, স্বর্ণের দাম বাড়লেও এর ব্যবহার মোটের ওপর কমেনি। বরং অনেকেই বিদেশ থেকে স্বর্ণালঙ্কার কিনে আনার দিকে ঝুঁকছেন। বাজুস সভাপতি এনামুল হক খানের দাবি, বিদেশের তুলনায় দেশে স্বর্ণের দামে এত পার্থক্যের অন্যতম কারণ হচ্ছে কর ও ভ্যাট কাঠামো। তিনি বলেন, মূলত এক ভরি স্বর্ণ আমদানি করতে খরচ রয়েছে, সেটা ডিলারের কাছ থেকে নেয়ার সময় ভ্যাট দিতে হয়। পরে সেই স্বর্ণ দিয়ে অলঙ্কার তৈরি করে ক্রেতার কাছে বিক্রি করার সময় আবারও ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় করে সরকারের কোষাগারে জমা দিতে হয়। এতে ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা; কেউই বাড়তি লাভ করেন না। কিন্তু এসব কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশে স্বর্ণের দামে পার্থক্য তৈরি হয়। এই মূল্য ব্যবধানের পেছনে মূলত বিদ্যমান সরকারি নীতিই দায়ী। একই ধরনের তথ্য দিয়েছে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলও। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে দৈনিক গড়ে ২৩০ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ লেনদেন হয়েছে। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫৪ বিলিয়ন ডলারে। বর্তমানে প্রায় ৩১ ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক স্বর্ণবাজারে ৪৪ শতাংশ সরবরাহ আসে বিভিন্ন দেশের স্বর্ণালঙ্কার খাত থেকে। এই সম্ভাবনাময় বাজারে অংশীদার হতে স্বর্ণ আমদানির নীতিগত জটিলতা দূর করার আহ্বান জানিয়েছে বাজুস। সংগঠনটির সভাপতি বলেন, আমদানির খরচ অনেক বেশি। এছাড়া ভ্যাটের সমস্যা রয়েছে। এরপর একাধিক সংস্থার উপস্থিতিতে স্বর্ণ খালাস করতে হয়। এসব জটিলতার কারণে একজন আমদানিকারক বা ডিলারের জন্য স্বর্ণ আমদানি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তবে দেশের ক্রেতাদের বঞ্চিত করে বিদেশি বাজার ধরতে চান না ব্যবসায়ীরা। তাই মধ্যবিত্তের নাগালে স্বর্ণালঙ্কার রাখতে আসন্ন বাজেটে ৫ শতাংশ ভ্যাট বাতিল করে প্রতি ভরিতে নির্দিষ্ট ২ হাজার টাকা ভ্যাট নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে বাজুস। এনামুল হক খান বলেন, বর্তমানে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায়ের পদ্ধতি চালু আছে। আমরা চাই এটি পরিবর্তন করে শতাংশের ভিত্তিতে নয়, প্রতি ভরিতে ২ হাজার টাকা নির্ধারিত ভ্যাট আদায় করা হোক।
ঈদের টানা ছুটিতে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যকে সচল এবং জেটি ও বহির্নোঙরে পণ্য খালাস স্বাভাবিক রাখতে তিনটি আলাদা টাস্কফোর্স গঠন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। একইভাবে কাস্টমসও গঠন করেছে ১০টি বিশেষ টিম। বন্দর, কাস্টমস, শিপিং, ব্যাংক, সিঅ্যান্ডএফসহ সংশ্লিষ্ট ২৬টি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের যে কোনো একটি অনুপস্থিত থাকলেই তৈরি হয় জটিলতা। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং ঈদের ছুটিতে জেটি ও বহির্নোঙরে পণ্য খালাস স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর সচল রাখতে গঠন করা হয়েছে তিনটি আলাদা টাস্কফোর্স। একই সঙ্গে কাস্টম হাউসও শুল্কায়ন কার্যক্রম চালু রাখতে ১০টি বিশেষ টিম গঠন করেছে। ঈদের টানা ছুটিতে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যকে সচল এবং জেটি ও বহির্নোঙরে পণ্য খালাস স্বাভাবিক রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করতেই এই টাস্কফোর্স ও বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। চলতি মে মাসের ২৫ তারিখ থেকে শুরু হতে যাওয়া পবিত্র ঈদুল আজহার সাত দিনের সরকারি ছুটিকে কেন্দ্র করে এই তৎপরতা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন গড়ে আট হাজার ৭০০ টিইইউস কনটেইনার ওঠানামা হলেও দৈনিক খালাস বা ডেলিভারি হচ্ছে প্রায় সাড়ে চার হাজার টিইইউস কনটেইনার। তবে ঈদের ছুটিতে কনটেইনার ওঠানামা স্বাভাবিক থাকলেও পণ্য খালাস বা ডেলিভারি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা। কারণ আমদানি করা কাঁচামাল সময়মতো কারখানায় না পৌঁছলে এবং প্রস্তুতকৃত পোশাক