জাতীয়

ধর্ষণের শিকার ১২ বছরের শিশুর নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষা শুরু

আক্তারুজ্জামান জুলাই ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়া ১২ বছর বয়সী শিশুর জন্ম দেওয়া নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আদালতের নির্দেশে গত ২৮ জুলাই সিলেটের একটি সেফহোম থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

 

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলার প্রধান আসামি মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের ডিএনএ নমুনা এর আগেই সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমানে সব নমুনা পরীক্ষার জন্য সিআইডি ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর মামলায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মদন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আক্তারুজ্জামান জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সিআইডির একটি দল সেফহোমে গিয়ে নবজাতকের নমুনা সংগ্রহ করে। এর আগে গত ১৭ মে অভিযুক্ত শিক্ষকের নমুনাও নেওয়া হয়েছিল।

 

সিলেট সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুলাই প্রসব বেদনা শুরু হলে শিশুটিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন দিবাগত রাতে সে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়।

 

সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন জানান, এত কম বয়সে সন্তান প্রসব অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হলেও মা ও নবজাতক দুজনই এখনও নিবিড় স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে রয়েছে। নবজাতকের ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় কম হওয়ায় জন্ডিস, নিউমোনিয়া ও অপুষ্টিজনিত জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে।

 

হাসপাতালে কয়েক দিন পর্যবেক্ষণের পর মা ও শিশুকে পুনরায় সেফহোমে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তারা সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল দলের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

 

উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত শিক্ষক একাধিকবার শিশুটিকে ধর্ষণ করেন, যার ফলে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে আসামিকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং আদালতের নির্দেশে শিশুটিকে সেফহোমে পাঠানো হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
কেরানীগঞ্জে অস্ত্রসহ কথিত চাঁদাবাজ কাইল্ল্যা ফারুক আটক

মোহাম্মদপুর ও কেরানীগঞ্জ এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ফারুক ওরফে কাইল্ল্যা ফারুককে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-২। এ সময় তার সহযোগী মো. ইসমাইল হোসেন ডালিমকেও আটক করা হয়।   সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান এসআরবি-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।   তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া এলাকায় কাইল্ল্যা ফারুকের অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে ফারুক ও ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করা হয়।   অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে একটি ৯ এমএম বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও একটি চাপাতি জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-২।   যেসব অভিযোগ রয়েছে এসআরবি-২-এর ভাষ্য অনুযায়ী, ফারুকের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি, চণ্ডীপুরে স্টিডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের জিম্মি করে অর্থ দাবি এবং মোহাম্মদপুরের ৪০ ফিট এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বসিলা ব্রিজ এলাকায় ছিনতাইয়ে জড়িত কিশোর ও তরুণদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া, জোরপূর্বক জমি দখল করে বালু ভরাট এবং মাদক কারবারিদের সুরক্ষা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে বলে জানানো হয়।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফারুকের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি এবং দাঙ্গা, গুরুতর আঘাত, বলপূর্বক গ্রহণ, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে আরও দুটি মামলাসহ মোট চারটি মামলা রয়েছে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর সদর থানায় একটি সিআর মামলাও রয়েছে। অস্ত্র আইনে এবং স্টিডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসে চাঁদাবাজির অভিযোগে আরও দুটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।   ‘কিশোর গ্যাংয়ের গডফাদার বলা হয়নি’ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান বলেন, ফারুককে মাদক কারবারিদের গডফাদার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাকে কিশোর গ্যাংয়ের গডফাদার বলা হয়নি। মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আগের তুলনায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এবং মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।   স্টিডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহত হওয়ার ঘটনায় ফারুক জড়িত ছিলেন কি না জানতে চাইলে নয়মুল হাসান বলেন, ওই ঘটনায় ফারুক ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-২।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাত-পা বাঁধা অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

হাদি হত্যা মামলার আসামি ফয়সালের বিরুদ্ধে এবার আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদের মামলা

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের সামনে কোনো বিকল্প ছিল না : প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা-খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলে যাত্রীপ্রতি বাস ভাড়া ৫০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মালিকদের

