আন্তর্জাতিক

হুথিদের দমনে ইসরাইলের সঙ্গে যোগাযোগ করছে সৌদি আরব

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

হুথিদের ক্রমবর্ধমান হামলা মোকাবিলা করতে মার্কিন সেন্টকমের মধ্যস্থতায় ইসরাইলের সঙ্গে গোপন বৈঠক ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সৌদি আরব। আঞ্চলিক কূটনীতিকদের বরাত দিয়ে জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, রিয়াদকে গোয়েন্দা সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমেই মূলত এই যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।

 

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের তেল পাইপলাইন ও পাম্পিং স্টেশনে হুথিদের ড্রোন হামলার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইয়েমেন সীমান্তসংলগ্ন একটি মসজিদের ভেতরে থাকা সৌদি বেসামরিক নাগরিকদের ওপরও হামলা চালিয়েছে হুথিরা। 

 

একইসঙ্গে লোহিত সাগরের কৌশলগত কয়েকটি দ্বীপ দখল করে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে সৌদি জাহাজের যাতায়াত বাধাগ্রস্ত করছে তারা, যা সৌদি আরবের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইলের কাছ থেকে গোয়েন্দা সহায়তা চাইছে সৌদি আরব।

 

ইসরাইল ও সৌদি আরবের মধ্যে এই গোপন আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো হুথিদের সামরিক তৎপরতা ও অবস্থান সম্পর্কে রিয়াদকে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে সহায়তা করা। এর আগে হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানি বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনী তাদের উন্নত গোয়েন্দা সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। 

 

তবে হুথিদের দমনে যুক্তরাজ্যের কাছেও সামরিক সাহায্য চেয়েছে রিয়াদ, যার অংশ হিসেবে ব্রিটিশ সামরিক উপদেষ্টারা দেশটিতে সহায়তার জন্য কাজ করতে পারেন বলে জানা গেছে।

 

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবকে একটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার অনুমতি দেওয়ায় ইসরাইলি নিরাপত্তা মহলে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। 

 

এই বিষয়টি ট্রাম্পের সামনে উত্থাপন করা হলে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে পারমাণবিক কর্মসূচির অগ্রগতির বিষয়টি ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ওপর নির্ভর করছে। অন্যদিকে ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধানের পরই কেবল ইসরাইলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় যেতে চায় সৌদি কর্তৃপক্ষ। 

 

তবে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা যৌথ হুমকির মুখে দুই দেশের অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থের কারণে শিগগিরই একটি নতুন রূপরেখা বা কূটনৈতিক চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহল।

 

সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
আমাকে অভিশংসন করতে এলে ডেমোক্র্যাটরা ধ্বংস হয়ে যাবে : ট্রাম্প

দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর গ্রহণ করা বিভিন্ন নীতি এবং বিশেষ করে ইরানে সামরিক অভিযানের জন্য ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতারা যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসনে আনার চেষ্টা করেন, তাহলে তারা নিজেরাই ধ্বংস হয়ে যাবেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন হয়েছে গত ৩ নভেম্বর এবং পরের দিন ৪ নভেম্বর নির্বাচনের ফলাফলও প্রকাশিত হয়েছে। সেই ফলাফল থেকে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে মার্কিন পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং উচ্চকক্ষ সিনেটে বড় জয় পেয়েছেন বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীরা।   নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর বুধবার বিকেলে প্রথমবারের মতো সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময় করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ সময় তিনি হোয়াইট হাউসের লনে নিজের নতুন নির্মানাধীন প্রকল্প ‘বলরুম’ দেখান এবং প্রায় ২০ মিনিট ধরে প্রকল্পটির বিষয়ে কথা বলেন, তবে আগের রাতে সারা দেশে রিপাবলিকানদের বড় ধরনের পরাজয়ের বিষয়ে কোনো উল্লেখ করেননি।   বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির মতামত উপেক্ষা করে ইরানে সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ক্ষমতায় আসার পর অভিভাসন-বিরোধী অভিযানের সময়ও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিরোধী দলের মতামত উপেক্ষা করেছেন তিনি।   বুধবার সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করেন, বর্তমানে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতরা তাকে অভিশংসন করতে পারে এবং এ নিয়ে তিনি চিন্তিত কী না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি বিন্দুমাত্র চিন্তিত নই; বরং আমার মনে হয় আমার মনে হয়, তারা যদি এমনটা করে—অর্থাৎ কোনো কারণ ছাড়াই অভিশংসন আনে—তবে তা ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকেই ধ্বংস করে দেবে। কিসের জন্য? একটি সফল দেশ গড়ার জন্য? আমাদের দেশ এখন তার ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সফল।”   সাক্ষাৎকারে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয় সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমি যদি ব্যালটে থাকতাম, তবে জয়ী হতাম। নির্বাচনের আগে আমি যেসব জনসভা করেছি—সমর্থকদের কাছ থেকে প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছি; কিন্তু সেই ভালোবাসা আমরা প্রার্থীদের কাছে পৌঁছে দিতে পারিনি।”   এর আগের দিন মঙ্গলবার গভীর রাতে অবশ্য নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ডেমোক্রেটিক পার্টিকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন তিনি। ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে তিনি বলেছেন, “ডেমোক্র্যাটদের অভিনন্দন। তারা ভালো কাজ করেছে। ১১ বছর ধরে তারা এই জয়ের অপেক্ষায় ছিল, অবশেষে তারা তা পেয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা ভালো করেছে।”

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৫, ২০২৬

হরমুজে অপারেশনের আওতা বাড়াচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার বাহিনী

বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা : এক বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দিলো কুয়েত

ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর নেতানিয়াহুকে সরাতে তৎপর প্রতিদ্বন্দ্বীরা

যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চারজনের জয়

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের মধ্যে চার অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় জয় পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চার রাজনীতিক। নিউ হ্যাম্পশায়ার, জর্জিয়া, কানেকটিকাট ও নর্থ ক্যারোলাইনায় নির্বাচিত হয়েছেন তারা। এতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ দেখা গেছে।   মঙ্গলবারের নির্বাচনে জয়ী চারজনের মধ্যে তিনজন ডেমোক্র্যাট এবং একজন রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ছিলেন।   পিরোজপুরের আবুল খান রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদে সপ্তমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন।   কিশোরগঞ্জের শেখ রহমান জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটের ৫ নম্বর আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পঞ্চমবারের মতো জয়ী হয়েছেন। চাঁদপুরের মাসুদুর রহমান কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের সিনেটের ৪ নম্বর আসনে বড় ব্যবধানে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। আর গাজীপুরের হাসিব ফাতেমি নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের সিনেটের ১৮ নম্বর আসনে জয় পেয়েছেন।   এদিকে নোয়াখালীর সাদ্দাম আজলান সালিম ২০২৪ সালে ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটের ৩৭ নম্বর আসনে নির্বাচিত হন। তার আসনে আগামী বছর নির্বাচন হওয়ার কথা।   প্রবাসী বাংলাদেশিরা মনে করছেন, কংগ্রেসের দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের জয় এবং অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিকদের সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।   নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসের রাজনীতিক শাহজাহান শেখ বলেন, গত দুই বছরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের জবাব ভোটের মাধ্যমে দিয়েছেন মার্কিনিরা। তার মতে, এটি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।   ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড গ্লোবাল ক্যাম্পাসের অধ্যাপক ফয়জুল ইসলাম বলেন, ট্রাম্পের অন্যায় ও কর্তৃত্ববাদী আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে ভোটের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন মার্কিনিরা। তার মতে, ট্রাম্পের কারণে রিপাবলিকান পার্টির সমর্থনভিত্তি দুর্বল হয়েছে।   লং আইল্যান্ডের ব্যবসায়ী আখতার হোসেন বাদল বলেন, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকেই মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছিল। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি, অভিবাসনবিরোধী পদক্ষেপ ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষ এবং রিপাবলিকানদের একাংশও বিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন।   কুইন্সের রাজনীতিক খোরশেদ খন্দকার বলেন, ট্রাম্প যেসব প্রার্থীর সমালোচনা করেছিলেন, তাদের জয়ও নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। তার মতে, আগামী দুই বছরে ডেমোক্র্যাটরা মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলটির জন্য সুযোগ তৈরি হতে পারে।   তবে মেরিল্যান্ডের লেখক ও অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী আশরাফ আহমেদ মনে করেন, এবারের ফলাফল ডেমোক্র্যাটদের জয়ের চেয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মানুষের অসন্তোষের প্রতিফলন বেশি। তার মতে, কংগ্রেসের দুই কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ট্রাম্পের বিরোধিতার মুখে ডেমোক্র্যাটরা মানুষের অর্থনৈতিক দুর্ভোগ কমাতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।   তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতায় যে দলই থাকুক, বাংলাদেশের বিষয়ে দেশটির নীতিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।    সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৫, ২০২৬

