বাংলাদেশিদের অহংকার আর গৌরবের দিন ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও মেতেছেন বিজয়ের উল্লাসে। তবে এই বিজয়কে কেবল উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর গভীর তাৎপর্য ভক্তদের সামনে তুলে ধরেছেন সময়ের জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাল-সবুজ পোশাকে নিজের একটি ছবি শেয়ার করে পিয়া লিখেছেন এক আবেগঘন বার্তা। তার কাছে এই বিজয় দিবসের মাহাত্ম্য যেমন ত্যাগের, তেমনি তা কৃতজ্ঞতা প্রকাশেরও।
পিয়া তার পোস্টে লিখেছেন, ‘এই লাল সবুজ শুধু রঙ নয়, এটা রক্ত আর স্বপ্নের ইতিহাস। যাদের ত্যাগে আজ আমরা স্বাধীন, তাদের ঋণ কোনোদিন শোধ হবে না।’
তবে বিজয়ের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে এক অনন্য দর্শনের কথা বলেছেন এই তারকা। তিনি মনে করেন, বিজয় মানেই আস্ফালন নয়। তার কথায়, ‘বিজয় মানে অহংকার নয়, বিজয় মানে মাথা নত করে কৃতজ্ঞ হওয়া।’
দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করা বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শ্রদ্ধায় শহীদদের, ভালোবাসায় বাংলাদেশ। শুভ বিজয় দিবস।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নতুন বছর, নতুন লুক—এ বার্তাই দিলেন বলিউড অভিনেত্রী ও মডেল মালাইকা অরোরা। ২০২৬ সালের শুরুতেই নতুন হেয়ারকাটে ধরা দিলেন তিনি। ইনস্টাগ্রামে নিজের কয়েকটি ছবি শেয়ার করে মালাইকা লেখেন, ‘চপ চপ… নয়া সাল, নয়া বাল’—অর্থাৎ নতুন বছর, নতুন চুল। নতুন লুকে মালাইকাকে দেখে মুহূর্তেই মন্তব্যে ভরে যায় নেটদুনিয়া। কেউ লিখেছেন, ‘ওয়াও ওয়াও, ফায়ার’, কেউ বলেছেন, ‘স্টানিং’। আবার অনেক ভক্তই বয়সের প্রসঙ্গ টেনে মন্তব্য করেন—‘এজ ইজ জাস্ট অ্যা নাম্বার’ কিংবা ‘বিশ্বাসই হচ্ছে না, উনি ৫০-এর ওপরে।’ ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর জমকালো আয়োজনে নিজের ৫০তম জন্মদিন উদযাপন করেন মালাইকা অরোরা। সে অনুষ্ঠানের ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন তার বোন অমৃতা অরোরা, ঘনিষ্ঠ বন্ধু কারিনা কাপুরসহ অনেকে। জন্মদিনের কেকের ওপর বড় করে লেখা ছিল ‘৫০’, আর সে ছবি ছড়িয়ে পড়ে দ্রুতই। তবে এ নিয়েই পরে তৈরি হয় বিতর্ক। রেডিটে একটি পোস্টে দাবি করা হয়, মালাইকার বয়স ২০১৯ সালে ৪৬ ছিল। সে হিসেবে তার ৫২তম জন্মদিন হওয়ার কথা। যদিও এসব অনলাইন জল্পনা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি মালাইকা। বরং জন্মদিনের ছবি শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‘আমার হৃদয় ভরে গেছে। এত ভালোবাসা আর শুভেচ্ছার জন্য ধন্যবাদ। আমার ৫০-কে এতটা বিশেষ করে তোলার জন্য সবাইকে কৃতজ্ঞতা।’ ক্যারিয়ার সংক্ষেপ মালাইকা অরোরা তার ক্যারিয়ার শুরু করেন টেলিভিশন হোস্ট হিসেবে—ক্লাব এমটিভি, লাভ লাইন ও স্টাইল চেক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। পরে মডেলিং জগতে প্রবেশ করে বাল্লি সাগুর জনপ্রিয় অ্যালবাম গান গুর নালো ইশক মিঠা -তে দেখা যায় তাকে। বলিউডে তার অভিষেক হয় শাহরুখ খান ও মানিশা কৈরালার ছবি ‘দিল সে’-এর আইকনিক গান ছাইয়া ছাইয়া -এর মাধ্যমে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি দীপাবলিতে মুক্তি পাওয়া ছবি থামেলা-তে একটি নৃত্য পরিবেশনেও অংশ নেন।
মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ জয় করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের নাম উজ্জ্বল করা তানজিয়া জামান মিথিলা এবার শুধু র্যাম্প বা ক্রাউনেই সীমাবদ্ধ নন। সম্প্রতি জনপ্রিয় এক পডকাস্ট -এর অতিথি হয়ে তিনি খুলে বলেছেন নিজের সাবেক ও বর্তমান প্রেমের অজানা গল্প, আর সেই সঙ্গে ছুড়ে দিয়েছেন বড় পর্দায় নায়িকা হিসেবে তার অভিষেকের ঘোষণা। থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ‘মিস ইউনিভার্স ২০২৫’-এ সেরা ৩০-এর মধ্যে ১২তম স্থান অধিকার করে আলোচনায় আসা এই তারকা জানান, সিনেমার জন্য সব কথাবার্তা চূড়ান্ত। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে আসবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। আগে ওটিটির জন্য নির্মিত ‘রোহিঙ্গা’ সিনেমায় কাজ করলেও অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে আরও ভাঙতে চান মিথিলা। পডকাস্টে নিজের সীমাবদ্ধতা নিয়ে অকপটে তিনি বলেন, অভিনেত্রী হিসেবে আমার অনেক ধরনের সীমাবদ্ধতা আছে। আমি এখনো নায়িকাদের মতো নাচতে পারি না। তবে আমি একজন অভিনেত্রী হওয়ার জন্য যা যা জানা দরকার, সব কিছুই জানতে চাই, শিখতে চাই। মডেলদের অভিনয় দক্ষতা নিয়ে প্রচলিত ধারণা প্রসঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, অনেকে বলেন, মডেলরা অভিনয় পারেন না। কিন্তু যারা আজ সুপ্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী, তাদের মধ্যেও অনেকে শুরুতে অভিনয় পারতেন না। তাদের সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পেছনে দীর্ঘ সময় পাড়ি দিতে হয়েছে। মডেলরাও লেগে থাকলে ভালো অভিনয় করতে পারবে। জেড আই ফয়সাল প্রযোজিত এবং রুম্মান রশীদ খানের সঞ্চালনায় এই পর্বটি আগামী শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টায় মাছরাঙা টেলিভিশন এবং রেডিও দিনরাত ৯৩.৬ এফএম-এ প্রচারিত হবে।
সময়টা যেন ভালো যাচ্ছে না দক্ষিণী সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের, একের পর এক সমস্যার মুখে পড়ছেন। সিনেমা ও রাজনীতি—দু’দিকেই ব্যস্ত এই অভিনেতা এবার জড়ালেন কর ফাঁকির মামলায়। কর ফাঁকির অভিযোগে অভিনেতার ওপর আরোপিত ১ কোটি ৫০ লাখ রুপির জরিমানা বহাল রেখেছে মাদ্রাজ হাইকোর্ট। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি সেন্থিলকুমার রামমূর্তি এই সংক্রান্ত মামলায় বিজয়ের করা রিট আবেদন খারিজ করে দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে আয়ের তথ্য গোপনের অভিযোগে আয়কর বিভাগ যে জরিমানা করেছিল, তা আইন অনুযায়ীই করা হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে আয়কর বিভাগের পক্ষ থেকে বিজয়ের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। সেই সময় তদন্তে উঠে আসে, ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে বিজয় আয়কর রিটার্নে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ রুপি আয় দেখালেও, ছবি ‘পুলি’ থেকে পাওয়া প্রায় ১৫ কোটি রুপির আয় সেখানে উল্লেখ করা হয়নি। আয়কর বিভাগ একে গোপন আয় হিসেবে চিহ্নিত করে। পরে ২০১৮ সালে ওই আয়ের বিপরীতে ১ কোটি ৫০ লাখ রুপি জরিমানা আরোপ করা হয়। এই জরিমানাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ২০২২ সালে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন বিজয়। তাঁর আইনজীবীদের দাবি ছিল, নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তাই জরিমানা অবৈধ। তবে আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি। বিচারপতি জানান, আয়কর আইনের ২৬৩ ধারা মেনেই যথাসময়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়া আইনসম্মত। ফলে আয়কর বিভাগের অর্থ আদায়ে এখন আর কোনো বাধা নেই। তবে পুরোপুরি পথ বন্ধ হয়নি বিজয়ের জন্য। আদালত জানিয়েছে, তিনি চাইলে ইনকাম ট্যাক্স অ্যাপিল ট্রাইব্যুনালে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। এদিকে বিজয়ের নতুন ছবি ‘জননায়গণ’ নিয়েও অনিশ্চয়তা কাটেনি। সেন্সর ছাড়পত্র ও আইনি জটিলতার কারণে ছবিটির মুক্তি পিছিয়ে যাচ্ছে। ফলে ব্যক্তিগত ও পেশাগত—দুই দিক থেকেই চাপের মুখে রয়েছেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া