পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপির কাছে তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) পরাজয়ের একদিন পর দলীয় প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন যে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন না , কারণ হিসেবে তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যানার্জী মমতা বলেন, আমরা পরাজিত হইনি। আমি পদত্যাগ করব না। আমার রাজভবনে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
প্রথা অনুযায়ী, বিধানসভা নির্বাচনের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী গভর্নরের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে রাজভবনে যান।
মমতা অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করছেন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার হলেন এই নির্বাচনের খলনায়ক। তিনি আরও বলেন, টিএমসি একটি তথ্য অনুসন্ধানকারী দল গঠন করবে এবং দলের মধ্যে আলোচনার পর পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের পর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করতে অস্বীকার করলে কী হবে? সংবিধানে এ বিষয়ে কী বলা হয়েছে, আর মমতার ভাগ্যেই বা কী আছে?
ভারতের সংবিধানের ১৬৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী গভর্নর কর্তৃক নিযুক্ত হবেন এবং অন্যান্য মন্ত্রীরা মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শে গভর্নর থেকে শপথ নেবেন। মন্ত্রীরা গভর্নরের অনুমতি সাপেক্ষে নিজেদের পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন।
সুতরাং, একজন গভর্নর মুখ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে পারেন। যদিও এটি যাতে একটি স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপ না হয়ে ওঠে, তার জন্য বিভিন্ন সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, গভর্নরের ক্ষমতা মূলত মন্ত্রী পরিষদের সহায়তা ও পরামর্শ থেকেই উদ্ভূত হয়।
এছাড়াও, বিধানসভার মেয়াদ চলাকালীন যদি গভর্নর কোনো একজন মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলেন এবং সেই পদের জন্য অন্য কোনো প্রার্থীকে আমন্ত্রণ জানাতে চান, তাহলে আস্থা ভোটের আয়োজন করতে হবে। যেখানে উভয় পক্ষই বিধানসভায় তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা (অর্থাৎ, বর্তমান বিধায়কদের অর্ধেকের বেশি সমর্থন কার রয়েছে) প্রমাণ করার চেষ্টা করবে। শেষ উপায় হিসেবে, যদি কোনো স্থিতিশীল সরকার গঠন করা না যায়, তবে রাষ্ট্রপতি শাসন (অনুচ্ছেদ ৩৫৬) জারি করা যেতে পারে।
এক্ষেত্রে, মমতা পদত্যাগ করতে অস্বীকার করলে গভর্নর তার পদত্যাগপত্র চাইতে পারেন। এছাড়াও, বিধানসভার মেয়াদও শেষ হতে চলেছে।
ভারতের সংবিধানের ১৭২ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রতিটি রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা, যদি তার আগে ভেঙে দেওয়া না হয়, তবে তার প্রথম বৈঠকের জন্য নির্ধারিত তারিখ থেকে পাঁচ বছরের জন্য বলবৎ থাকবে এবং এর বেশি নয় এবং উক্ত পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হলে বিধানসভাটি ভেঙে দেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ ৮ই মে, ২০২১-এ শুরু হয়েছে এবং ২০২৬ সালের ৭ই মে শেষ হবে। এরপর গভর্নরকে নতুন বিধানসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। যার অর্থ নতুন বিধায়কদের শপথ নিতে হবে এবং একটি নতুন সরকার নির্বাচিত করতে হবে।
এক ঐতিহাসিক বিজয়ে বিজেপি ২০৭টি আসন পেয়েছে, অপরদিকে টিএমসি পেয়েছে ৮০টি আসন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর আসনে পরাজিত হয়েছেন। কংগ্রেস দুটি আসন, টিএমসি বিদ্রোহী হুমায়ুন কবিরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টি দুটি আসন এবং সিপিআই(এম) ও অল ইন্ডিয়া সেকুলার ফ্রন্ট একটি করে আসন জিতেছে।
যদি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তার অবস্থানে অনড় থাকেন থাকেন তবুও বিধান অনুযায়ী তাকে ক্ষমতা হস্তান্তর করতেই হবে। এখন দেখার বিষয় মমতা কী সিদ্ধান্ত নেন।
সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহের পর ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে দক্ষিণ ফ্রান্স। আগুনের ঝুঁকিতে থাকা এলাকা থেকে অন্তত ৩ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে শত শত দমকলকর্মী ও বিশেষ পানি বর্ষণকারী বিমান। ফরাসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দক্ষিণাঞ্চলের সাঁ-মারি-লা-মের এলাকায় প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রবল বাতাসের কারণে তা দ্রুত পাশের কানেত-অঁ-রুসিওঁ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পাইরেনিস-অরিয়েন্টালস অঞ্চলের প্রশাসন জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় ৩ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি স্থানীয় তিনটি ক্যাম্পসাইটে অবস্থান করা পর্যটক। আগুন নেভানোর সময় দুই দমকলকর্মী সামান্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে প্রায় ২০০ দমকলকর্মী, চারটি পানি বর্ষণকারী বিমান এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস জানিয়েছেন, বুধবার থেকে দেশের বিভিন্ন দাবানল মোকাবিলায় ১ হাজার ২০০-এর বেশি দমকলকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে গত জুনে ফ্রান্সে টানা ১১ দিন তাপপ্রবাহ চলেছে। অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এতে বনাঞ্চল শুকিয়ে গিয়ে দাবানলের ঝুঁকি অনেক বেড়ে গেছে। এদিকে দাবানল ও তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলো সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাবও উত্থাপন করেছে।
গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনের ২০ শিশুকে তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে চিকিৎসার জন্য আশ্রয় দিয়েছে স্পেন। দেশটির চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর কর্মসূচির আওতায় তাদের স্পেনে নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় শিশুদের বিভিন্ন স্প্যানিশ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হবে। স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোনিকা গার্সিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেন, এসব শিশু নৃশংসতাকে পেছনে ফেলে আমাদের হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে এসেছে। তিনি বলেন, তারা ভয় নিয়ে এসেছে, তবে সঙ্গে আশা নিয়েও এসেছে এবং তাদের আগমনকে জাতীয় গর্বের বিষয় বলে উল্লেখ করেন। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, কোনো মানুষ, বিশেষ করে কোনো শিশুরই গাজায় চলমান বিভীষিকার মধ্য দিয়ে যাওয়া উচিত নয়। তিনি জানান, বর্তমানে চিকিৎসার জন্য ২০ শিশুসহ মোট ১০০ জন ফিলিস্তিনিকে আশ্রয় দিয়েছে স্পেন। তাদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাকে তিনি নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি ফিলিস্তিনিদের নিরাপদে নিজেদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অধিকার রক্ষার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। মূলত গাজায় চলমান যুদ্ধের বিরোধিতার অংশ হিসেবেই স্পেনের এই উদ্যোগ। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইসরায়েল অ্যাসোসিয়েশন চুক্তি স্থগিতের আহ্বান, তেল আবিব থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। ২০২৪ সালের মে মাসে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই মাদ্রিদ ও তেল আবিবের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এরপর উভয় দেশ পাল্টাপাল্টি কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধ আরও গভীর হয়। সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী সুপার টাইফুন বাভি। রোববার থেকেই বাসিন্দারা জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে শুরু করেছেন এবং শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এটি মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে তাণ্ডব চালাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, সোমবার ভোরে টাইফুনটি ঘণ্টায় প্রায় ২৬০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানতে পারে। দমকা বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৩১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনের সমতুল্য। সংস্থাটি একে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলে সতর্ক করেছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, টাইফুনের প্রভাবে ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা, উপকূল প্লাবিত হওয়া এবং সর্বোচ্চ ৩৫ ফুট উঁচু ঢেউয়ের সৃষ্টি হতে পারে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঝড়ের আগে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘরবাড়ি সুরক্ষিত করার কাজে ব্যস্ত। অনেকেই জানালায় প্লাইউড লাগাচ্ছেন, আবার অনেকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র বা হোটেলে চলে যাচ্ছেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বেশ কয়েকটি ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে। গুয়ামে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার এবং নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের বসবাস। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা মানুষদের সরিয়ে নিতে গুয়ামে পাঁচটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (ফেমা) আগেই সেখানে জরুরি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, জেনারেটর ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী মজুত করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং শুরু হওয়া এল নিনো পরিস্থিতির কারণে প্রশান্ত মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড়গুলো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।