পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় পানি নিশ্চিত করতে গ্যারান্টি ক্লজসহ ভারতের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি নতুন গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি চায় বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ এ বছরই শেষ হচ্ছে। বর্তমান চুক্তি শুধু নবায়ন না করে বাংলাদেশ সরকার নতুন বা সংশোধিত চুক্তি চায়। এতে বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় শুষ্ক মৌসুমের পানি নিশ্চিত করতে গ্যারান্টি ব্যবস্থা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ‘রিথিংকিং ওয়াটার ফিউচারস: ইয়ুথ লিডারশিপ, জাস্টিস অ্যান্ড কো-অপারেশন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও দীর্ঘমেয়াদি এবং শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ নতুন চুক্তির দিকে এগিয়ে যেতে চায় সরকার।
এ্যানি বলেন, ‘আমাদের নতুন একটি চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত। এটি হতে হবে দীর্ঘমেয়াদি এবং এতে অবশ্যই গ্যারান্টি ক্লজ থাকা বাঞ্ছনীয়।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকারের নীতি হলো জনগণের স্বার্থ ও দেশের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে যেকোনো চুক্তি করা।’
১৯৯৬ সালে স্বাক্ষর হওয়া ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হবে।
এ্যানি বলেন, বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন একটি ব্যবস্থা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে নিয়মিত কাজ করছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা আশাবাদী এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকের ভিত্তিতে ১২ ডিসেম্বরের আগেই চুক্তিটি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।’
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার হবে ১৯৭৭ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মতো একটি গ্যারান্টি ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা।
তিনি বলেন, পাঁচ বছর মেয়াদি ১৯৭৭ সালের চুক্তিতে একটি গ্যারান্টি ক্লজ ছিল। তবে ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
সেমিনারে দেওয়া বক্তব্যে এ্যানি বলেন, ‘এই সেমিনারে যেমন আলোচনা হয়েছে, ১৯৭৭ সালের চুক্তি ১৯৯৬ সালের চুক্তির চেয়েও শক্তিশালী ছিল।’
বর্তমান চুক্তি শুধু মেয়াদ বাড়ানোর পরিবর্তে বাংলাদেশ নতুন একটি চুক্তি চাচ্ছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এ্যানি বলেন, সেমিনারে এ বিষয়েই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, গ্যারান্টি ব্যবস্থা সম্বলিত দীর্ঘমেয়াদি একটি চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ব্যাপক ঐকমত্য রয়েছে।
জেআরসির কারিগরি দল ইতিমধ্যে এ বিষয়ে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, কারিগরি পর্যায়ের কাজ শেষ হলে অবশিষ্ট বিষয়গুলো মন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনা করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পানি কূটনীতি সহযোগিতা, বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ, তথ্য বিনিময় এবং আরও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ‘পানিকে একটি যৌথ পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে দেখতে হবে। এর টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দুই দেশই উপকৃত হতে পারে।’
তিনি বলেন, ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বর্ষায় অতিরিক্ত পানি এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট- এই দুই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়।
বন্যা, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা ও খরা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে প্রচলিত পানি ব্যবস্থাপনার গণ্ডির বাইরে গিয়ে ভাবতে হবে।
এ্যানি বলেন, ‘আমাদের পানি কূটনীতি, অববাহিকাভিত্তিক সহযোগিতা, জলবায়ু সহনশীলতা, অংশগ্রহণমূলক শাসন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ন্যায্য অধিকারকে গুরুত্ব দিতে হবে।’
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে অভিন্ন নদীগুলো নিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা কোনো বিকল্প নয়, বরং এটি প্রয়োজনীয়।
জাতিসংঘের পানি কনভেনশনে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তঃসীমান্ত পানি সম্পদের ন্যায্য ও দায়িত্বশীল ব্যবহার, তথ্য বিনিময় এবং টেকসই ব্যবস্থাপনার পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্ম।
তিনি আরও বলেন, বন্যা, লবণাক্ততা ও আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনার মতো একই ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে এমন দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশকে বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে জোট গড়ে তুলতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘তাই আমাদের পানি কূটনীতি একটি সহজ নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত- পানি নিয়ে প্রতিযোগিতার পরিবর্তে সহযোগিতার মাধ্যমে পারস্পরিক সুবিধা নিশ্চিত করা।’
তিস্তা মহাপরিকল্পনাকেও সরকারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পানি ব্যবস্থাপনা অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের জন্য তিস্তা একটি জটিল মৌসুমি সমস্যা তৈরি করে। শুষ্ক মৌসুমে সেখানে তীব্র পানির সংকট দেখা দেয়, আবার বর্ষায় বন্যা ও নদীভাঙনের সৃষ্টি হয়।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, তিস্তা প্রকল্পের কারিগরি ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করছে সরকার ।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের খুব দ্রুত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করতে হবে। ওই সমীক্ষার ভিত্তিতেই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।’