রপ্তানি করতে না পারলে, উৎপাদন ও সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। এদিকে ঈদের ঠিক আগে ২১টি বেসরকারি অফডকে (আইসিডি) আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে আইসিডিগুলোতে প্রতিদিন সাড়ে ৭ হাজার রপ্তানি কনটেইনার ও আড়াই হাজার আমদানি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হলেও ঈদের আগমুহূর্তে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার রপ্তানি ও সাড়ে তিন হাজার আমদানি কনটেইনারে। বেসরকারি অফডক অ্যাসোসিয়েশন ‘বিকডা’র দাবি, ঈদের আগে শিপমেন্টের চাপ বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংগঠনের মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার বিপ্লব বলেন, ঈদুল আজহার পর দীর্ঘ ছুটি থাকায় অনেক আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক ঈদের পরের কাজগুলোও আগেভাগে সম্পন্ন করে রাখছেন। এ কারণেই চাপ অনেকটাই বেড়ে গেছে। ঈদের ছুটির দিনগুলোতে বাণিজ্য সচল রাখতে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ যে তিনটি পৃথক টাস্কফোর্স গঠন করেছে, সেগুলো মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জোনে কাজ করবে। এগুলো হলো- বহির্নোঙরে বাল্ক পণ্য খালাস তদারকি, জেটিতে কনটেইনার ওঠানামা ও ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনা সচল রাখা, বন্দরের জলসীমার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ। বিজিএমই’র পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করব, তারা যেন ঈদের ছুটিকে সাধারণ ছুটির মতো বিবেচনা করে বন্দর বন্ধ না রাখেন। রপ্তানি ও আমদানির কার্যক্রমকে যেন পুরোদমে অব্যাহত থাকে। পণ্য সময়মতো ইনহাউস করতে না পারলে পোশাক উৎপাদনে বড় ধরনের গ্যাপ তৈরি হবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।’ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য কমোডর আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ জানান, ঈদের সময়ে দুটি টাস্কফোর্স সরাসরি পণ্য খালাস ও জেটি-ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনায় কাজ করবে। এ ছাড়া সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করবে আরো একটি পৃথক টাস্কফোর্স। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, শুল্কায়ন ও এক্সামিনেশন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্বে থাকবেন।
আগামী জুন মাসে প্রথমবারের মতো ‘ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কনফারেন্স ২০২৬’ এর আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের আগে অর্থনৈতিক সক্ষমতা জোরদার এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোই এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য। গতকাল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়। আগামী ১৩ জুন ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে সম্মেলনটি আয়োজন করছে। এর প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘ঝুঁকি মোকাবিলা, সক্ষমতার দ্বার উন্মোচন’। দিনব্যাপী এ আয়োজনে সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ও উপদেষ্টা, ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, বহুজাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা ও বেসরকারি খাতের অংশীজনরা অংশগ্রহণ করবেন। সম্মেলনে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নীতি, অর্থায়ন ও মূলধন সংগ্রহ, বাজারে প্রবেশাধিকার, শিল্প প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সৃজনশীল শিল্প এবং ক্রীড়া বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা ও গোলটেবিল বৈঠক হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আগামী নভেম্বরে এলডিসি তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রাক্কালের সময়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা জোরদারে সম্মেলনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ আয়োজনে প্রায় ৩৫০ জন প্রতিনিধি অংশ নেবেন।