লাতিন আমেরিকায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে প্রকাশ্য উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলে বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও রাজনৈতিক তৎপরতা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফলে চীনকে লাতিন আমেরিকায় প্রভাব বিস্তার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, লাতিন আমেরিকা ঐতিহাসিকভাবে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর অঞ্চল হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন সেখানে বন্দর, অবকাঠামো, খনিজ সম্পদ, জ্বালানি এবং প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। এসব বিনিয়োগের আড়ালে কৌশলগত স্বার্থ লুকিয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য অনুযায়ী, চীনের কিছু প্রকল্প শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং সামরিক ও গোয়েন্দা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে পারে। এতে করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
ওয়াশিংটন আরও জানায়, লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক স্বচ্ছতা, গণতন্ত্র ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। বিপরীতে, চীনের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে ঋণনির্ভর চুক্তি ও অস্বচ্ছ শর্ত জড়িত থাকে, যা ভবিষ্যতে ওই দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তবে লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশ চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের মতে, চীনা বিনিয়োগ অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রভাব বিস্তার নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লাতিন আমেরিকাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের এই অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী দিনে এই অঞ্চলে দুই পরাশক্তির কৌশলগত দ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তায়েফে ড্রোন প্রতিহত করার সময় একজন বিদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, নিহত ওই ব্যক্তি ইয়েমেনের নাগরিক। তিনি সৌদি আরবে বসবাস করতেন। সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা তায়েফ লক্ষ্য করে একটি ড্রোন উৎক্ষেপণ করেছিল। সেটি প্রতিহত করার সময় ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে। আহত দুজনের পরিচয় বা তাদের আঘাতের মাত্রা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। চলতি মাসে সৌদি আরবে হুথিদের হামলা জোরদার হওয়ার পর এটি দেশটিতে প্রথম প্রাণহানির ঘটনা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইয়েমেনের হুথিরা এর আগে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরবও নিয়মিত এসব হামলা প্রতিহত করার দাবি করে আসছে। এদিকে, ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় সৌদির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা বা ইন্টারসেপ্টর কমে আসছে। এতে মহা বিপাকে পড়েছে রিয়াদ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের কাছে বিমান প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়েছে তারা।
রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে শুল্ক আরোপ করলে তা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে ভারত। মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ রাশিয়ার তেল ক্রয়কারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রেখে একটি নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কসংক্রান্ত বিল অনুমোদনের কয়েক ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লি এ সতর্কবার্তা দেয়। রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যে তৈরি করা বিলটি বুধবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়। এতে রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাত, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও দেশটির অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার পাশাপাশি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত রাশিয়ার কথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। বিলটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ভারত ও চীনসহ রাশিয়ার বড় জ্বালানি ক্রেতারা এ ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারে। একই সঙ্গে ইরানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। বিলটি এখন ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। ভারতের কড়া বার্তা বিলটি পাসের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে নয়াদিল্লি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনায় বিষয়টি উত্থাপন করেছে ভারত। নয়াদিল্লির বক্তব্য, রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে মার্কিন পদক্ষেপের সম্ভাব্য প্রভাব শুধু ভারত-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপরই নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ওপরও পড়তে পারে। ভারতীয় পক্ষ এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে বলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, নিজেদের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে ভারত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। নতুন মার্কিন আইনের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় সরকার দেশের বাণিজ্য ও শিল্প খাতের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। রাশিয়ার তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক ভারত রাশিয়ার তেলেরও বড় ক্রেতা। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলো মস্কোর ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর রাশিয়া তুলনামূলক কম দামে অপরিশোধিত তেল বিক্রি করতে শুরু করলে ভারতীয় পরিশোধনাগারগুলো রুশ তেল কেনা বাড়ায়। নয়াদিল্লি বরাবরই বলে আসছে, বিপুল জনসংখ্যা ও দ্রুত সম্প্রসারিত অর্থনীতির জ্বালানি চাহিদা মেটাতে তাদের নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এ কারণেই রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমানোর জন্য পশ্চিমা চাপের মধ্যেও ভারত নিজেদের জ্বালানি নীতি বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। ভারত অবশ্য বলছে, তারা একটি নির্দিষ্ট দেশের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করবে এবং বাজার পরিস্থিতির ভিত্তিতে সরবরাহের উৎস নির্ধারণ করবে। শুল্কের সিদ্ধান্ত এখনও ট্রাম্পের হাতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি পাস হওয়া মানেই ভারতের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হচ্ছে না। আইনটি কার্যকর হওয়ার জন্য এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষর প্রয়োজন। এরপর কোন দেশ বা পণ্যের ওপর কী মাত্রায় শুল্ক আরোপ করা হবে, সেটি মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি ২৬২-১৫৯ ভোটে পাস হয়েছে। এর আগে মার্কিন সিনেটেও বিলটি অনুমোদিত হয়েছিল। ফলে ট্রাম্পের স্বাক্ষর করলে রাশিয়ার জ্বালানি ক্রয় অব্যাহত রাখা দেশগুলোর ওপর নতুন অর্থনৈতিক চাপ তৈরির সুযোগ তৈরি হবে। ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কেও প্রভাবের আশঙ্কা নতুন এই পদক্ষেপ এমন সময়ে এলো, যখন ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক আলোচনা চলমান। ফলে রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে সম্ভাব্য মার্কিন শুল্ক দুই দেশের বৃহত্তর বাণিজ্যিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় পরিশোধনাগারগুলোও সম্ভাব্য উচ্চ ব্যয় ও সরবরাহসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। অন্যদিকে, রাশিয়ার তেল কেনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে ভারতের অবস্থান মূলত জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত। ফলে ওয়াশিংটনের নতুন চাপের মুখে নয়াদিল্লি কীভাবে রুশ তেল আমদানি, বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: আল-জাজিরা
সুদানের পশ্চিম কর্দোফান রাজ্যে একটি স্বর্ণের খনি ধসে অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার আল-নুহুদ শহরের কাছে আল-জারা স্বর্ণের খনিতে পরপর কয়েকটি সংযুক্ত খনিশাফট ধসে পড়লে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। এতে বহু ক্ষুদ্র ও অনানুষ্ঠানিক খনি শ্রমিক নিহত হওয়ার পাশাপাশি অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। বুধবার কোরদোফান অবজারভেটরি নামের একটি পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠী এ তথ্য জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, দুর্ঘটনার পর বেশ কয়েকজন শ্রমিক মাটির নিচে আটকা থাকতে পারেন। তবে ঘটনাস্থলে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনও বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল পৌঁছায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা সাধারণ ও সীমিত সরঞ্জাম ব্যবহার করে ধসে পড়া বালুময় মাটি সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। রাতভর উদ্ধারকাজ চালানোর চেষ্টা দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া খনিশ্রমিক খাইর আল-সাইয়েদ জাবারা বুধবার এএফপিকে বলেন, তিনি ও তার সহকর্মীরা রাতভর নিজেদের হাতে থাকা সরঞ্জাম ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, ভারী যন্ত্রপাতি ছাড়া উদ্ধারকাজ চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ভাষায়, আর কতজন এখনও খনির ভেতরে আটকা পড়ে আছেন, তা তারা জানেন না। আরেক শ্রমিক আমিন সুলেইমান জানান, খনির শাফটগুলো একে অপরের খুব কাছাকাছি ছিল। একটি শাফট ধসে পড়ার সময় পাশের শাফটগুলোও ধসে যায়। এতে একসঙ্গে বড় অংশের খনি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং বহু শ্রমিক আটকা পড়েন। নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন দুর্ঘটনার পর খনিতে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, খনিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ও উদ্ধার সরঞ্জামের অভাবই এত বেশি প্রাণহানির অন্যতম কারণ হতে পারে। খার্তুমভিত্তিক চিকিৎসা সংগঠন সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংগঠনটি। সংগঠনটির অভিযোগ, খনিতে শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক ব্যবস্থা ছিল না। তাদের ভাষ্য, নিরাপত্তার ঘাটতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে শ্রমিকদের জীবন গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিল। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক আরও বলেছে, উদ্ধারকাজ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দ্রুত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। আরএসএফ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় খনি দুর্ঘটনা পশ্চিম কর্দোফান বর্তমানে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরএসএফের ভয়াবহ সংঘাত চলছে। যুদ্ধের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে পশ্চিম কর্দোফানসহ বিভিন্ন এলাকায় অনানুষ্ঠানিকভাবে স্বর্ণ উত্তোলনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্কের দাবি, আরএসএফ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় যথাযথ নিরাপত্তা মানদণ্ড, শ্রমিক সুরক্ষা এবং উদ্ধার সরঞ্জাম ছাড়া খনন কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় বেসামরিক মানুষের জীবন সরাসরি হুমকির মুখে পড়ছে। সংগঠনটি খনির ভেতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসা ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি যারা ওই এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে, তাদের অনিয়ন্ত্রিত ও নিরাপত্তাহীন খনন কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্বর্ণের ওপর নির্ভরশীল সুদানের যুদ্ধ অর্থনীতি সুদান আফ্রিকার অন্যতম প্রধান স্বর্ণ উৎপাদনকারী দেশ। দেশটির স্বর্ণের বড় একটি অংশই আসে অনানুষ্ঠানিক ও ঝুঁকিপূর্ণ খনি থেকে। অনেক ক্ষেত্রে পরিত্যক্ত, অনিবন্ধিত কিংবা যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া পরিচালিত স্থানে শ্রমিকরা স্বর্ণ উত্তোলন করেন। চলমান যুদ্ধের মধ্যে স্বর্ণ সুদানের অর্থনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে অবৈধ বা চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণ বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। ফলে নিরাপত্তাহীন পরিবেশে স্বর্ণ উত্তোলনের প্রবণতা আরও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। এতে শ্রমিকদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি উদ্ধারকাজেও তৈরি হচ্ছে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা। আল-জারা খনিতে সর্বশেষ দুর্ঘটনাটি সেই ঝুঁকিকেই আবার সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল ও ভারী যন্ত্রপাতির অনুপস্থিতিতে স্থানীয় মানুষই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা