চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।
আজ শুক্রবার সকালে ওয়েবসাইটে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত মেধা তালিকায় ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগসমূহ এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে মূল মেধা তালিকায় ৯ হাজার ৪৯৮ জন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অন্যান্য জেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী তালিকায় ২৮ জন এবং রাখাইন সম্প্রদায়ের ২ জন স্থান পেয়েছে।
স্থাপত্য বিভাগে মূল মেধা তালিকায় ৩০৩ জন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অন্যান্য জেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী তালিকায় ১ জন স্থান পেয়েছে।
মেধা তালিকায় স্থানপ্রাপ্ত সকল প্রার্থীকে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে ভর্তি সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে (যঃঃঢ়ং://ধফসরংংরড়হপঁবঃ.ধপ.নফ) গিয়ে অনলাইন চয়েস ফর্মের প্রয়োজনীয় তথ্য ও বিভাগের পছন্দক্রম প্রদান করতে হবে। ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগসমূহ এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের জন্য ১১টি পছন্দসহ একটি পছন্দক্রম পূরণ করতে হবে। তবে, স্থাপত্য বিভাগের ভর্তিচ্ছুদের জন্য কোনো পছন্দক্রম পূরণের প্রয়োজন নেই।
মেধা তালিকায় স্থান প্রাপ্তদের মধ্য থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগসমূহ এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের মূল মেধাক্রমের প্রথম ১ হাজার ২৫০ জন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অন্যান্য জেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মেধাক্রমের প্রথম ১০ জন এবং রাখাইন সম্প্রদায়ের ১ জনকে ডাকা হয়েছে।
আবার স্থাপত্য বিভাগের মূল মেধা তালিকার প্রথম ১০ জন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অন্যান্য জেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেধাক্রমের ১ জনকে ডাকা হয়েছে।
আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রথম পর্যায়ে ভর্তির জন্য ডাকা হয়েছে। এদিন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টার মধ্যে সশরীরে নিরীক্ষা কমিটির কাছে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা প্রদান সাপেক্ষে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য বলা হয়েছে। নিরীক্ষা কমিটি দ্বারা প্রার্থীদের সনদপত্র যাচাইয়ের পর ওই দিনই শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।
পরের দিন ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় প্রাপ্ত বিভাগ দেখে ভর্তির জন্য নির্ধারিত ১৮ হাজার ৫০০ টাকা সোনালী ব্যাংক চুয়েট শাখায় বিকেল ৩টার মধ্যে জমা প্রদান করে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। তবে, কোনো প্রার্থী স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে একই দিন ভর্তির জন্য নির্ধারিত ফি কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে ব্যাংকে জমা দিতে পারবে।
প্রথম পর্যায়ে ভর্তির পর ভর্তিকৃত প্রার্থীর বিভাগ ও মোট শূন্য আসন সংখ্যা এবং পরবর্তী দফায় ভর্তির জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা ১ মার্চ ভর্তির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। আসন খালি থাকা সাপেক্ষে ওরিয়েন্টেশনের দিন পর্যন্ত ভর্তি প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।
ভর্তি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসাইন বলেন, ‘সব প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার রেজাল্টও দ্রুততম সময়ে দেওয়া হয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত ১৭ জানুয়ারি চুয়েটের স্নাতক প্রথম বর্ষে (২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের ভর্তি পরীক্ষায় পুরকৌশল, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল, যন্ত্রকৌশল এবং স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদসমূহের মোট ১২টি বিভাগে সংরক্ষিত ১১টিসহ মোট ৯৩১টি আসনের বিপরীতে মোট ১২ হাজার ৯৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি ঘটলে গণতন্ত্র তো দূরের কথা, রাষ্ট্রই আর টিকবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তিনি বিরোধী দলসহ সবার প্রতি জাতীয় ঐক্যের ধারা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বিএফইউজের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ আহ্বান জানান। রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে হলে যত কর্মসূচি, বিতর্ক বা তীব্র সমালোচনা থাকুক না কেন, একটি ন্যূনতম জোটসূত্র বা বোঝাপড়ার জায়গায় কাজ করতে হবে। অন্যথায় ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটলে কেউ রক্ষা পাবেন না। কারণ তারা অত্যন্ত ভয়ংকর জায়গা থেকে মদদ পাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের ফরেন পলিসি স্বাধীনভাবে করা এবং অর্থনৈতিক সংকট সত্ত্বেও নিজ পায়ে দাঁড়ানোর যে আস্থার জায়গাটি তৈরি হয়েছে, তা আমাদের ধরে রাখতে হবে। অতীতে শেখ হাসিনার আমলে বিরোধী দলের লংমার্চ বা কর্মসূচিতে পদে পদে পুলিশ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ বাধা দিত এবং সাধারণ মানুষের বাস আক্রমণ করে রক্তাক্ত করা হতো। অথচ বর্তমান সময়ে বিরোধী দলের কর্মসূচিতে বা লংমার্চে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি, যা শেখ হাসিনার আমলে যা ছিল অবিশ্বাস্য। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা জেলায় জেলায় নির্দেশনা দিয়েছিলাম যেন বিরোধী দলের কর্মসূচিতে কেউ কোনো বাধা না দেয় এবং সেটি আমরা বজায় রেখেছি। গণতন্ত্রে বিরোধী দল তাদের কর্মসূচি পালন করবে, কথা বলবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু গণতন্ত্র মানে যা ইচ্ছা তা বলা নয়। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে ‘তুই করে সম্বোধন করার সংস্কৃতি’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সজীব ওয়াজেদ জয়ের কালচার। তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এভাবেই সম্বোধন করতেন। ১৭ বছর ধরে আমরা বিরোধী দলের রাজনীতি করার অধিকার হরণ এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের অপপ্রচার দেখেছি। সেই সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি রোধে আমরা মার্জিত অথচ কঠিন ও তীব্র ভাষায় সমালোচনা করার চেষ্টা করছি। সভায় রুহুল আমিন গাজীর স্মৃতিচারণ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমরা যখন কঠিন দুর্দিনে ফ্যাসিবাদের নিপীড়নের শিকার হচ্ছিলাম, তখন আল্লাহর কাছে একটাই দোয়া করতাম—কমপক্ষে হাসিনার পতন যেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেখে যেতে পারেন। গাজী ভাইও আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু হাসিনার পতন উনি দেখে যেতে পেরেছেন—এটাই বড় সান্ত্বনা। রুহুল আমিন গাজীকে 'সময়ের বিবেকের প্রতিনিধি' ও 'সত্য ভাষণের অনন্য প্রতিকৃতি' হিসেবে উল্লেখ করে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী আক্রমণ থেকে প্রেস ক্লাবও মুক্ত ছিল না। প্রেস ক্লাবের ভেতর থেকে পুলিশ যেভাবে ৬০-৭০ জন ফোর্স নিয়ে এসে তাকে গ্রেফতার করেছিল, তা এক বিরল ও ফ্যাসিবাদের চরম বহিঃপ্রকাশ। হিটলার বা মুসোলিনির আমলেও যেমন কিছু বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিক ফ্যাসিজমকে সমর্থন জুগিয়েছিল, তেমনি আমাদের দেশেও অনেকে তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু রুহুল আমিন গাজী সব নিপীড়ন সহ্য করে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি গণতন্ত্র ও ইসলাম পছন্দ করতেন এবং দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতেন বলেই শেখ হাসিনার শত্রু পক্ষে পরিণত হয়েছিলেন। অনুষ্ঠানে জ্বালানি সংকট ও বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, চারপাশের পরিস্থিতি এখনও শঙ্কামুক্ত নয়। ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদনের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে টেলিফোনে বোমা হামলা চালিয়ে তার ছবি পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার মতো ভয়ংকর তথ্যও সংবাদে আসছে। সুতরাং, বাংলাদেশকে কোনো দেশের 'পেছনের উঠান' বা পশ্চাৎভূমিতে পরিণত করার ষড়যন্ত্র যেন সফল না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডিইউজের সাবেক সভাপতি এলাহি নেওয়াজ খান সাজু, যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাসির জামাল, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভুঁইয়া, বিএফইউজের সহ-সভাপতি একে এম মোহসিন ও খাইরুল বাশার, প্রয়াত রুহুল আমিন গাজীর ছেলে আফ্ফান আবরার আমীন প্রমুখ।
অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম অনেক কম বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন। জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকার আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছে জানিয়ে রিজভী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে। সরকার জ্বালানিতে ভর্তুকি দিচ্ছে। মূল্য সমন্বয়ের পরও জ্বালানি খাতে লোকসান গুনতে হচ্ছে। প্রতি লিটার ডিজেল ২৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। দাম সমন্বয়ের পরও প্রতি লিটারে ৭০ টাকা লোকসান হবে। দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির জন্য কৃত্রিমভাবে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। বলেন, পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হচ্ছে, এর সঙ্গে পতিত স্বৈরাচার যোগসাজশ থাকতে পারে। এ বিষয়ে দেশবাসীসহ সমর্থকরা ওয়াকিবহাল। রিজভী বলেন, সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচিসহ জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ ভিন্নখাতে নিতে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। জ্বালানি সংকট নিরসনে সমাধানের কথা প্রত্যাশা করি বিরোধীদের কাছ থেকে। লংমার্চে বিএনপিসহ সরকারের বিরুদ্ধে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা কাম্য নয়। জনগণের স্বার্থে নেওয়া উদ্যোগকে কেউ কেউ ব্যঙ্গ করছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ফ্যাসিবাদের যারা দোসর তারা প্রশাসনের মধ্যে থেকে স্যাবোটেজ করার চেষ্টা করছে। গোপন কক্ষে পরাজিত শক্তির সঙ্গে কেউ হাত মিলিয়েছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের গত ছয় মাসের ‘সাফল্যের’ তালিকা তুলে ধরে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে তিনি গত ছয় মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে ৪টি বিষয় তুলে ধরেন। স্ট্যাটাসটি ইত্তেফাক ডিজিটালের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো। হাসনাত লিখছেন, ‘গত ছয় মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য— ছেলের বিসিবির ডিরেক্টর হওয়া। প্রায় ৬০০ কোটি টাকার কমিশনের জাপানি কোম্পানির লোকাল এজেন্ট হিসেবে কাজ পাওয়া এবং সচিবদের সঙ্গে মিটিং করার সুযোগ তৈরি করা। বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ম্যানেজমেন্টের লোকাল এজেন্ট হিসেবে কাজ পাওয়ার চেষ্টায় এগিয়ে থাকা এবং ছেলের শিক্ষক থেকে ব্যবসায়ী হয়ে ওঠা।’ শেষে তিনি লিখেছেন, ‘সব মিলিয়ে, গত ছয় মাসে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলার কতটা উন্নতি হয়েছে জানি না, তবে উনার পকেটের উন্নতির গতিটা বেশ লক্ষণীয়।’