খেলাধুলা

ইডেনে মুম্বাই বধ, প্লে-অফের আশা বেঁচে রইলো নাইটদের

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

আইপিএলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে আজ ৪ উইকেটে হারিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। এর ফলে প্লে-অফের আশাও বাঁচিয়ে রাখল কেকেআর। কেকেআরের কাছে হার মেনে আরও একবার নিজেদের ব্যর্থতার চিত্রটা প্রকট করল মু‍ম্বাই ইন্ডিয়ান্স। অনেক আগেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়া মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হতাশার তালিকায় যোগ হল আরও একটি পরাজয়ের লজ্জা।

 

টস জিতে আজ প্রথমে মুম্বাইকে ব্যাট করতে পাঠান কেকেআর অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানে। শুরু থেকেই মুম্ব‍াইয়ের ব্যাটিংয়ে দেখা যায় চরম অনিশ্চয়তা। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। অভিজ্ঞ ওপেনার রোহিত শর্মা মাত্র ১৫ রান করে ফিরে যান। অপর ওপেনার রিয়াল রিকেলটন করেন মাত্র ৬ রান। মিডল অর্ডারেও কেউ সেভাবে লড়াই গড়ে তুলতে পারেননি।

 

মুম্বাইয়ের হয়ে একমাত্র কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন করবিন বশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩২ রান করেন তিনি। তবে কেকেআরের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে বড় স্কোর গড়তে ব্যর্থ হয় মুম্বাই। বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন সৌরভ দুবে, ক্যামেরন গ্রিন এবং কার্তিক ত্যাগী। প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট তুলে নেন। এছাড়াও অভিজ্ঞ স্পিনার সুুনিল নারা্ইন একটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন।

 

ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও শুরুটা ভালো হয়নি কেকেআরের। ভয়ঙ্কর মেজাজে থাকা ফিন অ্যালেন মাত্র ৮ রান করে ফিরে যান। অধিনায়ক রাহানে করেন ২১ রান। ক্যামেরন গ্রিন ব্যাট হাতেও ব্যর্থ হয়ে ফেরেন মাত্র ৪ রানে। ৫৪ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় নাইট শিবির।

 

সেই সময় দলের হাল ধরেন অভিজ্ঞ মণীষ পাণ্ডে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের তারকা ব্যাটার রভম্যান পাওয়েল। দু’জনে মিলে ৬৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। মণীষ পাণ্ডে ৪৫ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। তবে এই জুটি ভাঙেন মুম্বইয়ের তারকা পেসার জশপ্রীত বুমরাহ।

 

এর কিছুক্ষণ পরেই ম্যাচে দেখা যায় অসাধারণ এক মুহূর্ত। পাওয়েলের দুর্দান্ত ক্যাচ ধরে রীতিমতো চমকে দেন করবিন বশ। তার সেই ফিল্ডিং মুহূর্ত অনেকেরই মনে করিয়ে দেয় কিংবদন্তি ফিল্ডার জন্টি রোডসকে। আউট হওয়ার আগে পাওয়েল করেন গুরুত্বপূর্ণ ৪০ রান।

 

১২৪ রানে পাঁচ উইকেট হারানোর পরে তেজস্বী সিং ডাগ আউটে ফেরেন মাত্র ১১ রান করে। রিঙ্কু ও অনুকূল রায় জয় এনে দেন কেকেআরকে। এই জয়ের ফলে প্লে-অফে ওঠার আশা এখনও জিইয়ে রাখল কলকাতা। তবে তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে বাকিদের দিকে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতে ঢাকায় ঋতুপর্ণা, ভিসা জটিলতায় অনিশ্চিত জিমির চীনযাত্রা

