নীলফামারীর সৈয়দপুরে গড়ে ওঠা লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প এখন দেশের রেলওয়ে যন্ত্রপাতি উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে। একসময় বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো, এমন প্রায় ১৬০ ধরনের যন্ত্রপাতির বড় একটি অংশ এখন তৈরি হচ্ছে স্থানীয় কারিগরদের হাতেই। অবসরপ্রাপ্ত রেলশ্রমিকদের দক্ষতা, দেশীয় প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তাদের প্রচেষ্টায় এই খাত ধীরে ধীরে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় উদ্যোক্তারা বলছেন, এক সময় রেলওয়ে কোচের ফ্যান, জানালা, রেলক্রসিংয়ের সিগন্যাল বাতিসহ প্রায় ১৬০ ধরনের পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো। এখন এসব যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে সৈয়দপুরে গড়ে ওঠা ওয়ার্কশপগুলোতে। পাশাপাশি স্থানীয় বেকারি, সাবান ফ্যাক্টরি, ইটভাটাসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানেও এখানকার তৈরি মেশিন ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশও এখন আর ভারত বা চীন থেকে আমদানি না করে স্থানীয় কারখানাতেই তৈরি হচ্ছে।
এসব কারখানায় কাজ করছেন রেলের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকরা। তাদের হাতেই তৈরি হচ্ছে রেলকোচের ১৬০ প্রকারের যন্ত্রপাতি। এর মধ্যে খড়কাটা মেশিনসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় মেশিন ও যন্ত্রাংশও তৈরি করা হচ্ছে।
উদ্যোক্তাদের দাবি, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় কোচ মেরামতের জন্য এতদিন জার্মানি থেকে আমদানি করা হতো স্ক্রু লিফটিং জ্যাক। যার দাম প্রায় দেড় কোটি টাকা। অথচ সৈয়দপুরে এটি তৈরি হচ্ছে মাত্র ৫০ লাখ টাকায়। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ে এখান থেকে পণ্যটি কেনা শুরু করেছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার পাশাপাশি চিলাহাটি, ঈশ্বরদী ও ঢাকার জন্যও এটি কেনা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে সিলেটের জন্য একটি স্ক্রু লিফটিং জ্যাকের অর্ডার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইমার্জেন্সি ব্রেক ভালভ এখানে তৈরি হচ্ছে ১৫ হাজার টাকায়, যা আমদানি করতে খরচ হতো ৪৫ হাজার টাকা।
রেলওয়ে ইঞ্জিনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র সেন্ড বক্সও তৈরি হচ্ছে এখানে। রেললাইন পিচ্ছিল হলে বা উঁচু স্থানে উঠার সময় ব্রেক কাজ না করলে চাকায় শুকনা বালু স্প্রে করতে এই সেন্ড বক্স ব্যবহৃত হয়। এটি মাত্র ২৫ হাজার টাকায় তৈরি করছে সৈয়দপুরের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং কারখানাগুলো।
সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীসহ বিভিন্ন ওয়ার্কশপে প্রায় ৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন, যাদের বেশিরভাগই রেলের অবসরপ্রাপ্ত। তারা বিদেশি পণ্যের হুবহু তৈরি করছেন, যা মানের দিক থেকেও ভালো বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে রফতানির সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এই শিল্প সরকারি কোনো উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা পাচ্ছে না। উদ্যোক্তাদের মতে, ব্যাংকঋণ ও সরকারি প্রণোদনা পেলে এসব প্রতিষ্ঠান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির প্রায় সব ধরনের যন্ত্রাংশ তৈরি করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে।
বাংলাদেশ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আগামী দিনে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই খাত দেশের অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নিতে সক্ষম হবে।
তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলের কারিগর ও উদ্যোক্তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সরকারি সহযোগিতা দেওয়া হলে এই খাত জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারবে।’ পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর দাবি জানান তিনি।
জেলা সভাপতি এরশাদ হোসেন পাপ্পু বলেন, সৈয়দপুরের প্রতিষ্ঠানগুলো শিল্প খাতে বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম। শিল্প মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে বিষয়টি এসেছে। তিনি এই শিল্পের বিকাশে সহজ শর্তে ঋণ ও আর্থিক সহায়তার দাবি জানান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে গড়ে ওঠা লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প এখন দেশের রেলওয়ে যন্ত্রপাতি উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে। একসময় বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো, এমন প্রায় ১৬০ ধরনের যন্ত্রপাতির বড় একটি অংশ এখন তৈরি হচ্ছে স্থানীয় কারিগরদের হাতেই। অবসরপ্রাপ্ত রেলশ্রমিকদের