বিনোদন

আলভীর স্ত্রীর আত্মহত্যা, শুটিং ফেলে ঢাকা ফিরছেন অভিনেতা

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬

ছোটপর্দায় জনপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় এই ঘটনা ঘটে। অভিনেতার শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ঘটনার সময় আলভী শুটিংয়ের প্রয়োজনে নেপালে অবস্থান করছিলেন।

 

ঈদুল ফিতরের বিশেষ নাটক ‘দেখা হলো নেপালে’-এর শুটিংয়ে বর্তমানে নেপালে রয়েছেন জাহের আলভী। সেখান থেকেই স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পান তিনি। শোকাতুর এই অভিনেতা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, “খবরটা শোনার পর থেকে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। আমি বুঝতে পারছি না আমাদের সন্তান আর আমার কথা না ভেবে সে কেন এভাবে চলে গেল”। তিনি আরও জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিনি ঢাকা ফেরার চেষ্টা করছেন।

ইকরার মরদেহ বর্তমানে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া ও পুলিশের ছাড়পত্র পাওয়ার পর পারিবারিকভাবে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইকরার চাচা বিপু খান জানান, খবর পেয়ে পরিবারের সবাই ময়মনসিংহ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

২০১০ সালের ৯ নভেম্বর ভালোবেসে ইকরাকে বিয়ে করেছিলেন জাহের আলভী। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময়ের দাম্পত্য জীবনে তাদের ‘ইকরা’ (মতান্তরে রিজিক) নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। শোকের এই মুহূর্তে বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ানোর জন্য সাংবাদিক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন অভিনেতা।

শোকসন্তপ্ত পরিবারের পক্ষ থেকে ইকরার বিদেহী আত্মার জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে। তবে কী কারণে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

বিনোদন

আরও দেখুন
অপু বিশ্বাস
আমার লেহেঙ্গাটা শাকিব খানের খাটের নিচে ছিল : অপু বিশ্বাস

ঢালিউডের জনপ্রিয় জুটি শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের সম্পর্ক নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ এখনও শেষ হয়নি। দুজন এখন দুই ছাদের বাসিন্দা। তবুও তাদের প্রেমে পড়া, গোপন বিয়ে, অপু সন্তানের ঘোষণা, অবশেষে বিচ্ছেদ ঘোষণা বহুল আলোচিত হয়েছে।     সম্প্রতি শাকিব খানকে নিয়ে সুখস্মৃতি সামনে এনেছেন অপু বিশ্বাস।বিয়ের গোপনীয়তা রক্ষা করতে গিয়ে অপু নিজের বিয়ের পোশাক কোথায় লুকিয়ে রেখেছিলেন, সেই গল্পই শোনালেন অকপটে।    অপু বিশ্বাস জানান, বিয়ের দিন তিনি মূলত পার্লারে যাওয়ার কথা বলে গুলশানে শাকিব খানের পাঁচতলার বাসায় গিয়েছিলেন। সেদিন শাকিবের ফুপাতো ভাইয়ের মেয়ের জন্মদিন থাকায় পরিবারের প্রায় সব সদস্যই দাওয়াত খেতে গিয়েছিলেন। ফলে বিকেলে পুরো বাসাটি ফাঁকা ছিল। আর এই সুযোগেই কাজী ডেকে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।    শাকিব খানের বাসায় সেদিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অপু বিশ্বাস বলেন, আমার বিয়ের লেহেঙ্গাটা খাটের নিচে লুকানো ছিল। আর আমার যে অর্নামেন্টস বা গহনা ছিল, সেগুলো শাকিবের পোশাক রাখার একটা ব্যাগের ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।   চিত্রনায়িকা আরও জানান, বিয়ে শেষ হওয়ার পর সন্ধ্যার দিকেই তিনি নিজের বাসায় ফেরেন। কারণ তার সঙ্গে মেজো বোন ছিলেন এবং পার্লারের কথা বলে আসায় মাকে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাড়ি ফেরার তাড়া ছিল। বিয়ের পরদিন থেকেই যথারীতি তাদের আউটডোর শুটিং শুরু হয়। তবে বিয়ের বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন থাকায় তারা যে যার মতো নিজেদের বাসায় থাকতেন।    নায়িকা আরও জানান, শুটিংয়ের আউটডোরগুলোতে একসঙ্গে থাকা বা বিবাহিত জীবনের স্বাভাবিক আচরণের কারণে অপুর মায়ের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। মা প্রায়ই বলতেন, এটা কেমন দেখায়, খুব অভদ্রতা! এরপর নানা ঝগড়া ও মায়ের বকাঝকার মধ্য দিয়ে অবশেষে বিয়ের দীর্ঘ ছয় মাস পর তার মা জানতে পারেন যে তারা আসলে আগেই বিয়ে করে ফেলেছেন।তাদের ঘর আলো করে আসে ছেলে আব্রাম খান জয়।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ৩০, ২০২৬
জয়া আহসান । ফাইল ছবি