এশিয়ান গেমস সামনে রেখে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের তারকা ঋতুপর্ণা চাকমা দেশে ফিরেছেন। মিয়ানমারের ঘরোয়া লিগ ও এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ব্যস্ততা শেষে বুধবার দেশে ফেরার পর বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় দলের অনুশীলনেও যোগ দিয়েছেন তিনি।   এশিয়ান গেমসে এবার বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেও পুরুষ দল থাকছে না। এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ টুর্নামেন্টের মূল পর্বে খেলা দলগুলোকে গেমসে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার নিয়মের কারণে বাংলাদেশের পুরুষ ফুটবল দল এবার জায়গা পায়নি। অন্যদিকে, নারী এশিয়া কাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করায় নারী দল এশিয়ান গেমসে অংশ নিচ্ছে।   সেপ্টেম্বরেই জাপানের উদ্দেশে রওনা: ১৯ সেপ্টেম্বর জাপানের নাগোয়ায় এশিয়ান গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। তবে ফুটবলের প্রতিযোগিতা শুরু হবে তার পাঁচ দিন আগেই। এ কারণে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের জাপান যাত্রা ১১ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। গেমসের মূল আয়োজন নাগোয়ায় হলেও বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের ম্যাচগুলো হবে ওসাকায়। গ্রুপপর্বে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও মিয়ানমার। শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ১ সেপ্টেম্বর চীনের উদ্দেশে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ দল। সেখানে কয়েকটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পর ১১ সেপ্টেম্বর জাপানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।   ২৩ জনের স্কোয়াড নিয়ে স্বস্তি: ফুটবলে সাধারণত ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড থাকলেও এশিয়ান গেমসে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ২০ জনের দল অংশ নেয়। তবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) অনুরোধের পর বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন আয়োজকদের কাছ থেকে এবার ২৩ জন নারী ফুটবলারের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড নিশ্চিত করেছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের নিয়ে দলের প্রস্তুতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।   অ্যাক্রিডিটেশন জটিলতা কেটেছে, নতুন সমস্যা জিমিকে ঘিরে: এশিয়ান গেমসের অ্যাক্রিডিটেশনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর দেশের ২৭টি ক্রীড়া ফেডারেশনের কমিটিতে পরিবর্তন আসে। এরপর বিভিন্ন ফেডারেশন থেকে কোচ, কর্মকর্তা ও খেলোয়াড় পরিবর্তনের আবেদন করা হয়। নতুন আবেদনকারীদের দীর্ঘ তালিকায় হকি তারকা রাসেল মাহমুদ জিমি, কোচ পিটারসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের ২০ জনের বেশি খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার (ওসিএ) কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করার পর সেই জটিলতার সমাধান হয়। তবে অ্যাক্রিডিটেশন সমস্যার সমাধান হলেও এবার নতুন করে ভিসা জটিলতায় পড়েছেন জিমি।   জাপানের ভিসার কারণে চীনযাত্রা নিয়ে শঙ্কা: বাংলাদেশ এশিয়ান গেমস কন্টিনজেন্টের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ইতোমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছে। কিন্তু পরে নতুন করে আবেদন করা ২৩ জনের কার্ড আর ঢাকায় আসবে না। তাদের জাপানে গিয়ে কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। এ কারণে জিমির ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে নতুন সমস্যা। আগামী ২ অক্টোবর বাংলাদেশ হকি দলের চীনে যাওয়ার কথা রয়েছে। একই সময়ে জাপানের ভিসার জন্য পাসপোর্ট দূতাবাসে জমা দিতে হলে চীন সফরে অংশ নেওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়তে পারে। জিমি দলের সঙ্গে চীনে যেতে না পারলে সেখানে জাতীয় হকি দলের পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন ও প্রস্তুতিতে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইসতিয়াক সাদেক বলেন, জাপানের ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া চলছে। যেসব কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়ের জাপানের ভিসা প্রয়োজন হবে, তাদের ক্ষেত্রে চীন সফরের বিষয়টি কিছুটা জটিল হবে।   তিনি জানান, দীর্ঘ তালিকায় থাকা কর্মকর্তাদের অনেকের জাপান ভিসার প্রয়োজন নেই। খেলোয়াড়দের মধ্যে মূলত জিমির ক্ষেত্রেই এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। জাপানের ভিসার আবেদন করার পর চীন সফর শেষে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে চেষ্টা করা হবে। প্রয়োজনে চীনে অবস্থিত জাপানি দূতাবাস থেকেও ভিসা নেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফেডারেশন আপাতত জিমিকে রেখেই চীন সফরের পরিকল্পনা করছে। তবে শেষ পর্যন্ত ভিসা জটিলতা কীভাবে সমাধান হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে এশিয়ান গেমসের আগে জাতীয় হকি দলের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিতে জিমির অংশগ্রহণ।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে দল কমানোয় আইসিসির সিদ্ধান্তের সমালোচনায় স্টিভ ওয়াহ