দক্ষতা, দেশীয় প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তাদের প্রচেষ্টায় এই খাত ধীরে ধীরে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় উদ্যোক্তারা বলছেন, এক সময় রেলওয়ে কোচের ফ্যান, জানালা, রেলক্রসিংয়ের সিগন্যাল বাতিসহ প্রায় ১৬০ ধরনের পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো। এখন এসব যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে সৈয়দপুরে গড়ে ওঠা ওয়ার্কশপগুলোতে। পাশাপাশি স্থানীয় বেকারি, সাবান ফ্যাক্টরি, ইটভাটাসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানেও এখানকার তৈরি মেশিন ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশও এখন আর ভারত বা চীন থেকে আমদানি না করে স্থানীয় কারখানাতেই তৈরি হচ্ছে। এসব কারখানায় কাজ করছেন রেলের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকরা। তাদের হাতেই তৈরি হচ্ছে রেলকোচের ১৬০ প্রকারের যন্ত্রপাতি। এর মধ্যে খড়কাটা মেশিনসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় মেশিন ও যন্ত্রাংশও তৈরি করা হচ্ছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় কোচ মেরামতের জন্য এতদিন জার্মানি থেকে আমদানি করা হতো স্ক্রু লিফটিং জ্যাক। যার দাম প্রায় দেড় কোটি টাকা। অথচ সৈয়দপুরে এটি তৈরি হচ্ছে মাত্র ৫০ লাখ টাকায়। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ে এখান থেকে পণ্যটি কেনা শুরু করেছে। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার পাশাপাশি চিলাহাটি, ঈশ্বরদী ও ঢাকার জন্যও এটি কেনা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে সিলেটের জন্য একটি স্ক্রু লিফটিং জ্যাকের অর্ডার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইমার্জেন্সি ব্রেক ভালভ এখানে তৈরি হচ্ছে ১৫ হাজার টাকায়, যা আমদানি করতে খরচ হতো ৪৫ হাজার টাকা। রেলওয়ে ইঞ্জিনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র সেন্ড বক্সও তৈরি হচ্ছে এখানে। রেললাইন পিচ্ছিল হলে বা উঁচু স্থানে উঠার সময় ব্রেক কাজ না করলে চাকায় শুকনা বালু স্প্রে করতে এই সেন্ড বক্স ব্যবহৃত হয়। এটি মাত্র ২৫ হাজার টাকায় তৈরি করছে সৈয়দপুরের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং কারখানাগুলো। সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীসহ বিভিন্ন ওয়ার্কশপে প্রায় ৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন, যাদের বেশিরভাগই রেলের অবসরপ্রাপ্ত। তারা বিদেশি পণ্যের হুবহু তৈরি করছেন, যা মানের দিক থেকেও ভালো বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে রফতানির সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এই শিল্প সরকারি কোনো উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা পাচ্ছে না। উদ্যোক্তাদের মতে, ব্যাংকঋণ ও সরকারি প্রণোদনা পেলে এসব প্রতিষ্ঠান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির প্রায় সব ধরনের যন্ত্রাংশ তৈরি করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে। বাংলাদেশ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আগামী দিনে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই খাত দেশের অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নিতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলের কারিগর ও উদ্যোক্তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সরকারি সহযোগিতা দেওয়া হলে এই খাত জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারবে।’ পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর দাবি জানান তিনি। জেলা সভাপতি এরশাদ হোসেন পাপ্পু বলেন, সৈয়দপুরের প্রতিষ্ঠানগুলো শিল্প খাতে বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম। শিল্প মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে বিষয়টি এসেছে। তিনি এই শিল্পের বিকাশে সহজ শর্তে ঋণ ও আর্থিক সহায়তার দাবি জানান।
বাগেরহাটের কৃষক দল নেতা বাদল মোড়ল খুনের পর জামায়াতে ইসলামীর তিনটি স্থানীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে আজ বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার বারুইপাড়া বাজারে ২ নম্বর ওয়ার্ড বারুইপাড়া জামায়াতে ইসলামী কার্যালয় ও শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের ইউনিয়ন কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া ভোরে আড়পাড়া গ্রামে ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয় ভাঙচুর করেন একদল লোক। জামায়াতে ইসলামী নেতাদের অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপির নেতা–কর্মীরা ওই হামলার সঙ্গে জড়িত। তাঁরা জামায়াতের নেতা–কর্মীদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ফকিরহাটে দুর্বৃত্তদের হামলায় সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি বাদল মোড়ল নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডকে ‘রাজনৈতিক ও আধিপত্যে’র জের বলে আখ্যা দিয়ে জামায়াতকে দায়ী করেছেন বিএনপির নেতারা। বারুইপাড়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির শেখ মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘বারুইপাড়া বাজারে আমাদের দুটি অফিসে। একটি শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের অফিস, আরেকটি জামায়াতের। আজ বেলা দেড়টা–দুইটার দিকে বিএনপির একদল নেতা–কর্মী এসে ওই দুটি অফিসই ভেঙে তছনছ করে। হামলার আগে আমাদের অফিসের বিপরীতে থাকা একটি এজেন্ট ব্যাংকের সিসিটিভি ক্যামেরাও ভেঙে ফেলে তারা। আর গত রাতে বাদল ভাইকে হত্যার পর একদল লোক আড়পাড়ার জামায়াতের কার্যালয়টি ভাঙচুর করে আগুন দিয়ে দেয়।’ শেখ মো. মহিউদ্দিন আরও বলেন, ‘আমাদের উভয় দলের মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা আছে। কিন্তু এমন কোনো বিরোধ নেই। ওই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। একটা মানুষ মারা যাওয়ার পর তো আর কিছুই থাকে না। আমরা এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার চাই। এই হত্যাকাণ্ডকে পুঁজি করে এখন তারা আমাদের নেতা–কর্মীদের হুমকি দিচ্ছে।’ এদিকে আজ দুপুরে বারুইপাড়া বাজারে হত্যার প্রতিবাদ, জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। এ সময় ‘জামায়াত–শিবিরের আস্তানা, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘খুনিদের আস্তানা, জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও’ প্রভৃতি স্লোগান দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ নাসির আহমেদ মালেক বলেন, ‘গতকাল রাতে সামান্য কিছু সমস্যা হয়েছে। তবে আজ কোথাও কোনো ভাঙচুর বা সহিংসতা হয়নি। আমরা নেতা–কর্মীদের কঠোরভাবে নির্দেশনা দিয়েছি, কেউ কোনো প্রকার আইনবিরোধী কাজ করতে পারবেন না। আমরা বিশ্বাস করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত ও দোষী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনবে।’ জানতে চাইলে বাগেরহাট সদর মডেল থানার ওসি শামসুল আরেফিন বলেন, ‘ভাঙচুরের কথা আমরা শুনেছি। তবে এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জানাজা শেষে সন্ধ্যায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে।’ কৃষক দল নেতার দাফন সম্পন্ন আজ বিকেলে আড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে নিহত কৃষক দল নেতা বাদলের দাফন করা হয়েছে। জানাজায় বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, বাগেরহাট জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মোজাফফর রহমান (আলম), যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম (গোরা), জেলা কৃষক দলের সভাপতি আসাফুদৌলা জুয়েল প্রমুখ অংশ নেন। দৃষ্টান্তমূলক বিচার সুনিশ্চিত করতে হবে এদিকে এই হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়ে বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির রেজাউল করিম এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এলাকায় শান্তি, নিরাপত্তা ও আইনের শাসন বজায় রাখতে এই বর্বরোচিত ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে অপরাধের সঙ্গে জড়িত সব সন্ত্রাসীকে অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার সুনিশ্চিত করতে হবে।’
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা দল হিসেবে আওয়ামী লীগ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে রাজধানীর নাখালপাড়ার হোসেন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। আসিফ মাহমুদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে সরকারের ভেতরেই ভিন্নমত রয়েছে। এক পক্ষ বিরোধিতা করছে, আবার অন্য একজন উপদেষ্টা শর্তসাপেক্ষে অংশ নেওয়ার কথা বলছেন। এতে সরকার নিজেই দলটির অংশগ্রহণ নিয়ে ‘ধোঁয়াশা’ তৈরি করেছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দল কোনোভাবেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না। তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগের একটি অংশ এখনো সরকারে রয়েছে বলেই এ ধরনের দ্বিধা তৈরি হচ্ছে। এনসিপির এই মুখপাত্র জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তাদের দল পাঁচ দফা দাবি দিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো প্রশাসক পদে থাকা ব্যক্তিরা মেয়র পদে নির্বাচন করতে পারবেন না। তার অভিযোগ, এসব শর্ত উপেক্ষা করেই অনেকে প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং সরকারি লোগো ব্যবহার করছেন। তিনি আরও বলেন, দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা সরকারি পদে থেকে প্রচারণা চালাচ্ছেন, যা গ্রহণযোগ্য নয়। এজন্য তাদের পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া ঈদুল আজহার কোরবানির হাট ইজারা প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তোলেন আসিফ মাহমুদ।