ফুটবল মাঠে তার কীর্তি আগেই জায়গা করে নিয়েছে ইতিহাসে। এবার প্রকৃতির জগতেও অমর হয়ে থাকছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন মহাতারকার প্রতি সম্মান জানিয়ে পেরুর বিজ্ঞানীরা আন্দিজ পর্বতমালায় আবিষ্কৃত একটি সুগন্ধি উদ্ভিদের নাম রেখেছেন ‘সালভিয়া মেসি’। ফুলটির নীল-সাদা পাপড়িতে যেন ফুটে উঠেছে মেসির দেশের পতাকা ও আর্জেন্টিনার জার্সির রং।
আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেরুর দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতায় এই উদ্ভিদের সন্ধান পেয়েছেন গবেষকেরা। আন্দিজ পর্বতমালার পাথুরে ঢালে জন্মানো উদ্ভিদটি আগে বৈজ্ঞানিকভাবে পরিচিত ছিল না। গবেষণার পর নতুন প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক বর্ণনা প্রকাশ করা হয়েছে।
‘সালভিয়া মেসি’ ল্যামিয়াসি পরিবারের একটি গুল্মজাতীয় সুগন্ধি উদ্ভিদ। এই পরিবারেই রয়েছে তুলসী, পুদিনা, রোজমেরি ও সেজের মতো পরিচিত গাছ। উদ্ভিদটির আবিষ্কার ও বৈজ্ঞানিক বর্ণনায় যুক্ত ছিলেন পেরুর সান মার্কোস জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের পল গঞ্জালেস, আর্জেন্টিনার স্বাধীন গবেষক রোলান্দো উরিয়া এবং পেরুর হুরারাঙ্গো নেচারের জ্যঁ কাপচা-রামোস। তাদের গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ফাইটোতাক্সা-তে।
মেসির নামে উদ্ভিদটির নামকরণের পেছনে ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন গবেষকেরা। মায়মোনাইডস বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ন্যাচারাল, এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড অ্যানথ্রোপোলজিক্যাল সায়েন্সেস এবং আজারা ফাউন্ডেশনের গবেষক ক্লদিও বের্তোনাত্তির মতে, বিজ্ঞানীরাও সমাজ ও মানুষের আবেগ থেকে বিচ্ছিন্ন নন। তার ভাষায়, বৈজ্ঞানিক গবেষণা মানুষেরই সৃষ্টি। তাই মেসির মতো বিশ্বব্যাপী প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে সম্মান জানাতে গবেষকদের ভৌগোলিক দূরত্ব কিংবা কাজের ক্ষেত্রের পার্থক্য বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।
এমন ঘটনা অবশ্য মেসির ক্ষেত্রে নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন প্রাণী ও জীবের বৈজ্ঞানিক নামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তার নাম। আর্জেন্টিনার বারিতু জাতীয় উদ্যানে আবিষ্কৃত একটি ছত্রাকের নাম রাখা হয়েছে ‘সেরকোপেমসেস মেসি’। এ ছাড়া ‘আকান্থোগোনাটাস মেসি’ নামে একটি মাকড়সা, ‘লিওলায়েমুস মেসি’ নামে একটি টিকটিকি এবং ‘ভালচার মেসি’ নামে আন্দিজ অঞ্চলের একটি প্রাগৈতিহাসিক শকুনের নামকরণ করা হয়েছে। ‘ডিস্কনিস্কা মেসি’ নামেও পরিচিত একটি প্রাগৈতিহাসিক খোলসধারী প্রাণী।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
মাঠে ফুটবলের লড়াই, গ্যালারিতে বিদ্বেষের স্লোগান। এমনটা খেলার পরিপন্থী। সেই ঘটনার শাস্তি তাই এবার পেল স্পেন। মুসলিমবিদ্বেষী ও বিদেশিবিদ্বেষী স্লোগানের কারণে নিজেদের পরবর্তী আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে স্টেডিয়ামের ১৫ শতাংশ আসন বন্ধ রাখতে হবে স্পেনকে। এতেই পার পায়নি স্পেন। স্পেন ফুটবল ফেডারেশনকে ২০ হাজার ডলার জরিমানাও করেছে ফিফা। গত ৩১ মার্চ বার্সেলোনার আরসিডিই স্টেডিয়ামে মিসরের বিপক্ষে একটি প্রীতি খেলেছিল বিশ্বকাপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। গোলশূন্য ড্র হওয়া সেই ম্যাচের প্রথমার্ধের প্রায় ১০ মিনিটে একদল স্প্যানিশ সমর্থক মুসলিমবিদ্বেষী স্লোগান দেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও একই ঘটনা ঘটে। স্লোগান ছিল এমন, ‘যে লাফাবে না, সে মুসলিম। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্টেডিয়ামের পর্দায় বৈষম্যবিরোধী বার্তা দেখানো হয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও তা পুনরায় প্রচার করা হয়। কিন্তু উল্টো গ্যালারির কয়েকটি অংশ থেকে দুয়োধ্বনি দেওয়া হয়। ঘটনার পর স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শুরু করে ফিফা। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ঘটনাটিকে ‘অসহনীয়’ বলে আখ্যা দেন। তার মতে, ‘হিংস্র মানসিকতার মানুষ ফুটবলকে নিজেদের জায়গা তৈরির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে।’ এদিকে ঘটনাটিকে ‘ঘৃণ্য বর্ণবাদী আচরণ’ বলে নিন্দা জানিয়েছে মিসরের ফুটবল ফেডারেশন। তবে তাদের মতে, কিছু সমর্থকের এমন আচরণ দুই দেশের ফুটবল ফেডারেশনের সুসম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না। তবে ফিফার কাছে লিখিত বক্তব্যে স্প্যানিশ ফেডারেশন দাবি করে, ওই স্লোগান বৈষম্যমূলক আচরণের পর্যায়ে পড়ে না। ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি সেই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে। তাদের মতে, স্লোগানকে নিরীহ দাবি করার পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করা পরস্পরবিরোধী। তারই শাস্তি হিসেব স্পেনের পরের ম্যাচে স্টেডিয়ামের ১৫ শতাংশ আসন খালি থকাবে। অবশ্য ফিফার অনুমতি সাপেক্ষে সেখানে পরিবার, শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী সংগঠনের সদস্যদের বসানো যেতে পারে। মূলত দুই গোলপোস্টের পেছনের গ্যালারিতে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। স্পেনের পরের প্রীতি ম্যাচ হবে জুনে। তবে নেশনস লিগের ফাইনালে উঠলে শাস্তি কার্যকর হবে ইউরো ২০২৮ বাছাইপর্বের আগামী শরতের কোনো বিরতিতে।
কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে একসঙ্গে খেলাতে গিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ দলের ভারসাম্য হারাচ্ছে বলে মনে করেন ফ্রান্সের ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ফুটবলার মার্সেল দেশাই। তাঁর মতে, দুই তারকার জুটি প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় গ্রীষ্মকালীন দলবদলেই ভিনিসিয়ুসকে ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল স্প্যানিশ ক্লাবটির। দেশাই বলেন, রিয়াল মাদ্রিদের উচিত ছিল ভিনিসিয়ুসের পরিবর্তে অন্য খেলোয়াড় খোঁজা। এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুসের জুটি এখন পর্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সাবেক এই ফরাসি ডিফেন্ডার বলেন, ভিনিসিয়ুসের ক্লাব ছাড়াই ভালো হতো। এরপর তিনি নিজের সম্পর্কে তৈরি হওয়া নেতিবাচক ধারণা ও সমালোচনা কাটিয়ে উঠতে পারেন কি না, সেটিই দেখার বিষয়। নতুন চুক্তির পরও ছন্দে ফেরার অপেক্ষা গ্রীষ্মকালীন দলবদলে দীর্ঘ আলোচনার পর রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেন ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এর আগে তাঁকে দলে নেওয়ার বিষয়ে আর্সেনালের আগ্রহ নিয়ে গুঞ্জনও ছড়িয়েছিল। তবে নতুন চুক্তির পরও নিজের সেরা পারফরম্যান্সে ফিরতে লড়াই করছেন ভিনিসিয়ুস। মাঠে এমবাপ্পের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়ার ঘাটতি নিয়েও সমালোচনা হচ্ছে। দেশাইয়ের মন্তব্যে সেই বিতর্কই নতুন করে আলোচনায় এসেছে। রোমার বিপক্ষে ম্যাচে হতাশা চ্যাম্পিয়নস লিগে রোমার বিপক্ষে ম্যাচেও ভিনিসিয়ুসের কঠিন সময়ের প্রতিফলন দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্টাদিও অলিম্পিকোতে রিয়াল মাদ্রিদ ৩-১ গোলে পিছিয়ে থাকার সময় দলের দ্বিতীয় গোলের আক্রমণে বল হারানোর পর ম্যাচের এক ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার আগেই তাঁকে তুলে নেন কোচ হোসে মরিনিয়ো। ভিনিসিয়ুসের বদলি হিসেবে মাঠে নেমে এন্দ্রিক ও আরদা গুলের ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে ভূমিকা রাখেন। এন্দ্রিক, কার্লোস এসপি ও আন্তোনিও রুডিগারের গোলে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়ায় রিয়াল। মাঠ ছাড়ার সময় ভিনিসিয়ুসকে অসন্তুষ্ট দেখাচ্ছিল। পরে এ বিষয়ে তিনি জানান, বদলি হিসেবে তুলে নেওয়া হলে রাগ হওয়াটা স্বাভাবিক, কারণ তিনি সব সময় মাঠে খেলতে চান। এদিকে এমবাপ্পে-ভিনিসিয়ুস জুটির কার্যকারিতা নিয়ে দেশাইয়ের মন্তব্য রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণভাগের সমন্বয় ও দলীয় ভারসাম্য নিয়ে বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
ভারত সফরে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক শাই হোপ। স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে আরও একটি বিধ্বংসী সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে একাধিক রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন ক্যারিবীয় এই ব্যাটার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরির সংখ্যায় ছাড়িয়ে গেছেন দুই স্বদেশি তারকা ক্রিস গেইল ও এভিন লুইসকে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভারতের বিপক্ষে মাত্র ৫০ বলে অপরাজিত ১০২ রানের ইনিংস খেলেন হোপ। চারটি চার ও নয়টি ছক্কায় সাজানো ইনিংসে তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ২০৪। ইনিংসের শেষ দুই বলে টানা দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে শতক পূর্ণ করেন তিনি। গেইল-লুইসকে ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি হোপের তৃতীয় সেঞ্চুরি। এর মধ্য দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে এই সংস্করণে সর্বাধিক শতকের মালিক হয়েছেন তিনি। এর আগে ক্রিস গেইল ও এভিন লুইসের দুটি করে টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি ছিল। এবার তাঁদের পেছনে ফেলে নতুন উচ্চতায় পৌঁছালেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক। চলমান ভারত সফরে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে এটি হোপের চতুর্থ শতক। টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও মাত্র ৪৫ বলে অপরাজিত ১০২ রান করেছিলেন তিনি। এর আগে ওয়ানডে সিরিজের শেষ দুই ম্যাচেও সেঞ্চুরি করেন এই ডানহাতি ব্যাটার। দুই হাজার রানের মাইলফলক রেকর্ড গড়া ইনিংসে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দুই হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন হোপ। ৭৪ ম্যাচের ৭২ ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ ২ হাজার ৪ রান। ব্যাটিং গড় ৩৩ দশমিক ৪০ এবং স্ট্রাইক রেট ১৪১ দশমিক ৮২। এই সংস্করণে তিনটি সেঞ্চুরির পাশাপাশি তাঁর রয়েছে ১৩টি অর্ধশতক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে দুই হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশ করেছেন তিনি। এর আগে এই কীর্তি গড়েছেন রোভম্যান পাওয়েল (২,৪০০), নিকোলাস পুরান (২,২৭৫) ও ব্র্যান্ডন কিং (২,০২৮)। এক সিরিজে একাধিক কীর্তি দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুটি সেঞ্চুরি করা পঞ্চম ব্যাটার হিসেবেও জায়গা করে নিয়েছেন হোপ। এর আগে এই কীর্তি গড়েছেন ফিল সল্ট, সাঞ্জু স্যামসন, তিলক ভার্মা ও মোহাম্মদ ইহসান। এ ছাড়া টেস্ট খেলুড়ে দুটি দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে তিনটি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলার কীর্তিতেও নাম লিখিয়েছেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক। এই তালিকায় আগে থেকেই রয়েছেন বিরাট কোহলি, সূর্যকুমার যাদব ও সাহিবজাদা ফারহান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সর্বাধিক ১৬টি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলার রেকর্ডেও ক্রিস গেইলের পাশে বসেছেন ৩২ বছর বয়সী হোপ। হোপের ব্যাটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানের পাহাড় অধিনায়কের দুর্দান্ত শতকে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২৪৭ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ইনিংসে কোনো দলের এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। পাশাপাশি যেকোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চতুর্থ সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ এটি। ভারত সফরে একের পর এক সেঞ্চুরি ও রেকর্ড গড়ে ক্যারিবীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন শাই হোপ।