রাজধানীতে এআইভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর পর এবার সেই প্রযুক্তিকেই ব্যবহার করা হচ্ছে প্রতারণার নতুন ফাঁদ হিসেবে। বিআরটিএ ও ট্রাফিক পুলিশের নামে ভুয়া মামলা ও জরিমানার এসএমএস পাঠিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যাংক কার্ডের তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এমনকি যাদের কোনো গাড়ি বা মোটরসাইকেলই নেই, তাদের কাছেও পাঠানো হচ্ছে ‘স্পিডিং ফাইন’ সংক্রান্ত বার্তা। এ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে বিআরটিএ, ডিএমপি ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
বেসরকারি চাকরিজীবী মাহফুজ পলাশ থাকেন ঢাকার মিরপুরে। গত দুইদিন আগে তার ফোনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষর নামে একটি বার্তা আসে। সেখানে বলা হয়, তার গাড়িটি নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘন করা তাকে বিআরটিএ’র পক্ষ থেকে জরিমানা করা হয়েছে। এই জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করা হলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সেই ম্যাসেজটিতে জানানো হয়।
মাহফুজ পলাশ বলেন, আমি দীর্ঘদিন ঢাকা শহরে নিজেই গাড়ি চালাই। ট্রাফিক আইন সম্পর্কে আমার যথেষ্ট ধারণা রয়েছে। আমার কাছে এরকম ম্যাসেজ আসার কোন কারণ নাই, সেটি আমি নিশ্চিত।
সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার রাস্তায় ট্রাফিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে বিভিন্ন স্থানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই-ভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারি ও স্বয়ংক্রিয় মামলা ব্যবস্থা চালু হয়েছে। গাড়ি বা কোনো যানবাহন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়ে যাচ্ছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে।
পলাশ বলছিলেন, তার কাছে যেই ম্যাসেজটি এসেছে সোমবার রাতে সেটি তার পরিচিত আরও কয়েকজনের কাছে দুয়েক দিন আগেই ঠিক একই ধরনের ম্যাসেজ এসেছে। তাদের কেউ কেউ বিষয়টিকে সত্যি ভেবে প্রতারিতও হয়েছেন।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যাদের গাড়ি বা যানবাহন রয়েছে, তাদের কাছেই এই ধরনের ম্যাসেজ আসছে। তবে, এমনও কেউ কেউ জানিয়েছেন যে, তাদের কোনো গাড়ি, মোটরসাইকেল বা কোনো ধরনের যানবাহন না থাকার পরও এই ধরনের ম্যাসেজ আসছে। গত কয়েকদিনে অনেকের কাছেই এই ধরনের ম্যাসেজ আসার পর এ নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং বিআরটিএ’র পক্ষ থেকে আলাদা বিবৃতি দিয়ে সতর্ক বার্তাও পাঠানো হয়েছে।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার আনিসুর রহমান বলেছেন, এই ধরনের ম্যাসেজ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তাদের কাছে গত কয়েকদিনে বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টে এআই প্রযুক্তি নতুন চালু হওয়ার কারণে এই বিষয়টিকে প্রতারণার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মূলত ক্রেডিট ও ডেভিড কার্ডের তথ্য সংগ্রহ করতেই এই ধরনের কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। যে কারণে, এই ধরনের ম্যাসেজগুলো আসলে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও পুলিশ।
মাহফুজ পলাশের মতো গণমাধ্যমকর্মী ফৌজিয়া সুলতানার কাছেও এমন একটি ম্যাসেজ এসেছে। যদিও মিজ সুলতানার নিজের কোন গাড়ি নেই। কিন্তু তারপরও তার কাছে মামলার তথ্য জানিয়ে একটি এসএমএস পাঠানো হয়েছে। যে ম্যাসেজের শুরুতেই লেখা হয়েছে ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ ট্রাফিক জরিমানার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি বিজ্ঞপ্তি’। এরপরই এতে লেখা ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের একটি নম্বর ও তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে বিস্তারিত লেখায় বলা হয়েছে- ‘আপনার ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের রেকর্ডটি জাতীয় ড্রাইভিং লাইসেন্স ও যানবাহন নিবন্ধন পরিষেবাতে জমা দেওয়া হয়েছে। স্বয়ংক্রিয় অনুস্মারক পাঠানোর পরেও আমরা আপনার অর্থ পরিশোধ বা আপিল না পাওয়ায়, আপনাকে এতদ্বারা জানানো হচ্ছে যে, সড়ক ট্রাফিক আইনের সর্বশেষ সংস্করণ অনুযায়ী, বকেয়া পরিশোধের ফলে নিম্নলিখিত পরিণতি হতে পারে: ‘জরিমানা বৃদ্ধি: সড়ক ট্রাফিক আইনের ৫২ নং ধারার ৩ নং উপধারা অনুযায়ী, বকেয়া পরিশোধের ফলে জরিমানা ২০০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে’।
এরপরেই বলা হয়েছে- তারা বকেয়া পরিশোধে সময়কাল ৩০ দিনের বেশি হলে মামলাটি নিম্ন আদালতে স্থানান্তর করবে। তখন আদালত আইন অনুযায়ী আইন প্রয়োগমূলক ব্যবস্থা (জরিমানা বা যানবাহন বাজেয়াপ্তকরণ) গ্রহণ করবে।
এই ম্যাসেজটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে ভিডিও সার্ভিলেন্স ক্যামেরার নম্বরও ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই সাথে ওয়েবসাইটের একটি অ্যাড্রেসও দেওয়া হচ্ছে যেটি দেখতে অনেকটা সরকারি ওয়েবসাইটের মতোই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক বি এম মঈনুল হোসেন বলেন, এই তথ্যগুলো এমনভাবে আপনাকে সরবারহ করা হয় তাতে যে কারো কাছে গেলে শুরুতেই তার কাছে বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়। ওই ম্যাসেজের শেষ অংশে জরিমানা দেওয়ার জন্য একটি লিংকও পাঠানো হচ্ছে। মিজ সুলতানার কাছে যে ম্যাসেজটি পাঠানো হয়েছে সেখানেও অর্থ পরিশোধের জন্য একটি অ্যাড্রেসও পাঠানো হয়েছে।
রাসেল আহমেদ নামে একজন ব্যাংকে চাকরিজীবী জানাচ্ছিলেন, এমন একটি ম্যাসেজ পেয়ে তিনি সেটিকে সত্যি মনে করে ম্যাসেজে দেওয়া লিংকে প্রবেশ করেছিলেন। পরে সেখানে গাড়ির নম্বর দেওয়ার পর তাকে বলা হয় তার জরিমানার পরিমাণ হয়েছে তিন হাজার টাকা। আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করলে দেওয়া হবে ৫০ শতাংশ ডিসকাউন্ট। অর্থাৎ সেক্ষেত্রে দিতে হবে ১৫০০ টাকা।
এ ধরনের ম্যাসেজ আসলে কী করবেন?
