অন্যান্য

ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করলেন তারেক রহমান

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১৬, ২০২৬

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, পারস্পরিক শুল্কহার এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে তারেক রহমান বৈঠক করেছেন।

 

গতকাল সকাল ৯টায় রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার-এর সঙ্গে ভার্চুয়ালি এই বৈঠকে অংশ নেন তিনি।

দলীয় সূত্র জানায়, প্রায় আধাঘণ্টার এই বৈঠকে শুল্ক ও বাণিজ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় জেমিসন গ্রিয়ার জানতে চান, বাণিজ্য আলোচনা বিষয়ে তারেক রহমানের অবস্থান কী। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক ও বিনিয়োগ নীতি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে হওয়া আলোচনার বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি কী।

জবাবে তারেক রহমান স্পষ্ট করে জানান, সরকার যে আলোচনা ও সমঝোতায় পৌঁছেছে, তাতে বিএনপির সম্মতি রয়েছে। সরকার যেভাবে আলোচনা এগিয়ে নিয়েছে, সে বিষয়ে বিএনপির কোনো দ্বিমত বা আপত্তি নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

বৈঠকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ, একই অঞ্চলের পরিচালক এমিলি অ্যাশবি এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
অক্সফোর্ডের ইএমবিএতে শীর্ষে রিশাদ, স্পিকারও নির্বাচিত