ছোটবেলার ঈদ ভাবনা নিয়ে মুখ খুললেন জয়া

ছবি : সংগৃহীত

রহস্য ঘেরা কনটেন্ট ক্রিয়েটরের মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ

ছবি : সংগৃহীত

বিতর্কের মুখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ শো স্থগিত

শবনম ফারিয়া । ছবি : সংগৃহীত
১২ বছরের অনলাইন হয়রানির অভিযোগ, মুখ খুললেন ফারিয়া

জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ভয়ংকর অনলাইন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে এই অভিযোগ তুলে ধরেছেন তিনি। দিনের পর দিন সহ্য করতে করতে তিনি এখন রীতিমতো ক্লান্ত।   ফারিয়া তার পোস্টে শরীফ আজাদ (অনলাইনে ডাক্তার আইজুদ্দিন নামে পরিচিত) নামের এক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি জানান, গত ১২ থেকে ১৩ বছর ধরে ওই ব্যক্তি তাকে অনলাইনে ভয়ংকরভাবে হয়রানি করে আসছেন। ফারিয়া বলেন, ‘আমি আগে পাত্তা দিইনি, ব্লক করে রেখেছি। কিন্তু সে অবসেসিভলি প্রতিদিন আমার ছবি এআই দিয়ে এডিট করে বিকৃত করে, কখনো মনগড়া গল্প লিখে, কখনো আমার ছবিগুলোকে যতটা সম্ভব সেক্সুয়ালাইজ করে পোস্ট করে।’   বডি শেমিংয়ের মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে এভাবে আমাকে অনলাইনে ইমোশনালি ও মেন্টালি অ্যাবিউজ করে আসছে। এত বছর তো ছিলই, কিন্তু গত দেড় বছরে সেই মাত্রাটা সহ্যের সীমার বাইরে চলে গেছে।’   এই হয়রানির প্রতিকার চেয়ে ফারিয়া অভিযুক্তের স্ত্রী রেহনুমা সারমিনকেও বার্তা পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকেও কোনো সাড়া পাননি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফারিয়া বলেন, ‘কোনো নারী কীভাবে তার স্বামীর এসব অপকর্ম বন্ধ করার ন্যূনতম চেষ্টাও না করে থাকতে পারেন, সেটা আমার বোধগম্য না। একটা মেয়ে হয়ে, একটা মেয়ের মা হয়ে, আরেকটা মেয়েকে তার স্বামী এভাবে অ্যাবিউজ করছে, এটা উনি কীভাবে এলাউ করেন?’   অভিযুক্ত ব্যক্তির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ফারিয়া জানান, নিজেকে আওয়ামী অ্যাক্টিভিস্ট দাবি করলেও তিনি আসলে সব দলেরই সমালোচনা করেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা কোর্টে হয়রানির মামলা রয়েছে এবং তিনি সেখানে জেলও খেটেছেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেছেন এই অভিনেত্রী।   এতদিন চুপ থাকার কারণ হিসেবে ফারিয়া জানান, কুকুরের পায়ে কামড় দেওয়া উচিত নয় ভেবে তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি। কিন্তু এখন তার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে। পোস্টের শেষে আক্ষেপ ও ক্লান্তি নিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘আমি জানি এই পোস্টের পর তার অনলাইন হয়রানি আরও বেড়ে যাবে। কিন্তু আমি খুব টায়ার্ড। এতদিন চুপ থাকতে থাকতে টায়ার্ড, সবকিছু এড়িয়ে যেতে যেতে টায়ার্ড, বছরের পর বছর ধরে এই হয়রানি সহ্য করে কিছু হয়নি এমন ভাব দেখাতেও টায়ার্ড।’

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৯, ২০২৬
নাজিফা তুষি ও মেজবাউর রহমান সুমন । ছবি : সংগৃহীত

