সর্বশেষ

নির্বাচনী পরিবেশ রক্ষায় ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব সংগঠনের ভোট স্থগিত

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই দিনের গণভোটকে প্রভাবমুক্ত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত দেশের সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই সময়ের মধ্যে কোনো পেশাজীবী সংগঠনসহ অন্য কোনো সংগঠন নির্বাচনের আয়োজন করতে পারবে না।


নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এ সংক্রান্ত নির্দেশনা ইতোমধ্যে দেশের সব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে নির্বাচনকালীন সময়ে যেন কোনো ধরনের প্রভাব, বিভ্রান্তি বা প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।


ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, পেশাজীবী সংগঠনের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব ধরনের নির্বাচন, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সমিতি, সাংবাদিক সংগঠন, বণিক সমিতি, সমবায় সমিতি, ট্রেড ইউনিয়নসহ দেশের সব পর্যায়ের সংগঠনের নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর পর আয়োজন করতে হবে।
নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একযোগে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় অবস্থিত মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত সোয়া ৯টার দিকে হঠাৎ করে কেন্দ্রের একটি অংশে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। মহেশখালী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন সূত্র জানায়, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরে কাঁকড়া (ক্র্যাব) সংরক্ষণের ভাগাড়ে আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট একযোগে কাজ করছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদ্যুৎ কেন্দ্রসংলগ্ন একটি ব্রিজের ওপর অবস্থানকালে তারা হঠাৎ ভেতরে আগুন জ্বলতে দেখতে পান। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী মাতারবাড়ীতে নির্মিত এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। এটি একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনী পরিবেশ রক্ষায় ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব সংগঠনের ভোট স্থগিত

ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচন ডাকাতি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা দরকার : প্রধান উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

টুকুর হাত ধরে বিএনপিতে জাতীয় পার্টির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী

ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন: ১৮ বাংলাদেশিসহ ২০১ বিদেশি ফেরত

মালয়েশিয়ার পেকান নেনাস ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপো থেকে ১৮ জন বাংলাদেশিসহ মোট ২০১ জন অভিবাসীকে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, নতুন বছরের শুরুতেই বিদেশি বন্দিদের প্রত্যাবাসন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ফেরত পাঠানো ২০১ অভিবাসীর মধ্যে রয়েছে ১৬০ জন ইন্দোনেশিয়া, ১৮ জন বাংলাদেশ, ১৩ জন পাকিস্তান, ৪ জন কম্বোডিয়া, ৩ জন ভারত এবং ৩ জন সিঙ্গাপুরের নাগরিক। তাদের নিজ দেশে প্রেরণের জন্য কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (কেএলআইএ-১ ও কেএলআইএ-২) এবং স্টুলাং লাউট ফেরি টার্মিনাল ব্যবহার করা হয়েছে। ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, প্রত্যাবাসনের পর সকল অভিবাসী ব্ল্যাকলিস্ট করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা কোনো উদ্দেশ্যেই মালয়েশিয়ায় পুনঃপ্রবেশ করতে পারবেন না। পেকান নেনাস ডিপোর প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে বন্দি প্রত্যাবাসন অন্যতম। মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন নিয়মিত এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যাতে সাজা শেষ করা বন্দিরা দেশে অবৈধভাবে অবস্থান না করেন এবং ডিটেনশন ডিপোতে অতিরিক্ত বন্দির চাপ সৃষ্টি না হয়। বন্দিদের প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত সকল বিষয় ডিপোতে অবস্থিত নির্ধারিত সার্ভিস কাউন্টার থেকে করা সম্ভব, যেখানে কোনো অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ নেই এবং মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এছাড়া, প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য বা জিজ্ঞাসার জন্য ডিপোর রেকর্ডস ও ট্রান্সফার ইউনিটে (ফোন: ০৭-৬৯৯৩৫৪০) যোগাযোগ করা অথবা অনলাইন অনুসন্ধান সিস্টেম (এসপিও) ব্যবহার করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, দেশে অবৈধ অভিবাসন রোধ এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ও প্রত্যাবাসন কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

জামিনের প্রতিবাদে ট্রাইব্যুনাল ঘেরাও

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব তেল আমদানির নিয়ন্ত্রণে পাঁচ দেশ

ছবি : সংগৃহীত

এডিপি থেকে কমল ৩০ হাজার কোটি টাকা

ছবি : সংগৃহীত
মাইন বিস্ফোরণে যুবকের বাঁ পা বিচ্ছিন্ন, আতঙ্কে টেকনাফ সীমান্ত

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে মো. হানিফ (২৮) নামের এক যুবকের বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সোমবার (আজ) সকাল ১০টার দিকে নাফ নদী–সংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে উখিয়ার কুতুপালংয়ের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লম্বাবিল গ্রামের বাসিন্দা হানিফ সকালে নাফ নদীর তীরবর্তী ব্যক্তিমালিকানাধীন একটি চিংড়িঘেরে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর হঠাৎ বিকট শব্দে একটি স্থলমাইন বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় তাঁর বাঁ পা ঘটনাস্থলেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শব্দ শুনে ও আহতের চিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হানিফ ওই চিংড়িঘেরেই চাকরি করতেন। সকালে খামারে রাখা নৌকা ও অন্যান্য সরঞ্জাম ঠিক আছে কি না দেখার সময় পুঁতে রাখা স্থলমাইনের ওপর পা পড়লে বিস্ফোরণটি ঘটে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক খোকন কান্তি রুদ্র ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নাফ নদী–সংলগ্ন এলাকায় কাজ করার সময় স্থলমাইন বিস্ফোরণে ওই যুবকের বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। সীমান্তের পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকার একাধিক সূত্রের দাবি, রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি নাফ নদীর মধ্যভাগে জেগে ওঠা কয়েকটি চর ও সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ড এলাকায় নিষিদ্ধ স্থলমাইন পুঁতে রেখেছে। এর আগেও একই এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি জেলে ও স্থানীয়রা আহত হয়েছেন। এদিকে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় হোয়াইক্যংসহ সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নাফ নদীতে মাছ ধরা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকে জীবনের ঝুঁকি ভেবে নদী ও সীমান্ত এলাকা এড়িয়ে চলছেন। হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল জানান, গত কয়েক দিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত ওপার থেকে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ সময় ছোড়া গুলি, ড্রোন ও মর্টার শেলের অংশ বাংলাদেশ অংশের ঘরবাড়ি, চিংড়িঘের ও মাঠে এসে পড়ে। এতে এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রোববার সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত গোলাগুলির শব্দ না শোনা গেলেও পরিস্থিতি এখনো থমথমে। যেকোনো সময় আবার সংঘাত শুরু হতে পারে—এই আশঙ্কায় সীমান্ত এলাকার মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন, অনেকেই রাতে ঘুমাতে পারছেন না। বিজিবির কক্সবাজার সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, ওপারের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে। নাফ নদী ও সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং টহল কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সাধারণ মানুষকে না যেতে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর টেকনাফ সীমান্তে স্থলমাইন ও গোলাগুলির ঝুঁকি নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পেলেন হিরো আলম

ছবি : সংগৃহীত

ভোটের মাঠে সাড়ে পাঁচ লাখ আনসার-ভিডিপি সদস্যের দায়িত্ব পালন

ছবি : সংগৃহীত

সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ

0 Comments