অন্যান্য

এনসিপির মিডিয়া সেল প্রধান পদত্যাগ করলেন

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ০১, ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি দলের মিডিয়া সেলের সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।


বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে তিনি সবসময় দলের ঘোষিত লক্ষ্য, আদর্শ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও গণতান্ত্রিক নৈতিকতার প্রতি দায়বদ্ধ থেকে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছেন।
তবে সম্প্রতি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন দশ দলীয় জোটে এনসিপি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি নীতিগতভাবে একমত নন। মুশফিক উস সালেহীন বলেন, এই জোটে যোগদান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নাগরিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তিনি দলের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক পরিস্থিতিকেও পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, দলের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা এবং নতুন জোটসঙ্গীদের রাজনৈতিক চরিত্র বিবেচনায় নিয়ে তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপি থেকে অন্তত ১০ জন নেতার পদত্যাগের খবর পাওয়া গেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
আজ থেকে চুপ থাকব, সহিংস রাজনীতি চাই না: নাসীরুদ্দীন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, আমি আজ থেকে কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব। দেখব উনারা কতটুকু বাড়তে পারে। দেশে আর সহিংস রাজনীতি দেখতে চাই না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা সভায় অংশ নিয়েছিলেন এই নেতা। সভা শেষে একাডেমিক ভবনের সামনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চুপ থাকার কথা জানান নাসীরুদ্দীন। নিজের ‘কথা বলা’ কেন্দ্র করে হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ আসার প্রেক্ষাপটে তিনি এমন মন্তব্য করলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটরিয়ামে ‘অগ্নিঝরা জুলাই ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। প্রধান আলোচক ছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এদিন সিলেটের গোলাপগঞ্জে এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমকে বহন করা গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ভেঙে যায় গাড়ির পেছনের কাচ। বিকালে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে এই ঘটনা ঘটে। হামলার জন্য ছাত্রদলকে দুষছেন সারজিস। বিষয়টি উল্লেখ করেন নাসীরুদ্দীন। বলছিলেন, ‘সারজিসের গাড়িতে একটু আগে হামলা হয়েছে, ছাত্রদল হামলা করেছে এবং সেখানে গাড়ি ভাঙচুর করেছে। আমরা রওনা দিচ্ছি। আমাকেও তো হামলা করা হয়। তারা একটা জাস্টিফিকেশন দিয়েছে। আমি কথা বলি এ জন্য। আমি আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব। দেখব উনারা কতটুকু বাড়তে পারে।’ এর আগে গত মঙ্গলবার বিকালে হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলা হয়। মারধরে আহত হয় নেতাকর্মীরাও। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় এনসিপি। পরে হবিগঞ্জ বিএনপি ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। এরপরও এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা প্রতিবাদ মিছিল করতে হবিগঞ্জ যেতে চাইলে পুলিশের বাধায় তা সম্ভব হয়নি। পরে বাহুবলের কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে একটি অভিযোগ দিয়ে চলে আসেন তারা। নাসীরুদ্দীন মন্তব্য করেন, ‘আমরা গতকাল অভিযোগ দিয়েছি। তবে অভিযোগে কিছু সংশোধন আসছে, কারণ একজন ব্যক্তির নাম সেখানে ছিল, যেটা ভিডিওতে ছিল না। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, আজ পূর্ণ সংশোধনী চলে আসবে। আমরা আজই এফআইআরের কপি পেয়ে যাব।’ বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে সরকারকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান নাসীরুদ্দীন। হবিগঞ্জে হামলায় আহত জাতীয় ছাত্রশক্তির সংগঠক আলিফ চৌধুরীর পরিস্থিতি তুলে ধরেন এই নেতা। ‘ইন্টারপড়ুয়া ছেলে, যে কাউকে কখনো মারতে যায়নি, তার বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী, এখন অপারেশন থিয়েটারে আছে। আপনি (প্রধানমন্ত্রী কি পারবেন তার চোখটা ফেরত দিতে? আমরা বাংলাদেশে আর কোনো সহিংস রাজনীতি দেখতে চাই না। আমরা বলব প্রিয় তারেক রহমান, আলিফের চোখটা ফেরত দিন। আমরা চুপ হয়ে যাব, আর কিছু বলব না। আপনি আপনার ক্ষমতা চালান, আমরা কিছু চাই না।’ সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পলাশ বখতিয়ার।

মারিয়া রহমান জুলাই ৩১, ২০২৬
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন জোটের সমন্বয়ক জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। ছবি : সংগৃহীত

