সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের ৪০টি গ্রামে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রায় আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন পীর মাওলানা আরিফ চৌধুরী।
একই দিন সকাল ৯টায় সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাঁরা পশু কোরবানি করেন।
১৯২৮ সালে সাদ্রা দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইসহাক চৌধুরী সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে প্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালনের প্রথা চালু করেন। তখন থেকেই এই রেওয়াজ অনুসরণ করছেন চাঁদপুরের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা।
সাদ্রা পীর মাওলানা আরিফ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সারা বিশ্বের সঙ্গে মিল রেখে প্রথম চন্দ্রদর্শনের ভিত্তিতে ঈদ উদযাপন করি। একদিন আগেই ঈদ করি, এ কথাটি সঠিক নয়। বাংলাদেশ সরকারের ঘোষণা না থাকার কারণে মানুষ একসঙ্গে করতে পারছে না। আমরা বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের সঙ্গে আজ ঈদ উদযাপন করছি। বাংলাদেশের জনগণ ধীরে ধীরে বিষয়টি বুঝতে পারছে। সে কারণে ঈদের জামাত দিন দিন বাড়ছে।’
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ এবং মতলব উত্তর উপজেলার অন্তর্গত অর্ধশতাধিক গ্রামে আজ ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাদ্রা, বলাখাল, অলিপুর, সমেশপুর, প্রতাপপুর, মনিহার, বাসারা, লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, ভুলাচোঁ, সোনাচোঁ, উটতলি, কাইতাড়া, বদরপুর, মুন্সিরহাট, শোল্লা, গোবিন্দপুর, মোহনপুর, দশানী, পাঁচানীসহ আরও অনেক গ্রাম।
এসব গ্রামে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় ও পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে ধর্মীয় আবহে উদযাপন করা হচ্ছে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান এ ধর্মীয় উৎসব।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ঈদে ঘরেফেরা মানুষের চাপে গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতুতে ৫৬ হাজারেরও বেশি যানবাহন চলাচল করেছে। টোল আদায় হয়েছে পৌনে ৪ কোটি টাকা। এদিকে যমুনা সেতু পূর্বপারে যানজট থাকলেও পশ্চিমে এসেই স্বাভাবিক গতিতে চলছে গাড়িগুলো। বুধবার (২৭ মে) সকালে যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার (২৬ মে) দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৫৬ হাজার ২৩৯টি যানবাহন চলাচল করেছে। বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৭৫ লাখ ৯৮ হাজার ৬০০ টাকা। এর মধ্যে সেতুর পূর্ব টোলপ্লাজায় (উত্তরবঙ্গগামী লেন) ৩৬ হাজার ৪২৬টি যানবাহনের বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ১৭ লাখ ১৯ হাজার ৪৫০ টাকা। অপরদিকে পশ্চিম টোলপ্লাজায় ১৯ হাজার ৮১৩টি যানবাহনের বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৫৮ লাখ ৭৯ হাজার ১৫০ টাকা। সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, যানবাহনের চাপ সামলাতে নিয়মিত ১৪টি বুথের সঙ্গে আরও ৪টি অতিরিক্ত বুথ চালু করা হয়েছে। এদিকে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে গণপরিবহন ছাড়াও ট্রাক, পিকআপ, মোটর সাইকেলযোগে ঘরে ফিরছে হাজার হাজার মানুষ। বিপুল সংখ্যক যানবাহন চলাচল করলেও যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কসহ সিরাজগেঞ্জের কোনো রুটে যানজট ছিল না।
রাজধানীতে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ। মঙ্গলবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন এ তথ্য জানান। গ্রেপ্তার ব্যক্তরো হলেন- মো. শরীফুল ইসলাম ওরফে রনি (৩৮), উম্মে খুলসুম রানী, মো. রাব্বি (২৫), মো. জনি গাজী (২৪), মো. শাকিল (২৩), মো. সাগর, মো. বাদশা মিয়া, মো. জুয়েল, কৃষ্ণচন্দ্র, মো. শাকিল (১০), মো. সজল ভূঞা (২২), মো. এরশাদ হোসেন (২৬), মো. বাপ্পী (২০), মো. আব্দুর রহিম রাজীব (২১), মো. সোহেল মিয়া (১৯), মো. আফছার মোল্লা (২৪), মো. মহসিন (২৫), মনজুর এলাহি সজীব (৪২), মিরাজ হোসেন (২০), মো. রাকিবুল ইসলাম (২৮), মো. রবিন ইসলাম আলিফ (২০), মো. ফাহাদ হোসেন (৩২), মো. জাহাঙ্গীর (২০), মো. মাসুদ খান রনি (৩০), মো. সোহেল (২৬), মো. মিলন (২২), মো. সুমন মিয়া (৪৫), মো. জয়নাল আবেদিন (৪৪), মো. ফজলে রাব্বী (৩৬), আ. মজিদ (২৩), মো. সুমন (৪২) ও মো. টোকেন মিয়া ওরফে মো. রোকেন মোল্যা (২৮)। ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের বরাত দিয়ে এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে তেজগাঁও থানা এলাকায় ২ জন, শেরেবাংলানগর থানা এলাকায় ২ জন, মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় ১৪ জন, আদাবর থানা এলাকায় ৮ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকায় ৪ জন এবং হাতিরঝিল থানা এলাকায় ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে একটি অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম (ওআইএসএস) স্থাপন করা হয়েছে। এই অত্যাধুনিক ব্যবস্থাটি রাশিয়া প্রথমবারের মতো নিজ দেশের বাইরে বাস্তবায়ন করেছে। রোসাটম অটোমেটেড কন্ট্রোল সিস্টেমস (আরএএসইউ) বর্তমানে কমিশনিংয়ের অধীনে থাকা ইউনিট ১-এর ইন্সট্রুমেন্টেশন অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেমে সফলভাবে ওআইএসএস যুক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাছান ‘স্মার্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট’ সিস্টেম স্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। উন্নত ডিজিটাল সহায়তা ব্যবস্থার প্রয়োগ বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপদ ও কার্যকর পরিচালনার জন্য বিশ্বমানের প্রযুক্তি গ্রহণের অঙ্গীকারকে তুলে ধরে। এদিকে রোসাটমের মিডিয়া উইং থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওআইএসএস প্ল্যান্ট অপারেটরদের জন্য একটি ‘স্মার্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট’ হিসেবে কাজ করে। এটি হাজার হাজার অপারেশনাল প্যারামিটারের রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করতে সক্ষম করে। এই সিস্টেম তথ্যের ভিজ্যুয়ালাইজেশন উন্নত করে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে এবং অপারেশনাল দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে সাহায্য করে। এ প্রসঙ্গে আরএএসইউর সিইও আন্দ্রেই বুটকো বলেন, অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেমটি কর্মীদেরকে রিয়েল টাইমে পাওয়ার ইউনিটের অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করতে সহায়তা করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। তথ্য প্রক্রিয়াকরণকে অপ্টিমাইজ করে এবং অপারেটরের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করার মাধ্যমে, এই সিস্টেমটি পরিচালনগত দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবির হোসেন বাংলাদেশের জ্বালানি ভবিষ্যতের জন্য এই উদ্যোগটির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের জন্য একটি যুগান্তকারী প্রকল্প। আধুনিক রিয়্যাক্টর প্রযুক্তির পাশাপাশি ওআইএসএসর মতো উন্নত ডিজিটাল সমাধানের সংযোজন একটি শক্তিশালী পরিচালন সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় এবং প্ল্যান্ট কর্মীদের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করবে। এই সিস্টেমটি শুধুমাত্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অনুমোদিত কর্মীদের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে। জানা গেছে, ওআইএসএস সর্বপ্রথম রাশিয়ার নোভোভোরোনেঝ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং দেশটির অন্যতম উন্নত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কুর্স্ক এনপিপি-২-এ এটি ইতোমধ্যে চালু করা হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রাশিয়ার নকশাকৃত দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর রয়েছে, যেগুলোর সম্মিলিত ক্ষমতা ২,৪০০ মেগাওয়াট। তৃতীয় প্রজন্মের+ ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর প্রযুক্তি সমস্ত আধুনিক আন্তর্জাতিক সুরক্ষা মান পূরণ করে। এটি ইতোমধ্যে রাশিয়া ও বেলারুশে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। রোসাটম মিশর, হাঙ্গেরি, তুরস্ক, চীন এবং কাজাখস্তানেও অনুরূপ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।