পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণ এবং দুটি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়ার পথে তীব্র যানজটের আটকা পড়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের জামায়াতে ইসলামীর আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ে এলাকায় পৌঁছাতে না পেরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সেই পোস্টে মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সমালোচনা করেছেন এই সংসদ সদস্য।
বুধবার (২৭ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, গরিব অসহায় ও দুস্থ মানুষের ঈদ সহযোগিতার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বরাদ্দ করা (১০ লাখ টাকা) ঈদ উপহার সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য এবং টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের মামুনের পরিবার এবং চরবাগডাঙ্গা বিজলি পড়ে নিহত মনোয়ারার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার উদ্দেশে মঙ্গলবার রাত ১১টা ৩৮ মিনিটে ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হই। কিন্তু তীব্র যানজটের কারণে বুধবার বেলা ১১টা ২৫ মিনিট, আমরা এখনও টাঙ্গাইলের জ্যামে আটকে আছি।
তিনি লেখেন, ইতিমধ্যে ১০০০ জনকে এক হাজার টাকা করে তালিকা অনুযায়ী সকাল ১০টা এবং ১১টায় দুইটি ভিন্ন স্থানে জনগণের হাতে সরাসরি আমি উপস্থিত থেকে বিতরণ করার কথা ছিল। কিন্তু তীব্র যানজটের কারণে সেটা আর সম্ভব হলো না। সেজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।
এই এমপি লেখেন, একদিকে যোগাযোগমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঈদ যাত্রায় জনগণের স্বস্তির কথা বলা হচ্ছে কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। যানজটের কারণে মানুষের দুঃসহ ভোগান্তির বাস্তব চিত্র আমি নিজে উপলদ্ধি করছি। ১২ ঘণ্টায় আমি ঢাকা থেকে মাত্র টাঙ্গাইল পৌঁছেছি। এই লম্বা জার্নিতে রাস্তায় কোথাও ট্রাফিক বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করলাম না।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণ এবং দুটি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়ার পথে তীব্র যানজটের আটকা পড়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের জামায়াতে ইসলামীর আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ে এলাকায় পৌঁছাতে না পেরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সেই পোস্টে মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সমালোচনা করেছেন এই সংসদ সদস্য। বুধবার (২৭ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, গরিব অসহায় ও দুস্থ মানুষের ঈদ সহযোগিতার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বরাদ্দ করা (১০ লাখ টাকা) ঈদ উপহার সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য এবং টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের মামুনের পরিবার এবং চরবাগডাঙ্গা বিজলি পড়ে নিহত মনোয়ারার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার উদ্দেশে মঙ্গলবার রাত ১১টা ৩৮ মিনিটে ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হই। কিন্তু তীব্র যানজটের কারণে বুধবার বেলা ১১টা ২৫ মিনিট, আমরা এখনও টাঙ্গাইলের জ্যামে আটকে আছি। তিনি লেখেন, ইতিমধ্যে ১০০০ জনকে এক হাজার টাকা করে তালিকা অনুযায়ী সকাল ১০টা এবং ১১টায় দুইটি ভিন্ন স্থানে জনগণের হাতে সরাসরি আমি উপস্থিত থেকে বিতরণ করার কথা ছিল। কিন্তু তীব্র যানজটের কারণে সেটা আর সম্ভব হলো না। সেজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। এই এমপি লেখেন, একদিকে যোগাযোগমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঈদ যাত্রায় জনগণের স্বস্তির কথা বলা হচ্ছে কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। যানজটের কারণে মানুষের দুঃসহ ভোগান্তির বাস্তব চিত্র আমি নিজে উপলদ্ধি করছি। ১২ ঘণ্টায় আমি ঢাকা থেকে মাত্র টাঙ্গাইল পৌঁছেছি। এই লম্বা জার্নিতে রাস্তায় কোথাও ট্রাফিক বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করলাম না।
দেশের জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে। সংস্থাটির অধীন ৮টি প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রমও নিয়ন্ত্রণ হয় চট্টগ্রাম থেকেই। তবে বিপিসির চেয়ারম্যান থেকে পরিচালক পদমর্যাদা ৫ শীর্ষ কর্মকর্তাদের কেউ চট্টগ্রামে যান না। সংযুক্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে তারা রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিটিএমসি ভবনে লিয়াজোঁ অফিসে বসেই দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এতে বিপিসি ও এর অধীনস্থ তেল কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তাদের নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সভা, ফাইল অনুমোদন ও দাপ্তরিক সমন্বয়ের জন্য ঢাকায় ছুটতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রামে প্রধান কার্যালয় রেখে ঢাকাকেন্দ্রিক প্রশাসনিক সংস্কৃতি তৈরি হওয়ায় একদিকে যেমন দাপ্তরিক সমন্বয়হীনতা বাড়ছে, অন্যদিকে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে বিমান ভাড়ায়। বিপিসির অধীন ইস্টার্ন রিফাইনারি, পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, যমুনা অয়েলসহ আটটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে। দেশের আমদানিকৃত জ্বালানি তেল চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস হয়, পতেঙ্গার স্থাপনাগুলোতে সংরক্ষণ করা হয় এবং সেখান থেকেই দেশব্যাপী সরবরাহ করা হয়। ফলে পুরো জ্বালানি খাতের মূল কার্যক্রম চট্টগ্রামকেন্দ্রিক হলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ঢাকা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বিপিসির শীর্ষ কর্তারা নিয়মিত চট্টগ্রামে অফিস না করায় কার্যত ঢাকাকেন্দ্রিক একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। ফলে বিপিসি ও অধীনস্থ রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তাদের মাসে ৪ থেকে ১০ বার পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াত করতে হয়। বেশিরভাগ সময়ই এই যাতায়াত বিমানে করা হয় এবং প্রতিবার ভাড়া বাবদ ব্যয় হয় ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা। একেকজন কর্মকর্তার পেছনে মাসে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিমান ভাড়া ব্যয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেক সময় ঢাকায় বড় সভা থাকলে পুরো বিমানের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যাত্রীই থাকেন তেল কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারী। অথচ হাতে গোনা কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিয়মিত চট্টগ্রামে অফিস করলেই এই বিপুল ব্যয় কমানো সম্ভব ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিপিসির এক কর্মকর্তা বলেন, কর্তা ছাড়া অফিস হলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। বিপিসি ও অধীনস্থ কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। কর্মকর্তারা অনেক ক্ষেত্রে একে অপরের নির্দেশনা বা মতামত গুরুত্ব দিচ্ছেন না। এতে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও কার্যক্রমের গতি দুইই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জানা গেছে, অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা মো. রেজানুর রহমান গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিপিসির চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেন। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা কারণে দেশে ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে দেশের জ্বালানি খাতে অস্থিরতা তৈরি হয়। মার্চ ও এপ্রিল মাসে পুরোটা সময় দেশের জ্বালানি খাতে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। অথচ এমন সংকটেও সরেজমিন চট্টগ্রামে যাননি তিনি। সবশেষ গত ৬ মে চট্টগ্রাম ভ্রমণে যান এ শীর্ষ কর্মকর্তা। চট্টগ্রামে তার সংক্ষিপ্ত ভ্রমণের সময়সূচি তৈরি হয়। আর ওই সূচি প্রণয়ন করা হয়েছে চট্টগ্রামের প্রধান কার্যালয় থেকে। এটি নিয়ে তেল সেক্টরের কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হয়। এছাড়া বিপিসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে পরিচালক (অর্থ) নাজনীন পারভীন গত রমজান মাসে মাত্র একদিনের জন্য চট্টগ্রামে অফিস করেছেন। পরিচালক (বিপণন) মো. সাবেত আলী, পরিচালক (অপারেশন্স) এ কে এম সামছুল হক এবং পরিচালক (পরিকল্পনা) মুহাম্মদ আসাদুল হক গত ৬ ও ৭ মে চট্টগ্রামে অফিস করেছেন। যদিও বিপিসির চট্টগ্রামে প্রধান কার্যালয়ে চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের জন্য সুপরিসর ও অত্যাধুনিক অফিস কক্ষ বরাদ্দ রয়েছে। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এসব কক্ষের অধিকাংশই তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন কক্ষগুলো ব্যবহার না হয়ে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় সেখানে কার্যত প্রশাসনিক স্থবিরতার চিত্র ফুটে উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এসব অবকাঠামো ব্যবহারের পরিবর্তে ঢাকাকেন্দ্রিক অফিস সংস্কৃতি বজায় রাখার কারণে চট্টগ্রামের প্রধান কার্যালয় অনেকটাই আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এ বিষয়ে বিপিসির অধীনস্থ রাষ্ট্রায়ত্ত একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ঢাকাপোস্টকে বলেন, বিপিসির চেয়ারম্যান স্যার থেকে শুরু করে কেউ চট্টগ্রামে আসেন না। নিয়মিত আমাদের কোম্পানির লোকজনকে ফাইল-পত্র নিয়ে ঢাকায় যেতে হয়। অথচ চেয়ারম্যান স্যার এবং পরিচালকরা সপ্তাহে দুয়েকদিন করে চট্টগ্রামে সময় দিলে কাজ অনেক সহজ হত। উল্টো এখন প্রধান কার্যালয় ঢাকায় নেয়ার আলোচনা তেল সেক্টরের সবকিছু চট্টগ্রামে হলেও বিপিসি কর্তারা এখন উল্টো প্রধান কার্যালয় ঢাকায় স্থানান্তরের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও এ নিয়ে স্বয়ং বিপিসি ও তার অধীনস্থ কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তারা বিরোধিতা শুরু করেছেন। বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, সরকারের বিকেন্দ্রীকরণ নীতির অংশ হিসেবে ১৯৯০ সালের ৪ মার্চ তৎকালীন সরকার বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা হয়েছিল। কারণ, বিপিসির মূল কার্যক্রম ও এর অধীন অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশ কার্যক্রম চট্টগ্রামকেন্দ্রিক। বর্তমানে বিপিসির প্রধান দায়িত্ব বিদেশ থেকে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করা। আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেল ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করা হয় এবং পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েলের মাধ্যমে দেশব্যাপী সরবরাহ করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান স্থাপনা চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত। এছাড়া আমদানিকৃত পরিশোধিত জ্বালানি তেলও চট্টগ্রামে সংরক্ষণ করে দেশের বিভিন্ন ডিপোতে পাঠানো হয়। বিপিসির আমদানিকৃত জ্বালানি তেল চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে খালাস করা হয় এবং বিপিসির অধীন আটটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ও চট্টগ্রামে অবস্থিত। ফলে প্রধান কার্যালয় ঢাকায় সরিয়ে নেয়া হলে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তদারকি জটিল হয়ে পড়বে এবং সার্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে বাস্তবায়ন করা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্প। গভীর সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে জ্বালানি তেল আমদানির জন্য এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। একই এলাকায় আধুনিক ট্যাংক টার্মিনাল ও এলপিজি টার্মিনাল নির্মাণের কার্যক্রমও চলছে। চট্টগ্রাম ও মাতারবাড়ীকেন্দ্রিক এসব অবকাঠামো সরেজমিনে তদারকির জন্য প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে থাকা জরুরি। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম আইন ২০১৬-এর ৫(১) ধারায় বিপিসির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে থাকবে বলে উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, প্রধান কার্যালয় ঢাকায় স্থানান্তর করা হলে চট্টগ্রামে থাকা বিপিসির মূল্যবান জমি ও স্থাপনা বেহাত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান কার্যালয়ও ঢাকায় সরিয়ে নেয়ার চাপ সৃষ্টি হতে পারে, যা সময়সাপেক্ষ ও জটিল প্রক্রিয়া। অতীতেও কয়েকবার বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এদিকে জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধি অনুসারে ১২ মে ২০২৬ তারিখে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী সংসদে একটি নোটিশ দেন। সেখানে তিনি জনস্বার্থে বিপিসির প্রধান কার্যালয় পুনরায় ঢাকায় স্থানান্তর এবং সেখানে স্বতন্ত্র ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ওই নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে মতামত চাওয়া হয়। এরপর থেকেই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে এবং চট্টগ্রামে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। চট্টগ্রামে নিজস্ব ভবন নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে বিপিসির কার্যক্রম শিপিং কর্পোরেশনের ভবনে ভাড়ায় চলছে। তবে চট্টগ্রাম নগরের জয়পাহাড়ে বিপিসির প্রধান কার্যালয়ের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। এর আগে সেখানে ২০ তলা নান্দনিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। ২০২১ সালে তৎকালীন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের আপত্তির মুখে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সেখানে আবারও প্রধান কার্যালয়ের জন্য প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়তলা স্থায়ী ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ বিষয়ে বিপিসির জানতে বিপিসির চেয়ারম্যানকে কয়েকদিন ধরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। আর সংস্থাটির সচিব শাহিনা সুলতানার সঙ্গে তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী বলেন, দেশের জ্বালানি খাতের প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম হলেও বিপিসির কয়েকজন ‘রাজাদের’ ঢাকায় বসে কার্যক্রম পরিচালনা করাটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে করে অধীনস্থ কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তাদের ছোটখাটো কাজেও ঢাকায় যেতে হচ্ছে। তাদের যাতায়াতে বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হচ্ছে। যে দেশের সাধারণ মানুষ স্বল্পমূল্যে টিসিবির পণ্য কিনতে ট্রাকের পেছনে দৌড়ায়, সে দেশের কর্তাদের এমন বিলাসিতা কাম্য নয়। আবার কর্তাদের অনুপস্থিতিতে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমও দুর্বল হয়ে পড়ছে। যেখানে তেল খালাস, সংরক্ষণ, পরিশোধন ও সরবরাহের পুরো অবকাঠামো চট্টগ্রামকেন্দ্রিক, সেখানে বিপিসির শীর্ষ কর্তাদের ঢাকায় বসে কার্যক্রম চালানোটা একেবারে অযৌক্তিক। তিনি আরও বলেন, এখন আবার তাদের সুবিধার জন্য বিপিসির কার্যালয় ঢাকায় নেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এটি সরকারের বিকেন্দ্রীকরণ নীতিরও পরিপন্থি। দ্রুত শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়মিত চট্টগ্রামে অফিস নিশ্চিত এবং প্রধান কার্যালয় ঢাকায় স্থানান্তরের যেকোনো উদ্যোগ থেকে সরে আসার দাবি জানাচ্ছি। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, এখন আসলে দাবি কাদের জানাব। সবাই তো ভোগবিলাসে ব্যস্ত। তাদের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা কর্তারাও দেখবেন আরও দুর্নীতিগ্রস্থ।
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ২৩ গ্রামের মানুষ আজ বুধবার (২৭ মে) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন। এ উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঈদের জামাত আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। জানা গেছে, উপজেলার বাংলা বাজার এলাকার গিরদাইন পশ্চিমপাড়া, নয়াপুর, গনকবাড়ী, গজারিয়া পাড়া, কোনাবাড়াসহ ২৩ গ্রামের মুসল্লিরা প্রতি বছরের মতো এবারও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন। গিরদাইন পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে সকাল ৮টায় প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সকাল সাড়ে ৮টায় নয়াপুর, গনকবাড়ী, গজারিয়া পাড়া ও কোনাবাড়া এলাকায় পৃথক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। উপজেলার বাংলা বাজার এলাকার গিরদাইন পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের সভাপতি খন্দকার রিয়াজউদ্দীন মাস্টার বলেন, “আমরা প্রতি বছর সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম রোজা রাখাসহ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করে থাকি। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঈদ জামাত আয়োজনের সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। মুসল্লিদের জন্য নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নয়াপুর গ্রামের জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা কামরুজ্জামান বলেন, “আমরা প্রায় ২০ পরিবার প্রতি বছর সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ উদযাপন করে আসছি। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও আজ ঈদুল আজহা উদযাপন করব।