চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন থেকে এক প্রটোকল অফিসারের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর খুলশী এলাকায় ওই কার্যালয় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। প্রটোকল অফিসারের নাম নরেন ধর (৩৮)। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের প্রটোকল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার আমিনুর রশিদ (মিডিয়া ও জনসংযোগ) বলেন, নরেন ধর ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের প্রটোকল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থলে সন্দেহজনক কোনো আলামত পাওয়া গেছে কি না—এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ফেনীর সোনাগাজীতে একটি আম বাগানে চাষ হয়েছে প্রায় ১০২ জাতের আম। গাছে গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে বিভিন্ন প্রজাতির আম। ফেনী নদীর তীরবর্তী মুহুরী সেচ প্রকল্প এলাকায় ৬৫ একর জমির খামারে চাষ হয়েছে এসব আম। সোনাগাজী সোয়াস এগ্রো কমপ্লেক্সে নামে এ খামারে ৬ হাজার গাছের এই আমের বাগান। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. সোলায়মান এ খামারের মালিক। তিনি বলেন, বিদেশে না গিয়ে আম চাষ করেও দেশের যুবকরা স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। শুধু আমের মৌসুমে নয়, ১২ মাসই আম পাওয়া যায় এ বাগানে। আম কিনতে প্রতিদিন জেলা শহর ও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষরা ছুটে আসেন এ বাগানে। কৃষি বিপ্লবের এ সাফল্য কেবল উদ্যোক্তার জীবন বদলায়নি, দেখিয়েছে নতুন প্রজন্মের সামনে স্বাবলম্বী হওয়ার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, নওগাঁসহ দেশের সব অঞ্চলের আম রয়েছে এ বাগানে। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, ভারত, ভুটান, চীনসহ বিদেশি বাহারি নানা স্বাদের আমও রয়েছে এখানে। সব মিলিয়ে ১০২ জাতের আম মিলছে এই আম বাগানে। মো. সোলায়মান ১৯৮৬ সালে সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে অবসরে যান। এরপর দেশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে আম, মৎস্য চাষ, গবাদিপশু পালন, মধু, সরিষা উৎপাদন ও নার্সারি তৈরির বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পরে ১৯৯২ সালে তিন লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে পারিবারিক জমিতে খামার প্রতিষ্ঠা করেন। সেনাবাহিনী থেকে অবসরে এসে কৃষিতে শ্রম ও মেধা দিয়ে তিনি সফল হয়েছেন। নিজে শ্রমিকদের সঙ্গে বাগান ও খামার পরিচর্যার কাজ করেন বলে বৃদ্ধ বয়সেও সুস্থ, সবল আছেন। কৃষিতে সময় দিলে কৃষি ভালো ফল দেয় এমনটাই দাবি তার। চলতি মৌসুমে এ বাগান থেকে ৯০-১০০ টন আম উৎপাদন হবে বলে তিনি জানান। সাধারণ জাতের আমগুলো প্রতি কেজি ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হয়। ব্যানানাসহ কয়েকটি জাতের আম বিক্রি হয় প্রতি কেজি ১৫০ টাকায়। খামারের মালিক মেজর (অব.) সোলায়মান বলেন, এসব আম বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে হয় না। খামারে এসেই ক্রেতারা কিনে নিয়ে যান। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কিছু ক্রেতা রয়েছেন যারা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আম সংগ্রহ করেন। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা পাঠিয়ে দেওয়ার পরে ঠিকানায় পৌঁছে যায় অর্ডার করা আম। সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা জানান, বাগানে কীটনাশক বা রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন না। কেবল আমের মুকুল আসার দুই মাস আগে একবার কীটনাশক ছিটানো হয়। আর সারা বছর ব্যবহার করেন জৈবসার। বাগানে স্থায়ী কর্মচারীর সংখ্যা ২৫ জন। আর দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে আছেন আরও ১০ জন। তারাই বাগান পরিচর্যা করেন, ফল তোলেন এবং বিপণন করেন। তিনি জানান, এ খামারটির শুরু করেছিলেন মাত্র ৬ একর জমিতে। বাড়তে বাড়তে এখন সেটি ৬৫ একরের সমন্বিত খামার। চট্টগ্রামের মীরসরাই থেকে আসা ক্রেতা বেলাল হোসেন বলেন, এ খামারের আমগুলো পোকা ও ফরমালিনমুক্ত। তাই আমার সন্তানদের খাওয়াতে কিনতে এসেছি। খামার ম্যানেজার সাবেক সেনা সদস্য হেলাল হোসেন বলেন, সম্পূর্ণ জৈবিক পদ্ধতিতে চাষকৃত আম বাজারজাত করা হচ্ছে। ফরমালিনমুক্ত আমগুলো খামারেই প্রচুর বিক্রি হচ্ছে। খামার কর্মচারী মো. নাহিদ বলেন, এ খামারে প্রতিদিন ৮০-১০০ কেজি আম বিক্রি হচ্ছে। খামার থেকেই ক্রেতারা আম সংগ্রহ করছেন। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হানিফ বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতায় এ খামারে জৈবিক ও ব্যাগিং পদ্ধতিসহ না প্রক্রিয়ায় আম উৎপাদন করা হয়েছে। আগামীতে এ খামারের আম বিদেশে রপ্তানি করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ফেনীর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আতিক উল্যাহ বলেন, সোয়াস এগ্রোতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগ দুটি প্রদর্শনী প্লটে ভাগ করা হয়েছে। এবারের মৌসুমে ১শ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ খামার থেকে উৎপাদিত আম বিদেশে রপ্তানির প্রক্রিয়া হাতে নেওয়া হয়েছে।
পারোমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও স্মার্ট করার জন্য ওয়ার্কিং পেপার তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। সোমবার (৮ জুন) সকালে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন সঞ্চালন ও বিতরণ সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কোম্পানির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভায় দেশের বিদ্যমান বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা, এর দুর্বলতা, স্মার্ট গ্রিডের প্রয়োজনীয়তা এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎ চালুর ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ ও প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মন্ত্রী বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশের আগে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে তা মোকাবিলায় এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। এ লক্ষ্যে একটি ন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টার স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন। তিনি জানান, উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার আগেই সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থাকে উপযোগী করতে হবে। এ জন্য বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি লিমিটেডকে (পিজিসিবি) প্রয়োজনীয় স্টাডি করে একটি কনসেপ্ট পেপার তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে বিদেশি অভিজ্ঞ কনসালট্যান্টদের মাধ্যমে এটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আপগ্রেডেশন পরিকল্পনা নেওয়া হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসনির্ভরতা থেকে ধীরে ধীরে কয়লা ও সৌরবিদ্যুতের দিকে অগ্রসর হওয়া হয়েছে, এখন লক্ষ্য পারমাণবিক বিদ্যুৎ। তবে এর জন্য ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন লাইনকে সমন্বিত ও স্মার্টভাবে পরিচালনা করা অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে সিস্টেম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন। তিনি জানান, স্মার্ট গ্রিড ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য একটি বিস্তারিত কনসেপ্ট ও ওয়ার্কিং পেপার প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত এ বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা জমা দেবেন বলে সভায় জানানো হয়। মন্ত্রী বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি জটিল ও উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর। তাই জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় তিনি বিদ্যুৎ খাতে অনাবশ্যক প্রকল্পগুলো ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে জানিয়ে বলেন, এসব প্রকল্পের পেছনে কারা দায়ী তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সভা শেষে তিনি বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে সবাইকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। সভায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম, পিজিসিবির প্রধান প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল ইসলাম বিদ্যুৎ খাতের সক্ষমতা, চ্যালেঞ্জ ও উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। সভায় বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ উপস্থিত ছিলেন।