পরদিন অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে। রাত তিনটায় ঘুম থেকে উঠে পড়তে বসে যেতেন রিশাদ শরিফ। অ্যাসাইনমেন্ট শেষে সকাল ছয়টায় ধরতেন অফিসের ট্রেন। এভাবেই কেটেছে গত দুই বছর। রিশাদ বলছিলেন, ‘স্বপ্ন দেখতে সবাই পছন্দ করে। কিন্তু সেটাকে বাস্তব করাটা আসলে খুব বোরিং হার্ডওয়ার্ক (একঘেয়ে পরিশ্রম), যেটা প্রতিদিন করতে হয়।’   সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির এক্সিকিউটিভ এমবিএতে (ইএমবিএ) ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন রিশাদ। অক্সফোর্ড ইএমবিএর জানুয়ারি ২০২৪ কোহর্টে (ব্যাচ) প্রথম হয়ে এই স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। পেশাজীবীদের জন্য এক্সিকিউটিভ এমবিএ স্নাতকোত্তর পর্যায়ের একটি ডিগ্রি। র‍্যাঙ্কিংয়ে অক্সফোর্ডের এই ডিগ্রি বিশ্বের সেরা।   রিশাদের বেড়ে ওঠা ঢাকার মালিবাগে। পড়েছেন সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে। নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক। ২০০৯ সালে গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি) থেকে স্নাতক করেন। পরের বছর যোগ দেন ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশে। কাজের সূত্রে গত ছয় বছর সপরিবার যুক্তরাজ্যে আছেন। এখন তিনি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর অপারেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটির বৈশ্বিক প্রধান।   অক্সফোর্ডে তাঁর ইএমবিএর ব্যাচে প্রায় ২৬ দেশের ৬০ জন পেশাজীবী ছিলেন। তাঁদের কেউ ব্যবসায়ী, কেউ রাজনীতিবিদ, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা কিংবা চিকিৎসক। প্রত্যেকেরই সংশ্লিষ্ট পেশায় দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা আছে।   আবার কেন পড়াশোনা রিশাদের পেশাজীবন প্রায় ১৬ বছরের। স্ত্রী ফারহা দিবা সুফিয়ান একজন অর্থনীতিবিদ। তাঁদের দুই সন্তান। ৯ বছরের নাদিন ও ৫ বছরের হামজা। প্রশ্ন ছিল, ‘এই ব্যস্ত জীবনে আবার কেন পড়ালেখার কথা ভাবলেন?’ রিশাদের সহজ উত্তর, ‘আমি এটাকে ব্যক্তি উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছি।’   কথায় কথায় আরও দুটি কারণ জানা গেল। প্রথমত, তিনি সন্তানদের অনুপ্রেরণা দিতে চান। দ্বিতীয়ত, দেশের প্রতিনিধিত্ব করার ভাবনাও তাঁর মাথায় ছিল। রিশাদ বলেন, ‘আমার কোহর্টে, কিংবা এর আগে-পরেও কোনো বাংলাদেশিকে আমি অক্সফোর্ডের ইএমবিএতে পাইনি। অনেকে তো আমাদের দেশকে নেতিবাচকভাবে দেখে। মনে করে শাসনব্যবস্থা ভালো না, গরিব। আমি দেশকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করতে চেয়েছি। সে জন্য ভালো রেজাল্ট করার একটা বাড়তি চেষ্টা ছিল।’   এক্সিকিউটিভ এমবিএর জন্য অক্সফোর্ড ছাড়াও লন্ডন বিজনেস স্কুলে আবেদন করেছিলেন রিশাদ। সেখানেও তিনি নির্বাচিত হন। রিশাদ জানালেন, অভিবাসীরা সাধারণত বড় স্বপ্ন দেখার সাহস করে না। সেই অনিশ্চয়তা রিশাদেরও ছিল। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষ তার স্বপ্নের সমানই বড়। বলছিলেন, ‘বাস্কেটবল খেলোয়াড় মাইকেল জর্ডানের একটা কথা আছে। প্রতিটি না নেওয়া শট একটা মিসড শট। অর্থাৎ, তুমি যদি শটটা না-ই নাও, তার মানে তুমি সেটা মিস করলে। শটটা বরং নিয়ে দেখো, জিততেও পারো। আমার মনে হয়, নিজেকে সেই পারমিশনটা দেওয়া উচিত।’   কীভাবে সামলাতেন পরিবার এবং কাজ সামলে প্রথমত ডিগ্রিটা অর্জন করাই ছিল চ্যালেঞ্জিং। একজন বাবা, স্বামী, চাকরিজীবীর দায়িত্বই অনেক বড়। তার সঙ্গে যোগ হয়েছিল আরও একটা পরিচয়—শিক্ষার্থী। তবে গত দুই বছর এই চ্যালেঞ্জ উপভোগও করেছেন তিনি।   রিশাদ তাঁর কোহর্টের সহপাঠীদের ভোটে ‘গ্র্যাজুয়েশন স্পিকার’ নির্বাচিত হন। প্রায় ৬০০ মানুষের সামনে বক্তৃতা দেন তিনি। সেই বক্তব্যে গত দুই বছরের পথচলা প্রসঙ্গে রিশাদ বলেন, ‘গত ২৪ মাসের প্রতিটি সপ্তাহে কোনো দিন আমি ছিলাম একজন ব্যর্থ বাবা, কোনো দিন ব্যর্থ কর্মী, কোনো দিন ব্যর্থ বন্ধু আবার কোনো দিন একজন ব্যর্থ স্বামী। প্রতিদিন আপনি সবকিছু ঠিকভাবে করতে পারবেন না। কিন্তু আমি মনে করি, সামগ্রিকভাবে সবকিছুর মধ্যে একটা ভারসাম্য রাখতে হবে।’   রিশাদ মনে করেন, সবকিছু একা করা সম্ভব ছিল না। বিশেষ করে স্ত্রী ফারহার সহযোগিতা পেয়েছেন। বন্ধু ও সহকর্মীরাও তাঁদের জায়গা থেকে সাহায্য করেছেন।   রুণদের জন্য কিছু করতে চান ছোটবেলা থেকে খেলাধুলা ভালোবাসতেন রিশাদ। স্কুলে ক্রিকেট, ফুটবল, বাস্কেটবলসহ সব ধরনের খেলাই খেলেছেন। স্কাউটিংও করতেন। বলছিলেন, ‘আমার মনে হয়, পড়ালেখার বাইরে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ। এটা আমাদের কঠিন সময়ে শান্ত থাকতে শেখায়, নেতৃত্ব শেখায়।’ প্রতিবছর ডিসেম্বরে দেশে আসেন তিনি। দেশে ‘হ্যামার হেডস’ নামে বন্ধুদের একটা ছোট ক্লাব আছে। দেশে এলে সেখানেই বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলেন।   বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিতর্ক করতেন। ডিবেটিং ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। বিতর্ক করার পাশাপাশি শেখাতেনও। বিশেষ করে স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ দিতেন। বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।   বিতর্কের সুবাদেই তাঁর একটা নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। দেশের তরুণদের ‘ক্রিটিক্যাল থিংকিং’ ও যোগাযোগ-দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করতে চান তিনি। রিশাদ বলেন, ‘জীবনে অসামান্য সব সুযোগ পেয়ে আমি অত্যন্ত ভাগ্যবান ও কৃতজ্ঞ। অর্জিত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি কাজে লাগিয়ে যদি কোনোভাবে দেশের উপকারে আসতে পারি, তবে তা হবে আমার সৌভাগ্য।’

