আন্তর্জাতিক গণপরিবহন সংস্থা ইউআইটিপি জানিয়েছে, দুবাই এমন একটি শহর যা ভবিষ্যতের নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। ২০২৬ সালে ইউআইটিপি-এর বৈশ্বিক সম্মেলন দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে।
ইউআইটিপি-এর সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ মেজঘানি বলেন, দুবাইয়ের উন্নয়ন দর্শনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও শক্তশালী নেতৃত্ব। দুবাই একসময় ব্যক্তিগত গাড়িনির্ভর ছিল। তবে এখন গণপরিবহনকে নগর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।
তিনি জানান, দুবাইয়ের রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (আরটিএ) সঙ্গে ইউআইটিপি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। এই সময়ে দুবাইয়ে মেট্রো, বাস ও অন্যান্য গণপরিবহন ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তাই এই অগ্রগতির স্বীকৃতি হিসেবে দুবাইয়ে সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে।
মেজঘানি বলেন, দুবাই শুধু দ্রুত উন্নয়নশীল শহর নয়, বরং আধুনিক ও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। স্বয়ংক্রিয় যানবাহন, স্মার্ট প্রযুক্তি ও বড় আকারের গণপরিবহন প্রকল্প এর উদাহরণ।
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের অনেক দেশ এখন গণপরিবহন খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
২০২৬ সালের সম্মেলন ইউআইটিপির জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ বছর সংস্থাটি ১৪০ বছর পূর্তি উদযাপন করবে। মেজঘানির মতে, দুবাই অতীত ও ভবিষ্যতের গণপরিবহন ভাবনাকে একসঙ্গে তুলে ধরার উপযুক্ত শহর।
ব্যক্তিগতভাবে ইউআইটিপি সম্মেলন তার কাছে মানুষের জন্য কাজ করার একটি বড় প্ল্যাটফর্ম বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার আশা, দুবাইয়ে আয়োজিত সম্মেলনটি হবে শিক্ষণীয়, অনুপ্রেরণাদায়ক এবং আনন্দময়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতকে একটি অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। এই যুদ্ধ মোকাবিলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আলোচনার ক্ষেত্রে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে একটি ‘নির্দলীয়’ বা অরাজনৈতিক পন্থা অবলম্বনের জোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফ সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্যই হলো ইরানকে খণ্ডিত বা বিভাজিত করা। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অস্তিত্ব রক্ষার এই লড়াইয়ে টিকে থাকতে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির সঠিক ও সুনির্দিষ্ট সমাধানে পৌঁছানোর জন্য জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে একটি ঐক্যবদ্ধ ও নির্দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। সংঘাত ও কূটনীতির দ্বৈত নীতির ওপর জোর দিয়ে গালিবাফ ইরানি নাগরিকদের নিজেদের সশস্ত্র প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। তবে শুধুই সামরিক প্রতিরোধ নয়, বরং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চে তুলে ধরতে এবং তা সুসংহত করতে সশস্ত্র লড়াইয়ের পাশাপাশি কূটনীতি ও আলোচনার মতো রাজনৈতিক হাতিয়ারগুলোকেও সমানভাবে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন ইরানের এই জ্যেষ্ঠ নেতা। সূত্র:আল-জাজিরা।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে এবং অভিবাসনবিরোধী অভিযান চলাকালে মেক্সিকান নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে আইনি পদক্ষেপ শুরু করেছে মেক্সিকো। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আলজাজিরার। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্বে ফেরার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন অভিযান বা আইসিই হেফাজতে ১৭ জন মেক্সিকান নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে মেক্সিকোর দাবি। এ ঘটনায় মেক্সিকো বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রসিকিউটরদের কাছে অভিযোগ দায়ের শুরু করেছে। পাশাপাশি যেসব আটককেন্দ্রে মেক্সিকান নাগরিকদের মৃত্যু হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। প্রথম নোটিশ পাঠানো হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাডেলান্টো ডিটেনশন সেন্টারে, সেখানে চারজন মেক্সিকান নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে মেক্সিকো। মেক্সিকোর অভিযোগ, চিকিৎসাসেবা দিতে বিলম্ব এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আটকনীতি এসব মৃত্যুর জন্য ভূমিকা রাখতে পারে। তাই এসব কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে নোটিশে। এ ছাড়া ওয়াশিংটনে অবস্থিত মেক্সিকান দূতাবাসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগেও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে দেশটির কনস্যুলার নেটওয়ার্ক ভুক্তভোগীদের মামলা অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের প্রসিকিউটরদের কাছে উপস্থাপনে সহায়তা করছে। মেক্সিকোর উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্তো ভেলাস্কো আলভারেজ জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের কাছেও চিঠি পাঠিয়েছেন। এতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে তথ্য চাওয়া এবং ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা তদন্তের আহ্বান জানান। গত ৭ জুলাই টেক্সাসের হিউস্টনে আইসিইর এক অভিযানে মেক্সিকান নাগরিক লোরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। সোমবার তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মেক্সিকানদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় মেক্সিকো নীরব থাকতে পারে না। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, মেক্সিকো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সংঘাত চায় না; বরং মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে।
ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা তাদের চলমান ‘সায়েকেহ’ অভিযানের অষ্টম ধাপ শুরু করেছে। এ পর্যায়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে নতুন করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়। এ দাবির ভিত্তিতে বুধবার আলজাজিরা খবর প্রকাশ করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমান এবং বড় আকারের সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের দাবি, ওই ঘাঁটিতে এটি তাদের দ্বিতীয় হামলা। তবে হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি তেহরান। এদিকে, এ দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা জর্ডানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। স্বাধীন সূত্র থেকেও ইরানের এই দাবির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। সেসব হামলার জন্য ইরানকেই দায়ী করা হচ্ছে।