ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আর মাত্র ১১ দিন বাকি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হবে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচারণা শেষ করতে হবে তার দুই দিন আগেই—১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে। সে হিসাবে হাতে আছে মাত্র নয় দিনের প্রচারকাল। এই স্বল্প সময়েই বিরামহীন প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। পাশাপাশি নিজেদের ও প্রতিপক্ষ দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘাত-সহিংসতাও সামাল দিতে হচ্ছে।
ভোটের মাঠে শীর্ষ নেতারাও নেমেছেন সর্বশক্তি দিয়ে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান গতকাল শনিবার উত্তরবঙ্গ সফর শেষে ঢাকায় ফেরেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শুক্রবার ফেনীতে জনসভার মাধ্যমে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের নিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগে নির্বাচনী সফর শুরু করেন। শনিবার তিনি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জনসভা করেন।
এর আগে নির্বাচনী প্রচার শুরুর প্রথম দিন নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ আসনে সমাবেশে বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান। পরে ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি উত্তরবঙ্গের আটটি জেলায় এবং ২৫ জানুয়ারি ঢাকার ৫, ৬ ও ৭ আসনে জনসমাবেশে অংশ নেন তিনি। জামায়াতে ইসলামীর এসব জনসমাবেশে ব্যাপক জনসমাগম লক্ষ্য করা গেছে, যা দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে বগুড়া জেলা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে গতকাল সিরাজগঞ্জের জনসভার উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। এ সময় বগুড়া শহরের মেডিক্যাল মোড় থেকে শেরপুরের চান্দাইকোনা পর্যন্ত তাঁকে একনজর দেখতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন। ঢাকা–রংপুর মহাসড়ক পরিণত হয় জনসমুদ্রে। পরে তিনি সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে দুটি বড় জনসভা এবং কয়েকটি পথসভায় অংশ নেন।
এর আগে নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিন ২২ জানুয়ারি টানা ১৬ ঘণ্টায় সাতটি সমাবেশ শেষ করে ২৩ জানুয়ারি ভোরে গুলশানের বাসায় ফেরেন তারেক রহমান। তারও আগে রাত সাড়ে ৪টার দিকে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার রূপগঞ্জের গাউছিয়ায় নির্বাচনী সমাবেশ করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামীকাল সোমবার খুলনা এবং বুধবার বরিশাল বিভাগে নির্বাচনী সফরে যেতে পারেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বাক্যবাণ ততই শাণিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা। গতকাল বিকেলে সিরাজগঞ্জের বিসিক শিল্প পার্কে এক জনসভায় তারেক রহমান বলেন, ‘যারা বিভ্রান্তিমূলক কথা ছড়ায়, তাদের একটিই নাম—গুপ্ত। গত ১৬ বছর ধরে আমরা তাদের দেখিনি। তারা সব সময় তলে তলে ছিল।’
এদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আখচা ইউনিয়নের বলদাপুকুর গ্রামে এক নির্বাচনী সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের নিরাপত্তার জন্য যদি শহীদ হতে হয়, তবে প্রথম শহীদ হব আমি ও আমার দলের কর্মীরা। নির্ভয়ে ভোট দিতে যান।’
অন্যদিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বিএনপির উদ্দেশে বলেন, ‘জাতিকে আর কষ্ট দিয়েন না। আপনারাও একসময় মজলুম ছিলেন, তাহলে এখন কেন জালিম হলেন।’ একই দিনে চাঁদপুরে এক সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় গেলে একটি দল মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পারবে না।
বাকযুদ্ধের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলাতেও একই ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও যৌথ বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে প্রার্থীদের জনপ্রিয়তার চিত্রও ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বরিশাল বিভাগে বিএনপি তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকলেও অন্তত নয়টি আসনে ফল শেষ মুহূর্তের সমীকরণের ওপর নির্ভর করছে। ময়মনসিংহ বিভাগে বহু আসনে বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস মিলছে।
রাজশাহী বিভাগে ৩৯টি আসনের মধ্যে অন্তত ২৩টিতে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মূল লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন জেলায় দলীয় কোন্দল, বিদ্রোহী প্রার্থী ও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ নির্বাচনী মাঠকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাড়তি ভোটার সচেতনতা, তরুণ ও প্রবাসী ভোটারদের ভূমিকা এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব—সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনায় ভরা এক কঠিন রাজনৈতিক লড়াই।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ইন্টারন্যাশনাল এআই ইনোভেশন এন্ড লীডারশীপ কনসোর্টিয়াম (আইএআইএলসি) প্রেস্টিজ এওয়ার্ড ২০২৬ বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার ঢাকায় স্থানীয় একটি হোটেলে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন -আইএআইএলসি প্রেসিডেন্ট ও প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর বি সি পান্ডে। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবকেন্দ্রিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নৈতিক নেতৃত্ব, শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর এবং টেকসই উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২৫ জুলাই ঢাকায় হোটেল সোনারগাও এ পুরষ্কার দেওয়া হবে। যার পুরো আয়োজন করেছে কানাডা ভিত্তিক সংস্থা ইউনিভার্সাল হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন -ইউএইচএফ। মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে জানানো হয়, অ্যাওয়ার্ডের মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় ইনস্টিটিউশনাল রিসার্চ, ডিউ ডিলিজেন্স, কমপ্লায়েন্স স্ক্রিনিং, গভর্ন্যান্স রিভিউ এবং ইন্ডিপেনডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল ইভ্যালুয়েশন— আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই পাঁচটি ধাপ অনুসরণ করা হয়েছে। পরে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত মোট ৫৭ বিজয়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করেন আইএআইএলসি প্রেসিডেন্ট ও প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর বি সি পান্ডে। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবকেন্দ্রিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নৈতিক নেতৃত্ব, শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর এবং টেকসই উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরষ্কার দেওয়া হচ্ছে। প্রফেসর বি সি পান্ডে ভার্চুয়াল বক্তব্যে বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, চেম্বার অব কমার্স, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ের অবদানকে দীর্ঘ গবেষণা ও আন্তর্জাতিক মূল্যায়নের মাধ্যমে যাচাই করে চূড়ান্ত বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়েছে। মিট দ্য প্রেসে শিক্ষা, গবেষণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল গভর্ন্যান্স, করপোরেট নেতৃত্ব, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, মানবিক সেবা এবং টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত মোট ৫৭ বিজয়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়। আয়োজকরা আরও জানান, আইএআইএলসি প্রেস্টিজ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬ কোনো বাণিজ্যিক বা স্পন্সরনির্ভর পুরস্কার নয়। এ সম্মাননা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো পেইড নোমিনেশন, স্পন্সরশিপ, লবিং কিংবা অ্যাডভার্টাইজিং পারচেজ বিবেচনা করা হয় না। সম্পূর্ণ গবেষণা, প্রমাণ, যোগ্যতা এবং বাস্তব অবদানের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রফেসর বি সি পান্ডে বলেন, নির্বাচিত সকল বিজয়ীকে পর্যায়ক্রমে অফিশিয়াল কনফার্মেশন লেটার, ইনভাইটেশন লেটার এবং ভিআইপি ডেলিগেট ইনভাইটেশন পাঠানো হবে। এছাড়া তারা নির্ধারিত আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে মেডেল, ক্রেস্ট, অফিশিয়াল রিকগনিশন সার্টিফিকেট এবং ইন্টারন্যাশনাল সিপিডি ডুয়াল সার্টিফিকেশন গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এ সম্মাননা গ্রহণের জন্য কোনো নিবন্ধন ফি বা প্রশাসনিক ফি প্রযোজ্য হবে না। সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা জানান, আইএআইএলসি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা, এআই ও সাইবার সিকিউরিটি উদ্যোগ, নেতৃত্ব উন্নয়ন, নীতিনির্ধারণ সংলাপ এবং বৈশ্বিক জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে কাজ করবে। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে ইউনিভার্সাল হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন (ইউএইচএফ )-এর আসিয়ান আঞ্চলিক উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ অ্যাম্বাসেডর শচীন্দ্র নাথ হালদার বলেন, ঘোষিত ৫৭টি বিজয়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ ক্ষেত্রে উদ্ভাবন, নেতৃত্ব, গবেষণা এবং মানবকল্যাণে যে অসামান্য অবদান রেখেছেন, এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সেই অবদানকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবে। আমরা বিশ্বাস করি, এই উদ্যোগ দায়িত্বশীল প্রযুক্তি, নৈতিক নেতৃত্ব এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউএইচএফ গ্লোবাল কনসোর্টিয়াম আসিয়ান চ্যাপ্টারের উপদেষ্টা মো. মিজানুর রহমান, সঞ্জিত বাড়ৈ, অ্যাডভোকেট মিন্টু কুমার মণ্ডল, উদ্যোক্তা, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও আন্তর্জাতিক ইভেন্টস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট লিডার এবং ইউএইচএফ গ্লোবাল কনসোর্টিয়াম আসিয়ান চ্যাপ্টারের উপদেষ্টা অন্তু করীম, ইউএইচএফ গ্লোবাল কনসোর্টিয়াম সদর দপ্তর ও কানাডার হাই-টেক কো-অর্ডিনেটর আদিতা হক। বিজয়ী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির নামের তালিকা, প্রতিষ্ঠানের তালিকা— সরকারি ও পাবলিক প্রতিষ্ঠান ১. বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) ২. বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ৩. বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনস অথরিটি (বেজা) ৪. মিনিস্ট্রি অব ইনফরমেশন অ্যান্ড ব্রডকাস্টিং, বাংলাদেশ ৫. মিনিস্ট্রি অব এডুকেশন ৬. মিনিস্ট্রি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ৭. মিনিস্ট্রি অব পোস্টস, টেলিকমিউনিকেশনস অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি ৮. ন্যাশনাল বোর্ড অব রেভিনিউ (এনবিআর) ৯. বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনস অথরিটি (বেপজা) ১০. বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেড ১১. সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি / বিডিজি ই-গভ সার্ট আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও মানবিক সংস্থা ১২. ইউএনডিপি বাংলাদেশ ১৩. ইউনিসেফ ১৪. ব্র্যাক ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ১৫. বাংলাদেশ ব্যাংক ১৬. ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি ১৭. ডাচ-বাংলা ব্যাংক পিএলসি ১৮. সিটি ব্যাংক পিএলসি ১৯. ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি ২০. বিকাশ ২১. প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড ২২. আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ২৩. ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভার্সিটি ২৪. ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো ২৫. ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা ২৬. বুয়েট ২৭. ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ২৮. নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ২৯. ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ৩০. ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ৩১. এআইইউবি ৩২. ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ৩৩. ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি ৩৪. বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস ৩৫. স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ৩৬. ইউজিসি বাংলাদেশ ৩৭. লন্ডন স্কুল অব লিডারশিপ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ৩৮. অ্যাকিউরেসি এডুকেশন চেম্বার ও ব্যবসায়িক সংগঠন ৩৯. ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ৪০. ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) ৪১. মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ৪২. বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্টাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (ব্যাকো) ৪৩. বিজিএমইএ ৪৪. বিকেএমইএ করপোরেট ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ৪৫. এইচআরসি গ্রুপ ৪৬. ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি ৪৭. এসিআই লিমিটেড ৪৮. প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ৪৯. আকিজ গ্রুপ ৫০. গ্রামীণফোন ৫১. বাংলালিংক ৫২. এশিয়া স্টার বাংলাদেশ অ্যান্ড থাইল্যান্ড ৫৩. পেন্টাগন ফিল্মস অ্যান্ড মিডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ৫৪. রবি ৫৫. আমলকি বাংলাদেশ অ্যান্ড থাইল্যান্ড ৫৬. মিন্টু কুমার মণ্ডল অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস গ্লোবাল চেঞ্জমেকার প্রেস্টিজ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ ৫৭. প্রফেসর ড. নিধি নাগাভাতলা
নোয়াখালীতে টানা বর্ষণ ও উত্তাল নদীর কারণে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ফেরি চলাচল টানা চার দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে যাত্রী, ট্রাকচালক, ব্যবসায়ীসহ প্রায় সাত লাখ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জেলা আবহাওয়া অফিস জানায়, সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার এমন পরিস্থিতি আরও তিন থেকে চার দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় নদীবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন জানায়, যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে হাতিয়ার সঙ্গে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে সীমিত পরিসরে সি-ট্রাক ও ট্রলার চলাচল করছে। এতে ঝুঁকি নিয়েই অনেক যাত্রী নদী পারাপার করছেন। হাতিয়ার নলচিরা ও চেয়ারম্যান ঘাটে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক আটকে থাকায় কাঁচামাল পরিবহনে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা পচনশীল পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন। একই সঙ্গে ঘাটে অবস্থানরত ট্রাকচালক ও শ্রমিকরা আবাসন, বিশ্রাম এবং স্যানিটেশন সংকটে দুর্ভোগে পড়েছেন। হাতিয়া উপকূলীয় নৌবন্দরের সহকারী পরিচালক মাসুম বিল্লাহ জানান, লঘুচাপের প্রভাবে নদী অতিমাত্রায় উত্তাল হয়ে পড়েছে। জোয়ারের পানিতে ফেরিঘাটের পন্টুন ডুবে যাওয়ায় ফেরি চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পণ্যবাহী যানবাহন পারাপারের ব্যবস্থা করা হবে। এদিকে টানা বৃষ্টিতে নোয়াখালীর বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে আমন ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু এলাকায় পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতা থাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম রেফাত জামিল জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে বামনী নদীতে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক কাজ চলছে। চলতি মাসের মধ্যেই নতুন রেগুলেটর চালু করে সংশ্লিষ্ট বাঁধ অপসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।
মালয়েশিয়ার ডুরিয়ান ফলের মতো বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল চীনে রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, সাম্প্রতিক চীন সফরে এ বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং চীনারা বাংলাদেশের কাঁঠাল অত্যন্ত পছন্দ করেন। বুধবার (৮ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২১তম দিনে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসান তার নির্বাচনী এলাকা ফুলবাড়িয়ায় উৎপাদিত লেবু, আনারস ও কাঁঠালের বাজারজাতকরণ এবং সেখানে একটি কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে কিনা, তা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী এই জবাব দেন। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া এলাকার বন্ধ হয়ে যাওয়া কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেশ কয়েক বছর আগে সেখানে একটি আনারসের ইন্ডাস্ট্রি করা হয়েছিল, যা বিভিন্ন কারণে সাপোর্ট না পেয়ে বন্ধ হয়ে যায়। সরকার বর্তমানে বন্ধ থাকা বিভিন্ন কারখানা ও কৃষি খাতের মিল-ফ্যাক্টরিগুলো আবার চালু করার চেষ্টা করছে। তবে ওই এলাকায় এই মুহূর্তে নতুন করে আলাদা কোনো ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন বা শিল্পাঞ্চল করার পরিকল্পনা নেই বলে সংসদকে জানান তিনি। বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোকে কীভাবে আবার সচল করা যায়, সরকার এখন সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। চীনে কাঁঠাল রপ্তানির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার উদাহরণ টেনে বলেন, তার সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে ফলের বাজার নিয়ে কথা হয়েছে। মালয়েশিয়ার ‘ডুরিয়ান’ নামে একটি ফল, যা দেখতে অনেকটা কাঁঠালের মতো, তা প্রতিবছর চীনে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হয়। মালয়েশিয়া যদি ডুরিয়ান রপ্তানি করে বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে, তবে বাংলাদেশও চীনে কাঁঠাল রপ্তানি করে বড় অংকের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে। চীন সফরে হওয়া চুক্তির আলোকেই এই সম্ভাবনাময় রপ্তানি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।