সারাদেশ

শনিবার যেসব এলাকায় ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১৬, ২০২৬

জরুরি মেরামত ও উন্নয়নকাজের জন্য শনিবার সিলেট নগরীর বেশ কয়েকটি এলাকায় টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

 

শুক্রবার বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) সিলেট বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরাফাতের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ট্রান্সফরমার মেরামত এবং সঞ্চালন লাইনের উন্নয়নকাজের জন্য শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মোট ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

এ সময়ে শেখঘাট ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের আওতাধীন বিএডিসি অফিস ও আশপাশের এলাকা, শুভেচ্ছা আবাসিক এলাকা, সূর্যের হাসি ক্লিনিক, জিতু মিয়ার পয়েন্ট, তালতলা ভিআইপি রোডের পার্ক ভিউ হাসপাতাল ও হিলটাউন আবাসিক হোটেল, কাজিরবাজার, তালতলা পয়েন্ট ও আশপাশ এলাকা, তেলি হাওর এলাকা, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বন্দরবাজারের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

এছাড়া সুরমা মার্কেট, রামের দিঘীরপাড়, মির্জাজাঙ্গাল পয়েন্ট, তোপখানা এলাকা, মির্জাজাঙ্গাল এলাকার নির্ভানা ইন হোটেল, কোতোয়ালি থানা ও আশপাশের এলাকা, সিলেট সার্কিট হাউজ এলাকা, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সিলেট পুলিশ সুপারের কার্যালয়, বন্দরবাজারের প্রধান ডাকঘর, কলাপাড়া মসজিদ, ডহর আবাসিক এলাকা, কুষ্ঠ হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকাতেও বিদ্যুৎ থাকবে না।

 

তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে উন্নয়নকাজের স্বার্থে সবার সহযোগিতা কামনা করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ২৬ বছর পর আদালতে নুর মুহাম্মদ, আত্মসমর্পণের নেপথ্যে যে কারণ

