দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মেশিন লার্নিং (এমএল) এবং লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) ব্যবহারের জন্য নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে ৭ সদস্যের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে, যারা আগামী দুই মাসের মধ্যে নীতিমালার খসড়া তৈরি করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আইসিটি বিভাগের অধীনে গঠিত এই টিম ব্যাংক ও আর্থিক খাতে এআইভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, নীতি সহায়তা ও গ্রাহকসেবা উন্নয়নে একটি কার্যকর কাঠামো তৈরি করবে। একই সঙ্গে তথ্যনিরাপত্তা, ডেটা গভর্নেন্স এবং এআইয়ের নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করাও টিমটির মূল লক্ষ্য।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে আর্থিক খাতে দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। এআই প্রযুক্তি সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালী করার পাশাপাশি বৃহৎ ডেটা বিশ্লেষণ করে দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে, যা ব্যাংকের নীতিনির্ধারণ, ঝুঁকি মূল্যায়ন ও ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করে তুলবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সরকারি ও আর্থিক খাতে বাংলাদেশ ব্যাংকই প্রথম এ ধরনের নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এই পদক্ষেপ কেবল অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের গতি বাড়াবে না, বরং সার্বিক নীতি প্রণয়ন ও তদারকিতেও নতুন মাত্রা যোগ করবে।
ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রস্তুত, অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ ও রেগুলেটরি কমপ্লায়েন্স পর্যবেক্ষণ আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এজন্য এখন একটি আনুষ্ঠানিক নীতিমালা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যাতে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো প্রযুক্তি ব্যবহারে সঠিক দিকনির্দেশনা পায়।
৭ সদস্যের টিম ও কার্যপরিধি
গত ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংক অফিস আদেশ জারি করে ৭ সদস্যের একটি টিম গঠন করে। টিমটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন এন্টারপ্রাইজ রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের যুগ্ম পরিচালক (আইসিটি) ড. নুরুল্লাহ শাহীন। সদস্য হিসেবে আছেন আইসিটি বিভাগের উপপরিচালক মো. বেলাল হোসেন ও মোহা. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইয়াসবির চৌধুরী, কাজী মো. আরিফুল হক, মো. সাঈদ হাসান এবং সায়েদ আবরার জাওয়াদ।
টিমের কাজ হবে অন্যান্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এআই নীতিমালা পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের উপযোগী কাঠামো তৈরি করা। এআই ব্যবহারে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ ডেটার নিরাপত্তা, ন্যায্যতা, মানবিক মূল্যবোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রথম ধাপে নিরাপত্তা ও দক্ষতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে উন্নতমানের এআইভিত্তিক অবকাঠামো ও প্রি-ট্রেইনড লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) স্থাপন করা হবে। এসব মডেল নিরাপদ স্থানীয় সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে, যাতে সংবেদনশীল আর্থিক তথ্যের গোপনীয়তা বজায় থাকে।
প্রাথমিকভাবে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ, বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ, গবেষণা বিভাগ, মুদ্রানীতি বিভাগ এবং পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও দ্রুত, তথ্যনির্ভর ও নির্ভুল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইসিটি বিভাগের নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, নীতিমালার লক্ষ্য হলো ব্যাংক খাতে এআই প্রযুক্তির নিরাপদ ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। কর্মসংস্থান সংকুচিত না হয়ে বরং প্রযুক্তিনির্ভর নতুন দক্ষতার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এআই ব্যবহারের সম্ভাব্য ক্ষেত্রসমূহ
ঋণগ্রহীতার আর্থিক সক্ষমতা বিশ্লেষণ, বাজার ঝুঁকি, ঋণ ঝুঁকি ও তারল্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে। বৃহৎ অর্থনৈতিক ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা সম্পর্কে সময়োপযোগী ধারণা পাওয়া যাবে।
এছাড়া ব্যাংকিং সিস্টেমে জাল লেনদেন, হ্যাকিং ও সাইবার হামলা প্রতিরোধে এআই-চালিত মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। গ্রাহকের আচরণ বিশ্লেষণ, জাল লেনদেন শনাক্তকরণ ও ব্যক্তিগতকৃত সেবা প্রদানে এআই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ব্যাংকের নীতি ও বিধিবিধান বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণেও থাকবে এআইভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থা।
