আন্তর্জাতিক

গাজায় অন্তর্বর্তী ফিলিস্তিনি সরকার গঠনে সমর্থন দিলেন ট্রাম্প

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

গাজা উপত্যকায় দীর্ঘ যুদ্ধের অবসান এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা বা ‘পিস প্ল্যান’ অনুসরণ করে গাজার জন্য একটি নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়েছে। এই প্রশাসনিক কাঠামোর নাম দেওয়া হয়েছে ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব দ্য গাজা স্ট্রিপ’ (এনসিএজি)।

 

ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা বিশেষ শর্তের ভিত্তিতেই ১৫ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করা হয়। এনসিএজি সরকারের নির্বাহী কমিটির প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রকৌশলী আলী আবদেল হামিদ শাথ। তিনি পশ্চিম তীরের একজন পরিচিত ব্যক্তিত্ব এবং পূর্বে ক্ষমতাসীন ফাত্তাহ বা প্যালেস্টাইনিয়ান অথরিটি-এর নেতৃত্বাধীন সরকারের উপ-পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

কমিটির প্রধান ছাড়া বাকি ১৪ জন সদস্যের নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে জানা গেছে, তারা সবাই গাজার স্থানীয় বাসিন্দা এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত পেশাজীবী। এই কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ মিসর ও কাতার।

ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনায় উল্লেখ রয়েছে, গাজার চূড়ান্ত শাসনক্ষমতা ও নীতিনির্ধারণী কর্তৃত্ব থাকবে ‘বোর্ড অব পিস’ নামের একটি বিশেষ পরিষদের হাতে। এই বোর্ডের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে। তার নেতৃত্বাধীন বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ীই এনসিএজি সরকার পরিচালিত হবে।

‘বোর্ড অব পিস’-এর নির্বাহী প্রতিনিধি হিসেবে মিসরে অবস্থান করবেন বুলগেরিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোলাই ম্লাদেনভ। ইতোমধ্যে এনসিএজি প্রধান আলী আবদেল হামিদ শাথ কায়রোতে তার সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন।

 

সংশ্লিষ্ট এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, এনসিএজি সরকারের উচ্চপর্যায়ে আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ থাকলেও এর নিম্নপর্যায়ে পশ্চিম তীরের প্যালেস্টাইনিয়ান অথরিটির প্রশাসনিক প্রভাব বজায় থাকবে।

 

