সারাদেশ

হরিরামপুরে ভয়াবহ পদ্মার ভাঙন, রক্ষা পাচ্ছে না পূর্বপুরুষের কবর

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
উপজেলার হরিহরদিয়া এলাকার জীবন মোল্লার পিতামহ (বাবার দাদা) মাঈন উদ্দীন মোল্লার কবর। ছবি: সংগৃহীত
উপজেলার হরিহরদিয়া এলাকার জীবন মোল্লার পিতামহ (বাবার দাদা) মাঈন উদ্দীন মোল্লার কবর। ছবি: সংগৃহীত

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের দুর্গম চরাঞ্চলে পদ্মা নদীতে দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। নদীভাঙনে শুধু বসতভিটা কিংবা ফসলি জমিই হারাচ্ছেন না চরাঞ্চলের মানুষ; হারাচ্ছেন তাদের স্মৃতি, স্বজনের কবর এবং দীর্ঘদিনের বসতি। পদ্মার এমন ভয়াল চিত্রে দিশেহারা বহু পরিবার।

 

স্থানীয়দের দাবি, হরিহরদিয়া, সেলিমপুর, জয়পুর ও হালুয়াঘাটসহ আশপাশের এলাকায় চলতি বছরই শতাধিক বাড়িঘর পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়েছে। লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নে কয়েক বছর ধরে পদ্মার ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। চার-পাঁচ বছর ধরে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে দুই হাজারের মতো বসতবাড়ি, হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি।

 

এছাড়া গত চার-পাঁচ বছরে বিলীন হয়েছে চরাঞ্চলের লেছড়াগঞ্জ, সুতালড়ি ও আজিমনগর ইউনিয়নে আজিমনগর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা ভবন, হাতিঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কয়েকটি স্কুল ও বাজারসহ বহু বাড়িঘর।

 

‎স্থানীয়রা দাবি করেন, সঠিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রতিবছরই এ চরাঞ্চলে ভয়াবহ ভাঙনে পদ্মার পেটে চলে যাচ্ছে ফসলি জমি।

 

‎লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের হরিহরদিয়া এলাকার কবির মোল্লার ছেলে জীবন মোল্লা বলেন, বাড়িঘর, জমিজমার সঙ্গে এবার আমাদের পূর্বপুরুষের কবরটিও পদ্মা নদীর পেটে চলে গেল। চরাঞ্চলের ‎পদ্মার তীব্র ভাঙনে বসতভিটা ও ফসলি জমির পাশাপাশি এবার বিলীন হয়েছে আমার পিতামহ (বাবার দাদা) মাঈন উদ্দীন মোল্লার কবরও। দেড় যুগ ধরে যে কবরটি বাবা, চাচা ও দাদার কাছে ছিল স্মৃতি ও আবেগের জায়গা, নদীভাঙনে সেটিও এখন আর নেই।

 

‎হরিহরদিয়া এলাকার হরিহরদিয়া কিন্ডারগার্টেনের প্রতিষ্ঠাতা রাজিব হোসেন বলেন, সেলিমপুর গতবছর শেষ করেছে পদ্মা। এবার বর্ষায় জয়পুরে ১৫০টির মতো বাড়ি নদীতে চলে গেছে। মানুষ ঘরবাড়ি সরিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। যারা আগে জমিজমার মালিক ছিলেন, এখন তাদের অনেকেরই থাকার জায়গা নেই। লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের পাশাপাশি ফরিদপুর সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নেও ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে।

 

‎হালুয়াঘাট এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেন বলেন, আমাদের ঘরবাড়ি ও জমি কয়েক বছর আগে নদীতে গেছে। এখন আবার হালুয়াহাট এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। হরিণাঘাট এলাকায় গত বছরও ভয়াবহ ভাঙন ছিল। এ বছরও শুরু হয়েছে। চরাঞ্চলে পদ্মা ভাঙন ঠেকাতে কেউ কাজ করে না।

 

‎আজিমনগর ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামের বাসিন্দা ‎নাসির হোসেন বলেন, কয়েক বছরে আজিমনগর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় চারতলা ভবনসহ তেঘাটা আশ্রম প্রকল্প বিলীন হয়ে গেছে।

 

‎লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মোতালেব হোসেন বলেন, লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ভাঙছে। দ্রুত বস্তা ফেলা না হলে চর থাকবে না।

 

‎লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, চরের মানুষ অসহায়। লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নসহ চরাঞ্চল পদ্মা ভাঙনে প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এখন আর তেমন কিছুই নেই। ভাঙন ঠেকাতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, নটাখোলা পুলিশ ফাঁড়ি ও নটাখোলা আফরোজা উচ্চ বিদ্যালয়ও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থাপনাও নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।

 

