রজত পাতিদারের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ভর করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে বেঙ্গালুরু। মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে গুজরাট টাইটান্সকে ৯২ রানে বড় ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপার আরও কাছে পৌঁছে গেছে দলটি।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৫৪ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় বেঙ্গালুরু। দলের নেতৃত্ব দেওয়া পাতিদার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন এবং মাত্র ৩৩ বলে অপরাজিত ৯৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল ৯টি ছক্কা ও ৫টি চার।
গুজরাটের একাদশ নির্বাচনের একটি সিদ্ধান্ত বেঙ্গালুরুর জন্য সুবিধাজনক হয়ে দাঁড়ায়। সম্প্রতি ভারত ‘এ’ দলে সুযোগ পাওয়া আরশাদ খানের পরিবর্তে একাদশে থাকা কুলওয়ান্ত খেজরোলিয়ার একটি ওভার থেকে ২৮ রান তুলে নেন পাতিদার।
দলের হয়ে বিরাট কোহলি এবং ক্রুনাল পান্ডে সমান ৪৩ রান করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। অন্যদিকে গুজরাটের হয়ে জেসন হোল্ডার দুটি উইকেট শিকার করেন।
২৫৫ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে গুজরাট। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই সাই সুদর্শন, শুবমান গিল এবং জস বাটলারসহ শীর্ষ ব্যাটাররা ফিরে যান। শেষ পর্যন্ত ১৯.৩ ওভারে ১৬২ রানেই অলআউট হয় দলটি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মাত্র ২১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন নাইজেরিয়ান তরুণ ফুটবলার ভিক্টর উদোহ। গত সোমবার দেশটির রাজধানী আবুজাতে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার আকস্মিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ফুটবল অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে রহস্যজনক হিসেবে বিবেচনা করছে এবং মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখছে। ইংলিশ ক্লাব সাউদাম্পটন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের সাবেক খেলোয়াড়ের অকাল মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে শোকাহত। ক্লাবটি জানায়, ভিক্টর উদোহর পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি তারা সমবেদনা জানাচ্ছে। এছাড়া বেলজিয়ামের ক্লাব রয়্যাল অ্যান্টওয়ার্পও তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে। ক্লাবটি জানিয়েছে, উদোহ ছিলেন একজন প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ খেলোয়াড়, তার মৃত্যু ফুটবল বিশ্বের জন্য বড় ক্ষতি। স্থানীয় পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তার অল্প বয়সে এমন মৃত্যুতে ক্রীড়া মহলে গভীর উদ্বেগ ও শোক বিরাজ করছে।
গত বছরের শুরুতে কোচ পিটার বাটলারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে দল থেকে বাদ পড়েন তখনকার অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। এর ফলে নতুন অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়া হয় আফঈদা খন্দকারকে। জাতীয় দলের পাশাপাশি অনূর্ধ্ব-২০ দলেরও আর্মব্যান্ড ছিল এই ডিফেন্ডারের হাতে। কিন্তু সম্প্রতি পারফরম্যান্সে ছেদ পড়েছে তার। অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়ান কাপের তিন ম্যাচে প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি। অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপেও সেরস ছন্দে ছিলেন না তিনি। অধিনায়কত্বের আর্মব্র্যান্ডের সঙ্গে ডিফেন্স সামলানোর চাপটা হয়তো নিতে পারছিলেন ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার। যে কারণে হ্যাটট্রিক সাফ চ্যাম্পিয়ানশিপ মিশনের আগে নতুন অধিনায়ক হিসেবে অভিজ্ঞ মারিয়া মান্দাকে বেছে নিয়েছেন কোচ পিটার বাটলার। এতে হঠাৎ করে কেন তিনি অধিনায়ক বদল করলেন সেই প্রশ্ন সামনে চলে আসে। এর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ব্রিটিশ এই কোচ, ‘হ্যাঁ, আফঈদা তরুণ এবং সে অনেক চাপ সামলেছে। তার এখন নিজের খেলায় মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এটি পুরোপুরি কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং দলের ভালোর জন্য নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পেয়েছিলেন আফঈদা। তার অধীনে ১৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে অবিশ্বাস্য নৈপুণ্যে মূল পর্ব নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। তার নেতৃত্বে ১৪ ম্যাচের মধ্যে তিনটি জয় এবং দুটি ড্রয়ের পাশাপাশি হার ৯টিতে। এছাড়া অনূর্ধ্ব-২০ দলেরও অধিনায়ক ছিলেন তিনি। তার অধীনেই