এ্যানি বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করার দিকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে একই বছর মূল তিস্তা প্রকল্পের কাজ শুরু করা যায়।
তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বড় প্রকল্প। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৭ কোটি মানুষ উপকৃত হতে পারে।
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প ইতোমধ্যে একনেকের অনুমোদন পেয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে এ প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে বলে সরকার আশা করছে।
সেমিনারে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। পানিসম্পদমন্ত্রী এ্যানি প্রধান অতিথি হিসেবে সেমিনারে অংশ নেন।
সেমিনারে আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের পানি কূটনীতি শক্তিশালী করা, অংশগ্রহণমূলক শাসন ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদার এবং পানি ব্যবস্থাপনায় তরুণদের নেতৃত্ব ও পানি-ন্যায়বিচার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
পরিবেশ সুরক্ষায় সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত সীমিত করেছে সরকার। চলতি মৌসুমে নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটককে দ্বীপটিতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশের ধারণক্ষমতা বাড়াতে পারলে ভবিষ্যতে পর্যটকের সংখ্যা আরো বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, প্রযুক্তির ব্যবহার, কঠোর নজরদারি, নিয়মকানুনের যথাযথ প্রয়োগ এবং পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি পর্যটনশিল্পের বিকাশও সম্ভব। এ জন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পয়োনিষ্কাশন ও পর্যটকদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ারের (বিটিটিএফ) দ্বিতীয় দিনে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন আলোচকেরা। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) আয়োজিত সেমিনারের শিরোনাম ছিল ‘ট্যুরিজম অ্যান্ড দ্য এনভায়রনমেন্ট অন সেন্টমার্টিনস আইল্যান্ড : দ্য রিয়েলিটি’। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পর্যটন খাতের গবেষক ফারুক হাসান। তিনি বলেন, সেন্ট মার্টিনে পর্যটক যাতায়াত সীমিত করার ফলে দ্বীপটিকে ঘিরে গড়ে ওঠা পর্যটনশিল্প সংকটে পড়েছে। অথচ এ খাত জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের আয়ের সুযোগ তৈরি করে। ফারুক হাসানের মতে, সেন্ট মার্টিনের উপকূলের মাত্র ৮ থেকে ৯ শতাংশ এলাকায় প্রবাল কলোনি রয়েছে। মালদ্বীপ ও ইতালির অনেক দ্বীপের তুলনায় সেন্ট মার্টিনের আয়তন বড়। সেসব দ্বীপের তুলনায় এখানকার স্থানীয় জনসংখ্যা ও পর্যটকের চাপও কম। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দ্বীপে প্রযুক্তির ব্যবহার ও কঠোর নীতিমালার মাধ্যমে পর্যটন পরিচালনা করা হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে পরিবেশ সংরক্ষণের নামে পর্যটন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত না করে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে হবে। নিয়ম ভাঙলে জরিমানার সুপারিশ সেন্টমার্টিনে পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোরভাবে নিয়ম প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন ফারুক হাসান। তিনি বলেন, দ্বীপের অনেক হোটেল-মোটেল নিয়ম মেনে পরিচালিত হলেও কিছু প্রতিষ্ঠান ও পর্যটকের মধ্যে নিয়ম না মানার প্রবণতা রয়েছে। ফলে পলিথিন, চিপসের প্যাকেটসহ বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ছে। মালদ্বীপে পর্যটনের নামে পরিবেশের ক্ষতি করলে বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেন্ট মার্টিনে যাওয়ার আগে পর্যটকদের কী করা যাবে আর কী করা যাবে না, তা লিখিতভাবে জানানো যেতে পারে। নিয়ম ভাঙলে জরিমানার ব্যবস্থাও রাখতে হবে। আলোচকরা বলেন, বিদেশের পর্যটনকেন্দ্রে গেলে অনেক বাংলাদেশি পরিবেশ সুরক্ষার নিয়ম মেনে চলেন। কিন্তু দেশের পর্যটনকেন্দ্রে গিয়ে তাদের কেউ কেউ নিয়ম মানতে চান না। এ মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। তারা আরো বলেন, দ্বীপের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, পয়োনিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জাহাজ থেকে পোড়া মবিল সাগরে ফেলা বন্ধ করে তা সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা নিতে হবে। পর্যটনে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ সেন্ট মার্টিনে স্মার্ট পর্যটনব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন আলোচকেরা। তাদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ইন্টারনেট অব থিংসের (আইওটি) মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশের ওপর চাপ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিদিন কতজন পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন, কোথায় কী করা যাবে এবং কোন কাজ নিষিদ্ধ—এসব বিষয়ে পর্যটকদের তাৎক্ষণিক তথ্য ও নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে। এতে নিয়মের প্রয়োগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে। সেমিনারে প্রধান অতিথি পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার বলেন, সেন্ট মার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা না গেলে দ্বীপটির পর্যটনও টিকবে না। প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেলে মানুষ সেখানে অর্থ ও সময় ব্যয় করে কেন যাবে? তিনি বলেন, টেকসই পর্যটনের কথা শুধু মুখে বললে হবে না, বাস্তবেও তা অনুসরণ করতে হবে। সেন্ট মার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের দায়িত্ব সরকার পালন করবে। মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার আরো বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, সেন্টমার্টিনে এক হাজারের বেশি মানুষ নেওয়ার মতো ব্যবস্থা নেই। এ সীমাবদ্ধতার মধ্যেই পর্যটন ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। চলতি মৌসুমে প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার পর্যটক যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরিবেশের ক্ষতি না করে এই সংখ্যার পর্যটক ব্যবস্থাপনা করতে পারলে ভবিষ্যতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। টোয়াবের সহসভাপতি (১) মো. মঈনুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ, পর্যটন ও আতিথেয়তা ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার দেব এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান ড. মাহফুজা পারভীন। সেমিনার সঞ্চালনা করেন টোয়াবের সাবেক সভাপতি শিবলুল আজম কোরেশী। ছুটির দিনে বিটিটিএফে দর্শনার্থীদের ভিড় এদিকে বিটিটিএফের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সকাল থেকেই মেলার বিভিন্ন স্টলে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায়। মেলার ১৪তম আসরে নেপাল, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, সৌদি আরব ও মালয়েশিয়াসহ ২০টি দেশের পর্যটন প্রতিনিধি ও প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘এআই পাওয়ার্ড ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেস্টিনেশন’। মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও নেপাল এবারের মেলার পার্টনার কান্ট্রি। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে। মেলার টাইটেল স্পন্সর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস।
প্রধান বিচারপতি জোবায়ের রহমান চৌধুরী বলেছেন, সার্বভৌমত্ব বা রাষ্ট্রীয় আইন—কোনোটিই মানুষের মৌলিক অধিকার ও মানবতার ঊর্ধ্বে হতে পারে না। শুক্রবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ‘সমসাময়িক বিশ্বে সার্বভৌমত্ব, মানবতা ও আইন’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে সার্বভৌমত্বের কঠোর ধারণা আজ অনেকটাই চ্যালেঞ্জের মুখে। কোনো সমস্যাই আজ আর একটি মাত্র ভূখণ্ডের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই ও থাকে না। ফলে একটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের অর্থ কেবল নিজের ইচ্ছেমতো চলার স্বাধীনতা নয়, বরং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় অংশ নেওয়ার দায়িত্বও বটে। এই সম্মেলনের আলোচনা থেকে বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের একটা রূপরেখা পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন বিভিন্ন অঞ্চল ও পটভূমির পেশাজীবীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। এখানে তারা পারস্পরিক আলোচনা, গবেষণালব্ধ ফলাফল নিয়ে মতবিনিময় এবং সার্বভৌমত্বের পরিবর্তনশীল প্রকৃতি, মানবিক মর্যাদার সুরক্ষা তথা একটি ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠনে আইনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে পারবেন। এই সম্মেলন সার্বভৌমত্ব, মানবিক মর্যাদা, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন ও আইনের শাসনের ওপর আরও গবেষণাকে অনুপ্রাণিত করতে ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, সমসাময়িক বিশ্বে সার্বভৌমত্ব, মানবতা ও আইনের ধারণাগুলো একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। বিশ্বায়ন, সশস্ত্র সংঘাত, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, অসমতা এবং পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মতো বিষয়গুলো চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এমন একসময়ে এই চ্যালেঞ্জগুলো অনুধাবন করতে এবং কার্যকর আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ খুঁজে বের করতে অ্যাকাডেমিক আলোচনা ও আন্তবিভাগীয় গবেষণা একান্ত প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যে এই সম্মেলন থেকে দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ৪টি অ্যাকাডেমিক সেশনে ১২৪টি প্রবন্ধ উপস্থাপিত হবে বলে নির্ধারিত আছে। বিভাগের শিক্ষার্থী এস এম রিদওয়ান জুনায়েদ ও তাসনিম তাইয়েবা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। সম্মেলনের আহ্বায়ক ড. বেগম আসমা সিদ্দীকা স্বাগত বক্তৃতা দেন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আইন বিভাগের সভাপতি প্রফেসর সাঈদা আঞ্জু। এতে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মো. আব্দুল আলিম ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মামুনুর রশীদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, গবেষক, বিচারক, আইন পেশাজীবী, শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট অন্যরা।
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কেএম তাহসিফ সাউরীর (২৮) লাশ উদ্ধারের স্থান থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে পাওয়া গেছে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছি।’ এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দীপ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। পরে তুরাগ নদ থেকে তার ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে বৃহস্পতিবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর। তাকে নিয়ে রাতভর বিভিন্ন স্থানে অভিযানও চালানো হয়। দীপের দেওয়া বক্তব্যসহ জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করছে তদন্ত সংস্থা। মোস্তফা কামাল বলেন, ‘দীপকে হেফাজতে নেওয়ার পর আমরা বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি।’ তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য এখনই প্রকাশ করতে চাননি তিনি। অন্যদিকে, উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটি তাহসিফের কিনা, তা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ।