লা লিগার শীর্ষে ফেরার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করল বার্সেলোনা। ফ্রান বেলত্রানের শেষ মুহূর্তের গোলে জিরোনা ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিলে কাতালান ডার্বি থেকে হতাশ মুখেই মাঠ ছাড়তে হয় বার্সাকে।
জিরোনার মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় দুই দল। বার্সার হয়ে রাফিনিয়া ও লামিনে ইয়ামাল সুযোগ পেলেও গোলের দেখা পাননি।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি পেলেও ইয়ামালের স্পটকিক পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
বিরতির পর ৫৯ মিনিটে পাউ কুবারসির হেডে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। কিন্তু দুই মিনিটের মধ্যেই থমাস লেমার গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। এরপর একের পর এক আক্রমণে চাপ বাড়ায় জিরোনা।
ম্যাচের ৮৬ মিনিটে ফ্রান বেলত্রান নিচু শটে বল জালে জড়ালে উল্লাসে ফেটে পড়ে স্বাগতিক সমর্থকেরা। বার্সা শিবিরের আপত্তি সত্ত্বেও বহাল থাকে গোল। অতিরিক্ত সময়ে স্বাগতিক খেলোয়াড় জোয়েল রোকা লাল কার্ড দেখলেও ম্যাচের ফল বদলায়নি।
এই হারে ২৪ ম্যাচ শেষে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগা টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে আছে বার্সেলোনা।
সমান ম্যাচ খেলে দুই পয়েন্ট এগিয়ে থেকে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ আছে শীর্ষে। অপরদিকে ২৪ ম্যাচ শেষে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে ১২তম স্থানে আছে জিরোনা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বিশ্বকাপের রাউন্ড-৩২ এর ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে মিসর। ডালাসে অস্ট্রেলিয়া-মিসর ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে ড্র হয়। পরে টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ ব্যবধানে হারান মোহামেদ সালাহরা। ৯২ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব খেলতে এসে ম্যাচের শুরুতেই লিড পেয়েছিল মিসর। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আত্মঘাতী এক গোলে সেই লিড হারান সালাহরা। ম্যাচের বাকিটা সময় এবং অতিরিক্ত সময়ে কোনো গোল না হওয়ায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে জয় তুলে নিয়ে শেষ-১৬'তে জায়গা করে নিয়েছে মিসর। ম্যাচের ১৩ মিনিটে মিসরকে লিড এনে দেন ইমান আশুর। ফ্রি-কিক থেকে দারুণ এক পরিকল্পিত আক্রমণ সাজায় মিসর। সরাসরি শট না নিয়ে সালাহ ছোট পাস দেন ইমান আশুরকে। আশুরের প্রথম শটটি প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফিরে আসে। তবে ফিরতি বলে হেড থেকে জালে বল জড়ান তিনি। একমাত্র ওই গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে মিসর। বিরতির পরপরই গোলের সুযোগ পেয়েছিল মিসর। কিন্তু গোলরক্ষককে একা পেয়েও লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হন ম্যানসিটি তারকা ওমর মারমুশ। উল্টো ৫৫ মিনিটে মোহাম্মদ হানির করা আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। ফ্রি-কিক থেকে উড়ে আসা বলটিকে ক্লিয়ার করতে চেয়েছিলেন হানি। কিন্তু ঠিকঠাক সংযোগে ব্যর্থ হওয়ায় বল জড়ায় নিজেদের জালে। যোগ করা সময়ে দারুণ এক সেভে অস্ট্রেলিয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখেন গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হয় ১-১ গোলের ব্যবধানে। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে দুদলই তেমন কোনো বড় সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। টাইব্রেকারের আগে গোলরক্ষক বদলি করে অস্ট্রেলিয়া। প্যাট্রিক বিচের বদলে মাঠে নামানো হয় ম্যাথু রায়ানকে।
হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে সেরে ওঠার পথে থাকা মোহামেদ সালাহকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শুরুর একাদশে খেলাবেন কিনা, নিশ্চিত নন হোসাম হাসান। তারকা এই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে নারাজ মিশরের কোচ। ডালাসে শুক্রবার শেষ বত্রিশের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে মিশর। ১৯৩৪ সালে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপের পর, এই প্রথম বিশ্ব মঞ্চে কোনো নকআউট ম্যাচ খেলবে আফ্রিকার দলটি। গত শনিবার ইরানের বিপক্ষে মিশরের ১-১ ড্র হওয়া শেষ গ্রুপ ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লাগে সালাহর। ৫৭তম মিনিটে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। তখন থেকেই নকআউট পর্বে তাকে পাওয়া নিয়ে দানা বাঁধতে শুরু করে শঙ্কা। গত বুধবার মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অফিশিয়াল ফেইসবুক পেইজে পোস্ট করা কিছু ছবিতে সালাহকে হাসিমুখে অনুশীলন মাঠে দেখা যায়। ছবিগুলোর ক্যাপশনে তারা লিখেছিল, ‘দা কিং ইজ ব্যাক।’ অনুশীলনে ফিরলেও, পুরো ম্যাচ খেলার মতো ফিট বোধহয় এখনও হননি সালাহ। তাই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাকে শুরু থেকে খেলানো নিয়ে সংশয়ে আছেন কোচ হাসান। তিনি বলেন, ‘সালাহ খুবই উদ্যমী খেলোয়াড় এবং দলে নিজের অবদান রাখার জন্য মুখিয়ে আছে। সে পুরোপুরি ফিট এবং আগামীকাল খেলার জন্য প্রস্তুত- এমনটা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমি কোনো ঝুঁকি নেব না। আমরাও আশা করছি (শুক্রবার) সে খেলবে, তবে নিশ্চিত নই, সে শুরুর একাদশে থাকবে কিনা।’ চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত একটি গোল করেছেন সালাহ। গ্রুপ পর্বে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ে মিশরের ৩-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে দলের দ্বিতীয় গোলটি করেছিলেন তিনি। বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে কখনও জিততে পারেনি মিশর। ইতিহাসের গড়ার হাতছানি যে ম্যাচে, সেখানে দলের সবচেয়ে বড় তারকাকে নিয়েই রয়েছে অনিশ্চয়তা। ডালাসে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১২টায় শুরু হবে ম্যাচটি।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে আত্মবিশ্বাসী কেপ ভার্দে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে কোনো ধরনের ভয় নয়, বরং সাহসী ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেই জয় ছিনিয়ে আনার লক্ষ্য তাদের। শনিবার (৪ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ৪টায় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামবে বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া আফ্রিকার দেশটি। ম্যাচের আগে দলের খেলোয়াড়দের সাহস জোগাতে আশাবাদী বার্তা দিয়েছেন কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট জোসে মারিয়া নেভেস। দেশটির সংবাদ সংস্থা ইনফোপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমাদের দল নিজেদের শক্তি, বিশ্বাস ও মানসিকতা নিয়েই খেলবে। আর্জেন্টিনার মতো দলের বিপক্ষেও আমাদের কোনো ভয় নেই। আমরা একই আত্মবিশ্বাস, প্রতিশ্রুতি ও দৃঢ়তা নিয়ে মাঠে নামব, যে মনোভাব আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “পরিসংখ্যান কিংবা সম্ভাবনার হিসাব নিয়ে আমরা ভাবছি না। মাঠে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই বিশ্বকাপে বড় দলগুলোর বিপক্ষে লড়াই করতেই আমরা এসেছি।” স্পেনের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করা গোলরক্ষক ভোজনহারও প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট নেভেস। তার মতে, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফল যাই হোক না কেন, বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে নকআউটে ওঠাই কেপ ভার্দের জন্য বড় অর্জন। তিনি বলেন, “এই সাফল্য শুধু ফুটবলের নয়, পুরো দেশের জন্যই গর্বের। এটি ভবিষ্যতে আমাদের আরও এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।” উল্লেখ্য, বিশ্বকাপে প্রথম অংশগ্রহণেই চমক দেখিয়েছে কেপ ভার্দে। গ্রুপ পর্বে স্পেনকে রুখে দিয়ে ড্র করে তারা আলোচনায় আসে। এরপর উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের বিপক্ষেও ইতিবাচক ফল এনে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে দলটি। এবার তাদের লক্ষ্য বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করা।