ইবোলা প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআরসি) মংবওয়ালু শহরের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সেখানে।
স্থানীয় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা চিকিৎসাকেন্দ্রের একটি তাঁবুতে আগুন ধরিয়ে দিলে সেখানে থাকা ১৮ জন সন্দেহভাজন ইবোলা রোগী পালিয়ে গেছেন। এখন পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় হাসপাতাল পরিচালক ডা. রিচার্ড লোকুদি। খবর সিএনএনের
ডা. রিচার্ড লোকুদি জানান, গত শুক্রবার রাতে একদল বিক্ষুব্ধ মানুষ চিকিৎসাকেন্দ্রে ঢুকে ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস’ পরিচালিত তাঁবুতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেখানে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন ইবোলা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। হামলায় কেউ আহত না হলেও আতঙ্কে রোগীরা ছুটোছুটি শুরু করে এবং ১৮ জন সন্দেহভাজন রোগী পালিয়ে যান।
এটি এক সপ্তাহের মধ্যে এই ধরনের দ্বিতীয় হামলা। এর আগেও রোয়ামপারা শহরের একটি ইবোলা চিকিৎসাকেন্দ্রে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে এক ব্যক্তির মৃত্যু ইবোলায় হয়েছে সন্দেহে তাঁর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর না করায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ইবোলায় মৃত ব্যক্তির দেহ অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় কর্তৃপক্ষ বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে দাফনের ব্যবস্থা করছে। তবে এ নিয়ে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে।
গত শনিবার রোয়ামপারায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইবোলা আক্রান্তদের গণদাফন সম্পন্ন হয়। রেড ক্রসের টিম লিডার ডেভিড বাসিমা জানান, স্থানীয় যুবকদের বাধা ও প্রতিরোধের মুখে তাঁদের কাজ করতে হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
সাদা সুরক্ষা পোশাক পরা স্বাস্থ্যকর্মীরা সিল করা কফিন মাটিতে নামিয়ে দাফন সম্পন্ন করেন, আর দূর থেকে স্বজনদের কান্না করতে দেখা যায়। ইবোলার বিস্তার ঠেকাতে উত্তর-পূর্ব কঙ্গোতে ৫০ জনের বেশি মানুষের জমায়েত ও রাতভর শোকসভা নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ডিআরসিতে এই প্রাদুর্ভাব এখন ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি’ তৈরি করেছে, যদিও বৈশ্বিক সংক্রমণের ঝুঁকি এখনো কম।
ডব্লিউএইচও প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস জানান, এখন পর্যন্ত ৮২টি নিশ্চিত সংক্রমণ ও সাতজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। তবে প্রকৃত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৭৫০টি সন্দেহভাজন ইবোলা সংক্রমণ ও ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে ১৭৭টি সম্ভাব্য মৃত্যুর ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার ছড়িয়ে পড়া বিরল ‘বুন্ডিবুগিও’ ধরনের ইবোলা ভাইরাসের কোনো কার্যকর টিকা এখনো নেই। আফ্রিকা সিডিসি বলছে, এই সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
তথ্য সূত্র- সিএনএন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহের পর ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে দক্ষিণ ফ্রান্স। আগুনের ঝুঁকিতে থাকা এলাকা থেকে অন্তত ৩ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে শত শত দমকলকর্মী ও বিশেষ পানি বর্ষণকারী বিমান। ফরাসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দক্ষিণাঞ্চলের সাঁ-মারি-লা-মের এলাকায় প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রবল বাতাসের কারণে তা দ্রুত পাশের কানেত-অঁ-রুসিওঁ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পাইরেনিস-অরিয়েন্টালস অঞ্চলের প্রশাসন জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় ৩ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি স্থানীয় তিনটি ক্যাম্পসাইটে অবস্থান করা পর্যটক। আগুন নেভানোর সময় দুই দমকলকর্মী সামান্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে প্রায় ২০০ দমকলকর্মী, চারটি পানি বর্ষণকারী বিমান এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস জানিয়েছেন, বুধবার থেকে দেশের বিভিন্ন দাবানল মোকাবিলায় ১ হাজার ২০০-এর বেশি দমকলকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে গত জুনে ফ্রান্সে টানা ১১ দিন তাপপ্রবাহ চলেছে। অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এতে বনাঞ্চল শুকিয়ে গিয়ে দাবানলের ঝুঁকি অনেক বেড়ে গেছে। এদিকে দাবানল ও তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলো সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাবও উত্থাপন করেছে।