সুমনের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা জানালেন নাজিফা তুষি

সংগৃহীত ছবি

অ্যাজিলিটাস স্পোর্টস-এ আনুশকা শর্মার বিনিয়োগ

সংগৃহীত ছবি

টেইলর সুইফটের কনসার্টে হামলার পরিকল্পনা, তরুণের ১৫ বছরের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনী ঘিরে উত্তেজনা, উদ্বেগে নির্মাতা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলচ্চিত্র বনলতা এক্সপ্রেস–এর একটি প্রদর্শনী ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরোধিতা ও হুমকির ঘটনা নিয়ে সংস্কৃতি অঙ্গনে তৈরি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ। আগামী ৩০ মে অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী আয়োজনকে কেন্দ্র করে একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর কয়েকজন অনুসারী প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করছেন এবং প্রদর্শনী বন্ধের দাবি জানাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় চলচ্চিত্রকর্মী, সংস্কৃতিকর্মী ও নির্মাতারা।   ‘চলচ্চিত্র চর্চায় নতুন প্রজন্ম, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নবদিগন্ত’—এই স্লোগান সামনে রেখে গত ১০ মে যাত্রা শুরু করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি। নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, আড্ডা, আলোচনা সভা ও কর্মশালার মাধ্যমে জেলায় একটি সৃজনশীল সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ইতোমধ্যে তারা আয়োজন করেছে ‘ভাতঘুমের সিনেমা আড্ডা’র আটটি পর্ব।   এর ধারাবাহিকতায় আগামী ৩০ মে অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয়েছে নবম প্রদর্শনীর। সেখানে প্রদর্শিত হওয়ার কথা রয়েছে ঈদুল ফিতরে মুক্তিপ্রাপ্ত আলোচিত চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। তবে প্রদর্শনীর প্রচারণা শুরু হতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এর বিরোধিতা শুরু হয়েছে। বিষয়টি ঘিরে স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও চলচ্চিত্রকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ।   ফেসবুকে বিরোধিতা, ছড়ানো হচ্ছে পোস্টার বাংলাট্রিবিউনের হাতে আসা একাধিক ফেসবুক পোস্ট ও মেসেঞ্জার গ্রুপের স্ক্রিনশট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, একটি সংগঠিত গোষ্ঠী চলচ্চিত্র প্রদর্শনী বন্ধের আহ্বান জানিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। চলচ্চিত্রটির পোস্টারের ওপর লাল কালি দিয়ে ‘ক্রস’ (এক্স) চিহ্ন এঁকে সেটি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।   ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে আবু বকর মোহাম্মদ আয়মান নামে এক ব্যক্তি লিখেছেন, “ব্রাহ্মণবাড়িয়া আলেম-ওলামার শহর। এই শহরে আল্লামা ফখরে বাঙ্গাল রহ. একসময় সিনেমা বন্ধ করে গিয়েছিলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, কিছু কুচক্রী মহল আবারও শহরে সিনেমা চালু করার অপচেষ্টায় লিপ্ত।” একই বক্তব্য ‘সাংগঠনিক ঐক্য...’ নামের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপেও ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।   এইচ এম সৈয়দ কাসেম নামে আরেকজন তার পোস্টে লেখেন, “আলেম-ওলামার শহরে সিনেমা নামক নিষিদ্ধ জিনিস প্রদর্শনী দেখতে চাই না।   এ ছাড়া এইচ এম কাজী আকরাম, মো. সাকিবুল হাসান চৌধুরী ও আরিফ বিল্লাহ মুজাহিদসহ আরও কয়েকজন একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে প্রদর্শনীর বিরোধিতা করেছেন। কয়েকটি পোস্টে সরাসরি হুমকিসূচক ভাষাও ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।   “বিষয়টি আমাকে মর্মাহত করেছে”—তানিম নূর ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্রটির নির্মাতা তানিম নূর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সম্প্রতি ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমাটি প্রদর্শনীতে বাধা দেওয়ার যে খবরটি দেখলাম, তা সত্যিই অত্যন্ত দুঃখজনক। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সবসময়ই ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির উর্বর ভূমি।   তিনি আরও লেখেন, সুস্থ বিনোদন ও শিল্পের চর্চা কখনো আমাদের সমাজ কিংবা বিশ্বাসের ক্ষতি করে না, বরং মানসিক বিকাশ ঘটায়। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো নিষেধাজ্ঞার চেয়ে পারস্পরিক আলোচনা ও শ্রদ্ধাবোধ অনেক বেশি প্রয়োজন। একজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান হিসেবে এই ঘটনাকে “মর্মাহত” বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   “শো বন্ধ করতে পারবে না”—চলচ্চিত্র সংসদ এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া চলচ্চিত্র সংসদ–এর সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার শাহরিয়ার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমরা আগামী ৩০ মে প্রদর্শনীটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে চাই। কিন্তু ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উগ্রপন্থী নানা ব্যক্তিকে এই প্রগতিশীল উদ্যোগের বিরোধিতা করে পোস্ট দিতে দেখছি।   তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমরা অবশ্যই উদ্বিগ্ন। তবে আমরা আশা করছি, তারা আমাদের এই শো বন্ধ করতে পারবে না। আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাব এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা চাইব।   এদিকে সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে বাধা এবং ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও চলচ্চিত্রপ্রেমীরা এরই মধ্যে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেছেন। তাদের দাবি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মতো ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক জনপদে চলচ্চিত্র ও শিল্পচর্চার পরিবেশ কোনোভাবেই সংকুচিত হতে দেওয়া উচিত নয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মুক্তির একদিন পরেই দ্বিগুণ হলো ‘রকস্টার’-এর শো

ছবি: সংগৃহীত

ঈদের পর ঢাকায় আসছেন অনুপম রায়, লাইভ কনসার্টে মাতাবেন ভক্তদের

ছবি: সংগৃহীত

‘মালিক’ সিনেমার সাজে ভক্তদের ঈদ শুভেচ্ছা জানালেন মিম

0 Comments