ছবি : সংগৃহীত

স্পেনের বিশ্বকাপজয়ীদের সংবর্ধনা বাতিল করল বার্সেলোনা

ছবি: সংগৃহীত

কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ শেষে ক্রিকেটকে বিদায় বলবেন ডিন এলগার

ছবি: সংগৃহীত
ইনস্টাগ্রাম বার্তা থেকে বাংলাদেশ দলে, সুলিভান ভাইদের তিক্ত-মধুর অভিজ্ঞতা

বাংলাদেশের ফুটবলে রোনান ও ডেকলান সুলিভানকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল হঠাৎ করেই। মার্চ-এপ্রিলে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে দুই যমজ ভাইয়ের পারফরম্যান্স নজর কেড়ে নেয়। বিশেষ করে ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারে রোনানের সাহসী পানেনকা পেনাল্টি বাংলাদেশের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে ওঠে।   বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার এই দুই তরুণ এর আগে কখনো বাংলাদেশে আসেননি। কিন্তু একটি ইনস্টাগ্রাম বার্তা থেকেই শুরু হয় তাদের বাংলাদেশ জাতীয়তার সূত্র খোঁজা এবং বয়সভিত্তিক দলে খেলার যাত্রা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশে আসা, দলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং মাঠের বাইরের নানা অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তারা।   ইনস্টাগ্রাম ডিএম থেকেই শুরু: ডেকলান সুলিভান জানান, বাংলাদেশে খেলার প্রস্তাবটি প্রথমে তাদের কাছে আসে ‘সেভ বাংলাদেশ ফুটবল’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে। তার ভাষায়, বিষয়টি শুরু হয়েছিল একটি ইনস্টাগ্রাম ডিএম দিয়ে। প্রথমে তারা বিষয়টি নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্ত ছিলেন। কারণ, একটি ফ্যান পেজ কীভাবে তাদের পাসপোর্ট না থাকা অবস্থায় বাংলাদেশে এসে ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে—তা বুঝতে পারছিলেন না। পরে তারা জানতে পারেন, অ্যাকাউন্টটি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে কাজ করা একটি বৈধ প্ল্যাটফর্ম। পরে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার আগ্রহ জানালে ওই প্ল্যাটফর্ম তাদের বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয়।   দেশের হয়ে খেলার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি: রোনান বলেন, কলেজে ভর্তি হওয়ার আগে তাদের হাতে কিছুটা অবসর সময় ছিল। তাই বাংলাদেশে গিয়ে ফুটবল খেলার পাশাপাশি দেশের প্রতিনিধিত্ব করা এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগটি তারা কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন। তবে বাংলাদেশে আসার পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ ছিল না। ডেকলানের ভাষায়, পরবর্তী প্রায় তিন মাসের প্রক্রিয়াটি ছিল বেশ ‘পাগলাটে’। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাওয়া। কারণ তাদের মায়ের নিজের বাংলাদেশি পাসপোর্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত মার্চে নিউইয়র্ক থেকে দিল্লি হয়ে ঢাকায় পৌঁছান দুই ভাই। ডেকলানের মতে, এটিই ছিল তাদের জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ ভ্রমণ।   