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি। ছবি : সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে ঢাবি শিক্ষিকা মোনামির রেটিং ১.৫৯

ছবি: সংগৃহীত

রুমিন ফারহানার বক্তব্যের প্রতিবাদে বিএনপির ঝাড়ু মিছিল

ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঢাকাসহ সারা দেশে প্রচারপত্র বিতরণ করবে বিএনপি

ছবি: সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁও-১: বিএনপির মনোনয়নপত্র বিক্রি ১৫ সেপ্টেম্বর

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাই করতে ১৫ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র বিক্রি করবে বিএনপি।   শনিবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।   ব্ঠৈক শেষে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন আগ্রহী প্রার্থীরা। মনোনয়ন ফরম জমা দিতে হবে পরদিন এবং সাক্ষাৎকার হবে ১৮ সেপ্টেম্বর।   তিনি বলন, গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেবে।   বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় ঠাকুরগাঁ-১ আসনটি শূন্য হয়েছে। এ আসনে উপনির্বাচন হবে আগামী ২৯ অক্টোবর।   শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক শুরু হয়।   বৈঠকে কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, ইসমাইল জবিহউল্লাহ, ফরহাদ হালিম উপস্থিত ছিলেন।   এ বৈঠকে আরেকটি সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, দলের যেসব কমিটির সদস্য মারা গেছেন কিংবা বহিষ্কার হয়েছেন সেসব শূন্য পদ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পুরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।   বৈঠকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের তিন মাসের যে অভিযান শুরু হয়েছে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে আহ্বান জানিয়েছে সেজন্য বৈঠকে তাকে ধন্যবাদ জানানো হয়।   “বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে সচেতনতার জন্য প্রচারপত্র বিতরণ করা হবে ঢাকাসহ সারাদেশে। দেশের নামকরা যেসব চিকিৎসক রয়েছেন, বিশেষজ্ঞ যারা রয়েছেন তাদের নেতৃত্বে এই প্রচারপত্র তৈরি করা হবে। এছাড়া টিভি-বেতারে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির জন্য দলের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে।   স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও হাটবাজারে আর্বজনা যাতে একটা জায়গায় রাখতে পারে সে বিষয়ে বিএনপি কাজ করবে বলে তুলে ধরেন তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দেশে ফেরার পরিকল্পনায় আ.লীগের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা

ছবি: সংগৃহীত

শ্রদ্ধায় জিন্নাহকে স্মরণ করল হাদির ইনকিলাব মঞ্চ

মো. আলম হাজারীর। ফাইল ছবি

বিএনপিতে যোগ দিয়েও রক্ষা পেলেন না স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

ছবি : সংগৃহীত
ধর্ষণ-নারী নির্যাতনসহ সব অপরাধ মুছে দেবে বিএনপি: রিজভী

দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, ‘সমাজ থেকে ধর্ষণ, নারী নির্যাতনসহ সব ধরনের অপরাধ মুছে দেবে বিএনপি।’ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। রিজভী বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এ কাজে মহিলা দলের নেতাকর্মীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আজকে বিএনপি ক্ষমতায়, আমাদের প্রত্যেকেই সরকারের অংশ। শুধু পদ-পদবি থাকলেই সরকারের অংশ হতে হবে, তা নয়।’ মহিলা দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সরকারে মহিলা দলেরও রক্ত-ঘাম আছে। আপনারাও এই সরকারের অংশ।’ নারীর ক্ষমতায়নে সরকারের নেওয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘সরকারের এ কর্মসূচি সফল করতে মহিলা দলের নেত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।’ নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে মহিলা দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাঙামাটিতে এনসিপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। ফাইল ছবি

১৯ সেপ্টেম্বর রংপুরে দ্বিতীয় লং মার্চের ঘোষণা জামায়াতের

ছবি: সংগৃহীত

চান্দাবিডিডটকমে ১৬ দিনে ৬২৭ অভিযোগ, চাঁদা দাবি সাড়ে ১৮ কোটি

0 Comments