‎স্থানীয়রা বলছেন, চরাঞ্চলে কয়েক বছর ধরে ভাঙন অব্যাহত থাকলেও নদীতীর রক্ষায় স্থায়ী বা অস্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এতে বসতভিটা ও কৃষিজমি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন চরাঞ্চলের মানুষ।

 

‎মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান কালবেলাকে বলেন, চরাঞ্চলের ভাঙনের বিষয়টি শুনে মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত ও উপজেলা প্রশাসন চরাঞ্চলের লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করবেন।

 

তিনি আরও বলেন, হরিরামপুরের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনরোধে আপদকালীন প্রকল্পে একাধিকবার জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। তবে আগামী বছরের মধ্যে এ হরিরামপুরে ১২ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে স্থায়ী বেড়ি বাঁধেরও একটা প্রক্রিয়া চলছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
৬৫ বছর বয়সী বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নাজমার পাশে দাঁড়ালেন ডিসি ফরিদা

বাবা-মা ও ভাইহারা, জীবনে গড়তে পারেননি নিজের সংসারও। ছোটবেলা থেকেই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ৬৫ বছর বয়সী নাজমা আক্তার এখন হৃদরোগ ও কিডনি সমস্যায় ভুগছেন।   নিয়মিত ওষুধ কেনার সামর্থ্য নেই। ভরসা বলতে স্বল্পআয়ের ছোট বোন। এ অবস্থায় নাজমার চিকিৎসা ও জীবনযাপনের দায়িত্ব নিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের উদ্যোগে তাকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।     বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নাজমা আক্তারের হাতে দ্বিতীয়বারের মতো এ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন ফরিদা খানম।     সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নাজমা আক্তারের আদি বাড়ি বিক্রমপুরের মজিদপুর গ্রামে। বর্তমানে তিনি ছোট বোন আছমা আক্তারের সঙ্গে রাজধানীর মগবাজারে বসবাস করছেন। ছোটবেলা থেকেই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তার বিয়ে হয়নি।   বাবা-মা ও ভাই কেউ বেঁচে না থাকায় ছোট বোনই তার একমাত্র আশ্রয় ও দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু সীমিত আয়ের সংসারে নিজের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি বড় বোনের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে হিমশিম খেতে হয় আছমাকে। নাজমার ওষুধপত্র কিনতেই প্রতি মাসে প্রয়োজন হয় তিন থেকে চার হাজার টাকা। ফলে তার চিকিৎসা ও পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। নাজমার ছোট বোন আছমা আক্তার বলেন, আমি আজ আমার প্রতিবন্ধী বোনকে সঙ্গে নিয়ে এখানে এসেছি।     আমি ছাড়া তার দেখাশোনা করার মতো আর কেউ নেই। একটি অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ম্যাডামের সঙ্গে আমাদের দেখা হয়েছিল। তিনি নিজেই আমার বোনকে দেখে আন্তরিকতার সঙ্গে খোঁজখবর নেন এবং তাকে সঙ্গে করে নিয়ে আসতে বলেন। তার কথামতো আসার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পেয়েছি। আজও আমরা এই সহায়তা নিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসেছি।   তিনি আরো বলেন, এই টাকা দিয়ে বোনের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, প্রতি মাসের তিন থেকে চার হাজার টাকার ওষুধপত্র কেনা এবং তাকে ভালো খাবার, ফলমূল ও মাছ-মাংস কিনে দেওয়ার সুযোগ হয়েছে। সরকারের এমন মানবিক উদ্যোগ ও সহযোগিতার জন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের এই সহায়তায় আমি সত্যিই অত্যন্ত আনন্দিত ও সন্তুষ্ট।     জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, তিন-চার মাস আগে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে ‘মায়ার বাঁধন’ নামে প্রতিবন্ধী শিশুদের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে নাজমা আক্তারের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। সেখানে তার অসহায়ত্ব ও জীবনসংগ্রামের বিষয়টি জানতে পারি। তার বয়স ৬৫ বছর। ছোটবেলা থেকেই তিনি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। বাবা-মা ও ভাই কেউ বেঁচে নেই, বিয়েও হয়নি। বর্তমানে তার ছোট বোনই তাকে দেখাশোনা করছেন। কিন্তু বোনেরও সীমিত আয়। ফলে নাজমার চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো তার পক্ষে কঠিন।     তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাজমার দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তার চিকিৎসা, ওষুধপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, প্রতি মাসেই এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে।     জেলা প্রশাসক আরো বলেন, আমাদের আর্থিক সক্ষমতা সীমিত। তবে সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সমাজের অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরও এ ধরনের মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত। সবার সম্মিলিত মানবিক উদ্যোগ ও সহযোগিতা অসহায় মানুষের জীবনকে সহজ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ করে তুলতে পারে। আমরা চাই, সমাজের কোনো মানুষই যেন অসহায়ত্বের কারণে অবহেলিত না থাকেন।     সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, সমাজের অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। রাষ্ট্র ও প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে অসহায় মানুষের জীবনযাত্রা সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের চর্চা বাড়াবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠতে পারে আরো মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন সমাজ।