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেয়ে ডেমোক্র্যাটদের সামনে যত সমস্যা

ছবি : রয়টার্স

হংকংয়ে নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগ: জোশুয়া ওংকে ১০ বছরের কারাদণ্ড

ছবি : রয়টার্স

চীনে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে জোর: সাবেক পলিটব্যুরো সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি : রয়টার্স
ট্রাম্পের ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণে চাঙ্গা যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজার

ওয়াল স্ট্রিট এমন একটি ফলাফল উদযাপন করছে যা প্রথম নজরে কিছুটা অবিশ্বাস্য বা বিপরীতমুখী মনে হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে কর কর্তন, নিয়মকানুন শিথিলকরণ এবং ব্যবসাবান্ধব নীতির কারণে বাজারের জন্য অনুকূল প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন।   তারপরও, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতি বড় ধরনের অনাস্থা জানিয়ে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর মার্কিন শেয়ার বাজারে ৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ উত্থান দেখা গেছে। তেলের দাম ব্যাপকভাবে কমেছে এবং ট্রেজারি বন্ডের বাজার চাঙা হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা বাজি ধরছেন যে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস ট্রাম্পের কিছু খামখেয়ালি বা অনাকাঙ্ক্ষিত নীতি যেমন— শুল্ক আরোপ, ঘাটতি বাজেট তৈরি এবং ইরান সংঘাতের ওপর লাগাম টানতে পারে। অন্য কথায়, বাজার বামপন্থার দিকে কোনো পরিবর্তনের কারণে খুশি হচ্ছে না, বরং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা কমার সম্ভাবনাকেই স্বাগত জানাচ্ছে।   নির্বাচনের পর বুধবার ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ দেড় হাজার পয়েন্টের বেশি লাফিয়ে বেড়েছে।   অন্যদিকে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং নাসডাক কম্পোজিট যথাক্রমে ১.৫৮ শতাংশ এবং ১.৪৪ শতাংশ বেড়েছে। ভোটের পর প্রাথমিকভাবে শেয়ার বিক্রির কিছুটা চাপ তৈরি হলেও, পরবর্তীতে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক এজেন্ডার ওপর ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের প্রভাব কী হতে পারে তা বিনিয়োগকারীরা নতুন করে মূল্যায়ন করায় এই উত্থান ঘটে। বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক গত তিন মাসের মধ্যে তার সবচেয়ে শক্তিশালী দৈনিক প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করেছে।     আর ডাও জোন্স প্রায় ৩ শতাংশ এগিয়েছে।   বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন যে একটি বিভক্ত সরকার নীতিগত ধাক্কাগুলোকে সীমিত করতে পারে, সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং বাজারে চেপে বসা কিছু অর্থনৈতিক ঝুঁকি কমাতে পারে। ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের কারণে ট্রাম্পের পক্ষে বড় ধরনের কর, ব্যয় এবং নীতিগত পরিবর্তন সহজে পাস করানো কঠিন হতে পারে। এই সম্ভাবনাটি সেইসব বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করেছে যারা প্রশাসনের খামখেয়ালি নীতি নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। তবে এর প্রভাব মোটেও সহজ-সরল নয়।       