বিআরটিএর নাম ব্যবহার করে যেই ম্যাসেজগুলোতে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে পাঠানো হচ্ছে সেখানে কোন নাম ব্যবহার করা হচ্ছে না। ম্যাসেজগুলো পাঠানো হচ্ছে +৬৩ কোডযুক্ত বিভিন্ন নম্বর থেকে। তথ্য বলছে, +৬৩ একটি আন্তর্জাতিক কোড, যা ফিলিপাইনের কান্ট্রিকোড।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুয়া মামলা ও জরিমানার তথ্য পাঠানোর মেসেজের সঙ্গে যে ওয়েবসাইটের লিংক দেওয়া হয়েছে, তার সাথে বিআরটিএ এর মিল পাওয়া যায়নি। কারণ, বিআরটিএ বা সরকারি যেকোনো ওয়েবসাইটের শেষে .gov.bd এমন লেখা থাকে। কিন্তু এসব মেসেজে তা ছিল না।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আরিফ মঈনুদ্দীন বলেন, ‘এসএমএসর মতো ওই ম্যাসেজেই আরেকটি ভুয়া লিংক দেওয়া থাকছে। এটাকে বলা হয় ‘ফিশিং সাইট’।
বিশেষজ্ঞরা বলছিলেন, সাধারণত সরকারি যে ওয়েবসাইটগুলো সেগুলোতে ওয়েবসাইট অ্যাড্রেসের সাথে .gov.bd লেখা থাকে। কিন্তু বর্তমানে যে ম্যাসেজগুলো পাঠানো হচ্ছে সেখানে সেটি নেই।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মি. মঈনুদ্দীন বলছিলেন, এসএমএস এ দেওয়া লিংকে ক্লিক করলে সেখানে ওই ব্যক্তির নাম, তথ্য ও ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের তথ্য দিতে হচ্ছে। ‘এই চক্রটি কার্ডের নম্বরের পাশাপাশি কার্ডের পেছনে থাকা সিভিভি নম্বরও নিয়ে নেয়। কোন গ্রাহক যদি কার্ডের সিভিভি নম্বর তাদেরকে সরবারহ করে থাকে, তখন কোন ধরনের পণ্য কেনাকাটায় পাসওয়ার্ড প্রয়োজন হয় না’, যোগ করেন তিনি।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রক্রিয়ায় ম্যাসেজে দেওয়া ফিশিং লিংক যুক্ত করে গ্রাহকের ব্যাংক কার্ডের তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে সাইবার প্রতারকচক্র।
অধ্যাপক বিএম মঈনুল হোসেন বলছিলেন, ‘এই চক্র প্রথমে ম্যাসেজ দিয়ে যে কারো মধ্যে অস্থিরতা তৈরি করবে। এ ধরনের ম্যাসেজ পেয়ে অনেকে উদগ্রীব হয়ে লিংকে ঢুকে পড়েন। পরবর্তীকালে অনেকেই ক্লিক করে প্রতারণার শিকার হয়ে থাকেন’। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলছিলেন, প্রতারক চক্র ধরুন এক হাজার মানুষের কাছে এমন লিংক পাঠালো, সেখান থেকে ১০ জনও যদি লিংকে ক্লিক করে তথ্য দেয় তাহলেও প্রতারক চক্র সফল।
এই দুই প্রযুক্তিবিদই বলছিলেন, কোন অপরিচিত নম্বর থেকে যদি এই ধরনের কোন ম্যাসেজ আসে তাহলে সেগুলোতে কোনভাবেই ক্লিক করা যাবে না। ক্লিক করলে ‘ফিশিং অ্যাটাকের’ শিকার হতে হবে।
বিআরটিএ ও পুলিশের সতর্ক বার্তা
গত তিন চারদিনে অনেকের কাছে এই ধরনের এসএমএস আসতে শুরু করে। এবং যাদের গাড়িই নেই এমন ব্যক্তিদের কাছেও এই ম্যাসেজ আসছিলো। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার বিআরটিএ এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে সতর্ক করে একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে।
বিআরটিএ জানিয়েছে, ‘একটি অসাধু চক্র বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে স্পিডিং ফাইন বকেয়া রয়েছে, দ্রুত পরিশোধ করুন বা আপনার বকেয়া জরিমানা আছে এ ধরনের বার্তা পাঠাচ্ছে। এসব বার্তার সঙ্গে বিভিন্ন ভুয়া ওয়েবসাইটের লিংকও দেওয়া হচ্ছে, যা বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল (বিএসপি)-এর আদলে তৈরি করা হয়েছে। এসব ভুয়া ওয়েবসাইট বা পোর্টালের সঙ্গে অফিসিয়াল বিএসপি ওয়েবসাইটের কোনো সম্পর্ক নেই। এগুলো সম্পূর্ণ প্রতারণামূলক কার্যক্রম’। এই বার্তায় ‘সাধারণ মানুষকে এ ধরনের বার্তার লিংকে ক্লিক না করা, ব্যক্তিগত তথ্য বা আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ডিএমপির পক্ষ থেকে এই ধরনের ম্যাসেজকে ভুয়া আখ্যা দিয়ে এই ধরনের কোনো এসএমএসের সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই’।
