রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের ষষ্ঠ অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন, যা সরকার গ্রহণ করেছে। তার মতে, স্থানীয় সরকারই গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় ভিত্তি এবং তৃণমূল পর্যায়ের শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে পারলে গণতন্ত্র আরও মজবুত হবে।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, জেলা প্রশাসকদের জনগণের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দিতে হবে। সরকারের উন্নয়ন ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে ডিসিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিগত বছরগুলোতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখানে দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। এসব বিষয়ে তদন্ত করা হবে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি না ঘটে, সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এছাড়া ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দলের ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।
সব মিলিয়ে ডিসি সম্মেলন শেষে দেওয়া এই বক্তব্যে স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধকে গুরুত্ব দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
মাঠপর্যায়ের ভূমি অফিসগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যথাসময়ে উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, শতভাগ স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কর্মঘণ্টার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতে ‘ভূমিদৃষ্টি’ মোবাইল অ্যাপটি (জিওফেন্সিং এটেনডেন্স সিস্টেম এপ্লিকেশন) চালু হচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। দেশের মাঠপর্যায়ের ভূমি অফিসগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যথাসময়ে উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, শতভাগ স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কর্মঘণ্টার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতে এ অ্যাপ চালু করছে মন্ত্রণালয়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু প্রধান অতিথি এবং ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বিশেষ অতিথি থাকবেন। ‘ভূমিদৃষ্টি’ অ্যাপটি প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত ভূমি প্রশাসন গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। এ অ্যাপ মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাপ্তরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করে কার্যক্রমে গতিশীলতা আনবে বলে আশা করা যায়, যা সাধারণ মানুষের সেবা প্রাপ্তি সহজ করবে। জিওফেন্সিং প্রযুক্তিনির্ভর এ অ্যাপটির মাধ্যমে কর্মস্থলের নির্ধারিত ভৌগোলিক অবস্থান (জিপিএস)-এর ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি মনিটরিং করা হবে। অ্যাপটি চালু করার ক্ষেত্রে কারিগরি সহযোগিতায় রয়েছে প্যারালাক্সলজিক ইনফোটেক। বর্তমানে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম-এ ছয়টি জেলায় অ্যাপটির পাইলটিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ৬১০টি কার্যালয়ের মোট ৯১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রাথমিক কভারেজের আওতায় আনা হয়েছে। পাইলট প্রকল্প সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের সব বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ভূমি অফিসে এটি সম্প্রসারণ করা হবে। ‘ভূমিদৃষ্টি’ অ্যাপের প্রধান প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য ও সুবিধাসমূহের মধ্যে রয়েছে : জিওফেন্সিং প্রযুক্তি যা প্রতিটি ভূমি অফিসের নির্দিষ্ট ভার্চুয়াল বা ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে অবস্থান করলেই কেবল মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে হাজিরা বা ‘চেক-ইন’ দেওয়া যাবে। সীমানার বাইরে থেকে হাজিরা দেওয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব। লাইভ ড্যাশবোর্ড যা অ্যাপে হাজিরা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেন্ট্রাল ড্যাশবোর্ডে তথ্য আপডেট হয়ে যাবে, যার ফলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে যেকোনো অফিসের উপস্থিতির চিত্র দেখতে পারবেন। সীমানা লঙ্ঘন বা ভুয়া লোকেশন ব্যবহারের চেষ্টা করলে ড্যাশবোর্ডে স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তা পাঠাবে। সরকারি কাজ বা তদন্তে বাইরে গেলে ‘সাইট ভিজিট’ ফিচারের মাধ্যমে কারণ উল্লেখ করা যাবে। এছাড়া অ্যাপটি থেকেই ছুটির আবেদন ও হিসাব রাখা যাবে। উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৯ মে তেজগাঁও ভূমি ভবনে আয়োজিত ‘ভূমি সেবা মেলায়’ ভূমি প্রতিমন্ত্রী সর্বপ্রথম প্রধানমন্ত্রী সমীপে উপস্থিতি তদারকিতে প্রযুক্তি নির্ভর ‘ভূমিদৃষ্টি’ অ্যাপ চালুর প্রস্তাব উপস্থাপন করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় আগামীকাল দাপ্তরিকভাবে অ্যাপটি উদ্বোধন করা হচ্ছে।
