টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এবার খেলছে না বাংলাদেশ। সরকারি সিদ্ধান্তে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে পাঠাতে রাজি হয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বাংলাদেশ না খেললেও বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য দেখার সুযোগ থাকছে। বিশ্বকাপের প্রস্তুতিপর্বের ম্যাচগুলো কোন দেশে কোন কোন চ্যানেলে দেখাবে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) আজ সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।
বাংলাদেশে ম্যাচগুলো টিএসএম ও র্যাবিটহোলবিডি অ্যাপের মাধ্যমে দেখা যাবে। বাংলাদেশি মালিকানাধীন টিএসএম দেশের বাইরে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় সিরিজ ও আইসিসি ইভেন্টের ম্যাচগুলো বাংলাদেশে সম্প্রচার করে থাকে। আর র্যাবিটহোল বিডি অ্যাপ মূলত সম্প্রচারক চ্যানেল গাজী টিভির ইউটিউব চ্যানেল।
এবারের বিশ্বকাপের আয়োজক ভারত ও শ্রীলঙ্কা প্রস্তুতিপর্বের হাতেগোনা কয়েকটা ম্যাচ সম্প্রচার করবে নিজ নিজ দেশে। যার মধ্যে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ ভারতে সম্প্রচার করবে স্টার স্পোর্টস ও জিও হটস্টার। আজ শুরু হওয়া আফগানিস্তান-স্কটল্যান্ড ম্যাচসহ কিছু ম্যাচ ভারতে জিও হটস্টারে লাইভ স্ট্রিমিং করা হবে। পুনঃপ্রচার করা হবে আইসিসি টিভিসহ আইসিসির বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। শ্রীলঙ্কায় ডায়লগ প্লে ও দ্য প্যাপারে চ্যানেলে লাইভ স্ট্রিমিং করা হবে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ।
আজ থেকে শুরু হওয়া প্রস্তুতিপর্ব শেষ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি। বেঙ্গালুরুতে আজ প্রস্তুতিপর্বের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলছে স্কটল্যান্ড। বাংলাদেশ নাম প্রত্যাহার করায় মূলত স্কটল্যান্ড সুযোগ পেয়েছে বিশ্বকাপে। স্কটিশরা বাছাইপর্বে দুই ম্যাচ খেলবে। পরবর্তী ম্যাচে ৪ ফেব্রুয়ারি তাদের প্রতিপক্ষ নামিবিয়া। প্রস্তুতি পর্বে ভারত, ভারত ‘এ’—ভারতের এই দুটি খেলবে। শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দল খেলবে ওয়ার্মআপ পর্বে। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে ২৬২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।
কোন দেশে কারা সম্প্রচার করবে :
বাংলাদেশ
টিএসএম, র্যাবিটহোল বিডি
ভারত
জিও হটস্টার:
ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা
আইসিসি টিভি, আইসিসি প্ল্যাটফর্ম:
আফগানিস্তান-স্কটল্যান্ড, ভারত ‘এ’-সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা-ইতালি, নেপাল-আরব আমিরাত, আফগানিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান-আয়ারল্যান্ড, নেপাল-কানাডা, নিউজিল্যান্ড-যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি-আরব আমিরাত, নামিবিয়া-ভারত ‘এ’
শ্রীলঙ্কা
দ্য প্যাপারে, ডায়লগ প্লে:
আফগানিস্তান-স্কটল্যান্ড, ভারত ‘এ’-সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা-ইতালি, নেপাল-আরব আমিরাত, আফগানিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান-আয়ারল্যান্ড, নেপাল-কানাডা, নিউজিল্যান্ড-যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি-আরব আমিরাত, নামিবিয়া-ভারত ‘এ’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ফুটবল মাঠে অসাধারণ সাফল্যের পর এবার কোচ হিসেবে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন স্প্যানিশ কিংবদন্তি আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার শেষ করার দুই বছর পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লাব গালফ ইউনাইটেডের প্রধান কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। এটাই ইনিয়েস্তার কোচিং জীবনের প্রথম আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব। নতুন ক্লাবে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করার জন্য গালফ ইউনাইটেডকে উপযুক্ত জায়গা বলে মনে হয়েছে তার। তরুণ ফুটবলারদের সঙ্গে কাজ করে তাদের বিকাশে ভূমিকা রাখাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য। ইনিয়েস্তার মতে, একজন ভালো ফুটবলার গড়ে তুলতে প্রয়োজন ধৈর্য, পরিষ্কার পরিকল্পনা এবং খেলোয়াড়দের প্রতি আন্তরিক মনোযোগ। তিনি বিশ্বাস করেন, গালফ ইউনাইটেডও একই ধরনের ফুটবল দর্শন অনুসরণ করে, যা তাকে ক্লাবটির সঙ্গে যুক্ত হতে অনুপ্রাণিত করেছে। নতুন দায়িত্বের পাশাপাশি কোচিংয়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রো লাইসেন্স অর্জনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন এই সাবেক মিডফিল্ডার। ২০২৪ সালে পেশাদার ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এমিরেটস ক্লাবের হয়ে খেলেছিলেন ইনিয়েস্তা। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি নিজেকে আধুনিক ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও সফল মিডফিল্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বার্সেলোনার হয়ে তিনি চারটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও নয়টি লা লিগা শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। ক্লাব ফুটবলের পাশাপাশি স্পেন জাতীয় দলের হয়েও ছিলেন সমান সফল। দুটি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ ও ২০১০ বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালে তার করা একমাত্র গোলেই প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। অবসরের সময় কোচিংয়ে আসার ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছিলেন ইনিয়েস্তা। তবে সময়ের সঙ্গে সেই সিদ্ধান্ত বদলে গেছে। এখন কোচ হিসেবে ফুটবলে নতুন যাত্রা শুরু করতে প্রস্তুত তিনি। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত গালফ ইউনাইটেড বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ্বিতীয় স্তরের লিগে অংশ নেয়। গত মৌসুমে দলটি দশম স্থানে থেকে লিগ শেষ করেছিল। ইনিয়েস্তার নেতৃত্বে এবার নতুন স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে সামনে এগোতে চায় ক্লাবটি।
শিউলি আজিমের মা বাসনা আজিম পাড়ি দিয়েছেন না ফেরার দেশে। অভিজ্ঞ ডিফেন্ডারের দুঃসময়ে তার পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সতীর্থরা। বাতিল করা হয়েছে সকালের অনুশীলন সেশন। উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বুধবার সেমি-ফাইনালে নেপালের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এর আগের দিন ব্যাম্বোলিম অ্যাথলেটিক ক্লাব মাঠে সকাল ৭টা থেকে অনুশীলনের কথা ছিল মনিকা-মারিয়াদের। কিন্তু ভোরে আসে শিউলির মা মারা যাওয়ার দুঃসংবাদ। বাংলাদেশের গত দুটি সাফ জয়ে রক্ষণে নির্ভরতা ছিলেন শিউলি। হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের মিশনে ভারতের গোয়ায় আসা দলের সবচেয়ে বয়সী খেলোয়াড় তিনি। বুকের ব্যথার জন্য মালদ্বীপের বিপক্ষে ৪-২ গোলে জয় পাওয়া ম্যাচে খেলতে পারেননি শিউলি। ভারত ম্যাচের আগে অনুশীলনে ফেরেন তিনি। তবে, ৩-০ ব্যবধানে হেরে যাওয়া ম্যাচেও তাকে খেলাননি কোচ পিটার জেমস বাটলার। গত দুই আসরের ফাইনালে নেপালকে তাদের মাঠেই হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন নির্বাচন ঘিরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে আসছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) একটি প্রতিনিধিদল। রোববার (৩১ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি এই তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আইসিসির প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসতে পারে। সফরকালে দলটি নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় করবে এবং নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে আইসিসি বোর্ডকে অবহিত করবে। যদিও আইসিসির সফরসূচি কিংবা প্রতিনিধিদলের সদস্যদের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধিদের এই সফরকে বিসিবির নির্বাচন ঘিরে চলমান পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত বলেই মনে করা হচ্ছে। একই বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছে, আইসিসি বোর্ড এবং আইসিসি বিজনেস কর্পোরেশন (আইবিসি) বোর্ডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের মনোনয়ন দেওয়া হবে বিসিবির নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর। আগামী ৭ জুন বিসিবির নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। বিসিবির বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেশ আলোচিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই দফা বোর্ডে রদবদল হয়েছে। বর্তমানে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন অ্যাডহক কমিটি বোর্ড পরিচালনা করছে। আগামী ৭ জুন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন বোর্ড গঠিত হবে। আইসিসির সংবিধান অনুযায়ী, সদস্য দেশের ক্রিকেট বোর্ড পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। এ কারণে কোনো দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তন বা নির্বাচন হলে আইসিসি পরিস্থিতির ওপর নজর রাখে। জানা গেছে, আইসিসির প্রতিনিধিদলের এই সফর বিসিবির নির্বাচন প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের বিষয়গুলো মূল্যায়নে সহায়ক হতে হবে। প্রতিনিধিদলের পর্যবেক্ষণ ও মতামত পরবর্তীতে আইসিসি বোর্ডের আলোচনাতেও গুরুত্ব পেতে পারে। এ দিকে ৭ জুন নির্বাচন শেষ হওয়ার পরই আইসিসি বোর্ড ও আইসিসি বিজনেস কর্পোরেশন বোর্ডে বাংলাদেশের নতুন প্রতিনিধিদের মনোনয়নের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছে বিসিবি।