দেশের ভোগ্যপণ্যের বৃহৎ পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ। ব্যবসাবাণিজ্যের এই প্রধান কেন্দ্রে একসময় দিনরাত একাকার হয়ে যেত ট্রাকের হর্ন, কুলি-মজুরের হাঁকডাক আর ডিও হাতবদলের কোটি টাকার খেলায়। কিন্তু আজ সেই চেনা কোলাহলে কিছুটা ভাটার টান। ইউক্রেনের গমের মাঠ কিংবা লোহিত সাগরের বাণিজ্যিক জাহাজে পড়া বোমার আওয়াজ হাজার মাইল দূরের এই খাতুনগঞ্জের সরু গলিতেও প্রবল ভূকম্পন তৈরি করেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ডলারের দর ওঠানামা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপে পিষ্ট খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা। তবে নানান বাধায় খাদের কিনারা থেকে খড়কুটো আঁকড়ে ধরে কৌশল বদল করে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন এখানকার লড়াকু ব্যবসায়ীরা। দেশের ভোগ্যপণ্যের বৃহৎ বাজার খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সহসম্পাদক রেজাউল করিম আজাদ বলেন, খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের বাঁচাতে হলে এখন সরকারের কার্যকর ‘পলিসি সাপোর্ট’ প্রণয়ন করতে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এলসি খোলার ক্ষেত্রে ডলারের একটি স্থিতিশীল রেট নিশ্চিত করার পাশাপাশি এলসি মার্জিন সহজ, বার্ষিক চাহিদার বিপরীতে পণ্য আমদানি অনুমতি (আইপি) দেওয়াসহ আমদানি সহজ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, একের পর এক ধাক্কার কারণে খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের অবস্থা খুবই নাজুক। ব্যবসায়ীরা এখন টিকে থাকার সংগ্রাম করছেন। ব্যবসায়ীরা ‘রক্ষণশীল পদ্ধতি’ অবলম্বন করে ডিও এবং বাকিতে বিক্রি কমিয়ে দিয়েছেন। লোকসান এড়াতে অতিক্তি মজুত থেকে বের হয়ে প্রয়োজনভিত্তিক পণ্য আমদানি করছেন। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, দেশের বৃহৎ এ বাজারের আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা বর্তমানে নানামুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রথম ধাক্কাটি এসেছে। এ যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে গম, ভোজ্য তেল (সরিষা ও সূর্যমুখী), ডাল এবং মসলাজাতীয় পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারদরে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। বিকল্প বাজার থেকে পণ্য আনতে গিয়ে আমদানিকারকদের গুনতে হয়েছে বাড়তি অর্থ। সেই ধাক্কা পুরোপুরি সামলে ওঠার আগেই নতুন করে শুরু হয় মধ্যপ্রাচ্যের সংকট। সঙ্গে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার কারণে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো বাধ্য হয়ে তাদের রুট পরিবর্তন করছে। এতে পণ্য পৌঁছানোর সময় ১৫ থেকে ২৫ দিন বেড়ে গেছে। সঙ্গে জাহাজ ভাড়া এবং ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম বেড়েছে কয়েক গুণ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই বাড়তি খরচের পুরো দায়ভার এসে পড়ছে খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের কাঁধে, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে টাকার বিপরীতে ডলারের দামের ওঠানামা। একই সঙ্গে কিছু কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ মার্জিন দিয়ে এলসি করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এতে ব্যবসায়ীদের পুঁজি বা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল আটকে যাচ্ছে। বাড়তি মূলধনের জোগান দিতে গিয়ে ব্যাংক ঋণের সুদের চাপ বাড়ছে। ফলে ছোট ও মাঝারি আমদানিকারকরা অনেকেই বাজার থেকে ছিটকে পড়ছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক ও দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি। তবে এত সব প্রতিকূলতা ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার পরও খাতুনগঞ্জ-চাক্তাইয়ের ব্যবসায়ীরা হাল ছাড়তে রাজি নন। এখানকার ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজস্ব কিছু কৌশল অবলম্বন করে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। ঝুঁকি কমাতে তারা এখন আগের মতো বাকিতে পণ্য বিক্রি অনেকাংশেই কমিয়ে এনেছেন। লোকসান এড়াতে অতিরিক্ত মজুত করার প্রবণতা থেকে সরে এসে ‘প্রয়োজনভিত্তিক’ পণ্য আমদানির দিকে ঝুঁকছেন। এ ছাড়া আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে অনেকেই দেশীয় উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও কনজ্যুমার গুডসের দিকে ব্যবসা সম্প্রসারণ করছেন।