এতে ডিএমপি জানায়, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুযায়ী কোনো যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হলে, সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষরযুক্ত একটি চিঠি চালক বা মালিকের নির্দিষ্ট ঠিকানায় পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া, বিশেষ প্রয়োজনে ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র ০১৩২০-০৪২২০৭ এবং ০১৩২০-০৪২২২৭ নম্বর থেকে এসএমএস পাঠানো হতে পারে'।
ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের ডিসি এনএম নাসিরুদ্দিন বলেন, ‘গত কয়েকদিনে আমরা এমন অভিযোগের কথা শুনে আসছি। যদি কেউ এ ধরনের ম্যাসেজে প্রতারিত হয়ে থাকেন তাদের উচিত পুলিশের কাছে সহযোগিতা চাওয়া’।
পুলিশ বলছে, ম্যাসেজটি বিআরটিএর নাম ব্যবহার করেছে। তবে বিআরটিএ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশকে। যে কারণে পুলিশও উদ্যোগী হয়ে কোন আইনি পদক্ষেপ নিতে পারছে না।
সূত্র : বিবিসি বাংলা
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে না গণপরিবহনগুলো এবং মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মঙ্গলবার (২৬ মে) রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। শেখ রবিউল আলম বলেন, যাত্রীর তুলনায় পরিবহনের সংখ্যা কম থাকায় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ ছাড়া অনেক যাত্রীর চলন্ত গাড়িতে ওঠার প্রবণতার কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যাত্রীদের হ্যাবিট আছে যে তারা চলন্ত পথে গাড়িতে উঠতে চান। কোনো যাত্রী সচেতন হয়ে অভিযোগ করলে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। সড়কের ওপর পশুর হাট বসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিছু হাটে পশু ও মানুষের চাপ বেশি হওয়ায় সড়ক পর্যন্ত হাট ছড়িয়ে পড়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের পশু বিক্রি ও ঈদযাত্রা, এই দুটোই নিরাপদ করতে হবে। দুর্ঘটনা রোধে সরকারের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ’ একইসঙ্গে যাত্রীদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘কিছু যাত্রী জীবনের নিরাপত্তার কথা ভাবছেন না। তবে যেকোনো বারের চেয়ে স্বস্তিতে ও নির্দিষ্ট ভাড়ায় মানুষ বাড়ি যাচ্ছে।’
পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেছেন বাংলাদেশি পর্বতারোহী নুরুন্নাহার নিম্নি। মঙ্গলবার (২৭ মে) নেপাল সময় ভোর ৫টা ২৪ মিনিটে এভারেস্টের চূড়ায় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা ওড়ান তিনি। বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব (বিএমটিসি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের তৃতীয় নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় করলেন নুরুন্নাহার নিম্নি। এর আগে ২০১২ সালের ১৯ মে প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন নিশাত মজুমদার। একই বছরের ২৬ মে শিখরে ওঠেন ওয়াসফিয়া নাজরীন। দীর্ঘ ১৪ বছর পর আবারও কোনো বাংলাদেশি নারী এভারেস্টের চূড়ায় উঠলেন। গত ১১ এপ্রিল ঢাকা থেকে নেপালে যান নিম্নি। কাঠমান্ডু ও লুকলা হয়ে পৌঁছান এভারেস্ট বেজক্যাম্পে। সেখানে ধাপে ধাপে অতিউচ্চতার পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেন তিনি। সাধারণত মে মাসের ১৫ থেকে ৩০ তারিখকে এভারেস্ট সামিটের উপযুক্ত সময় হিসেবে ধরা হয়। গত ১৭ মে চূড়ান্ত অভিযানের জন্য বেজক্যাম্প ত্যাগ করেন নিম্নি। ২৩ মে পৌঁছান ক্যাম্প-৪ এ। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সেদিন শিখরের উদ্দেশে রওনা দিয়েও ফিরে আসতে বাধ্য হন। পরে কয়েকদিন ক্যাম্প-২ এ অবস্থান করে অনুকূল আবহাওয়ার অপেক্ষা করেন তিনি। ২৫ মে আবহাওয়া অনুকূলে এলে আবারও যাত্রা শুরু করেন নিম্নি। সোমবার ক্যাম্প-৪ এ পৌঁছে সন্ধ্যায় শুরু করেন চূড়ান্ত আরোহণ। অবশেষে মঙ্গলবার ভোরে এভারেস্টের শিখরে পৌঁছে সফলভাবে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ান তিনি। অভিযানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন নেপালের এইটকে এক্সপেডিশনের এক শেরপা। বর্তমানে পূবালী ব্যাংক পিএলসির জেনারেল ব্যাংকিং বিভাগে প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত নুরুন্নাহার নিম্নি। তার এই অভিযানের স্পনসরও ছিল প্রতিষ্ঠানটি। রংপুরে বেড়ে ওঠা নিম্নি পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে। ২০০৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ফিল্ডওয়ার্কে গিয়ে পাহাড়ের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয় তার। এরপর বান্দরবানের বিভিন্ন পাহাড়ে ঘোরাঘুরি, ভুটান, ভারতের সিকিম ও নেপালের বিভিন্ন পর্বতে ট্রেকিংয়ের অভিজ্ঞতা তাকে আরও অনুপ্রাণিত করে। ২০১৯ সালে নেপালের অস্ট্রেলিয়ান ক্যাম্প ভ্রমণের পর আরও উঁচুতে ওঠার স্বপ্ন দেখেন নিম্নি। ২০২০ সালে এভারেস্ট বেজক্যাম্প ট্রেক করার পর পেশাদার পর্বতারোহণে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে ২০২২ সালে ভারতের দার্জিলিংয়ে অবস্থিত হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ নেন তিনি এবং একই বছর যুক্ত হন বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের সঙ্গে। বাংলাদেশের হয়ে প্রথম এভারেস্ট জয় করেন মুসা ইব্রাহীম, যিনি ২০১০ সালের ২৩ মে শিখরে ওঠেন। এরপর এম এ মুহিত দুবার এভারেস্ট জয় করেন। ২০১৩ সালে এভারেস্ট জয় করেন সজল খালেদ, তবে শিখর থেকে নামার পথে তিনি মারা যান। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৪ সালে এভারেস্ট জয় করেন বাবর আলী। আর ২০২৫ সালে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত থেকে হেঁটে এভারেস্ট চূড়ায় ওঠেন ইকরামুল হাসান শাকিল। এবার ২০২৬ সালে বাংলাদেশের একমাত্র অভিযাত্রী হিসেবে এভারেস্ট জয় করলেন নুরুন্নাহার নিম্নি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ করবেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৩০ মে) বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আয়োজিত রাজধানীর ১৬টি স্পটে এসব বিতরণ করা হবে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, ঢাকা মহানগর ১৫টি সংসদীয় আসন এবং বিএনপি কেন্দ্রীয় অফিস সামনে— মোট ১৬টি স্থানে এসব খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবীদের আয়োজনে প্রতিবছরের মতো এবারও মিলাদ, দোয়া ও খাবার বিতরণ করা হবে। নির্ধারিত প্রতিটি স্থানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ছাড়াও মন্ত্রী পরিষদের সদস্যসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থাকবেন।