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মধ্যে ইরানির যেভাবে কাটছে দৈনন্দিন জীবন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমাবর্ষণের মধ্যে কোনোভাবে স্বাভাবিক জীবন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন ইরানের সাধারণ মানুষ। একই সময় দেশজুড়ে বৈশ্বিক ইন্টারনেট সংযোগও কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার সময় নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কিছু পানি ও বিদ্যুৎ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের বিদ্যুৎ বা পানি সরবরাহ বন্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তারা জনগণকে পানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন। পূর্ব তেহরানের বাসিন্দা সেপেহর আল জাজিরাকে বলেন, “যুদ্ধ হয়তো কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে। তাই পরিস্থিতি খুব খারাপ না হলে আমি ও আমার পরিবার শহর ছাড়ব না। আপাতত জীবন চলছেই নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে তার এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছে। কখনো ঘন ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে, আবার কখনো বিস্ফোরণের কম্পনে জানালাও কেঁপে উঠছে। প্রায় এক কোটি মানুষের শহর তেহরানের বিভিন্ন এলাকায়ও প্রায় একই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। গত শনিবার সকালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দিন-রাত যেকোনো সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলছে।এই হামলায় এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিছু পানি ও বিদ্যুৎ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় আকারে বিদ্যুৎ বা পানি সরবরাহ বন্ধ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।   রাজধানীর রাস্তাঘাট স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ফাঁকা এবং যানজটও কম। অনেক দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। তবে খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এখনও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পাওয়া যাচ্ছে, সরাসরি দোকান থেকে বা অনলাইন অর্ডারের মাধ্যমে। পশ্চিম তেহরানের বাসিন্দা মারজান বলেন, “কিছু সময়ের জন্য বোমাবর্ষণ থেমে গেলে আমি দিনে একবার কাছের দোকানে গিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে আনি। সাধারণত রুটির দোকানে লাইন থাকে, তবে খুব বড় নয়। কিছু পেট্রোল পাম্পেও লাইন দেখা যায়।” তিনি বলেন, “কয়েকটি পণ্যের ঘাটতি থাকতে পারে, তবে আপাতত দোকানে বেশির ভাগ জিনিসই পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু ভবিষ্যতে কী হবে কে জানে। যাই হোক, জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছে।” যুদ্ধ শুরুর দুই দিন আগে ইরানের পরিসংখ্যান কেন্দ্র এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক আলাদা দুটি প্রতিবেদনে দেখায়, লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রায় ৯ কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। ইরানের পরিসংখ্যান কেন্দ্র জানায়, ইরানি ক্যালেন্ডারের বাহমান মাসে (যা ১৯ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে) বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৬৮ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একই সময়ের মূল্যস্ফীতি ৬২ দশমিক ২ শতাংশ বলে উল্লেখ করেছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগের সময়ের পর এত উচ্চ মূল্যস্ফীতি খুব কমই দেখা গেছে। এতে সম্ভাব্য অতি-মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতির দিক থেকেও ইরান বিশ্বের অন্যতম শীর্ষে। গত মাসের শেষে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১০৫ শতাংশ। এর মধ্যে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে ২০৭ শতাংশ, মাংস ১১৭ শতাংশ, ডিম ও দুগ্ধজাত পণ্য ১০৮ শতাংশ, ফল ১১৩ শতাংশ এবং রুটি ও ভুট্টার দাম বেড়েছে ১৪২ শতাংশ। ইরানের ফার্স্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ বুধবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানানন, পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ নিয়ে সরকারের কিছু উদ্বেগ ছিল, তবে সৌভাগ্যবশত এখন পরিস্থিতি ভালো। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের ওষুধের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা গেছে। অনেক ওষুধের দাম বেড়েছে এবং কিছু ওষুধের (যেমন: বিষণ্নতা প্রতিরোধী ওষুধ) তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে সংকটে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বাজারে শুধু দেশীয় তৈরি ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে, বিদেশি ওষুধ প্রায় অনুপস্থিত। সরকার এখনও মানুষের জন্য ন্যূনতম নগদ ভর্তুকি দিচ্ছে, যাতে তারা প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারে। সম্প্রতি এই ভর্তুকি কর্মসূচিতে কেনা যায় এমন পণ্যের তালিকায় শিশুদের ডায়াপারও যোগ করা হয়েছে, যার দাম গত কয়েক মাসে দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলে যাতে প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ চালু রাখা যায়, সে