আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ভারতের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করেছে। দুই ফরম্যাটের দলেই অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন হাশমতউল্লাহ শহিদি।
দলে নিয়মিত তারকা ব্যাটার রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও অলরাউন্ডার আজমতউল্লাহ ওমরজাইকে রাখা হয়েছে। তবে লেগ স্পিনার রশিদ খানকে শুধু ওয়ানডে সিরিজের জন্য বিবেচনা করা হয়েছে, টেস্ট স্কোয়াডে তিনি নেই।
ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ৬ থেকে ১০ জুন নিউ চণ্ডীগড়ে। এরপর ১৪ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ হবে ধর্মশালা, লখনৌ ও চেন্নাইয়ে।
আফগানিস্তানের টেস্ট দল
হাশমতউল্লাহ শহিদি (অধিনায়ক), আবদুল মালিক, সেদিকুল্লাহ আতাল, রহমত শাহ, রহমানউল্লাহ গুরবাজ, রহমানউল্লাহ জাদরান, আফসার জাজাই, ইকরাম আলিখিল, আজমতউল্লাহ ওমরজাই, শরাফুদ্দিন আশরাফ, নাঙ্গিয়াল খারোটাই, কাইস আহমেদ, বিলাল সামি, জিয়া শরিফি ও সালিম সাফি।
রিজার্ভ খেলোয়াড়: বশির আহমেদ, বাহির শাহ ও ইসমত আলম।
আফগানিস্তানের ওয়ানডে দল
হাশমতউল্লাহ শহিদি (অধিনায়ক), রহমানউল্লাহ গুরবাজ, ইব্রাহিম জাদরান, সেদিকুল্লাহ আতাল, দারবিশ রাসুলি, রহমত শাহ, ইকরাম আলিখিল, মোহাম্মদ নবী, আজমতউল্লাহ ওমরজাই, রশিদ খান, নাঙ্গিয়াল খারোটাই, এএম গাজানফার, জিয়া উর রহমান শরিফি, ফারিদ মালিক ও বিলাল সামি।
রিজার্ভ খেলোয়াড়: কাইস আহমেদ, সালিম সাফি ও বশির আহমেদ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড শেষ পর্যন্ত কিলিয়ান এমবাপেরই হতে পারে। তবে আপাতত হয়তো ওই রেকর্ড কিছু দিন লিওনেল মেসিরই থাকতে পারে। অন্তত তেমনটাই মনে করছেন ফ্রান্স অধিনায়ক এমবাপে। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সোমবার রাতে ইরাকের মুখোমুখি হবে গত দুই আসরের ফাইনালিস্ট ফ্রান্স। এর আগে সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোল নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মেসির প্রসঙ্গ টানেন এমবাপে। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করেন গত আসরের গোল্ডেন বুট জয়ী এমবাপে। পরে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক মেসি। এক সময়ে পিএসজিতে এক সঙ্গে খেলা সতীর্থ যে এই আসরেও সাফল্য পাবেন, তা নিয়ে নিশ্চিত ছিলেন এমবাপে। “আমি জানতাম যে লিও মেসি গোল করবেনই। তিনি সময়ই গোল করেন। এই প্রশ্নটা তাই লিওর জন্য।” “তিনি আমার চেয়ে এগিয়ে, আমি পেছনে। দলকে যতটা সম্ভব এগিয়ে যেতে সাহায্য করার জন্য আমি গোল করে যাব। বিশ্বকাপে ১৬ গোল করে মিরোস্লাভ ক্লোসার সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে লিওনেল মেসি, ১৪ গোল করে যৌথভাবে তিন নম্বরে আছেন কিলিয়ান এমবাপে। ১৫ গোল করে দুই নম্বরে আছে ব্রাজিলের সাবেক স্ট্রাইকার রোনালদো।
ফুটবল মাঠে লিওনেল মেসি বা আর্জেন্টিনা দল নামলেই কোটি কোটি ভক্তের চোখ আটকে থাকে তাদের পায়ের জাদুতে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মাঠের ফুটবলের পাশাপাশি আলবিসেলেস্তেদের পায়ের জুতো বা বুট নিয়েও তৈরি হয়েছে তুমুল কৌতুহল। দলের প্রায় সব খেলোয়াড়ের পায়েই জ্বলজ্বল করছে একই রকম উজ্জ্বল গোলাপি রঙের বুট। কিন্তু একটু ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, সবার জুতো গোলাপি হলেও অধিনায়ক লিওনেল মেসির পায়ের বুটের রঙ কিন্তু আলাদা, তার জুতোটি মূলত সাদা রঙের। অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে দলের সবার জুতোর রঙ এক হলেও মেসির জুতো কেন আলাদা এবং বাকিদের রঙই বা হুট করে গোলাপি হয়ে গেল কেন? রহস্যটা আসলে কোনো নিয়ম বা কুসংস্কার নয়, বরং আধুনিক ফুটবল বিপণন ও স্পন্সরশিপের এক দারুণ চমক। এর প্রথম কারণ হলো স্পন্সর প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসের বিশেষ টুর্নামেন্ট