ডেমোক্র্যাটরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তি কম্পানি এবং ডিজিটাল সম্পদের ওপর কঠোর নজরদারির জন্য চাপ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে— যা এআই অবকাঠামোতে শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করা কোম্পানিগুলোর পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলতে পারে। এছাড়া এই নির্বাচন ট্রাম্পের শুল্ক নীতি, প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং ইরান সংঘাতের ভবিষ্যতের ওপরও প্রশ্ন তুলেছে। হোয়াইট হাউস এই রাজনৈতিক ধাক্কায় কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং কংগ্রেস প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে কি না, তা বিনিয়োগকারীরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখনো ওয়াল স্ট্রিটের অন্যতম বড় বিনিয়োগের খাত।     কিন্তু ডেমোক্র্যাটদের এই বিজয় এই শিল্পের ডেটা-সেন্টারগুলোর বিশাল খরচের ওপর নতুন করে নজরদারির চাপ তৈরি করেছে। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা যে আরও কঠোর নিয়মকানুন, ডাটা-সেন্টার নির্মাণে বিধিনিষেধ বা জ্বালানি ব্যবহারের ওপর কড়া নজরদারি এআই অবকাঠামোর সম্প্রসারণকে মন্থর করে দিতে পারে। এর প্রতিক্রিয়া অবশ্য মিশ্র ছিল। মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, অ্যালফাবেট (গুগল) এবং মেটার মত শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে। কারণ বিনিয়োগকারীরা ভাবছেন যে অবকাঠামো সম্প্রসারণের গতি ধীর হলে তা প্রতিষ্ঠিত ক্লাউড-কম্পিউটিং ব্যবসাগুলোর জন্য উপকারী হতে পারে।     অন্যদিকে, 'হাট ৮', 'আইআরইএন', 'কোর সায়েন্টিফিক' এবং 'অ্যাপ্লাইড ডিজিটাল'-এর মতো ডাটা-সেন্টার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চাপের মুখে পড়েছে। সেমিকন্ডাক্টর সূচক ৩.১ শতাংশ কমে ৬ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেছে। টেসলার শেয়ারের দামও কমেছে। আর প্রতিরক্ষা খাতের ঠিকাদারেরা এই আশঙ্কায় পড়েছেন যে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট কংগ্রেসে বাধার বাধার মুখে পড়তে পারে। নির্বাচনের পর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে তেলের বাজারে।     বুধবার অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ শতাংশের বেশি কমে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯৫ ডলারে নেমে আসে। মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দামেও বড় পতন রেকর্ড করা হয়েছে। তেলের এই বড় পতন মূলত এই আশাকে প্রতিফলিত করে যে, ডেমোক্র্যাটদের এই বিজয় ট্রাম্পের ওপর ইরান যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য চাপ বাড়াতে পারে। এই সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম চড়া ছিল এবং তা মূল্যস্ফীতিকে উস্কে দিচ্ছিল। ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন যে এই যুদ্ধ রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।     তেলের দাম কমলে তা সাধারণ ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দেবে। সস্তা জ্বালানি মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে পারে, পরিবহন খরচ কমাতে পারে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদের হার কমানোর বিষয়ে ভাবার সুযোগ দেবে। তবে তেল-সংবেদনশীল বাজারগুলোর এই চাঙ্গা ভাব আংশিকভাবে ভূ-রাজনৈতিক সমঝোতার আশার ওপর নির্ভর করছে। মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো ধরনের সংঘাত বাড়লে এই লাভগুলো দ্রুত হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ভারত ও তুরস্কের ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারের পর ট্রাম্প যেসব বাধায় পড়বেন

মধ্যবর্তী নির্বাচন: এবার কী তাইওয়ানে মার্কিন অস্ত্র বিক্রিতে প্রভাব পড়বে?

0 Comments