ফ্রান্সে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র ফ্রান্সে এই নির্বাচন শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয় নয় বরং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ অভিবাসন নীতি, অর্থনৈতিক দিক নির্দেশনা এবং সামাজিক কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ টানা দুই মেয়াদ পূর্ণ করায় সংবিধান অনুযায়ী তিনি আর ২০২৭ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। ফলে ক্ষমতার শীর্ষ পদে নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার জন্য ফ্রান্স এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এই পরিবর্তনের সম্ভাবনা ঘিরে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো তাদের অবস্থান, কৌশল এবং নীতিগত অগ্রাধিকার পুনর্গঠন করছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সাধারণত দুই দফায় অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দফায় একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং কোনো প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট না পেলে শীর্ষ দুই প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় দফা ভোট হয়। সেই ভোটেই চূড়ান্তভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এই কাঠামো ফ্রান্সের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে আরও জটিল এবং বহুমাত্রিক করে তোলে। বর্তমান সাংবিধানিক সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের প্রথম দফা ভোট ১৮ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফা ভোট ২ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণ প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়নি, তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে জল্পনা-কল্পনা এবং জরিপভিত্তিক বিশ্লেষণ ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে অভিবাসন ইস্যু। ফ্রান্সে দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসন একটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপ জুড়ে অভিবাসন প্রবাহ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক চাপ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ এই ইস্যুকে আরও জোরালো করেছে। সরকারি পর্যায়ে ইতোমধ্যেই অভিবাসন ব্যবস্থায় কঠোরতা দেখা গেছে। ভিসা প্রক্রিয়া আরও যাচাইভিত্তিক করা, আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি এবং অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে নজরদারি বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউরোপীয় বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয় বরং রাজনৈতিক চাপ এবং জনমতের প্রতিফলনও। এই প্রেক্ষাপটে ডানপন্থি রাজনৈতিক শক্তি ন্যাশনাল র্যালি অভিবাসন ইস্যুকে তাদের প্রধান নির্বাচনি এজেন্ডা হিসেবে সামনে এনেছে। দলটি নতুন অভিবাসন কমানো, পরিবার পুনর্মিলনের শর্ত কঠোর করা, নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়া আরও জটিল করা এবং অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের যুক্তি অনুযায়ী, রাষ্ট্রের সামাজিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক চাপ নিয়ন্ত্রণে এসব পদক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যদিকে মধ্যপন্থি রাজনৈতিক শিবির তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার কথা বলছে। তারা দক্ষ কর্মী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং বৈধ অভিবাসীদের জন্য ফ্রান্সের শ্রমবাজার উন্মুক্ত রাখার পক্ষে, তবে একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তাও স্বীকার করছে। বামপন্থি দলগুলো আবার অভিবাসনকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার পক্ষে অবস্থান নিয়ে সামাজিক সুরক্ষা ও শ্রম অধিকারের ওপর জোর দিচ্ছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে ডানপন্থি শিবিরের নেতৃত্ব নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মেরিন ল্য পেন বর্তমানে একটি আইনি আপিল প্রক্রিয়ার রায়ের অপেক্ষায় আছেন। ওই রায়ের ওপর নির্ভর করছে তিনি ২০২৭ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না। যদি আদালত তাকে অযোগ্য ঘোষণা করে, তাহলে দলটির সম্ভাব্য নেতৃত্ব হিসেবে জর্দান বারদেলার নাম সামনে আসছে। এই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ফ্রান্সের নির্বাচনি সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, প্রার্থী নির্ধারণ এবং দলীয় কৌশল চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র স্পষ্ট হবে না। ফ্রান্সে বসবাসরত অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যেও এই নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ ও আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে রেসিডেন্স পারমিট, নাগরিকত্ব, পরিবার পুনর্মিলন এবং কর্মসংস্থান সংক্রান্ত নীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে প্রশাসনিক সূত্রগুলো স্পষ্ট করে বলছে, বর্তমানে কার্যকর অভিবাসন নীতি অব্যাহত রয়েছে এবং কোনো পরিবর্তন হলে তা আইন প্রণয়ন, সংসদীয় অনুমোদন এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। বিশ্লেষকদের মতে ফ্রান্সের ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এখন কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রতিযোগিতা নয় বরং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতি কাঠামো নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যেখানে অভিবাসন ইস্যু রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে।
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা তেহরানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে লাখ লাখ মানুষের সমাগম হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত খামেনি এবং তার পরিবারের চার সদস্যের জানাজার নামাজ পরিচালনা করেন ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের একজন আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি। এই জানাজায় ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কানিও জানাজা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের এই বিশাল শোকানুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তেহরানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।