বিশ্বের জনসংখ্যা ক্রমবর্ধমান। বর্তমানে সারা বিশ্বের ৮২০ কোটি মানুষের অর্ধেকেই শহরে বসবাস করছেন। এর ফলে অতিমহানগরীর সংখ্যা বাড়ছে। সাম্প্রতিক জাতিসংঘের এমন প্রতিবেদন প্রকাশের পর মেগা সিটি ফের আলোচনায় এসেছে। এখন একনজরে দেখা নেই—মেগা সিটি বলতে আসলে কী বোঝানো হয় এবং এটি কীভাবে নির্ধারণ করা হয়।
জাকার্তা: এশিয়ার হৃৎপিণ্ড
জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী মেগা সিটিগুলোর শীর্ষে অবস্থান করছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। ঘনবসতিপূর্ণ দ্বীপ জাভার পশ্চিমাংশে অবস্থিত এ উপকূলীয় শহরে বসবাস করছেন ৪ কোটি ১৯ লাখ মানুষ। গত ২৫ বছরে জাকার্তার জনসংখ্যা পাঁচ গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। জাকার্তার এ নাটকীয় বৃদ্ধির মূল কারণ হলো অভ্যন্তরীণ অভিবাসন। গ্রামাঞ্চলের মানুষ উন্নত নাগরিক সুবিধা, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের খোঁজে শহরে ঢুকে পড়ছেন। জাকার্তা এখন এক অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক হাব। শহরের অবকাঠামো যেমন আধুনিক, তেমনি পরিবহন, আবাসন ও নগর সেবা শহরের নাগরিকদের জন্য ক্রমশ চাপ সৃষ্টি করছে। প্রতিদিন ঘনবসতিপূর্ণ সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট। এ নগর শুধু জনসংখ্যার হিসাবেই নয়, বরং প্রযুক্তি ও অর্থনীতির দিকেও বিশ্বকে প্রভাবিত করছে।
টোকিও: স্থিতিশীল বৃদ্ধির মডেল
জাপানের রাজধানী টোকিও একসময় বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল নগর ছিল। বর্তমানে ৩ কোটি ৩৪ লাখ মানুষ এ শহরে বসবাস করছেন। গত ২৫ বছরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। টোকিওর এ স্থিতিশীলতা আসে উন্নত অবকাঠামো, কার্যকর নগর পরিকল্পনা এবং উন্নত নাগরিক সেবার কারণে। এটি প্রমাণ করে, মেগা সিটি শুধু দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফল নয়; দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নেও শহরকে মেগা সিটি হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
ম্যানিলা: যেখানে অপরাধ ও দূষণের মাত্রাও বেশি
ফিলিপাইনের ম্যানিলা শহরেও ২ কোটি ৪৭ লাখ মানুষের বসতি, যেখানে অতিরিক্ত জনসংখ্যা, দূষণ এবং অপরাধ নাগরিক জীবনে বড় চ্যালেঞ্জ। ১৫৭১ সালে গোড়াপত্তন হওয়া এ নগরের লোকসংখ্যা গত শতাব্দীতে দ্রুতগতিতে বেড়েছে, তবে শেষ ১০ বছরে গতি অনেকটা কমে গিয়েছিল। ম্যানিলা শত শত বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন ও জাপানের শাসনে ছিল। কিন্তু কেউই এ নগরের উন্নয়নে সত্যিকারের কোনো পরিকল্পনা করেনি।
নয়াদিল্লি: ঐতিহ্য ও চ্যালেঞ্জের সমন্বয়
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ৩ কোটি ২ লাখ মানুষের বসতি। প্রায় দুই হাজার বছরের ইতিহাসে নয়াদিল্লি শহর যেমন ঐতিহ্যবাহী, তেমনি আধুনিক নগর পরিকল্পনার জন্য চ্যালেঞ্জেরও সম্মুখীন। পুরোনো অবকাঠামো, যানজট, শিল্প ও কৃষিদূষণ শহরের দৈনন্দিন বাস্তবতা। অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের চাপ এবং নগরের সীমিত জমি নয়াদিল্লিকে টেকসই নগরায়ণের জন্য কঠিন পরিস্থিতিতে রাখছে।
সাংহাই : চীনের অর্থনৈতিক শক্তি
চীনের সাংহাইতে ২ কোটি ৯৬ লাখ । সাংহাইয়ের ইয়াংজি নদীর দক্ষিণ মোহনায় অবস্থিত এ নগর একসময় ছিল জেলেদের গ্রাম। আজ এটি চীনের বৃহত্তম নগর ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র। অভ্যন্তরীণ অভিবাসী ও বিদেশি নাগরিকরা সাংহাইয়ে বসতি স্থাপন করছেন, যার ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কায়রো: মিশরের ইতিহাস ও সংস্কৃতির ভরকেন্দ্র
মিশরের রাজধানী কায়রো আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান কেন্দ্র। এখানে ২ কোটি ৫৫ লাখ মানুষ বসবাস করছেন। ইতিহাস, পিরামিড এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কায়রোকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, মিশরের মোট জনসংখ্যার প্রায় সাড়ে ১৯ শতাংশ কায়রোতে বসবাস করেন। দেশটির বেশিরভাগ মন্ত্রণালয়, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি, গণমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থার প্রধান কার্যালয় কায়রোতে অবস্থিত।
সিউল: উদ্ভাবন ও উচ্চ জীবনমানের কেন্দ্র
দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলও ২ কোটি ২৫ লাখ মানুষকে আশ্রয় দিচ্ছে। এটি জাতিসংঘ প্রকাশিত ২০২৫ সালের শীর্ষ ১০ মেগা সিটির তালিকায় সবার শেষে রয়েছে। সিউল দেখিয়েছে, দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির দেশ নয়, উন্নত অর্থনীতির দেশেও মেগা সিটি গড়ে উঠতে পারে। স্থিতিশীল বৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং কার্যকর নগর পরিকল্পনা সিউলের মডেল। শক্তিশালী শিক্ষাব্যবস্থা ও উচ্চ জীবনমানের কারণে সিউল বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
গুয়াংজু: চীনের অভিবাসীপ্রবাহের কেন্দ্র
সাংহাইয়ের পরই সবচেয়ে জনবহুল মেগা সিটির তালিকায় ৬ নম্বরে রয়েছে চীনের গুয়াংজু নগর। সেখানে ২ কোটি ৭৬ লাখ মানুষ বসবাস করেন। এটি চীনের তৃতীয় বৃহৎ নগরী। গুয়াংজু ও এর আশপাশের অঞ্চল ব্যাপকভাবে অভিবাসীপ্রবাহের জন্য পরিচিত।
গুয়াংজুর অর্থনীতি দ্রুত বাড়ছে, যে কারণে সেখানে শ্রমের উচ্চ চাহিদা রয়েছে। শ্রমের এ চাহিদা মেটাতেই ফ্লোটিং পপুলেশন গুয়াংজুতে ভিড় করে।
গুয়াংজুতে ফ্লোটিং পপুলেশন বছরে ছয় মাসের জন্য অন্তত তিন কোটি মানুষকে শহরে নিয়ে আসে।
ঢাকা: এশিয়ার নতুন জায়ান্ট
জাকার্তার ঠিক পরেই রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। গত ২৫ বছরে ঢাকা এমন বৃদ্ধির সাক্ষী হয়েছে, যা পৃথিবীর অন্যান্য মেগা সিটির তুলনায় সবচেয়ে দ্রুত। বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করছেন ৩ কোটি ৬৬ লাখ মানুষ। জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে ঢাকা জাকার্তাকেও ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল নগরে পরিণত হবে। ঢাকার জনসংখ্যা বৃদ্ধির মূল কারণও অভ্যন্তরীণ অভিবাসন। গ্রামীণ ও উপনগর এলাকার মানুষ শিক্ষা, চাকরি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধার জন্য ঢাকায় ঢুকছেন। কিন্তু এই দ্রুত বৃদ্ধির ফলে শহরের অবকাঠামো, স্যানিটেশন, গণপরিবহন ও বাসস্থান ব্যবস্থা ক্রমশ চাপে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগর পরিকল্পনা ও টেকসই অবকাঠামো ছাড়া এ জনসংখ্যা চাপ দীর্ঘমেয়াদে নগরের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
কলকাতা: ইতিহাস ও আধুনিকতার সমন্বয়
ভারতের কলকাতা শহরে ২ কোটি ২৫ লাখ মানুষ বসবাস করছেন। শহরমুখী জনসংখ্যার বৃদ্ধির ফলে কলকাতায় নাগরিক সেবা, আবাসন ও পরিবহন ব্যবস্থায় চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০০ সালে কলকাতা জনবহুল নগরের তালিকায় ৫ নম্বরে ছিল। এখন কয়েক ধাপ নেমে ৯ নম্বরে গেছে। ২০৫০ সালে আরও এক ধাপ নেমে ১০ নম্বরে থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
আন্তর্জাতিক আইনের ওপর বর্তমান আক্রমণের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাইকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে বলে জানিয়েছেন আদালতটির প্রেসিডেন্ট। দ্য হেগ থেকে এএফপি জানায়, শুক্রবার এক বিবৃতিতে আইসিসি প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা ও আইনের শাসন যখন গভীর চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন এই স্বীকৃতি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।’ গাজায় সামরিক অভিযান পরিচালনার অভিযোগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করায় ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র আইসিসিকে ‘ইটের পর ইট খুলে’ ভেঙে ফেলার অঙ্গীকার করেছে। ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে আইসিসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। পাশাপাশি পুরো আদালতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও হুমকি দিয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনায় বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। আকানে তার বিবৃতিতে বলেন, ‘স্থায়ী শান্তির ভিত্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, এই পুরস্কার তারই তাৎপর্যপূর্ণ স্বীকৃতি।’
মিসর, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) কাছে ২০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের মার্কিন অস্ত্রব্যবস্থা বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর এ বিষয়ে অবহিত করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিডেল ইস্ট আই এ খবর জানিয়েছে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র দফতর জানায়, কুয়েত তাদের পরিচালিত প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মেরামত সেবা ও যন্ত্রাংশ কিনবে, যার আনুমানিক মূল্য ৪০ কোটি ডলার। পররাষ্ট্র দফতর মিসরের কাছে ২ হাজারের বেশি এফজিএম-১৪৮ জ্যাভেলিন ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং সর্বোচ্চ ২০০টি জ্যাভেলিন লঞ্চ ইউনিট বিক্রির অনুমোদনও দিয়েছে। এর সঙ্গে থাকবে সিমুলেশন রাউন্ড, অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ ও মার্কিন সরকারের প্রযুক্তিগত সহায়তাসহ সহায়ক সরঞ্জাম। এই বিক্রির আনুমানিক ব্যয় ৮৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। তীব্র হচ্ছে সৌদি-হুথি যুদ্ধ, জড়াচ্ছে সিরিয়া-তুরস্ক-পাকিস্তানতীব্র হচ্ছে সৌদি-হুথি যুদ্ধ, জড়াচ্ছে সিরিয়া-তুরস্ক-পাকিস্তান তিন দেশের মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ক্রয়ের অনুমোদন পেয়েছে ইউএই। দেশটি সর্বোচ্চ ১০ হাজার অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেম-২ (এপিকেডব্লিউএস-২) কিনতে পারবে, যার আনুমানিক মূল্য ১ বিলিয়ন ৪ কোটি ডলার। লেজার-নির্দেশিত এই কিট আকাশ থেকে আকাশে এবং আকাশ থেকে ভূমিতে হামলার জন্য ব্যবহার করা যায়। এপিকেডব্লিউএস-২ কিটের মাধ্যমে রকেটকে নিখুঁত লক্ষ্যভেদী অস্ত্রে রূপান্তর করা যায়। এগুলো আক্রমণাত্মক হামলায় ব্যবহৃত হয়। তবে আকাশ থেকে আকাশে ব্যবহারযোগ্য সংস্করণ শত্রুর ড্রোন ভূপাতিত করার কম খরচের উপায় হিসেবেও কাজে লাগে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের জেরে ইরান থেকে হাজার হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়েছে ইউএই। আকাশ থেকে ভূমিতে ব্যবহারযোগ্য সংস্করণ দিয়ে সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো যায়। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র এসব অস্ত্র বিক্রির কথা ঘোষণা করে। পররাষ্ট্র দফতর বিবৃতিতে বলেছে, এই সরঞ্জাম ও সহায়তা বিক্রির প্রস্তাব অঞ্চলের মৌলিক সামরিক ভারসাম্যে পরিবর্তন আনবে না। ফরেন মিলিটারি সেলস (এফএমএস) বলতে অন্য দেশের সার্বভৌম তহবিল দিয়ে মার্কিন অস্ত্রব্যবস্থা কেনা বোঝায়। মিসর ফরেন মিলিটারি ফাইন্যান্সিংয়ের (এফএমএফ) আওতায়ও প্রায় ১৩০ কোটি ডলার পায়, যা কায়রোর পক্ষে মার্কিন করদাতাদের অর্থে অস্ত্র কেনা। ইসরায়েলের সঙ্গে মিসরের চার দশকের পুরোনো শান্তিচুক্তি থেকেই এই ব্যবস্থার সূচনা। ৭ অক্টোবরের পর যেভাবে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিয়েছে ইসরায়েল৭ অক্টোবরের পর যেভাবে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিয়েছে ইসরায়েল এফএমএফের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ইসরায়েল, দেশটি বছরে ৩৩০ কোটি ডলার পায়। ইসরায়েলকে দেওয়া সব সামরিক সহায়তা এ হিসাবে ধরা হয়নি। পৃথক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র দফতর বলেছে, তিনটি বিক্রিই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্যকে