বিশ্ব

ড্রোন হামলায় রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে তেলের ডিপোতে আগুন

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ২৩, ২০২৬

রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে পেনজা নগরীর একটি তেলের ডিপোতে শুক্রবার ভোরে ড্রোন হামলায় আগুন লেগে যায়। তবে এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। 

এলাকার গভর্নর এ তথ্য জানান।

সোশাল মিডিয়ার এক ভিডিওতে দেখা গেছে, পেনজার পূর্বাঞ্চলে ফ্রন্ট লাইনের থেকে প্রায় ৬১৮ কিলোমিটার (৩৮৪ মাইল) দূরে অবস্থিত শহরতলীর তেলের ডিপোর জায়গা থেকে লাল-কমলা আগুনের লম্বা স্তম্ভ উড়ে যাচ্ছে। 

মস্কো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তারা ড্রোনগুলোর উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলেননি। তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতে অন্তত ১২টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ড্রোন পেনজা অঞ্চলের আকাশে দেখা গেছে।

প্রায় চার বছরের যুদ্ধে ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধ ভাণ্ডার দুর্বল করার লক্ষ্যে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।

ইউক্রেন এই হামলা নিয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।

পেনজা গভর্নর লেগ মেলনিচেঙ্কো টেলিগ্রামে জানান, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা নাগাদ ড্রোন হামলায় পেনজার তেল ডিপোতে আগুন লেগেছে। প্রাথমিক তথ্যে কোনো হতাহতের খবর জানা যায়নি নেই।

তুলনামূলকভাবে সস্তা এই ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো রাশিয়ার বিদ্যুৎ ও জ্বালানী স্থাপনায় কোটি কোটি ডলারের ক্ষতি সাধন করেছে। 

কিয়েভ দাবি করছে, এই হামলাগুলো রাশিয়ার ইউক্রেনের জ্বালানী অবকাঠামোর ওপর হামলার ন্যায্য প্রতিশোধ।

গত কয়েক সপ্তাহে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিডে রাশিয়ার বোমাবর্ষণের ফলে শূন্যের নীচে তাপমাত্রায় থাকা হাজার হাজার মানুষ তাপ ও বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন গণমাধ্যম ও ডেমোক্র্যাটরা পাগল হয়ে গেছে : ট্রাম্প

  ইরান যুদ্ধের সংবাদ পরিবেশন নিয়ে আবার মার্কিন গণমাধ্যমের তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন গণমাধ্যম ও ডেমোক্র্যাটদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। বিশেষভাবে নিউ ইয়র্ক টাইমস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও সিএনএনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ তোলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প দাবি করেন, এসব গণমাধ্যম ইরানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করছে। নিজের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাটদের কটাক্ষ করে তিনি লেখেন, ডেমোক্র্যাটস এবং মিডিয়া পুরোপুরি পথ হারিয়েছে। পাশাপাশি তিনি আরো বলেন, তারা পুরোপুরি পাগল হয়ে গেছে। ট্রাম্প খারাপ আবহাওয়ার কারণে আগামীকালের মন্ত্রিসভার বৈঠকের স্থান পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, নির্ধারিত স্থান ক্যাম্প ডেভিডের পরিবর্তে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে হোয়াইট হাউসে।

মারিয়া রহমান মে ২৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ইরানে আটক থাকা ১০ ভারতীয় নাবিককে মুক্তি

ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৩১

ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা

সংগৃহীত ছবি
পর্যটকদের নিরাপত্তায় ঈদে বান্দরবানে বিশেষ নির্দেশনা

প্রায় তিন মাসের দীর্ঘ ইন্টারনেট অচলাবস্থার পর সংযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিলেও নতুন জটিলতায় পড়েছে ইরান। দেশটির বিচার বিভাগ এবার প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের গঠিত সেই সংস্থার কার্যক্রম স্থগিত করেছে, যারা ইন্টারনেট পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্ত দিয়েছিল।   মঙ্গলবার বিচার বিভাগের ওয়েবসাইট ‘মিজান অনলাইন’ জানায়, বিভিন্ন অভিযোগ দায়েরের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কে বা কারা অভিযোগ করেছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। স্থগিত হওয়া সংস্থাটির নাম ‘দেশের সাইবার পরিসর সংগঠন ও পরিচালনার বিশেষ সদর দপ্তর’। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান গত ১২ মে এই সংস্থা গঠন করেন। গত সোমবার সংস্থাটি ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানিয়েছিলেন সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি। তবে ইরানে ইন্টারনেট চালু বা বন্ধ করার চূড়ান্ত ক্ষমতা রয়েছে সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের হাতে। ফলে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এদিকে একই দিনে ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, তাদের তথ্য অনুযায়ী দেশে আংশিকভাবে ইন্টারনেট সংযোগ ফিরে আসার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় প্রথম ব্যাপকভাবে ইন্টারনেট সীমিত করা হয়। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর আবারও প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই সময় সাধারণ মানুষ মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক ও স্থানীয় সাইট ব্যবহারে সীমাবদ্ধ ছিলেন। পরবর্তীতে ‘ইন্টারনেট প্রো’ নামে স্তরভিত্তিক একটি ব্যবস্থা চালু করা হয়, যেখানে নির্দিষ্ট পেশাজীবীদের অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে সীমিত আন্তর্জাতিক সংযোগ দেওয়া হয়। নেটব্লকসের তথ্য অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল পর্যন্ত এই ব্ল্যাকআউট ছিল কোনো দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের জাতীয় পর্যায়ের ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বেলজিয়ামে ট্রেন-স্কুলবাস সংঘর্ষে নিহত ৪

সুদানের সীমান্তবর্তী আল-টিনা শহরে ড্রোন হামলা হয়েছে। ছবি : সংগৃহীত

সুদানের সীমান্ত শহরে ড্রোন হামলায় নিহত ১৪

লেবাননে বেকা অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ছবি : সংগৃহীত

সতর্কবার্তার পর লেবাননে বিমান হামলা চালাল ইসরায়েল

ছবি : সংগৃহীত
অর্থনীতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি খনিজ নিয়ে নতুন জোট গঠন

বিশ্বজুড়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ নিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়ার মধ্যে একসঙ্গে কাজ করতে একমত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত। এই সমঝোতার লক্ষ্য—গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও বিরল ধাতুর সরবরাহব্যবস্থা সুরক্ষিত করা এবং একক আধিপত্যের ঝুঁকি কমানো।   দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই কাঠামোগত চুক্তিতে খনিজ উত্তোলন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এসব খনিজ ব্যাটারি, ইলেকট্রনিক যন্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এসব উপাদান অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য হলেও সরবরাহব্যবস্থা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ১২টি গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ক্ষেত্রে পুরোপুরি আমদানির ওপর নির্ভরশীল এবং আরও ২৯টি খনিজের ক্ষেত্রে অন্তত অর্ধেক চাহিদাও বিদেশ থেকে পূরণ করে।   বিরল খনিজের মধ্যে স্ক্যান্ডিয়াম, ইট্রিয়াম ও ১৫টি ল্যান্থানাইড মৌল উল্লেখযোগ্য। এসব উপাদান শক্তিশালী চুম্বক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, যা বৈদ্যুতিক গাড়ি, চিকিৎসা প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে গুরুত্বপূর্ণ।   বিশ্বের মোট বিরল খনিজের প্রায় ৬০ শতাংশ একটি দেশেই (চীনে) রয়েছে এবং বৈশ্বিক প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রায় ৯০ শতাংশও চীনে হয়। এই একক নিয়ন্ত্রণ কমাতে বিকল্প উৎস গড়ে তুলতে কাজ করছে ওয়াশিংটন।   অন্যদিকে, ভারতে মনাজাইট নামে একটি খনিজের প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ টন মজুত রয়েছে, যা বিরল খনিজের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এই সম্পদ কাজে লাগাতে বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চলে বিশেষ খনিজ করিডর গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু অর্থনৈতিক সহযোগিতা নয়, বরং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় ভারসাম্য আনার এক কৌশলগত পদক্ষেপ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৭, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

হজের খুতবা শেষে আরাফাতে নামাজ আদায় করলেন মুসল্লিরা

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি : সংগৃহীত

প্রেসিডেন্টের নির্দেশে ৮৭ দিন পর ইন্টারনেট চালু ইরানে

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ছবি : সংগৃহীত

ঈদ বার্তায় ইসরায়েলকে ‘উপড়ে ফেলার’ হুঁশিয়ারি মোজতবা খামেনির

0 Comments