সাফের শিরোপা এবং এএফসি আসরের মূল পর্বে খেলেছিল জুনিয়র দল। ২০২২ সালে প্রথমবার সাফ জেতার পরের বছরই ফুটবল ছেড়ে দেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আঁখি খাতুন। সেন্টারব্যাক পজিশনে আঁখির অভাব পূরণে ওই সময় গুরুদায়িত্ব চাপে তরুণ আফঈদার কাঁধে। বয়সভিত্তিক ফুটবল মাতিয়ে সিনিয়র দলে অভিষেকের পর থেকেই এই পজিশনে নতুন কাউকে আর ভাবতে দেননি আফঈদা। কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারছিলেন না তিনি। যে কারণে অধিনায়কত্ব হারাতে হয়েছে তাকে। তার পরিবর্তে মারিয়াকে বেছে নিয়েছেন বাটলার। দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলছেন এই মিডফিল্ডার। ডিফেন্ডারদের লাইনের ঠিক ওপর থেকে প্রতিপক্ষের বক্স পর্যন্ত সমান তালে দম ধরে রেখে দৌড়ানোতে দক্ষ মারিয়া। বয়সভিত্তিক থেকে শুরু করে সিনিয়র জাতীয় দল, যেখানে সুযোগ পেয়েছেন সেখানেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন কলসিন্দুরের এই মেয়ে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হিসেবেই ধরা হয় তাকে। এবার অধিনায়ক হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু হচ্ছে তার। ২০২২ এবং ২০২৪ সালে টানা দুইটি সাফ জয়ের অন্যতম কারিগরি ছিলেন মারিয়া। নিচ থেকে খেলা তৈরি করে আক্রমণে সুর গেঁথে দেওয়ার কাজটা তাকেই করতে হবে। কোচ পিটার বাটলারও তাই ভরসা রাখছেন তার ওপর। কোচ বলেন, ‘মারিয়া খুবই লড়াকু মানসিকতার খেলোয়াড় এবং পুরো দলের মধ্যেই সে সম্মানিত। সে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে নেতৃত্ব দেবে এবং আমি জানি, অন্যদের কাছ থেকেও সে সম্মান আদায় করে নেবে।’ ২০১১ সালের বঙ্গমাতা স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে মারিয়ার উঠে আসা। তিন বছর পর এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ চ্যাম্পিয়ানশিপে প্রথমবার বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগ পান তিনি। এরপর ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রতিটা বয়সভিত্তিক শিরোপা জয়ের স্বপ্নসারথি হয়েছেন মারিয়া। ২০১৭ সালে অনূর্ধ্ব-১৫ নারী সাফের তার অধিনায়কত্বেই শিরোপা জিতেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর লিগ শিরোপা জয়ের মৌসুমে আর্সেনালের আধিপত্য শুধু ট্রফিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং প্রিমিয়ার লিগের বর্ষসেরা একাদশেও তা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে স্পোর্টস অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান অপটা ২০২৫–২৬ মৌসুমের সেরা একাদশ প্রকাশ করেছে, যেখানে আর্সেনালের চারজন ফুটবলার জায়গা পেয়েছেন। লিগ চ্যাম্পিয়ন দলটির হয়ে বর্ষসেরা একাদশে স্থান করে নিয়েছেন গোলরক্ষক ডেভিড রায়া, রক্ষণভাগের গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস ও উইলিয়াম সালিবা এবং মিডফিল্ডার ডেক্লান রাইস। অন্যদিকে রানার্সআপ ম্যানচেস্টার সিটি থেকেও তিনজন খেলোয়াড় এই তালিকায় জায়গা পেয়েছেন। তারা হলেন ফরোয়ার্ড রায়ান চেরকি ও আর্লিং হালান্ড এবং ডিফেন্ডার ম্যাথিউস নুনেস। এবারের তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে ব্রুনো ফার্নান্দেসকে নিয়ে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই অধিনায়ক গত এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ২১টি অ্যাসিস্ট করে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। পাশাপাশি ১৩৬টি গোলের সুযোগ তৈরি করে তিনি নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। আক্রমণভাগে সিটির হয়ে প্রথম মৌসুমেই দারুণ পারফরম্যান্স দেখানো রায়ান চেরকি এবং ২৭ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে থাকা আর্লিং হালান্ড জায়গা পেয়েছেন। এছাড়া মিডফিল্ডে নটিংহাম ফরেস্টের এলিয়ট অ্যান্ডারসন এবং লিভারপুলের ডমিনিক সোবোসলাই–ও নিজেদের পারফরম্যান্সের সুবাদে বর্ষসেরা একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন। অপটা ঘোষিত ২০২৫-২৬ মৌসুমের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ সেরা একাদশ গোলকিপার: ডেভিড রায়া (আর্সেনাল) ডিফেন্ডার: ম্যাথিউস নুনেস (ম্যানচেস্টার সিটি), গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস (আর্সেনাল), উইলিয়াম সালিবা (আর্সেনাল), আদ্রিয়েন ট্রুফার্ট (বোর্নমাউথ) মিডফিল্ডার: ডেক্লান রাইস (আর্সেনাল), এলিয়ট অ্যান্ডারসন (নটিংহ্যাম ফরেস্ট), ডমিনিক সোবোসলাই (লিভারপুল) ফরোয়ার্ড: রায়ান চেরকি (ম্যানচেস্টার সিটি), আর্লিং হালান্ড (ম্যানচেস্টার সিটি), ব্রুনো ফার্নান্দেস (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)