লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে নাটকীয় লড়াইয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও মুখোমুখি হচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ ও বেনফিকা। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ প্লে–অফের ড্রয়ে একই দুই দলকে ফের একবার প্রতিপক্ষ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের নিওনে অনুষ্ঠিত ড্রয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়, ফেব্রুয়ারিতে দুই লেগের লড়াইয়ে শেষ ষোলোতে ওঠার জন্য রিয়াল ও বেনফিকাকে আবার মাঠে নামতে হবে।
লিগ পর্বের শেষ দিনে একই সময়ে শুরু হওয়া ১৮টি ম্যাচের মধ্যে রিয়াল–বেনফিকা ম্যাচই শেষ হয়েছিল সবার শেষে। যোগ করা সময়ের নাটকীয়তায় সেই ম্যাচের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছিল দুই দলের ভবিষ্যৎ। রিয়ালের প্রয়োজন ছিল একটি গোল করে সেরা আটে জায়গা নিশ্চিত করা, যাতে প্লে–অফ এড়ানো যায়। অন্যদিকে বেনফিকার দরকার ছিল একটি গোল করে ২৪তম হয়ে প্লে–অফে জায়গা নিশ্চিত করা। শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ে বেনফিকার গোলেই তাদের লক্ষ্য পূরণ হয় এবং রিয়াল নবম স্থানে নেমে গিয়ে প্লে–অফ খেলতে বাধ্য হয়।
লিগ পর্বে নবম থেকে ২৪তম স্থানে থাকা দলগুলোকে নিয়ে প্লে–অফ ড্র অনুষ্ঠিত হয়। নিয়ম অনুযায়ী রিয়ালের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ছিল বোডো/গ্লিমট অথবা বেনফিকা। ড্রয়ে শেষ পর্যন্ত বেনফিকার নামই ওঠে।
রিয়াল–বেনফিকার পাশাপাশি ড্রয়ের আরেকটি আকর্ষণীয় ম্যাচআপ হলো মোনাকো ও পিএসজির মুখোমুখি হওয়া। দুই দলই ফরাসি লিগে প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় এই লড়াইকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্লে–অফের প্রথম লেগের ম্যাচগুলো হবে ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি। দ্বিতীয় লেগ অনুষ্ঠিত হবে ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি।
প্লে–অফে মুখোমুখি দলগুলো
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আগেই যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক। সোমালিয়ার এক রেফারিকে মিয়ামি বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেওয়া, ইরান ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকদের ভিসা না পাওয়া এবং ইরান জাতীয় দলের প্রশিক্ষণ শিবির মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনাগুলো বিশ্বকাপ আয়োজনকে ঘিরে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, এসব সমস্যার ইঙ্গিত অনেক আগেই দেখা গিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে প্রথম দিনই ‘Protecting the American People Against Invasion’ শিরোনামে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। পরে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য ব্যবসা বা পর্যটক ভিসার ক্ষেত্রে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমার শর্ত আরোপ করা হয়। এছাড়া ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা আবেদনও স্থগিত রাখা হয়। এমন বাস্তবতায় বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ভিসা জটিলতা দেখা দেওয়াকে অনেকেই অস্বাভাবিক মনে করছেন না। তবে দীর্ঘদিন ধরে এসব উদ্বেগকে গুরুত্ব দেননি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ২০২৫ সালে প্যারাগুয়েতে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে তিনি বলেছিলেন, ‘বিশ্বকে আমেরিকায় স্বাগত জানানো হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘খেলোয়াড়, সংশ্লিষ্ট সবাই এবং অবশ্যই সমর্থকরা স্বাগত। এটা শুধু আমার কথা নয়, এটা মার্কিন সরকারের অবস্থান।’ একই বছরের গ্রীষ্মে কেনিয়ায় এক দক্ষিণ আফ্রিকান সাংবাদিক ইনফান্তিনোকে বলেন, আমরা এমন একটি দেশে খেলতে যাচ্ছি যেখানে আমাদের অনেকেই নিজেদের স্বাগত মনে করি না। আফ্রিকা ও বিশ্বের অন্যদের যেন বহিরাগত বা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক মনে না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আপনার। জবাবে ফিফা সভাপতি বলেন, এ বিষয়ে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। আগামী বছরের বিশ্বকাপে কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে সবাইকে স্বাগত জানানো হবে। যোগ্যতা অর্জনকারীরা তাদের সমর্থকদের নিয়ে আসতে পারবেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নীতির বিষয় এবং এর জন্য সরাসরি ফিফাকে দায়ী করা যায় না। তবে ইনফান্তিনোর বারবার দেওয়া আশ্বাস এবং অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এখন ফিফাকে অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলেছে। কাতার বিশ্বকাপের সময়ও তিনি স্বাগতিক দেশের পক্ষ থেকে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এবারও একই কৌশল নিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ফিফার কিছু কর্মকর্তা দাবি করেছেন, একটি ফুটবল সংস্থা হিসেবে কোনো দেশের অভিবাসন নীতিতে তাদের হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা নেই। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, ইনফান্তিনো নিজেই ফিফাকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন যেন এটি শুধু ক্রীড়া সংস্থা নয়, বরং বৈশ্বিক ঐক্যের প্রতীক। তার স্লোগানই হলো ‘Football Unites The World’। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে বিশ্বের কোনো রাজনৈতিক নেতার চেয়ে বেশি বার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে দেখা গেছে ইনফান্তিনোকে। ট্রাম্পের অভিষেকের আগের সমাবেশে তিনি রিপাবলিকানদের প্রতীকী লাল টাই পরেন। মার-আ-লাগো সফর করেন এবং ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প যা করছেন, আমেরিকানদের তা সমর্থন করা উচিত, কারণ বিষয়টি ভালো দেখাচ্ছে।’ শুধু তাই নয়, নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে ফিফা অফিসও খোলা হয়েছে। ফলে ফিফা সরাসরি ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায় ভাড়া দিচ্ছে। বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানের স্থানও শেষ মুহূর্তে লাস ভেগাস থেকে সরিয়ে ওয়াশিংটনের কেনেডি সেন্টারে নেওয়া হয়, যেখানে ট্রাম্পপন্থিদের প্রভাব ছিল। এসব কারণে সমালোচকদের প্রশ্ন, এত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার পরও এখন ফিফা কীভাবে দাবি করে যে তারা কেবল একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজক এবং ভিসা সমস্যার বিষয়ে তাদের কিছু করার নেই? ফিফার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা অবশ্য ট্রাম্প আমলেই শুরু হয়নি। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়েও এ নিয়ে উদ্বেগ ছিল। বিশ্বকাপের আয়োজক শহরগুলো ও পর্যটন খাতের প্রতিনিধিরা দীর্ঘ ভিসা সাক্ষাৎকারের অপেক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। পরে কংগ্রেস ৫ কোটি ডলার বরাদ্দ দিয়ে সেই জট কমানোর উদ্যোগ নেয়। কাতার বিশ্বকাপে দর্শকদের জন্য ‘হায়া কার্ড’ ব্যবস্থার মতো একটি বিশেষ সুবিধা ২০২৬ বিশ্বকাপেও চালু করতে চেয়েছিল ফিফা। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাখ্যান করে। এমনকি কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো মিলিয়ে একটি অভিন্ন ভিসা ব্যবস্থার প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়নি। ফলে তিনটি দেশের জন্য আলাদা প্রবেশ নীতি বহাল আছে। ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর পরিস্থিতি আরও কঠোর হয়। ২০২৫ সালের শুরুতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কিছু কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী কিছু দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে। বর্তমানে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া চার দেশের নাগরিক—সেনেগাল, আইভরি কোস্ট, ইরান ও হাইতির ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। ফিফা কিছু সাফল্যের দাবি করলেও সেগুলোর প্রভাব ছিল সীমিত। ‘ফিফা পাস’ নামে একটি ব্যবস্থা চালু করা হয়, যার মাধ্যমে সমর্থকেরা দ্রুত ভিসা সাক্ষাৎকারের সুযোগ পেতে পারেন। তবে এটি ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না। মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত মাত্র প্রায় ২০ হাজার মানুষ এই সুবিধা ব্যবহার করেছিলেন। এদিকে বিশ্বকাপের টিকিটধারীদের জন্য কিছু দেশের নাগরিকদের ভিসা বন্ড মওকুফ করার ঘোষণা দেওয়া হলেও শর্ত ছিল কঠোর। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টিকিট কেনা এবং ফিফা পাসে নিবন্ধন করা ব্যক্তিরাই শুধু এ সুবিধা পান। তাই বাস্তবে উপকৃত হয়েছেন খুব অল্পসংখ্যক সমর্থক। ভিসা সাক্ষাৎকারের বাস্তবতা নিয়েও উদ্বেগ দেখা গেছে। সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যেই আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের বৈধ কারণ প্রমাণ করতে হয়। সাক্ষাৎকারে দেখাতে হয় যে তাদের স্থায়ী বাসস্থান রয়েছে এবং সফর শেষে তারা দেশে ফিরে যাবেন। সাবেক কনস্যুলার কর্মকর্তারা মনে করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে অনেক কর্মকর্তা ঝুঁকি নিতে অনিচ্ছুক। ফলে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যানের হার বেশি হতে পারে। এসব প্রশ্নের মুখে ফিফা সভাপতিকে খুব কমই গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দিতে দেখা গেছে। বিশ্বকাপের টিকেট বিতর্ক, স্টেডিয়ামে পানির বোতল নেওয়ার বিধিনিষেধ, উচ্চ পরিবহন খরচ কিংবা দর্শকদের জন্য অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে জায়ান্ট স্ক্রিনে নাম প্রদর্শনের মতো বিষয়েও তিনি নীরব থেকেছেন। তিন দিন আগে মিয়ামিতে বিশ্বকাপের রেফারিদের উদ্দেশে ইনফান্তিনো বলেছিলেন, আমরা আপনাদের জন্য সেরা পরিবেশ ও সেরা সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে চাই। আমি আপনাদের পাশে আছি। আমরা আপনাদের সমর্থন করব। কিন্তু একই দিনে সোমালিয়ার রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতান মিয়ামিতে পৌঁছে মার্কিন সীমান্ত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত দেশে প্রবেশের অনুমতি পাননি। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্স পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলেন, সীমান্ত কর্তৃপক্ষ সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে। অন্যদিকে নিউইয়র্ক টাইমসকে আরতান বলেন, ‘আমার কাছে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ছিল। আমার বৈধ ভিসাও ছিল।’ ঘটনার বিস্তারিত এখনও পরিষ্কার নয়। তবে ফিফার প্রতিক্রিয়া ছিল সংক্ষিপ্ত। এ ঘটনায় ফিফার এক মুখপাত্র বলেন, স্বাগতিক দেশের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় ফিফা জড়িত নয়। আগের টুর্নামেন্টগুলোর মতোই কোনো ব্যক্তিকে ভিসা দেওয়া হবে কিনা এবং তাকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কিনা, সে সিদ্ধান্ত স্বাগতিক দেশের সরকারের।
মেক্সিকোর টিহুয়ানায় বেইস ক্যাম্প করা ইরান জাতীয় দল বিশ্বকাপে তাদের তিন ম্যাচের প্রতিটির আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে বলে জানিয়েছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)। এর আগে মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরান দলকে ম্যাচের দিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে এবং সেদিনই দেশটি ছাড়তে হবে। বিষয়টি নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন। ডিএইচএস এর একজন মুখপাত্র মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, খবরটি সত্যি নয়। এই খবরগুলো অসত্য। প্রেসিডেন্ট (ডনাল্ড) ট্রাম্পের উদারতার জন্য ইরান দল তাদের ম্যাচের আগের দিন (যুক্তরাষ্ট্রে) পৌঁছতে পারবে। ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের তথ্য মতে, তাদের প্রথম ম্যাচের ১০ দিন আগে, গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র সব খেলোয়াড়কে ভিসা দিলেও, ‘ম্যানেজার ও প্রধান কয়েকজন প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে’ ভিসা দেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ভিসা পাওয়া যাবে কি না, সেই অনিশ্চয়তার কারণে ইরানের ফুটবল ফেডারেশন এর আগে দলের বেইস ক্যাম্প অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে নেয় যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত সংলগ্ন মেক্সিকোর টিহুয়ানায়। তিন সপ্তাহ তুরস্কে অনুশীলন করার পর গত রোববার ভোরে টিহুয়ানায় পৌঁছায় ইরান দল। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর, দেশটিতে গিয়ে খেলতে আপত্তি জানায় ইরান এবং তাতে বিশ্বকাপে তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল তখন। মার্চে ট্রাম্প বলেছিলেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য ইরানকে স্বাগত জানানো হবে, কিন্তু তিনি মনে করেন না ‘নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য’ ইরান দলের যুক্তরাষ্ট্রে থাকাটা সমীচীন হবে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে এবারের বিশ্বকাপ আগামী বৃহস্পতিবার থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে। ‘জি’ গ্রুপে ইরান তাদের প্রথম দুটি ম্যাচ খেলবে লস অ্যাঞ্জেলেসে; ১৫ জুন নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ও ২১ জুন বেলজিয়ামের বিপক্ষে। পরের ম্যাচটি সিয়াটলে, ২৬ জুন মিশরের বিপক্ষে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে পরাজয়ের পেছনে নিজেদের ফিল্ডিং ব্যর্থতা ও ব্যাটিংয়ে বড় জুটির অভাবকে দায়ী করেছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক জোশ ইংলিস। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রান সংগ্রহ করে। জবাবে অস্ট্রেলিয়া ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯১ রান তুলতেই বৃষ্টি নামলে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে জয় পায় বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে ইংলিস বলেন, অস্ট্রেলিয়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ হাতছাড়া করেছে, যা ম্যাচের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে। তার মতে, প্রতিপক্ষের স্কোর যদি ২৩০ থেকে ২৪০ রানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যেত, তাহলে রান তাড়া করা অনেক সহজ হতো। ব্যাটিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো ছিল। তবে ইনিংসের শুরুতেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারানো দলকে চাপে ফেলে দেয়। কয়েকজন ব্যাটার ভালো শুরু পেলেও কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য কোনো জুটি গড়ে না ওঠায় লক্ষ্য স্পর্শ করা কঠিন হয়ে পড়ে। অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক দলের পেসার নাথান এলিস-এর পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এলিস বল হাতে, ফিল্ডিংয়ে এবং কৌশলগত পরিকল্পনায় দারুণ অবদান রেখেছেন। ম্যাচজুড়ে তার ভ্যারিয়েশন এবং ফিল্ড সেটিং ছিল প্রশংসনীয়। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে হারলেও বাকি ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক।