প্রবাসের অন্যতম আঞ্চলিক সংগঠন বৃহত্তর নোয়াখালী সমিতি ইন স্পেনের কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানী মাদ্রিদের বাঙালি অধ্যুষিত লাভাপিয়েস এলাকার গ্রাম বাংলা রেস্টুরেন্টে এক সাধারণ সভা করা হয়।
সভায় সংগঠনের সভাপতি আবুল কাশেম মুকুলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ডালিম ব্যাপারী রাজু ও সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাবুদ্দীনের যৌথ সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা জালাল আহমেদ, মোহাম্মদ কিবরিয়া, ইব্রাহীম মোহাম্মদ, দেলোয়ার মজুমদার, আবুল কাশেম প্রমুখ।
শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ইয়াছিন আরাফাত শুভ।
সভায় সবার সম্মতিতে আগামী ২০২৬-২৭ সালের জন্য আবুল কাশেমকে সভাপতি ও আলমগীর ইবনে মাহবুব নিশাতকে সাধারণ সম্পাদক এবং শাহাবুদ্দীনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে সুপার থ্রি ঘোষণা করা হয়।
কমিটি ঘোষণা করেন উপদেষ্টা জালাল আহমেদ।
দায়িত্বশীলরা বলেন, খুব শিগগিরই সবাইকে নিয়ে অভিষেকের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।
তারা এই দায়িত্ব দেওয়ার জন্য নোয়াখালীবাসীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান এবং সংগঠন পরিচালনা করতে নোয়াখালীবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।
শেষে নৈশভোজের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বাংলাদেশের সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিপুল ভোটে জয়লাভ করায় আনন্দের জোয়ার বইছে সুদূর স্পেনেও। এই ঐতিহাসিক বিজয় উদ্যাপনে দেশটির রাজধানী মাদ্রিদসহ বিভিন্ন শহরে প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস লক্ষ করা গেছে। মাদ্রিদের বাঙালি অধ্যুষিত লাভাপিয়েস এলাকায় বৃষ্টির বাধা উপেক্ষা করেই গভীর রাত পর্যন্ত চলে বিজয়োল্লাস। বিজয় উদ্যাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রবাসী বিএনপির নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। হাতে জাতীয় পতাকা এবং দলীয় ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে তারা লাভাপিয়েস প্লাজায় আনন্দ মিছিল বের করেন। এ সময় নেতা-কর্মীদের বিজয়ের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজপথ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন— স্পেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হেমায়েত খান, সাধারণ সম্পাদক রমিজ উদ্দিন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর রাসেল, মাদ্রিদ মহানগর বিএনপির সভাপতি সোহেল আহমদ সামছু, সহ-সভাপতি আব্দুল মোতালেব বাবুল, সৈয়দ মাসুদুর রহমান নাসিম, সায়েদ মিয়া, আব্দুল মতিন, ছানুর মিয়া ছাদ, উপদেষ্টা আব্দুল মুজাক্কির, সিনিয়র সদস্য মোহাম্মদ আবুল হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শিপার আহমদ, মাদ্রিদ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি কবির আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন পারভেজ, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হারুন আহমদ, যুবদল নেতা শাহ আলম ও ছাত্রদল নেতা রুদ্রসহ বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও জাসাসের শতাধিক নেতা-কর্মী। আনন্দ উদ্যাপন শেষে বিজয় মিছিল এবং মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