জন্য প্রাদেশিক গভর্নর ও মন্ত্রীদের কম আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বড় পরিমাণে জরুরি পণ্য আমদানির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কের পর দশক দুর্নীতি ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতবিক্ষত ইরানি অর্থনীতি আবারও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। একই সময়ে দেশটির বাহিনী অঞ্চলজুড়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানি রিয়ালের দর ছিল প্রতি মার্কিন ডলারে প্রায় ১৬ লাখ ৬০ হাজার রিয়াল, যা প্রায় সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কায় শেয়ারবাজারে বড় পতন দেখা গেছে, তবে স্বর্ণের মতো সম্পদের দাম বেড়েছে। ‘অরওয়েলীয়’ যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা বোমাবর্ষণ চলার মধ্যেই টানা ষষ্ঠ দিনের মতো বৈশ্বিক ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে রেখেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। এর ফলে মানুষ মূলত রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও সরকারি বার্তা সেবার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। এসব মাধ্যমে মূলত সরকারি বিবৃতি এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বিভিন্ন সফল হামলার খবর প্রচার করা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় বেসামরিক এলাকায় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেসব খবরই বেশি প্রচার করা হচ্ছে। বিপরীতে বহু পুলিশ স্টেশন বা আধাসামরিক ঘাঁটিতে হামলার প্রভাব নিয়ে আলোচনা প্রায় নেই। সাংবাদিক মিলাদ আলাভি বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “৫৯টির বেশি ভিপিএন ও প্রক্সি কনফিগারেশন চেষ্টা করে ছয় ঘণ্টা পর এই টুইটটি পাঠাতে পারলাম।” তিনি আরও বলেন, “ইরানে স্থায়ী ও মোবাইল দুই ধরনের ইন্টারনেটই বিচ্ছিন্ন। আমরা কোনো খবর পাচ্ছি না, অথচ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখানো হচ্ছে ইরান যেন তেল আবিব ও ওয়াশিংটন দখলের দ্বারপ্রান্তে!” গত শনিবার সকালে রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে যুদ্ধবিমান বোমা হামলা চালানোর কয়েক মিনিটের মধ্যেই দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ তীব্রভাবে কমে যায়। ওই হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য এবং বহু শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইন্টারনেট সংযোগ আগের তুলনায় ১ শতাংশেরও কমে নেমে আসে এবং এখনও সেই অবস্থায় রয়েছে, এমন তথ্য দিয়েছে ক্লাউডফ্লেয়ার ও নেটব্লকসের মতো আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো। নেটব্লকস বৃহস্পতিবার জানায়, “ক্রমশ অরওয়েলীয় এক পরিবেশ তৈরি হচ্ছে”, কারণ যারা বৈশ্বিক ইন্টারনেটে সংযোগের চেষ্টা করছে, টেলিকম কোম্পানিগুলো তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। অনেক ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, ভিপিএন ব্যবহারের চেষ্টা বা তা শেয়ার করার পর তারা টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষের হুমকিমূলক বার্তা পেয়েছেন। কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রিত একটি অভ্যন্তরীণ ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক চালু থাকায় স্থানীয় ওয়েবসাইট ও সেবাগুলো সীমিতভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে। ফলে কয়েকটি বড় সংবাদ ওয়েবসাইটের মন্তব্য বিভাগই এখন অনেক ইরানির জন্য অনলাইনে মতপ্রকাশের একমাত্র জায়গা হয়ে উঠেছে। কিন্তু সেখানে সরকারের সমালোচনা বাড়তে থাকায় বিচার বিভাগ প্রযুক্তিবিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট জুমিট–এর মন্তব্য বিভাগ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। রাজনৈতিক, সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নাগরিকদের বারবার আহ্বান জানাচ্ছে, কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ বা মার্কিন ও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান দেখলে যেন তারা নিরাপত্তা বাহিনীকে জানায়। গত জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধ এবং জানুয়ারির দেশব্যাপী বিক্ষোভের সময় ২০ দিনের ইন্টারনেট বন্ধের মতোই এবারও বৈশ্বিক ইন্টারনেট সংযোগের জন্য কালোবাজার তৈরি হয়েছে। আল জাজিরা এমন দুই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছে, যারা জানিয়েছেন তারা ইরানের ভেতরে বিক্রেতাদের কাছ থেকে কয়েক গিগাবাইট সীমাবদ্ধ প্রক্সি সংযোগ কিনতে পেরেছেন। এসব সংযোগ খুব ধীরগতির এবং অত্যন্ত ব্যয়বহুল। নিরাপত্তার কারণে তারা বিস্তারিত কিছু জানাননি। এদিকে মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ইরানের জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ভবিষ্যতে সরকারবিরোধী আন্দোলনের কথা বলছেন। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ এখনও ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা কবে তুলে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা ঘোষণা করেনি।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ০৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ইস্যুতে কেন দূরত্ব বজায় রাখছে রাশিয়া-চীন