দেশের আর্থিক খাতে এআই ব্যবহারের এই উদ্যোগকে বিশেষজ্ঞরা যুগান্তকারী হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে ব্যাংক খাত আরও আধুনিক, নিরাপদ ও তথ্যনির্ভর হয়ে উঠবে, যা অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইসরাইলের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করাকে পূর্বশর্ত হিসেবে জুড়ে দিয়েছে লেবানন। দেশটির একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা বিবিসিকে এ তথ্য জানিয়েছেন। বৈরুতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, কোনো ধরনের আলোচনার টেবিলে বসার আগেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে। অর্থাৎ, লেবানন সীমান্ত বা নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনায় অংশ নিতে তখনই রাজি হবে, যখন উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘাত বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেন, হামলা অব্যাহত থাকা অবস্থায় ফলপ্রসূ কোনো আলোচনা সম্ভব নয়। লেবানন সরকার বিশ্বাস করে, আলোচনার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হলে আগে সামরিক তৎপরতা বন্ধ হওয়া জরুরি। এই অবস্থান থেকে বোঝা যাচ্ছে যে আগামী সপ্তাহের প্রস্তাবিত কূটনৈতিক তৎপরতার সাফল্য এখন মূলত একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ওপর নির্ভর করছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যস্থতায় হতে যাওয়া এই সম্ভাব্য আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা ও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
রাজধানীর উপকণ্ঠ কেরাণীগঞ্জের কদমতলীতে একটি গ্যাস লাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬ জনে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলে এ সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২ জন। ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে একই দপ্তরের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন ৫ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিলেন। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, শনিবার দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে কদমতলীর ওই কারখানায় আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় পর্যায়ক্রমে মোট ৭টি ইউনিট কাজ করে। প্রায় সোয়া এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গাজায় চলমান যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে ইসরাইলে গোপনে জ্বালানি তেল, কয়লা এবং সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করছে গ্রিক শিপিং কোম্পানিগুলো। 'নো হারবার ফর জেনোসাইড' ক্যাম্পেইনের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের বরাতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের মে থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত ৫৭টি গোপন খনিজ তেলবাহী জাহাজ ইসরাইলি বন্দরে নোঙর করেছে। প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল তেল বহনকারী এই জাহাজগুলো তুরস্কের বন্দর ব্যবহার করে ইসরাইলে পৌঁছায়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মে মাসে তুরস্ক ইসরাইলের ওপর পূর্ণ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। গ্রিক জাহাজগুলো তুরস্কের বন্দর ত্যাগ করার সময় গন্তব্য হিসেবে মিশরের 'পোর্ট সাইদ' এর নাম লিখলেও বাস্তবে সেগুলো ইসরাইলে যেত। ধরা পড়ার ভয় এড়াতে জাহাজগুলো তাদের 'অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম' বা ট্র্যাকিং সিগন্যাল বন্ধ করে রাখত। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী ৩০০ টনের বেশি ওজনের জাহাজের জন্য এই সিগন্যাল বন্ধ রাখা অবৈধ। জানা যায়, এই গোপন বাণিজ্যের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করছে গ্রীক শিপিং জগতের দুই প্রভাবশালী পরিবার। এর একটি আলাফৌজোস পরিবার যারা 'কিকলাডেস মেরিটাইম করপোরেশন'-এর মালিক। এই পরিবারের প্রধান জিয়ানিস আলাফৌজোস গ্রিক ফুটবল ক্লাব পানাথিনাইকোসেরও মালিক। অন্যটি হলো মার্টিনোস পরিবার যারা 'দেনামারিস শিপস ম্যানেজমেন্ট'-এর নিয়ন্ত্রক। তাদের হাতে গ্রিসের বৃহত্তম জাহাজ বহর রয়েছে। কেবল জ্বালানি নয়, ২০২৫ সালে গ্রিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত জাহাজগুলো অন্তত ১৩ বার ইসরাইলে সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণ করেছে। এর মধ্যে মেশিনগানের যন্ত্রাংশ এবং কামানের ব্যারেল, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ এবং ইসরাইলের বৃহত্তম অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান 'এলবিট সিস্টেমস'-এর জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক কাঁচামালও ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কয়লা সরবরাহ ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে প্রায় ৭ লাখ ৫১ হাজার টন কয়লা ইসরাইলে পাঠানো হয়েছে। এই কয়লা ইসরাইলের বিদ্যুৎ কেন্দ্র সচল রাখতে ব্যবহৃত হচ্ছে। এক্ষেত্রেও জাহাজগুলো ট্র্যাকার বন্ধ করে এবং গন্তব্য হিসেবে মিশরের 'দামিয়েত্তা' বন্দরের নাম ব্যবহার করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। এই গোপন বাণিজ্যের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো সোচ্চার হয়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে গ্রিসের পিরেয়াস বন্দরে ডক শ্রমিকরা ইসরাইলগামী ২১ টন গোলাবারুদ আটকে দিয়েছিল এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ফ্রান্সের ডক শ্রমিকরা ১৮ টন কামানের ব্যারেল লোড করতে বাধা দিয়েছিল।