শিক্ষা

এসএসসিতে শূন্য পাস ৩১২ প্রতিষ্ঠান: শোকজ বোর্ডে, ঝুঁকিতে এমপিও সুবিধা

মারিয়া রহমান আগস্ট ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

এবারের মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় কেন ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি সেটি খতিয়ে দেখছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরমধ্যে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দাখিল পরীক্ষায় যে ২২৬টি মাদরাসা থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি সেসব মাদরাসা প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।


কালবেলা এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করে এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারাও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষা বোর্ডগুলোও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের ডেকে ফল বিপর্যয়ের কারণ জানার চেষ্টা করবে। কোনো প্রতিষ্ঠান সদুত্তর দিতে না পারলে এমপিও সুবিধা বাতিল হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।


চলতি বছর দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় এবার ১৭৮টি বেড়েছে। গত বছর শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান ছিল ১৩৪টি। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫৭টি, যা গতবার ছিল ৪৮টি।


মাদরাসা বোর্ডে এবার শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান ২২৬টি। গতবার এ সংখ্যা ছিল ৮৬টি। এ ছাড়া গতবার কারিগরি বোর্ডে কোনো শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান ছিল না। এবার এ সংখ্যা বেড়ে ২৯টিতে দাঁড়িয়েছে।

 
বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড থেকে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।


এতে দেখা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই এমপিওভুক্ত। তবে সেগুলোতে কাঙ্ক্ষিতসংখ্যক শিক্ষার্থী নেই। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫ জনের কম শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। শতাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র ৫ থেকে ৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক স্কুল ও মাদরাসা গড়ে উঠেছে শুধু সরকারি অনুদান পাওয়ার আশায়। এসব প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই, নিয়মিত ক্লাস হয় না। অনেক সময় অন্য স্কুলের ফেল করা ও ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের টাকা দিয়ে এনে নিজেদের পরীক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন করানো হয়। পড়াশোনার দিকে শিক্ষকদের নজর না থাকায় শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।


এদিকে চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় যে ২২৬টি মাদরাসা থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি, সেসব মাদরাসার প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড।


নোটিশে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় যেসব মাদরাসা থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি সে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানকে লিখিত বক্তব্যসহ বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. ফারুক আহম্মেদের দপ্তরে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে।


এ জন্য অঞ্চলভেদে মাদরাসাপ্রধানদের উপস্থিতির সময়সূচিও নির্ধারণ করে দিয়েছে বোর্ড। ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের মাদরাসাপ্রধানদের আগামী ১৬ আগস্ট, রাজশাহী অঞ্চলের ১৭ আগস্ট এবং রংপুর অঞ্চলের প্রধানদের ১৮ আগস্ট উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের প্রধানদের ১৯ আগস্ট, খুলনা ও কুমিল্লা অঞ্চলের ২০ আগস্ট এবং বরিশাল অঞ্চলের প্রধানদের ২৩ আগস্ট লিখিত বক্তব্যসহ উপস্থিত হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের শূন্য পাস ৫৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৮টি প্রতিষ্ঠানই দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে। বোর্ডটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াস আহমেদ বলেন, ‘এসব প্রতিষ্ঠানে আসলে শিক্ষার্থী হাতেগোনা। কোনোটিতে একজন, কোনোটিতে তিন-চারজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এক কথায় প্রতিষ্ঠানগুলোর দুরবস্থা। তাদের শিগগির ডেকে কারণ জানতে চাওয়া হবে। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘এ শিক্ষার্থীরা করোনাকালে পড়াশোনা না করেই প্রাথমিক পাস করেছিল। মাধ্যমিকেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দুই বছর পড়াশোনা হয়নি। ২০২৫ সালের বই পেয়েছে এপ্রিলে। এসব সংকটের মধ্যেও তাদের এ ফলাফল অনেক ভালো। তবে যেসব প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি, তাদের বিষয়ে মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত দেবে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।’


মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান বলেন, ‘কেন এত শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান সেটি নিয়ে ভাবতে হবে। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে ডেকে কারণ জানতে চাওয়া হবে। তবে তার ব্যক্তিগত মত, পরীক্ষা ও মূল্যায়নে কড়াকড়ির কারণে অনেক শিক্ষার্থী ফেল করেছে।’


এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠানে একাধিকবার শূন্য পাস আছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

শিক্ষা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
এইচএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সুযোগ দিতে ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর আলোচনা

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ‘সাপ্লিমেন্টারি’ পরীক্ষার সুযোগ দিতে মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর প্রস্তাব বিবেচনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হলেও ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।   মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এর উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন এবং সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত’ এক আলোচনা সভায় বিষয়টি উঠে আসে। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত ছিলেন।   সভা সূত্রে জানা গেছে, এইচএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে চান শিক্ষামন্ত্রী। এই পুনঃপরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা যাতে মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, সেজন্য তিনি ভর্তি পরীক্ষা কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান।   শুরুতে কয়েকজন উপাচার্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এই প্রস্তাবে কিছুটা আপত্তি জানালেও পরে শিক্ষামন্ত্রীর অনুরোধে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন। সভায় উপস্থিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, মেডিকেল কলেজসহ দেশের সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। কয়েকজন সম্মতি প্রকাশ করলেও আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।   ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের বিষয়ে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারাও জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।   উল্লেখ্য, গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ। মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। এতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন পরীক্ষার্থী, যা গত বছরের তুলনায় ২৯ হাজার ১৩ জন কম।

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

এইচএসসির সাপ্লিমেন্টারি পাসে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির সুযোগ নিয়ে চরম সংশয়

ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার আধুনিকায়নে এআই ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার ওপর গুরুত্বারোপ শিক্ষামন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

১৯১ শিক্ষার্থীর মাদ্রাসায় উপস্থিত মাত্র ১১, সুপারকে ঢাকায় তলব

ছবি: সংগৃহীত
বাণিজ্য মেলার ফটক ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের

রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) মাঠে নির্মিত বাণিজ্য মেলার প্রধান অস্থায়ী ফটক ভেঙে কর্মসূচি শেষ করেছেন শিক্ষার্থীরা।   সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১টা ১০ মিনিটের দিকে ফটক ভাঙার কাজ শেষ করে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ফিরে যান।   এর আগে দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী মাঠে প্রবেশ করে মেলার বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর শুরু করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়ে আসা দুটি ট্র্যাক্টর ব্যবহার করে স্থাপনাগুলো ভাঙা হয়। এক পর্যায়ে মেলার প্রধান অস্থায়ী ফটকটিও ভেঙে ফেলেন তারা।   বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ নিজেদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব মাঠে বাণিজ্য মেলা বা অন্য কোনো বাণিজ্যিক আয়োজন করা যাবে না। মাঠটি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, শিক্ষা ও গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য ফিরিয়ে দিতে হবে।   শিক্ষার্থীদের আরও দাবি, মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি কৃষি গবেষণার জন্য মাঠটি ব্যবহার উপযোগী করতে হবে এবং সেখানে কোনো স্থায়ী বা অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না।   এর আগে গত ২৭ অক্টোবর মাঠে মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু হলে শিক্ষার্থীরা বাধা দেন। এ সময় পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও দুটি গাড়ি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে যান তারা। পরদিন ২৮ অক্টোবর বাণিজ্য মেলার প্রধান প্রবেশ গেটসহ বিভিন্ন অস্থায়ী স্থাপনা ভাঙচুর করেন শিক্ষার্থীরা।   এ ছাড়া মাঠ উদ্ধারের দাবিতে কয়েক দফায় সড়ক অবরোধ করেন তারা। সর্বশেষ গত ১ নভেম্বর চীন মৈত্রী সিগন্যাল এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে আশপাশের সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির শেষ ধাপের কার্যক্রম শুরু

ছবি: সংগৃহীত

ঢাবির জগন্নাথ হল থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা অর্ক সাহা আটক

ছবি: সংগৃহীত

এইচএসসির সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা, ফল প্রকাশ ৩১ ডিসেম্বরে

ছবি: সংগৃহীত
মাগুরায় এইচএসসিতে ফল বিপর্যয়, দুই প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মাগুরা জেলায় হতাশাজনক ফলাফল হয়েছে। বিশেষ করে জেলার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশগ্রহণকারী কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। এর মধ্যে মাগুরা সদর উপজেলার বুজরুক শ্রীকুন্ডি কলেজ থেকে টানা দুই বছর ধরে কেউ পাসের মুখ দেখেনি।   শনিবার (৩১ অক্টোবর) যশোর শিক্ষা বোর্ড প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য জানা গেছে।   ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বুজরুক শ্রীকুন্ডি মহাবিদ্যালয় থেকে ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় আটজন এবং চলতি বছর ১৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। কিন্তু দুই বছরে মোট ২৭ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। শুধু বুজরুক শ্রীকুন্ডি মহাবিদ্যালয়ই নয়, চলতি বছর জেলার মহম্মদপুর উপজেলার গোপীনাথপুর এম এ খালেক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে অংশ নেওয়া দুজন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেননি। ফলে যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীন শতভাগ অকৃতকার্য ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় মাগুরার এই দুটি প্রতিষ্ঠানের নাম উঠেছে।   টানা দুই বছর কেউ পাস না করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বুজরুক শ্রীকুন্ডি মহাবিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।    এ বিষয়ে জানতে বুজরুক শ্রীকুন্ডি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ পল্লব কুমার দের মোবাইলে কল করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।   মাগুরা সদর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ফল বিপর্যয় অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা আগামীতে যাতে ভালো ফলাফল করতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।   যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন জানিয়েছেন, গত বছর শতভাগ অকৃতকার্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০টি, এবার তা কমে ১৬টিতে দাঁড়িয়েছে। শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বীকৃতি নবায়নের ক্ষেত্রে শর্ত আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।   অন্যদিকে, জেলার সার্বিক ফলাফলেও দেখা গেছে অবনতি। বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাগুরা জেলায় এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৩৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ, যা চলতি বছর কমে দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশে। যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীন ১০ জেলার ফলাফল বিশ্লেষণে পাসের হারে মাগুরার অবস্থান নবম। এই বোর্ডে ৫২ দশমিক ৯৪ শতাংশ পাসের হার নিয়ে শীর্ষে রয়েছে যশোর জেলা। এরপর যথাক্রমে খুলনায় ৪৬.৬৫, চুয়াডাঙ্গায় ৪৬.১৩, কুষ্টিয়ায় ৪৫.৩৮, সাতক্ষীরায় ৪৩.৪৫, ঝিনাইদহে ৪১.৯৮, মেহেরপুরে ৪০.৭৬ এবং বাগেরহাটে ৩৮.৮৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। আর ৩৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ নিয়ে সবচেয়ে কম পাসের হার নড়াইল জেলায়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

এইচএসসিতে অকৃতকার্যদের জন্য নতুন সুযোগ, জানা গেল পরীক্ষার সময়সূচি

সংগৃহীত ছবি

এইচএসসিতে অকৃতকার্যদের জন্য বড় ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

এইচএসসির সম্পূরক পরীক্ষা কবে, কারা দিতে পারবেন?

0 Comments