মিরপুর মডেল থানার ডিউটি অফিসার রোজিনা খাতুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন,পোশাক শ্রমিকরা আজকেও রাস্তায় নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমাদের অফিসাররা সকাল থেকে মাঠে আছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) মিরপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। প্রথমে কারখানার ভেতরে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অসন্তোষ রোববার প্রকাশ্যে রূপ নেয়। এদিন শ্রমিকদের বিক্ষোভ এবং সড়ক অবরোধে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে রোববারেও আন্দোলনকারীরা রাস্তায় নামে এবং গাড়ি ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে। পুলিশের উপর হামলার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়, কঠোর অবস্থানের কারণে আন্দোলনকারীরা চলে যেতে বাধ্য হয়। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটকও করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, এর ধারাবাহিকতায় আজ সকালেও মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা রাস্তায় নামার চেষ্টা করেন। তারা মিছিল নিয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের দিকে অগ্রসর হতে চাইলে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া পুলিশ সদস্যরা তাদের বাধা দেন। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা পুলিশের বাধা অতিক্রমের চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দেয়। একই সময়ে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকা থেকেও শ্রমিকদের আরেকটি দল জড়ো হওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশের তৎপরতায় তাদের সেই প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়। পরে শ্রমিকেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে কারখানার ভেতরে ফিরে যান।
মিরপুর মডেল থানার ডিউটি অফিসার রোজিনা খাতুন বলেন, ‘শনিবার থেকে শুরু হওয়া শ্রমিক অসন্তোষের জেরে আজ সকালেও শ্রমিকেরা রাস্তায় নামার চেষ্টা করেছিলেন। তারা মিরপুর-১৪ নম্বর থেকে ১০ নম্বরের দিকে আসার চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়। পরে শ্রমিকেরা গার্মেন্টসের ভেতরে চলে যান। বর্তমানে পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিকে গত দুই দিনের বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ এবং ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে হামলার ঘটনার পর মিরপুরজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মিরপুর-১০, ১১, ১২ ও ১৪ নম্বর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।