থিম। আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের অফিশিয়াল কিট বা জার্সি স্পন্সর হলো বিশ্ববিখ্যাত স্পোর্টস ব্র্যান্ড অ্যাডিডাস। লিওনেল মেসি, রদ্রিগো দি পল, হুলিয়ান আলভারেজ, এনজো ফার্নান্দেজের মতো দলের অধিকাংশ তারকা খেলোয়াড় ব্যক্তিগতভাবেও অ্যাডিডাসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট বা নতুন মৌসুম সামনে রেখে অ্যাডিডাস তাদের আইকনিক বুটের একটি বিশেষ কালার কম্বিনেশন বাজারে ছাড়ে। এবারের টুর্নামেন্টে সাধারণ খেলোয়াড়দের জন্য তাদের মূল থিম কালারই হলো এই উজ্জ্বল গোলাপি। যেহেতু দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড় একই ব্র্যান্ডের বুট পরেন, তাই মাঠে নামলে সবার জুতো একই রঙের দেখায়। ফুটবল মাঠে সবুজ ঘাসের ওপর এই উজ্জ্বল গোলাপি বা নিয়ন রঙগুলো টেলিভিশনের পর্দায় কিংবা গ্যালারি থেকে খুব দ্রুত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, যা ব্র্যান্ডগুলোর একটি বড় মার্কেটিং কৌশল। তবে প্রশ্ন থাকে, সবার জুতো গোলাপি হলেও মেসির বুট কেন সাদা? লিওনেল মেসি যেহেতু অ্যাডিডাসের সর্বকালের সবচেয়ে বড় গ্লোবাল আইকন এবং অ্যাম্বাসেডর, তাই তার জন্য সবসময় সম্পূর্ণ আলাদা এবং বিশেষ সংস্করণের বুট তৈরি করা হয়। সাধারণ খেলোয়াড়রা টুর্নামেন্টের মূল বা রেগুলার প্যাকের গোলাপি জুতো পরলেও, মেসির জন্য অ্যাডিডাস বাজারে এনেছে স্পেশাল ‘মেসি এডিশন’ বুট, যার রঙ সাদা ও হালকা নীলচে আভাযুক্ত। শুধু রঙের দিক থেকেই নয়, এই সাদা বুটের ওপর অ্যাডিডাসের লোগোর পাশাপাশি মেসির নিজস্ব ব্র্যান্ড লোগো ‘M’ খোদাই করা থাকে। এছাড়া তাঁর জুতোয় তার আইকনিক ১০ নম্বর জার্সি এবং তার সন্তানদের নামও বিশেষ প্রযুক্তি দিয়ে লেখা থাকে। মাঠে জুতোর রঙ গোলাপি হোক বা সাদা, কোটি ভক্তের প্রত্যাশা এই জুতোর জাদুতেই মেসি আর আর্জেন্টিনা মেতে উঠবে চেনা ছন্দের গোল উৎসবে।
বিশ্বকাপে তীব্র গরম ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চালু হওয়া অতিরিক্ত ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। তবে সময়ের সঙ্গে সবাই এ নিয়মের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে বলেও মনে করেন তিনি। সোমবার (২২ জুন) রাতে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, খেলার মাঝখানে অতিরিক্ত বিরতি অনেক সময় ম্যাচের পরিকল্পনা ও গতি পরিবর্তন করে দিতে পারে। তিনি বলেন, “বিরতির সময় কোচিং স্টাফ ম্যাচ বিশ্লেষণ করে এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ফলে ম্যাচের পরিস্থিতিও বদলে যেতে পারে। বিষয়টি এখনও আমাদের কাছে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনি, তবে ভবিষ্যতে সবাই মানিয়ে নেবে বলে মনে করি।” প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে অস্ট্রিয়াও জর্ডানকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে রয়েছে। ফলে আসন্ন ম্যাচটি সহজ হবে না বলে মনে করছেন স্কালোনি। অস্ট্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, “তাদের দলে বেশ কয়েকজন মানসম্পন্ন খেলোয়াড় রয়েছে। তারা দ্রুতগতির ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে এবং প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম। তাই ম্যাচটি আমাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে।” স্কালোনির মতে, বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠিন। দল বাড়লেও প্রতিযোগিতার মান কমেনি। বরং প্রতিটি দলই নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে কয়েকটি অপ্রত্যাশিত ফল দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত শক্তিশালী দলগুলোই নিজেদের অবস্থান ধরে রাখবে বলে বিশ্বাস করেন আর্জেন্টিনা কোচ। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আর্জেন্টিনার দুর্বল দিকগুলো প্রতিপক্ষ সহজে খুঁজে বের করতে পারবে না।