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাজপথে ১১ দল

ছবি: সংগৃহীত

‘বিএনপির পরিণতি শেখ হাসিনার চেয়েও ভয়াবহ হবে’: সারজিস আলম

ছবি: সংগৃহীতছবি: সংগৃহীত

চেক ডিজঅনার মামলার মূল উদ্দেশ্য অর্থ আদায়, কারাদণ্ড নয়: হাইকোর্ট

সংগৃহীত ছবি
বর্তমান পত্রিকায় গুম-খুন ও ব্যাংক লুটের সংবাদ নেই : পার্থ

বর্তমান সময়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অনেক বেশি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ।   তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরের তুলনায় বর্তমানে পত্রিকার পাতায় দেশে গুম, খুন ও ব্যাংক লুটের খবর নেই।   বুধবার বিকেলে এবং আজ বৃহস্পতিবার ভোলা সদরের ইলিশা ও রাজাপুরের নদী ভাঙনকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।   ব্যারিস্টার পার্থ বলেন, গত সাড়ে চার মাসে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো গুম, খুন, হয়রানি ও রাজনৈতিক মামলা বা রাষ্ট্রীয়ভাবে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ ওঠেনি। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের রাষ্ট্রীয় মদদে গুম-খুন বা বড় ধরনের দুর্নীতি হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ব্যক্তিগতভাবে কেউ অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।   ভোলার শিল্পায়নের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে এই সংসদ সদস্য বলেন, শুধু গ্যাস থাকলেই শিল্প গড়ে ওঠে না। ভোলা-বরিশাল সেতুসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, আইনশৃঙ্খলা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের লক্ষ্য ভোলাকে একটি শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা এবং এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করবে।   ভোলা-বরিশাল সেতু প্রসঙ্গে এমপি পার্থ বলেন, সরকার নীতিগতভাবে সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে ডিপিপি অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে। এরপর পিপিপি পদ্ধতিতে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। একইভাবে ভোলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপনেও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।   নদীভাঙন বিষয়ে তিনি বলেন, ভোলার শিবপুর, ইলিশা ও রাজাপুর এলাকার ভাঙন উদ্বেগজনক। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।   তিনি আরও জানান, বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। তবে কাজের গতি আরও বাড়ানোর প্রয়োজন বলে মনে করছি। নদীর গতিপ্রকৃতি ও কারিগরি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।   এছাড়া এর আগে ভোলা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে পার্থ জানান, হাসপাতালে চিকিৎসক, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ জনবলের সংকট এবং ওষুধের বিষয়েও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সূত্র : বাসস

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ৩০, ২০২৬

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাঁচ প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা চালাল এআই!

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও নির্বাচন কমিশনের লোগো। ছবি : সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সুযোগ রাখতে ইসির সঙ্গে জামায়াতের বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত

আজ সারা দেশে এনসিপির বিক্ষোভ সমাবেশ

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ খাঁন। ফাইল ছবি
নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারীকে নিয়ে কড়া মন্তব্য রাশেদ খাঁনের

নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী কি মির্জা ফখরুলের জুতা টানার যোগ্যতা রাখেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ খাঁন।   মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে ‘ন্যায়ভিত্তিক বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে বিভাজন নয়, ঐক্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।   তিনি বলেন, ‘একজন বলেছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব নাকি মন্ত্রীত্ব পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন না। সেখানে নাকি রাষ্ট্রপতি হবেন! সেই নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী কি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবের জুতা টানার যোগ্যতা রাখেন?’   তিনি আরও বলেন, ‘ফালতু কথাবার্তা বলে যে ধরনের সংস্কৃতি তৈরি করা হচ্ছে, এগুলো বন্ধ করতে হবে। ভণ্ডামি, নোংরামি বন্ধ করতে হবে। আমরা ঐক্য চাই। আর সেই ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য আপনাদের আন্তরিক হতে হবে।’   রাশেদ খাঁন বিরোধীদলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা আমাদের বিরুদ্ধে যে ধরনের মন্তব্য, বক্তব্য ও মিথ্যাচার করছেন, যে প্রপাগান্ডার রাজনীতি করছেন, সেগুলো বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’   তিনি আরও বলেন, সরকারের বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ আস্থা রাখছে। প্রধানমন্ত্রী বিনয়, নম্রতা, আন্তরিকতা ও সহমর্মিতার যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করেছেন, তা জনগণের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সম্প্রতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে নিজেদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরতে পেরেছে।   তিনি বলেন, এটি প্রমাণ করে প্রধানমন্ত্রী প্রটোকলের গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি রয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে সচিবালয়ে খাবারের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার উদ্যোগও সরকারের জবাবদিহি ও সাশ্রয়ী নীতির প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

মিরপুরে কলেজে দেয়াল ধসে ১ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মনোনয়ন দেওয়া হবে: মির্জা ফখরুল

ছবি : সংগৃহীত

আগামী নির্বাচন ঘিরে তারেক রহমানের ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ শুরু: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

0 Comments