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দেবিদ্বারে নাশকতা মামলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ইমন গ্রেপ্তার

‘বড় দায়িত্ব থেকে মুক্ত হলাম’, রাকসু ছেড়ে কোথায় যাচ্ছেন আম্মার

ছবি: সংগৃহীত

কসবায় ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৪

ছবি: সংগৃহীত
নোয়াখালীতে জেলা ট্রাফিক অফিসের উদ্বোধন

নোয়াখালী ট্রাফিক বিভাগের আয়োজনে নতুন ভবনে স্থানান্তরিত জেলা ট্রাফিক অফিস আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।   বুধবার দুপুরে ফিতা কেটে এর উদ্বোধন করেন নোয়াখালী পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন।    এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন (প্রশাসন ও অর্থ), জেলা ট্রাফিক অফিস ইনচার্জ এস.এম শওকত হোসেন, সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলামসহ পুলিশের কর্মকর্তারা।    পরবর্তীতে ট্রাফিক আইন, সড়ক ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।   আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার ট্রাফিক আইন মেনে চলা, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, যানবাহন চলাচলে নির্ধারিত নিয়ম-নীতি অনুসরণ এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণে চালক, যাত্রী ও পথচারীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন এবং ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে অনুসরণের আহ্বান জানান।   শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসাধারণের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় স্বেচ্ছাসেবকদের অভিনন্দন জানান পুলিশ সুপার। এ সময় তাদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নোয়াখালী ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবকদের অভিনন্দনপত্র ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৪, ২০২৬
সুন্দরবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা রিসোর্ট পরিদর্শন করলেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

সুন্দরবন সংলগ্ন রিসোর্ট পরিদর্শনে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

রংপুরে উচ্ছেদ অভিযানের সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের হেনস্তা, মারধরের চেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

পিএসসি সংস্কার ও নিয়োগে স্বচ্ছতার দাবিতে ঢাবিতে শিবিরের ১৩ প্রস্তাব

ছবি: সংগৃহীত
লক্ষ্মীপুরে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ১১ বেদে পরিবারের ঘর পুড়ে ছাই

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার দক্ষিণ মজুপুর এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে লাগা আগুনে ১১টি বেদে পরিবারের চারটি বসতঘর পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় ইসমাত আরা নামে এক নারী আহত হয়েছেন। আগুনে পুড়ে মারা গেছে শিকলে বাঁধা একটি পোষা বানরও।   বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে জেলা নির্বাচন কার্যালয়সংলগ্ন এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। রান্নার সময় একটি গ্যাস সিলিন্ডারের মুখে আগুন ধরে গেলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আশপাশের ঘরগুলোও আগুনের কবলে পড়ে।   স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে পাশের কয়েকটি ঘর রক্ষা পায়।   প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রওশন আলীর ঘরে তার পুত্রবধূ রান্না করার সময় সিলিন্ডারের মুখে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ঘরের আসবাবপত্রে ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিস্ফোরণের কারণে আগুন আশপাশের ঘরেও ছড়িয়ে পড়ে।   আগুন নেভানোর সময় মাথায় কাঠ পড়ে ইসমাত আরা আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।   স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ও ফয়জুল আজিম জানান, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় চারটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এসব ঘরে রওশন আলী ও খলিলুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা বসবাস করতেন।   ক্ষতিগ্রস্ত মোশাররফ হোসেন বলেন, আগুনে ঘরের আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার পুড়ে গেছে। তার ব্যক্তিগত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, প্রায় ৪০ লাখ টাকার সম্পদ নষ্ট হয়েছে।   স্থানীয় বিএনপি নেতা আলা উদ্দিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বেদে সম্প্রদায়ের। দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই এলাকায় বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিলেন। অগ্নিকাণ্ডে তাদের শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়ে গেছে। তিনি পরিবারগুলোর দ্রুত পুনর্বাসনের জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।   লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টাফ অফিসার জসীম উদ্দিন বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। দুই ব্যক্তির মালিকানাধীন ১১টি কক্ষ পুড়ে গেছে। এতে আনুমানিক ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।   ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মেহেদী হাসান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা এবং সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।   সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ঢেউটিন ও নগদ অর্থ সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পাঁচ বছরের মধ্যে শরীয়তপুরের ওপর দিয়ে চলবে ট্রেন: হুইপ অপু

ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরে তৌফিকের ওপর ভাড়াটে লোক দিয়ে হামলার অভিযোগ বন্ধুর

সংগৃহীত ছবি

হেমায়েতপুরে শ্রমিক বিক্ষোভে আহত ওসি, থমথমে পরিস্থিতি

0 Comments