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর ঢাকা থেকে খুলনাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী গণপরিবহণের ভাড়া যাত্রীপ্রতি ৫০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাস মালিকরা।   বাস মালিকদের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে সংশ্লিষ্ট রুটের বাস মালিকরা বৈঠক করে এ সিদ্ধান্ত নেন। তবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নতুন ভাড়া নির্ধারণ না করা পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে বিরোধের আশঙ্কা রয়েছে।    ঢাকা থেকে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও পিরোজপুর রুটে চলাচলকারী একটি বাস কোম্পানির মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এসব রুটে চলাচলকারী বাস মালিকরা সকালে আলোচনা করে যাত্রীপ্রতি ৫০ টাকা ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যাত্রী যেখানেই নামুন না কেন, বর্তমান ভাড়ার চেয়ে ৫০ টাকা বেশি দিতে হবে।    তিনি বলেন, ঢাকার গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া থেকে খুলনা গিয়ে একটি বাস আবার ঢাকায় ফিরতে প্রায় ১৪০ লিটার জ্বালানি তেল লাগে। বিআরটিএর হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ট্রিপে গড়ে ২৮ জন যাত্রী ধরা হয়। জ্বালানি তেলের বাড়তি খরচ সমন্বয়ের জন্যই যাত্রীপ্রতি ৫০ টাকা ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   বাস মালিকদের এই প্রতিনিধি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম যে পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে, তাতে বিআরটিএ নতুন ভাড়া নির্ধারণ করবে। এ সিদ্ধান্ত নিতে এক-দুই দিন সময় লাগতে পারে। তবে এরই মধ্যে পরিবহন মালিকদের বাড়তি খরচ শুরু হয়ে গেছে। ফলে সরকারি সিদ্ধান্ত আসার আগেই ভাড়া বাড়ানো ছাড়া বিকল্প দেখছেন না তারা।   তিনি বলেন, বিআরটিএ নতুন ভাড়া নির্ধারণ করলে সরকার নির্ধারিত কিলোমিটারপ্রতি হার অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে ভাড়া ঠিক করা হবে।   তিনি আরও বলেন, বিআরটিএ দ্রুত সিদ্ধান্ত দিলে পরিবহন মালিক ও যাত্রী—দুই পক্ষের জন্যই ভালো হবে। কারণ সরকারি সিদ্ধান্ত ছাড়া যাত্রীরা বাড়তি ভাড়া দিতে সব সময় আগ্রহী হন না। এতে বিভিন্ন স্থানে যাত্রী ও বাসের কন্ডাক্টরদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় বিরোধের আশঙ্কা থাকে।    

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গাজী নজরুলের ৪ দিনের রিমান্ড, স্ত্রীর ১ দিন

ছবি: সংগৃহীত

আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ: এমপি গাজী নজরুল ও স্ত্রীকে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে হাম-ডেঙ্গুর প্রকোপ, ২০ দিনেই ডেঙ্গুতে ১২ মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
বগুড়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল নারীসহ ৩ জনের

বগুড়ায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী নেওয়ার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাসের ধাক্কায় দুজন এবং মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় আরও একজন নিহত হন।   সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে বগুড়া শহরের ঠেঙ্গামারা এলাকায় টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এবং সকাল ১০টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলার রানীরহাট এলাকায় দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।   নিহতরা হলেন—কাহালু উপজেলার পাইকড় ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের মজনু মেম্বারের ছেলে সাপিকুল (৪০), একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে আরাফাত (৪০) এবং বানদিঘী এলাকার খাদিজা (৫১)।   স্থানীয়রা জানান, রোববার দিবাগত রাতে পাইকড় ইউনিয়নের বাসিন্দা আশরাফুল স্ট্রোক করলে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পরে তার ভাই নজরুল, ভাতিজা আরাফাত, প্রতিবেশী রফিকুল ও সাপিকুল একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দিকে রওনা হন।   ভোর সোয়া ৪টার দিকে হাসপাতালের গেটে প্রবেশের সময় একটি নাইট কোচ বাস সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সাপিকুল ও আরাফাত নিহত হন। আহত হন আশরাফুল, রফিকুল ও নজরুল।   পরে আহতদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, আশরাফুলের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।   পাইকড় ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল বাছেদ জানান, নিহত ও আহতরা তার স্বজন ও প্রতিবেশী। আহত তিনজনই শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   এদিকে, একই দিন সকাল ১০টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলার রানীরহাট এলাকায় আরেকটি দুর্ঘটনায় খাদিজা (৫১) নিহত হন।   শাজাহানপুর থানা পুলিশ জানায়, খাদিজা এক স্বজনের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে কাহালুর দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে রানীরহাট এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই খাদিজার মৃত্যু হয়।   পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।   শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার ওসি রইস উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার পর স্বজনরা দুজনের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ায় তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে কিছুটা সময় লেগেছে। পরে নিহতদের পরিচয় ও মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।   পৃথক এসব দুর্ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

প্রায় সব ব্র্যান্ডের তরল দুধের দাম বেড়েছে লিটারে ১০ টাকা

প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর পৃথিবীর ইতিহাসে একটি বিশেষ মুহূর্ত: মাহদী আমিন

দেখা যাক ওই হাসিই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ: মৃত্যুর আগে মরিয়ম

0 Comments