জীবিকার প্রয়োজনে দেশ ছেড়ে প্রবাসে পাড়ি জমান বহু মানুষ। কেউ শুধু কাজেই সীমাবদ্ধ থাকেন, আবার কেউ কেউ কাজের ফাঁকে খুঁজে নেন নিজের স্বপ্ন, নিজের ভালোবাসা। মালয়েশিয়াপ্রবাসী মো. ইয়াছিন ফরাজী তেমনই একজন, যিনি প্রবাসের ব্যস্ত ও কষ্টের জীবনেও শিল্পচর্চার আলো জ্বালিয়ে রেখেছেন। কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার গোয়ালমারি গ্রামের মো. জসিম উদ্দিন ফরাজীর ছেলে মো. ইয়াছিন ফরাজী ২০২৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় আসেন। প্রবাসে এসে নিয়মিত কাজ শুরু করলেও তার মনে সবসময়ই এক ধরনের শূন্যতা কাজ করত। গৎবাঁধা কাজের বাইরে নিজের ভালো লাগার কোনো সৃজনশীল কাজ করার ইচ্ছা ছিল বহুদিনের। যদিও শুরুতে সে ইচ্ছার কোনো নির্দিষ্ট রূপ বা পরিকল্পনা ছিল না, তবুও মনে হতো জীবনটা শুধু কাজ আর ঘুমে আটকে থাকলে চলবে না। তার এই সৃজনশীলতার বীজ বপন হয়েছিল অনেক আগেই। মাদ্রাসায় পড়াশোনার সময় থেকেই আরবি লেখার প্রতি তার বিশেষ দুর্বলতা ছিল। খুব আগ্রহ নিয়ে আরবি লেখা অনুশীলন করতেন। তবে তখন এসব লেখা যে একদিন শিল্পে রূপ নিতে পারে, ‘আরবি ক্যালিগ্রাফি’ নামে পরিচিত একটি স্বতন্ত্র শিল্পধারা সে বিষয়ে তার কোনো স্পষ্ট ধারণা ছিল না। মালয়েশিয়ায় আসার পর কাজের ফাঁকে অবসর সময়ে তিনি বাংলা ও উর্দু শের (কবিতা) লিখতে শুরু করেন। লেখালেখির এই অভ্যাসই একদিন তাকে নতুন এক ভাবনার দিকে ঠেলে দেয়। মনে হলো, লেখার হাতটা যদি আরও শানিত করা যায়! এই ভাবনা থেকেই ইউটিউবে ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে তিনি প্রথম বিস্তারিতভাবে আরবি ক্যালিগ্রাফি সম্পর্কে জানতে পারেন। এ সময় বাংলাদেশের প্রখ্যাত ক্যালিগ্রাফি শিল্পী উসামা হকের কাজ তার নজরে আসে। উসামা হকের শিল্পকর্ম ও শেখানোর পদ্ধতি তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। সেই অনুপ্রেরণার ফলেই ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তিনি উসামা হকের ক্যালিগ্রাফি কোর্সে ভর্তি হন। শুরু হয় ইয়াছিন ফরাজীর জীবনের এক নতুন অধ্যায়। তবে পথটা সহজ ছিল না। সারাদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পর, কখনো কখনো সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ডিউটি শেষ করেও তিনি ক্যালিগ্রাফি চর্চা চালিয়ে যেতেন। ক্লান্ত শরীর নিয়েও রাত জেগে অনুশীলন সবই ছিল স্বপ্নের টানে। কিন্তু এই শেখার মাঝপথেই নেমে আসে বড় ধাক্কা। কর্মক্ষেত্রে এক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় তার দুই হাতের আঙুলে মারাত্মক আঘাত লাগে। দীর্ঘ সময় অসুস্থ থাকার কারণে পেন্সিল বা তুলি ধরা তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে কোর্স থেকেও তিনি অনেকটাই পিছিয়ে যান। এই কঠিন সময়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার উপক্রম হলেও পাশে দাঁড়ান তার শিক্ষক উসামা হক। তার সাহস, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় ইয়াছিন ফরাজী আবার ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পান। প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর ধৈর্যের সঙ্গে সুস্থ হয়ে পুনরায় ক্যালিগ্রাফি চর্চা শুরু করেন এবং শেষ পর্যন্ত সফলভাবে কোর্সটি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে নিয়মিত কাজের পাশাপাশি তিনি আরবি ক্যালিগ্রাফি পেইন্টিং করে যাচ্ছেন। কোরআনের আয়াত, দোয়া ও কালিমায়ে তাইয়্যেবা দিয়ে সাজানো তার শিল্পকর্মগুলো ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত আইডির মাধ্যমে প্রচার করছেন। আনন্দের বিষয় হলো, তার কাজ শুধু