মিনিটম্যান ৩ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা আমেরিকার। ছবি: সংগৃহীত

হিরোশিমায় ফেলা ‘লিট্‌ল বয়ের’ ২০ গুণ শক্তিশালী বোমা বইতে সক্ষম! ‘ডুম্‌সডে’ পরীক্ষা করিয়ে ট্রাম্প-বার্তা কি ইরান-সহ বিশ্বকে?

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হুমকিকে প্রশ্রয় দেবে না ইরাক : প্রধানমন্ত্রী সুদানি

ছবি : সংগৃহীত
ইরানকে মোকাবিলায় জেলেনস্কির বিশেষ পরিকল্পনা

ইরানের ড্রোন হামলা প্রতিরোধে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রস্তাব দেন।    জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি ইউক্রেনের বিশেষজ্ঞদের উপসাগরীয় অঞ্চলে পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন, যাতে সেখানকার কিয়েভের মিত্র দেশগুলোকে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র থেকে রক্ষায় সাহায্য করা যায়।   জেলেনস্কি জানান, তিনি গতকাল সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার এবং আজ জর্ডান ও বাহরাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন।   ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের জেলেনস্কি নির্দেশ দিয়েছেন, এমন পরিকল্পনা তৈরি করতে, যা মিত্র দেশগুলোকে সহায়তা করবে, তবে ইউক্রেনের নিজস্ব প্রতিরক্ষা দুর্বল করবে না।   এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি লিখেছেন, জীবন রক্ষা করতে এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে ইউক্রেন সাহায্য করতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ০৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

নেভাডায় শতাধিক ভূমিকম্প, যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে?

ছবি : সংগৃহীত

ইরানের দুঃসাহস দেখে হতাশ ট্রাম্প

ইরানে নিহতের সংখ্যা ১০০০ ছাড়াল : পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত

সংগৃহীত ছবি
ইরানের কৌশল বড় ভুল বলে আখ্যায়িত করছে তুরস্ক

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছে ইরান। তুরস্ক এই কৌশলকে ‘অবিশ্বাস্য ভুল কৌশল’ বলে আখ্যা দিয়েছে। খবর রয়টার্সের   মঙ্গলবার (৩ মার্চ) তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, আরব দেশগুলোতে আক্রমণ চালানোর কারণে ইরান এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তুর্কি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিআরটি হার্বারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের এসব স্থানে নির্বিচারে বোমাবর্ষণ করা একেবারেই ভুল কৌশল। তেহরান এমন এক কৌশল নিচ্ছে—‘আমি যদি ডুবি, তবে পুরো অঞ্চলকেও সঙ্গে ডুবাব।’ ফিদান সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের হামলার শিকার দেশগুলোতে যদি এই আক্রমণ অব্যাহত থাকে, তাহলে তারা নীরব থাকতে নাও পারে। এতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি উদ্বেগজনক। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, ইরানের নতুন নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসানে একটি সুযোগের জানালা তৈরি করতে পারে। ফিদান বলেন, যে কোনো প্রয়োজনীয় সমঝোতা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার চেয়ে ভালো। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব সংঘাত শেষ করতে ‘প্রয়োজনীয় সদিচ্ছা’ প্রদর্শন করবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ০৪, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি

ফ্রান্সের পরমাণু রনতরী‘চার্লস দ্য গল’ ভূমধ্যসাগরে যাত্রা শুরু

ছবি : সংগৃহীত

ইরানের পারমাণবিক বোমা আছে কি না, জানাল আইএইএ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার জন্য ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কয়েক দশক ধরে লেগে ছিল। ছবি: সংগৃহীত

খামেনিকে হত্যা: ইরানে রয়েছে ইসরাইলের গুপ্তচর, সঙ্গে সিআইএর আড়ি পাতার তথ্য

0 Comments