শিরোপা জয়ের পর বদলে যায় সবকিছু: সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে সাফল্যের পর বাংলাদেশে তাদের জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়ে যায়। শিরোপা জয়ের পর ঢাকায় ফিরে ফুল, শুভেচ্ছা ও মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হন তারা। ডেকলান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ তাদের দল শিরোপা জিতিয়ে দেওয়ায় অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের যুব ফুটবলে এমন উচ্ছ্বাস খুব একটা দেখা যায় না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশে অবস্থানের সময় নিজেদের জন্যও কিছুটা সময় বের করেন দুই ভাই। ঘুরে দেখার পাশাপাশি বাংলাদেশের খাবার উপভোগ করেন এবং নানির সঙ্গে সময় কাটান। এর আগে তারা যুক্তরাষ্ট্রেই নানির সঙ্গে দেখা করেছিলেন।   পানেনকা নিয়ে ভাইয়ের আস্থা ছিল: সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারে রোনানের নেওয়া পানেনকা পেনাল্টি ছিল ম্যাচের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত। রোনান জানান, জীবনে এর আগে মাত্র দুবার পানেনকা পেনাল্টি নিয়েছিলেন। দুটিই ছিল অনুশীলনের সময়। এর একটিতে বল ক্রসবারে লেগেছিল। তবু ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একই ধরনের পেনাল্টি নিতে দ্বিধা করেননি তিনি। ডেকলান জানান, রোনান শেষ পেনাল্টি নিলে এমন কিছুই করবে—এটা তিনি পুরো সময়ই জানতেন। তার মতে, এটি রোনানের স্বভাবেরই অংশ।   শুরুতে স্থানীয়দের কাছ থেকে সহযোগিতা পাননি: বাংলাদেশে এসে সব অভিজ্ঞতা অবশ্য সুখকর ছিল না। বিদেশে বেড়ে ওঠা ফুটবলার হওয়ায় দলের স্থানীয় খেলোয়াড়দের সঙ্গে শুরুতে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে জানান রোনান। তিনি বলেন, বিদেশি হওয়ায় শুরুতে তাদের কাছে বল পাওয়া কঠিন ছিল। ভাষাগত সমস্যার পাশাপাশি দলের কয়েকজন খেলোয়াড় শুরুতে তাদের বাংলাদেশে আসায় খুব একটা খুশি ছিলেন না। তবে মাঠে কয়েকবার বল পাওয়ার পর নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে পারলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায় বলে জানান তিনি।   প্রবাসী প্রতিভা কাজে লাগানোর আহ্বান: ডেকলান মনে করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অনেক প্রতিভাবান ফুটবলার ছড়িয়ে আছেন। সুলিভান ভাইদের বাংলাদেশে খেলার পর আরও বিদেশি খেলোয়াড়ের বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বে আগ্রহী হয়ে ওঠার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের ভালো একাডেমিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণরা খেলছেন। এখন এসব প্রতিভাকে খুঁজে বের করে কাজে লাগানোই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৬, ২০২৬
ছবি- এএফপি

বাংলাদেশকে গুঁড়িয়ে প্রথমবার টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে স্টার্ক

ছবি: সংগৃহীত

১০০ মিলিয়ন ইউরোয় মরক্কোর বিশ্বকাপ তারকাকে দলে নিল ম্যান সিটি

ছবি: সংগৃহীত

মেসির সামনে ক্যারিয়ারের বিরল এক রেকর্ডের শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ফুটবল ক্লাব মালিক কারা?

ফুটবল এখন শুধু মাঠের ৯০ মিনিটের খেলা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা। বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন ক্লাবের মালিকানায় রয়েছেন শিপিং ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, বিলাসপণ্যের উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে রিয়েল এস্টেট ও বিনোদন জগতের ধনকুবেররা।   ফোর্বসের হিসাবে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ফুটবল ক্লাব মালিকদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত কয়েকজনের পরিচয় ও সম্পদের পরিমাণ তুলে ধরা হলো।   বের্নার আরনো — প্যারিস এফসির মালিক   আনুমানিক সম্পদ: ১৭,১০০ কোটি ডলার ক্লাব: প্যারিস এফসি, ফ্রান্স বিলাসপণ্যের বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান এলভিএমএইচের কর্ণধার বের্নার আরনো ব্যবসার পাশাপাশি ফুটবলেও বড় বিনিয়োগ করেছেন। প্যারিসের সবচেয়ে পরিচিত ক্লাব পিএসজির বাইরে এবার প্যারিস এফসিকে ঘিরেও তৈরি হচ্ছে নতুন আগ্রহ। আরনোর লক্ষ্য ক্লাবটিকে ইউরোপের ফুটবল অঙ্গনে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়া।   ইদান ওফার — শিপিং ব্যবসা থেকে ফুটবলে আনুমানিক সম্পদ: ৩,৪৬০ কোটি ডলার ক্লাব: এফসি ফামালিকাউ ও আতলেতিকো মাদ্রিদ ইসরায়েলি ধনকুবের ইদান ওফারের মূল ব্যবসা শিপিং ও আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন। ইস্টার্ন প্যাসিফিক শিপিংয়ের মাধ্যমে গড়ে ওঠা তাঁর বিপুল সম্পদের একটি অংশ বিনিয়োগ হয়েছে ফুটবলে। পর্তুগালের এফসি ফামালিকাউয়ের মালিকানায় বড় অংশীদারিত্বের পাশাপাশি স্পেনের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আতলেতিকো মাদ্রিদেরও উল্লেখযোগ্য অংশীদার তিনি।   ফ্রাঁসোয়া পিনো — ফ্যাশন সাম্রাজ্যের মালিক আনুমানিক সম্পদ: ২,৯৫০ কোটি ডলার ক্লাব: স্তাদ রেনে, ফ্রান্স গুচি ও সাঁ লরাঁসহ একাধিক বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত কেরিং গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ফ্রাঁসোয়া পিনো। দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্সের ক্লাব স্তাদ রেনের মালিকানার সঙ্গে যুক্ত এই ব্যবসায়ী। ফ্যাশন জগতে বিশাল প্রভাব থাকা পিনো তাঁর ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের পাশাপাশি ফুটবল ক্লাবটির উন্নয়নেও বিনিয়োগ করে আসছেন।   ডেভিড টেপার — বিনিয়োগ জগতের ধনকুবের আনুমানিক সম্পদ: ২,৩৭০ কোটি ডলার ক্লাব: শার্লট এফসি, যুক্তরাষ্ট্র হেজ ফান্ড ও বিনিয়োগ জগতের পরিচিত নাম ডেভিড টেপার। অ্যাপালুসা ম্যানেজমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা এই মার্কিন ব্যবসায়ী বিভিন্ন খেলাধুলায় বিনিয়োগ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) দল শার্লট এফসিও তাঁর ক্রীড়া বিনিয়োগের অন্যতম অংশ।   স্ট্যানলি ক্রোংকি — আর্সেনালের মালিক আনুমানিক সম্পদ: ২,২২০ কোটি ডলার ক্লাব: আর্সেনাল ও কলোরাডো র‍্যাপিডস রিয়েল এস্টেট ও ক্রীড়া ব্যবসার মাধ্যমে বিশাল সম্পদের মালিক হয়েছেন মার্কিন ব্যবসায়ী স্ট্যানলি ক্রোংকি। তাঁর মালিকানাধীন ক্রোংকি স্পোর্টস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্টের অধীনে রয়েছে ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল এবং যুক্তরাষ্ট্রের এমএলএস দল কলোরাডো র‍্যাপিডস। আর্সেনালের পুরুষ ও নারী দলও তাঁর ক্রীড়া সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইংলিশ ফুটবলে আর্সেনালের সাম্প্রতিক সাফল্যের পেছনে মালিকপক্ষের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বিনিয়োগও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফুটবল ক্লাবের মালিকানা এখন তাই কেবল খেলাধুলায় বিনিয়োগের বিষয় নয়। বিশ্বজুড়ে বড় ব্যবসায়ীরা ক্লাবকে ব্র্যান্ড, বিনোদন এবং বৈশ্বিক ব্যবসা সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে পাকিস্তানের নেতৃত্বে ফিরছেন বাবর

ছবি: সংগৃহীত

সরকারি অর্থায়ন না থাকায় ব্রাজিল-বাংলাদেশ প্রীতি ম্যাচ নিয়ে অনিশ্চয়তা

ছবি: সংগৃহীত

লাল বলের লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ ‘এ’ দলে রিশাদ-সাইফউদ্দিন

0 Comments