বয়স ১০৪ বছর। শরীর ভেঙে পড়েছে, স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলাও করতে পারেন না। নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসা লাগে। জীবনের এই শেষ প্রান্তে এসে নুর মুহাম্মদের চাওয়া ছিল খুব সন্তানদের কাছে ফিরে তাদের সঙ্গে বাকি দিনগুলো কাটানো। সেই আশাতেই ২৬ বছর আত্মগোপনে থাকার পর আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন তিনি।     পরিবারের আশা ছিল, বয়স ও অসুস্থতা বিবেচনায় জামিন পাবেন। তাহলে জীবনের শেষ কটা দিন সন্তানদের সঙ্গে কাটাতে পারবেন। কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি। ২৬ বছর আগের ডাকাতি ও জোড়া খুনের মামলায় আত্মসমর্পণের পর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।   গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন নুর মুহাম্মদ। আপিলের শর্তে জামিনের আবেদন করেছিলেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।   নুর মুহাম্মদ কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার রশিদাবাদ ইউনিয়নের বেরুয়াইল গ্রামের বাসিন্দা।   নুর মুহাম্মদের আইনজীবী ফয়সাল আহমেদ বলেন, তার মক্কেলের বয়স ১০৪ বছর। তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেন না এবং বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন। নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ প্রয়োজন। বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় মানবিক কারণে তাকে জামিন দেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল।   আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিজানুর রহমান জানান, অসুস্থতার কারণে নিজ খরচে পরিবহনের মাধ্যমে কারাগারে যাওয়ার আবেদনও করেছিলেন নুর মুহাম্মদ। আদালত সেই আবেদনও নামঞ্জুর করেন।   নুর মুহাম্মদের ছেলে আবদুল করিম বলেন, বাবা একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের বড়বাজার এলাকায় কাপড়ের ব্যবসা করতেন। পরে সন্তানদের নিয়ে নরসিংদীতে চলে যান। সেখানে ছেলেদের সঙ্গে জুট মিলে কাজ করতেন। কিন্তু মামলায় জড়িয়ে পড়ার পর স্বাভাবিক জীবন আর ফিরে পাননি।   তিনি বলেন, মামলায় সাজা হওয়ার বিষয়টি প্রথমদিকে বাবা জানতেন না। পরে জানতে পেরে ভয় পেয়ে আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘদিন পরিবারের কাছ থেকেও দূরে থাকতে হয়েছে তাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই আত্মগোপনের জীবন আরও কঠিন হয়ে পড়ে। স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেন না, নিয়মিত ওষুধ লাগে। যে বাসায় এতদিন লুকিয়ে ছিলেন, সম্প্রতি সেখানেও থাকা তার জন্য কষ্টকর হয়ে ওঠে। তখনই পরিবারের সবাই মিলে তাকে আদালতে আত্মসমর্পণ করানোর সিদ্ধান্ত নেন।   করিম বলেন, বাবা আর কয়দিন বাঁচবে। আমাদের সঙ্গে থাকলেও ভয় ছিল, কেউ ষড়যন্ত্র করে তাকে ধরিয়ে দিতে পারে। এ জন্য তিনি আমাদের সঙ্গেও থাকতেন না। এখন আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। জামিন পেলে জীবনের বাকি সময়টা আমাদের সঙ্গে কাটাবেন—এটাই চেয়েছিলাম।’   করিমের দাবি, তার বাবা ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। পারিবারিক বিরোধের জেরে ষড়যন্ত্র করে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছিল। তার এক ফুফাতো বোনকে বাজিতপুরের পিরিজপুর এলাকার এক ব্যক্তি জোর করে বিয়ে করেছিলেন। পরে নুর মুহাম্মদ তাকে সেখান থেকে এনে অন্যত্র বিয়ে দেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ওই ব্যক্তি পরে বড়বাজারের ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ডে নুর মুহাম্মদের নাম জড়িয়ে দেন। তার বাবাকে কয়েক দফা রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল। পরে স্বীকার করলে কিছু হবে না—এমন আশ্বাসে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।   নুর মুহাম্মদের ছোট ভাই জাল মাহমুদও (৮৮) ভাইকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তিনি বলেন, আমার ভাই নির্দোষ। ষড়যন্ত্র করে তাকে ওই মামলায় জড়ানো হয়েছে। এখন তার বয়স ১০৪ বছর। শেষ বয়সে অন্তত সন্তানদের কাছে থাকার সুযোগ দেওয়া হোক।   জাল মাহমুদ জানান, ৭০-৮০ বছর আগে তার ভাই নুর মোহাম্মদ তাদের বাড়ি ছাড়েন। এরপর তিনি শহরের কানিকাটা রেললাইনের পাশে শশুরবাড়ি এলাকায় জায়গা কিনে বসবাস শুরু করেন। তার ভাইয়ের সাত ছেলে ও তিন মেয়ে সন্তান রয়েছে।   স্থানীয় বাসিন্দা চাঁন মিয়া ও আক্কাস মিয়াও নুর মুহাম্মদকে ভালো মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পরিবারের দাবি, ডাকাতির সময় নুর মুহাম্মদ নরসিংদীতে ছিলেন। তবে মামলার নথিতে নুর মুহাম্মদের বিরুদ্ধে দেওয়া সাজা এবং তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির তথ্য রয়েছে।   যে মামলায় ২৬ বছর পর কারাগারে মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে কিশোরগঞ্জের বড়বাজার এলাকার ব্যবসায়ী মো. ফেরদৌসের দোকানে ডাকাতি হয়। এ সময় মোশাররফ হোসেন ও আবদুল কবির নিহত হন। ডাকাতেরা দোকানের সিন্দুক থেকে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ১১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ফেরদৌস কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। পরে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।   ২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল নুর মোহাম্মদসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। বিচার চলাকালে হারিছ মিয়া নামে এক আসামি মারা যান। পরে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ১৯ আগস্ট উচ্চ আদালত আলমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং অন্য আসামিদের সাজা কমিয়ে দেন। ওই রায়ে নুর মুহাম্মদের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।    মামলার নথি অনুযায়ী, রায় ঘোষণার সময়  নুর মুহাম্মদ পলাতক ছিলেন। এর আগে জামিন নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ফেনীতে পুলিশের অভিযানে ২১ পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে কাভার্ড ভ্যান-মাইক্রোবাস সংঘর্ষ, নিহত ২

ছবি: সংগৃহীত

ফটিকছড়িতে ডেভিড ইমনের সহযোগী শুটার হারুন গ্রেফতার

ছবি: সংগৃহীত
পটুয়াখালীতে ৯ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আবুল বাশার গ্রেফতার

পটুয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের টাউন বহালগাছিয়া এলাকার আবুল বাশার ওরফে বাশারকে গ্রেফতার করেছে সদর থানা পুলিশ। মাদক ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা নয়টি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলের  দিকে পৌর শহরের চৌরাস্তা এলাকার স্টার রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।   পুলিশ জানায়, আবুল বাশারের বিরুদ্ধে মাদক ও ডাকাতিসহ পৃথক নয়টি মামলায় আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে থাকা ওয়ারেন্ট তামিল করতে সদর থানা পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে তৎপর ছিল। অবশেষে কৌশল অবলম্বন করে শুক্রবার তাকে গ্রেফতার করা হয়।   স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় মাদক ব্যবসার একটি চক্রের সঙ্গে আবুল বাশারের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তার নেতৃত্বে বা নিয়ন্ত্রণে মাদকের একটি সিন্ডিকেট পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, সরকারি খাল দখল করে সেখানে মাদকসংশ্লিষ্ট লোকজনকে দিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।   স্থানীয় সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, একসময় অন্যের মুরগির খামারে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন আবুল বাশার। অল্প সময়ের ব্যবধানে তার বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়ে ওঠা নিয়েও এলাকায় নানা প্রশ্ন রয়েছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে তার বিপুল সম্পদ রয়েছে বলেও স্থানীয়দের দাবি।   পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, আবুল বাশারের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর মধ্যে মাদক ও ডাকাতির মামলাও রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আদালতের ওয়ারেন্ট থাকায় তাকে গ্রেফতারে বিশেষভাবে তৎপর ছিল পুলিশ।   পটুয়াখালী সদর থানার এএসআই রিপন বলেন, ‘আবুল বাশারের বিরুদ্ধে থানায় ওয়ারেন্ট তামিলের দায়িত্ব আমার ছিল। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কৌশলে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছিল। শুক্রবার তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি।’   তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবুল বাশার। গ্রেফতারের আগে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার নামে কোনো মামলা নেই। আমি নিরপরাধ। ষড়যন্ত্র করে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। এলাকার কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’   পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান (মনির) বলেন, আবুল বাশারের বিরুদ্ধে মাদক ও ডাকাতিসহ মোট নয়টি পৃথক মামলায় আদালতের ওয়ারেন্ট রয়েছে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গ্রেফতারের পর ৬৩ বিদেশি নাগরিক যার কথা বলেছেন, এবার সেই কর্মকর্তা গ্রেফতার

ছবি: সংগৃহীত

গুলশানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলে গ্রেপ্তার ২৪ আসামি রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত

মোহাম্মদপুরে ‘কিশোর গ্যাং’ বলে কিছু থাকবে না: ডিএমপি কমিশনার

ছবি: সংগৃহীত
বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে মো. আসাদুজ্জামান নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই বাংলাদেশিকে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।   শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দেরহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।   নিহত আসাদুজ্জামান (৩৩) ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা দক্ষিণ ইন্দ্রইল গ্রামের ওয়াজ উদ্দীনের ছেলে।   আটকরা হলেন- পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনার উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামে আহেদ আলীর ছেলে মো. মোস্তাকিম ও একই উপজেলার বৈরচুনার ইন্দ্রইল গ্রামের মুনষা নারায়ণ ছেলে শ্রী উদা।   স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) চান্দেরহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ৩৩৩/এমপি থেকে আনুমানিক দেড় কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশি চোরাকারবারিদের একটি দলের ওপর ৬৩/চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের টহলদল গুলি চালায়। এতে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। এ সময় আরও দুজনকে আটক করে বিএসএফ।   গুলিবিদ্ধ মো. আসাদুজ্জামানকে পরে ভারতের কালিয়াগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সকাল ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান বলে জানা গেছে।   বৈরচুনার ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. শাহাজাহান আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিএসএফের গুলিতে নিহত মো.আসাদুজ্জামান আমার এলাকার ছেলে। আমরা ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। আমি নিহতের বাসায় এসেছি, তার পরিবারের সঙ্গে নিয়ে বিজিবিকে জানাব আমরা।   এ বিষয়ে ৪২ ব্যাটালিয়ন দিনাজপুরের সিইও আব্দুল্লাহ আল মঈনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক। ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে সিকৃবির আন্দোলন স্থগিত

মসজিদে পিস্তল-গুলি পেয়ে থানায় দিলেন মুয়াজ্জিন

পঞ্চগড়ে সরকারিভাবে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

0 Comments