সমর্থন করে। দেশগুলোকে তারা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শক্তি বলেও উল্লেখ করেছে। পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, জ্যাভেলিন বিক্রির জন্য মিসরে মার্কিন ঠিকাদার বা কর্মী মোতায়েনের প্রয়োজন হবে না। ইউক্রেন রুশ ট্যাংকের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে এই ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে। একইভাবে, এই বিক্রির ফলে ইউএইতে স্থায়ীভাবে বাড়তি মার্কিন কর্মী নিয়োগ করা হবে না। তবে পররাষ্ট্র দফতর জানায়, প্যাট্রিয়ট ব্যাটারির সেবায় পরিচালনা ও নথিপত্র-সংক্রান্ত সহায়তা দিতে অতিরিক্ত পাঁচ জন মার্কিন ঠিকাদার প্রতিনিধি দুই বছরের জন্য কুয়েতে যাবেন। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের তীব্র হামলার মুখে পড়ার সময় এই নিয়োগ আসছে। কুয়েত ছিল অঞ্চলের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি।
চলতি বছর (২০২৬) সাহিত্যের নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন কানাডার প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও কবি অ্যান কারসন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সুইডিশ অ্যাকাডেমি নতুন লরেট বা বিজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করে। প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যকে আধুনিক রূপে নতুন ও অনন্য প্রকাশভঙ্গিতে তুলে ধরার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। নোবেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, যখন অ্যান কারসনকে সাহিত্যের সবচেয়ে বড় এই পুরস্কার অর্জনের খবর জানাতে ফোন করা হয়, তখন তিনি নিজ রান্নাঘর ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। ৭৬ বছর বয়সী এই সাহিত্যিক বর্তমানে আইসল্যান্ডে বসবাস করছেন এবং ২০০৮ সালে দেশটির নাগরিকত্ব লাভ করেন। আইসল্যান্ডের পাবলিক ব্রডকাস্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, নোবেল কমিটি একাধিকবার ফোন করলেও তিনি তা ধরেননি। পরবর্তীতে স্বামীর কথায় তিনি কলব্যাক করলে জীবনের অন্যতম সেরা এই সংবাদটি জানতে পারেন। উল্লেখ্য, তিনি ২০২৪ সালে জানিয়েছিলেন যে তিনি স্মৃতিভ্রম রোগে ভুগছেন। ১৯৫০ সালে কানাডার টরেন্টোতে জন্ম নেওয়া অ্যান কারসন ১৯৮১ সালে ক্লাসিকসের ওপর তার ডক্টরিয়াল থিসিস প্রকাশ করেন। তার সাহিত্যকর্মে শব্দের নিখুঁত গভীরতা এবং প্রাচীন গ্রিকের সঙ্গে আধুনিক ভাষার এক অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা যায়। অনুবাদ ও পুনর্নির্মাণ: প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যের বিভিন্ন বইয়ের তার করা অনুবাদগুলো একেকটি স্বতন্ত্র শিল্পকর্ম হিসেবে সমাদৃত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সাপফোর অসমাপ্ত কবিতার বই ‘ইফ নট, উইন্টার’ (২০০২) এবং ইউরিপিডিসের নাটক ‘বাক্খাই’ (২০১৫)। বিখ্যাত গ্রন্থসমূহ: ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত তাঁর সংকলন ‘গ্লাস আয়রনি অ্যান্ড গডের’ অন্তর্গত ‘দ্য গ্লাস অ্যাসে’ এবং ১৯৯৮ সালের পদ্যে লেখা উপন্যাস ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড : এ নোবেল ইন ভার্স’ তাকে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি এনে দেয়। নতুন ধারার সৃষ্টি: লেখার গতানুগতিক পদ্ধতির বাইরে গিয়ে তিনি ২২টি ছোট পুস্তিকার সংকলন ‘ফ্লোট’ (২০১৬) এবং মঞ্চে উপস্থাপনা উপযোগী ভিন্ন ধারার টেক্সট সংকলন ‘রং নর্মা’ (২০২৪) সৃষ্টি করেছেন। এছাড়াও অভিনেতা, নৃত্যশিল্পী ও থিয়েটার পরিচালকদের সঙ্গে যৌথ কাজের মাধ্যমে তিনি বৈশ্বিক সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছেন। ১৯০১ সাল থেকে শুরু হওয়া নোবেল ১১৮তম বারের মতো সাহিত্যে এই পুরস্কার প্রদান করা হলো। এ পর্যন্ত মোট ১২২ জন সাহিত্যিক নোবেল লাভ করেছেন, যার মধ্যে ১৮ জন নারী।