আন্তর্জাতিক গণপরিবহন সংস্থা ইউআইটিপি জানিয়েছে, দুবাই এমন একটি শহর যা ভবিষ্যতের নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। ২০২৬ সালে ইউআইটিপি-এর বৈশ্বিক সম্মেলন দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে।
ইউআইটিপি-এর সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ মেজঘানি বলেন, দুবাইয়ের উন্নয়ন দর্শনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও শক্তশালী নেতৃত্ব। দুবাই একসময় ব্যক্তিগত গাড়িনির্ভর ছিল। তবে এখন গণপরিবহনকে নগর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।
তিনি জানান, দুবাইয়ের রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (আরটিএ) সঙ্গে ইউআইটিপি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। এই সময়ে দুবাইয়ে মেট্রো, বাস ও অন্যান্য গণপরিবহন ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তাই এই অগ্রগতির স্বীকৃতি হিসেবে দুবাইয়ে সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে।
মেজঘানি বলেন, দুবাই শুধু দ্রুত উন্নয়নশীল শহর নয়, বরং আধুনিক ও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। স্বয়ংক্রিয় যানবাহন, স্মার্ট প্রযুক্তি ও বড় আকারের গণপরিবহন প্রকল্প এর উদাহরণ।
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের অনেক দেশ এখন গণপরিবহন খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
২০২৬ সালের সম্মেলন ইউআইটিপির জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ বছর সংস্থাটি ১৪০ বছর পূর্তি উদযাপন করবে। মেজঘানির মতে, দুবাই অতীত ও ভবিষ্যতের গণপরিবহন ভাবনাকে একসঙ্গে তুলে ধরার উপযুক্ত শহর।
ব্যক্তিগতভাবে ইউআইটিপি সম্মেলন তার কাছে মানুষের জন্য কাজ করার একটি বড় প্ল্যাটফর্ম বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার আশা, দুবাইয়ে আয়োজিত সম্মেলনটি হবে শিক্ষণীয়, অনুপ্রেরণাদায়ক এবং আনন্দময়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
আরব সাগরে অবস্থিত মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর দিকে ‘আগ্রাসীভাবে ধেয়ে আসা’ ইরানের একটি ড্রোনকে গুলি করে ভূপাতিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টম হকিনস- এর বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন থেকে উড্ডয়ন করা একটি এফ-৩৫ স্টেলথ ফাইটর জেট ড্রোনটিকে গুলি করে ভূপাতিত করে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ওই প্রতিবেদনে বিবিসি আরও জানায়, ড্রোনটি যখন এর দিকে অজানা উদ্দেশ্য নিয়ে উড়ে আসছিল তখন মার্কিন রণতরীটি ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ৫০০ মাইল দূরে অবস্থান করছিল বলে জনান ক্যাপ্টেন হকিনস। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় মার্কিন বাহিনীর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে এখনও পরিস্থিতি উত্তপ্ত। এমন সময় মার্কিন রণতরীর আশপাশে ইরানের ড্রোনের আনাগোনা নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ইরান যদি এর চলমান পারমাণবিক প্রকল্প সীমিত করতে চুক্তিতে রাজি না হয় তবে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। যেকোনো সময় তেহরানে মার্কিন হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে দেশটির প্রতিবেশীরা। এমন পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনার উদ্যোগ নেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। তিনি আলোচনা শুরু করার পর কূটনৈতিক সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এরপর চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। গত জানুয়ারিতে ইরানে সহিংস বিক্ষোভ ও কঠোর দমনপীড়নের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছায়। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে যায় যে এক পর্যায়ে ট্রাম্প হামলার হুমকি দেন। এ জন্য তিনি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী “আব্রাহাম লিংকন” এবং কিছু ডেস্ট্রয়ার জড়ো করেছেন। তবে ইরানও সরাসরি কথা বলছে না; হামলা হলে আঞ্চলিক যুদ্ধ বেধে যেতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ট্রাম্পের অব্যাহত হুমকির মুখে সংঘাত এড়াতে মধ্যস্থতার উপায় খুঁজছিল আঙ্কারা। সম্প্রতি তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে দেখা করেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরগচী। তখন ফিদান ইরানে হামলার বিরোধীতা করে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংকট সমাধানে সহায়তার আশ্বাস দেন। এরপর আঞ্চলিক সংঘাত এড়াতে তৎপরতা শুরু করেন এরদোগান। তিনি ট্রাম্পকে ফোন করে উভয় দেশের নেতাদের মধ্যে টেলিকনফারেন্সেরও ব্যবস্থা করেন। এবার আনুষ্ঠানিক আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি। স্পষ্ট ধারণা না দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য বেশ কিছু বিষয় সামনে আনা হয়েছে। এগুলো নিয়ে কাজ চলছে। শিগগিরই সিদ্ধান্ত পৌঁছানো যাবে বলে আশা করছি। এদিকে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী বাঘেরি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে আমাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অন্য কোনো দেশের হাতে তুলে দেব না। এ ধরনের গুঞ্জন স্রেফ গুজব। তেহরান কখনোই ইউরেনিয়ামের মজুদ নিয়ে আলোচনা বা চুক্তি করবে না।
ভারতের তেল কেনা নিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, ভারত এখন ইরানের পরিবর্তে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি শুরু করবে। রোববার (০১ ফেব্রুয়ারি) আলজজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। শনিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ভারত আসছে, আর তারা ইরানের বদলে ভেনেজুয়েলার তেল কিনবে। আমরা ইতোমধ্যেই এই চুক্তির প্রাথমিক পর্যায়ে পৌঁছেছি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারত দীর্ঘদিন ধরেই ইরান থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল আমদানি করছে না। ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার তেলের দাম কমে গেলে ভারত সেখান থেকে বড় আকারে তেল কিনতে শুরু করে। ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। গত আগস্টে মস্কোকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনায় বসতে বাধ্য করার অংশ হিসেবে ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, ভারতের রুশ তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করা হতে পারে। এরই মধ্যে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে চলতি বছরের মার্চে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তেল কেনা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। গত বছর ভারতকেও একই ধরনের শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। আলজাজিরা জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভেনেজুয়েলার তেল খাতের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। মার্কিন কোম্পানিগুলো সে দেশের তেল সহজে বিক্রি করতে পারে এজন্য এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, এই পদক্ষেপ ভেনেজুয়েলা থেকে বিদ্যমান তেল সরবরাহ প্রবাহে সহায়তা করবে এবং শিগগিরই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে আরও ঘোষণা আসতে পারে।