প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, মালয়েশিয়ার স্থানীয় নাগরিকরাও তার শিল্পের প্রশংসা করছেন। অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন একজন প্রবাসী শ্রমিক হয়েও কীভাবে তিনি এমন নিখুঁতভাবে এই শিল্প আয়ত্ত করেছেন। ইয়াছিন ফরাজীর জন্য সবচেয়ে গর্বের বিষয়, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন মসজিদে তার আঁকা ক্যালিগ্রাফি স্থান পেয়েছে। এটি তার কাছে শুধু স্বীকৃতিই নয়, বরং আত্মতৃপ্তির এক অনন্য উপলব্ধি। ইয়াছিন ফরাজী বলেন, প্রবাস জীবনে কাজের চাপ থাকবেই। কিন্তু দিনশেষে যখন রং-তুলি হাতে নিই, তখন সব ক্লান্তি ভুলে যাই। এই শিল্পচর্চাই এখন আমার মানসিক প্রশান্তির সবচেয়ে বড় উৎস। প্রবাসের কঠিন বাস্তবতায় দাঁড়িয়েও ইয়াছিন ফরাজীর এই যাত্রা প্রমাণ করে, ইচ্ছাশক্তি আর ভালোবাসা থাকলে, দূরদেশেও নিজের স্বপ্নকে রঙিন করে তোলা সম্ভব।
পর্তুগালে ঝড় ও টানা ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে পর্তুগাল বাংলা প্রেস ক্লাব। রাজধানী লিসবনসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ায় মানবিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে প্রবাসীদের এই সংগঠনটি। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় অডিভেলাস বোম্বেরস (অগ্নিনির্বাপক ও উদ্ধারকারী দল)-এর কাছে জরুরি ত্রাণসামগ্রী হস্তান্তর করা হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে পানি, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য সামগ্রীসহ বিভিন্ন জরুরি উপকরণ তুলে দেওয়া হয়, যাতে সেগুলো দ্রুত বন্যাকবলিত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন– পর্তুগাল বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি রনি মোহাম্মদ, অর্থ সম্পাদক জাহিদ কায়সার, সাবেক সভাপতি রাসেল আহম্মেদ এবং ক্রীড়া ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক আর এ ইহসান। অনুষ্ঠানে প্রেস ক্লাবের সভাপতি রনি মোহাম্মদ বলেন, ‘পর্তুগাল বাংলা প্রেস ক্লাব শুধু সাংবাদিকদের একটি সংগঠন নয়, এটি একটি সামাজিক দায়িত্ববোধের জায়গা। অতীতেও যেকোনো জরুরি ও মানবিক সংকটে আমরা পাশে দাঁড়িয়েছি। ভবিষ্যতেও পর্তুগালের যেকোনো সামাজিক ও মানবিক প্রয়োজনে আমরা সক্রিয় থাকব।’ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আবারও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে পর্তুগালকে। অস্বাভাবিক আবহাওয়া ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী লিসবন ও এর আশপাশের এলাকায় জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এমন সময়ে পর্তুগাল বাংলা প্রেস ক্লাবের এই উদ্যোগ প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির দায়িত্বশীল ভূমিকার একটি শক্ত বার্তা বহন করছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সহায়তা কেবল বস্তুগত নয়; এটি একটি সামাজিক সংহতির প্রতীক। দুর্যোগের সময় সাংবাদিকদের এই তৎপরতা স্থানীয় জনগণ ও কর্তৃপক্ষের কাছেও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম প্রবাসী কমিউনিটি ও স্থানীয় সমাজের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে। দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি এমন সামাজিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পর্তুগাল বাংলা প্রেস ক্লাবের এই মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন অডিভেলাস বোম্বেরসের সদস্যরা।