গুপ্ত রাজনীতিতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি বলেছেন, যারা শিক্ষার্থীদের এ ধরনের রাজনীতিতে যুক্ত করতে চায়, তারা শিক্ষার্থীদের স্বার্থের কথা না ভেবে নিজেদের স্বার্থে তাদের ব্যবহার করতে চায়। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদল আয়োজিত ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, কোনো সংগঠন বা ব্যক্তি যদি তাদের গুপ্ত রাজনীতি কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করে, তাহলে শিক্ষার্থীদের উচিত সে বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং প্রয়োজন হলে এর বিরোধিতা করা। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের নিজেদের ভবিষ্যৎ, শিক্ষা ও ক্যারিয়ারের প্রতি মনোযোগী হতে হবে। ক্যারিয়ার হিসেবে শুধু বিসিএসকে একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা না করারও পরামর্শ দেন তিনি। রাকিবুল ইসলাম বলেন, বিসিএস ক্যাডার হতে না পারলে জীবন বা ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায়—এমন ধারণা সঠিক নয়। দেশের বিভিন্ন খাতে, বিশেষ করে গার্মেন্টসসহ বেসরকারি খাতে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। এসব খাতেও দক্ষতার ভিত্তিতে ভালো ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিক্স, ন্যানোটেকনোলজি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা। জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন নবীন শিক্ষার্থীদের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দর্শন সম্পর্কে জানার আহ্বান জানান। বক্তব্যে তিনি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ও মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল। সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার নিবন্ধিত নবীন শিক্ষার্থী অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিভিন্ন উপহার ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
রাজধানীর যানজট কমানো ও গণপরিবহনব্যবস্থায় গতি আনতে নতুন তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্পের পথে এগোচ্ছে সরকার। এর মধ্যে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) অর্থায়িত এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ নর্দান রুটের সংশোধিত ব্যয় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নে নতুন এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুটও অনুমোদন পেয়েছে। বুধবার অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্প তিনটি অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে এমআরটি লাইন-১ ও লাইন-৫ নর্দান রুটের ব্যয় ও মেয়াদ সংশোধনের প্রস্তাব ছিল। শুরুতে একনেকের মূল এজেন্ডায় শুধু এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট প্রকল্পটি উপস্থাপনের কথা থাকলেও পরে অপর দুটি প্রকল্পও একই সভায় তোলা হয়। জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। প্রকল্পটির একটি অংশ হবে পাতাল এবং অন্য অংশ উড়ালপথে। বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১৯ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার অংশে হবে পাতাল রেল। এই অংশে থাকবে ১২টি আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশন। স্টেশনগুলো হলো—এয়ারপোর্ট, এয়ারপোর্ট টার্মিনাল-৩, খিলক্ষেত, নদ্দা, নতুনবাজার, উত্তর বাড্ডা, বাড্ডা, আফতাবনগর, রামপুরা, মালিবাগ, রাজারবাগ ও কমলাপুর। অন্যদিকে নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল টার্মিনাল পর্যন্ত ১১ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার অংশ হবে উড়ালপথে। এই অংশে থাকবে সাতটি স্টেশন—জোয়ারসাহারা, বোয়ালিয়া, মোস্তুল, ক্রিকেট স্টেডিয়াম, পূর্বাচল সেন্টার, পূর্বাচল ইস্ট ও পূর্বাচল টার্মিনাল। এমআরটি লাইন-৫ নর্দান রুট হবে সাভারের হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত। ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এ রুটে মোট ১৪টি স্টেশন থাকবে। এর মধ্যে নয়টি হবে পাতাল এবং পাঁচটি উড়ালপথে। পাতাল অংশের স্টেশনগুলো হলো—গাবতলী, দারুস সালাম, মিরপুর-১, মিরপুর-১০, মিরপুর-১৪, কচুক্ষেত, বনানী, গুলশান-২ ও নতুনবাজার। উড়াল অংশের স্টেশন হবে হেমায়েতপুর, বলিয়ারপুর, বিলামালিয়া, আমিনবাজার ও ভাটারা এলাকায়। এদিকে নতুন এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট হবে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত। মোট ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ প্রকল্পের মধ্যে ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার হবে পাতালপথ। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। এ প্রকল্পে এডিবি ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে অর্থায়ন করবে। রাজধানীর উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ অংশকে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার ক্ষেত্রে নতুন তিনটি লাইন গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ তৈরি করবে। বিমানবন্দর, কমলাপুর, পূর্বাচল, সাভার, মিরপুর, গুলশান, ভাটারা ও দাশেরকান্দির মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এসব রুটের সঙ্গে যুক্ত হবে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন লাইনগুলো চালু হলে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তের মধ্যে দ্রুত গণপরিবহন যোগাযোগ তৈরি হবে। তবে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন, ব্যয় ও সময়সূচি নির্ভর করবে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়ার ওপর।