পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের চোখের দৃষ্টি নিয়ে তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দলটির দাবি, ইমরান খান সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন (CRVO) নামে একটি গুরুতর চোখের সমস্যায় ভুগছেন। সময়মতো চিকিৎসা না হলে তাঁর ডান চোখের দৃষ্টি স্থায়ীভাবে নষ্ট হতে পারে।
পিটিআইয়ের বরাতে প্রকাশিত মেডিকেল রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইমরান খানের ডান চোখের রেটিনার রক্তনালিতে ব্লকেজ তৈরি হয়েছে। এর ফলে রেটিনা থেকে রক্ত স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারে না এবং দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত এবং বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা না হলে চোখটি চিরতরে অন্ধ হয়ে যেতে পারে।
পিটিআইয়ের মুখপাত্র সৈয়দ জুলফিকার বুখারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, এটি অত্যন্ত গুরুতর এবং দ্রুত অবনতিশীল সমস্যা। সামান্য বিলম্বও অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
তবে পিটিআই, ইমরান খানের আইনজীবী ও পরিবারের দাবি, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে মাসের পর মাস চোখের বিশেষজ্ঞ দেখার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। ইমরান খানের বোন উজমা খানম জানিয়েছেন, তিনি কয়েক সপ্তাহ ধরে ভাইকে দেখেননি এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য জানানো হচ্ছে না।
পিটিআইয়ের উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সের সরকারি চিকিৎসকরা আদিয়ালা কারাগারে গিয়ে ইমরান খানকে পরীক্ষা করেন। তবে পরীক্ষার ফলাফল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। পাঞ্জাব সরকার জানিয়েছে, রিপোর্ট জমা পড়ার পর বিস্তারিত জানানো হবে।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, ২৪ জানুয়ারি রাতে ইমরান খানকে ইসলামাবাদের পিমস হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ২০ মিনিটের চিকিৎসা প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে কারাগারে ফেরত আনা হয়। তথ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি সুস্থ আছেন।
তবে পিটিআই ও দলটির নেতারা সরকারের এই বক্তব্য মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, কারাগারের ভেতরে CRVO-এর মতো জটিল রোগের চিকিৎসা সম্ভব নয়। বিশেষায়িত অপারেশন থিয়েটার ও অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রয়োজন। কারাবন্দী পাঁচজন পিটিআই নেতা খোলা চিঠিতে দাবি জানিয়েছেন, ইমরান খানকে তাঁর পছন্দের হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।
উল্লেখ্য, ইমরান খান ২০২২ সালে সংসদীয় অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী রয়েছেন। বর্তমানে ১৯ কোটি পাউন্ড দুর্নীতির মামলায় তিনি ১৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। একই মামলায় তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিও সাত বছরের সাজাপ্রাপ্ত।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও নৌ-মাইন বসানোর কাজে ব্যবহৃত জাহাজে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, এটি ছিল আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ। এর আগে ইরানের দক্ষিণের বন্দর শহর বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করে দেশটির গণমাধ্যম। এদিকে যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করতে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা কাতারে পৌঁছেছেন। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও এখনই চুক্তি খুব কাছাকাছি—এমন বলা যাবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের চুক্তিতে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো আঞ্চলিক দেশগুলোকেও যুক্ত হওয়া উচিত। তিনি চান, এসব দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগে অংশ নিক। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে কঠোর হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইসরায়েল বর্তমানে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধে রয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শুরু থেকে ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে অন্তত ৩ হাজার ১৮৫ জন নিহত এবং ৯ হাজার ৬৩৩ জন আহত হয়েছেন। সোমবারও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল ও বেকা উপত্যকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। সূত্র : আলজাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। এবার দক্ষিণ ইরানের কয়েকটি কৌশলগত স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র টিম হকিন্সের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অঞ্চলটিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানি বাহিনীর সম্ভাব্য হুমকি ও হামলা প্রতিরোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মূলত নিজেদের সেনাদের সুরক্ষায় এটিকে একটি ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং পারস্য উপসাগরে মাইন স্থাপনের চেষ্টায় লিপ্ত থাকা ইরানি নৌযানগুলো। সেন্টকমের মুখপাত্র টিম হকিন্স চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চললেও যুক্তরাষ্ট্র তার বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে কোনো আপস করবে না। আমাদের সেনারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে, তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা এখনও সর্বোচ্চ সংযম বজায় রাখছি। এদিকে এই হামলার ঠিক পূর্বমুহূর্তে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী ‘বন্দর আব্বাস’-এ বিকট বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘মেহর নিউজ এজেন্সি’ বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, আকস্মিক বিস্ফোরণের পর বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এই সরাসরি মার্কিন হামলার ঘটনায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ নতুন মাত্রা পেল। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরীয় এই অঞ্চলে মার্কিন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা এবং সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার গভীর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গাজামুখী মানবিক সহায়তা বহনকারী একটি নৌবহর থেকে আটক হওয়ার পর দেশে ফিরে আসা কয়েকজন অস্ট্রেলিয়ান অ্যাক্টিভিস্ট ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। আটক হওয়া অ্যাক্টিভিস্টরা জানান, তারা গাজায় সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন এমন একটি নৌবহরের অংশ ছিলেন, যেটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি বাহিনী আটক করে। ওই নৌবহরে মোট ৪০টি দেশের প্রায় ৪৩০ জন স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন, যার মধ্যে ১১ জন অস্ট্রেলিয়ান ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসা কয়েকজন অ্যাক্টিভিস্ট দাবি করেন, আটক অবস্থায় তাদের মারধর করা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। একজন অ্যাক্টিভিস্ট বলেন, তাকে মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছিল এবং তিনি কয়েকদিন কঠিন পরিস্থিতিতে ছিলেন। অন্য একজন অ্যাক্টিভিস্ট জানান, তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং অন্যদের ওপর টেজার ও রাবার বুলেট ব্যবহারের ঘটনাও দেখেছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে কোনো ধরনের নির্যাতন বা অসদাচরণ করা হয়নি। এদিকে মানবিক সহায়তা সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা অন্তত ১৫টি ক্ষেত্রে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে বলে দাবি করছে। ঘটনাটি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘটনাটিকে চমকে দেওয়া ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। তথ্যসূত্র : রয়টার্স