ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট কাভার করতে চাওয়া প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিকের তথ্য ফাঁস হয়ে গেছে। গতকাল শনিবার নির্বাচন কমিশনের অনলাইন সিস্টেম থেকে সাংবাদিকদের এনআইডি নম্বর, মোবাইল নম্বরসহ আবেদনের কপি উন্মুক্ত হয়ে যায়। তবে এর সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা দিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এবারের নির্বাচন সামনে রেখে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের কার্ড দেওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন আনে ইসি। এবারই প্রথম সাংবাদিকদের কার্ড ও গাড়ির স্টিকার পেতে অনলাইনে আবেদন বাধ্যতামূলক করা হয়। তবে সাংবাদিকদের তোপের মুখে এই সিদ্ধান্ত থেকে গত বৃহস্পতিবার সরে এসে আগের মতোই ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কার্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয় নাসির উদ্দীন কমিশন।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আগে প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিক কার্ড ও স্টিকার পেতে ইসির অনলাইন সিস্টেমে আবেদন করেন। তবে এই ১৪ হাজার সাংবাদিকের সব তথ্য ইসির ওই নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট থেকে উন্মুক্ত হয়ে যায়। গতকাল বিকেল ৪টার দিকে ইসির ওয়েবসাইটে ১৪ হাজার সাংবাদিকের তথ্য নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ওয়েবসাইট pr.ecs.gov.bd-এর মাধ্যমে উন্মুক্ত হয়ে যায়।
ইসির নির্ধারিত এই ওয়েবসাইটে দেখা যায়, বিকেল ৪টার পর কেউ লগইন করে ওয়েবসাইটে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই ১৪ হাজার সাংবাদিকের আবেদনের তালিকা হোম পেজে চলে আসছে। ওয়েবসাইটের হোম পেজে তালিকা আসার পাশাপাশি আবেদনকারীর নাম, এনআইডি নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং সম্পূর্ণ আবেদন ওপেন করার অপশন চলে আসে। তবে কিছু সময় পর আর ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশ করা যায়নি।
নির্বাচন কমিশন বিটের সাংবাদিকরা জানান, তাদের সঙ্গে কোনোরকম আলোচনা না করেই নির্বাচন করতে অনলাইন সিস্টেম চালু করে নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখা। পরে গত বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে সাংবাদিকরা বৈঠক করে আলটিমেটাম দিলে ইসি অনলাইন সিস্টেম থেকে সরে এসে আগের পদ্ধতিতে কার্ড ও গাড়ির স্টিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তার আগেই উল্লিখিত সংখ্যক সাংবাদিক অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রাখেন। এসব সাংবাদিকের তথ্য উন্মুক্ত হওয়ার স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক সাংবাদিকদের বলেন, আমরা অনলাইন সিস্টেম শুক্রবার বন্ধ করে দিয়েছি। গতকাল বিকেলে ওয়েবসাইটের অ্যাডমিনের দায়িত্বে যিনি ছিলেন, তিনি ওপেন করেছিলেন। এ সময় কারিগরি ত্রুটির কারণে হয়তো তথ্যগুলো উন্মুক্ত হয়ে থাকতে পারে। তবে এখন ওয়েবসাইট বন্ধ আছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নির্মোহভাবে শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসায় যারা মূলহোতা তাদের তালিকা টাস্কফোর্স তৈরি করবে। তার ওপর ভিত্তি করে আমরা পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করব। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের হিলডাউন সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘মাদক প্রতিরোধ ও আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়ন সংক্রান্ত সভা’ শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইয়াবার কারণে যুবসমাজ মাদকাসক্তির দিকে যাচ্ছে, এটা আমরা লক্ষ্য করছি। মাদকের প্রসার রোধ করা বর্তমান সরকারের প্রধানতম অগ্রাধিকার। কক্সবাজার জেলায় সশস্ত্রবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান নিয়ে মাদক প্রতিরোধে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্সের সমন্বিত সিদ্ধান্তগুলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, মাদক চোরাচালানে ব্যবহৃত রুটগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। সমতলের পাশাপাশি জলপথেও নেভি-কোস্টগার্ডের টহল জোরদার থাকবে। মাদক চোরাচালানে বাহক বা ক্যারিয়ার হিসেবে কাজ করছে তাদেরকেও চিহ্নিত করা হবে। সভায় কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, সংরক্ষিত সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না, জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সন্ধ্যায় দুই দিনের সরকারি সফরে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান সালাহউদ্দিন আহমদ। সফরের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সকালে তিনি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) কার্যালয় পরিদর্শন করবেন। পরে কউকের ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-১-এর উদ্বোধন করবেন। এরপর কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে উন্নয়ন কার্যক্রমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। দুপুরে তিনি হিল ডাউন সার্কিট হাউসে মতবিনিময় শেষে সন্ধ্যায় বিমানযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।
ঝালকাঠি বিসিক শিল্পনগরীর ৭৯টি প্লটের মধ্যে ৫১টিই বর্তমানে ফাঁকা পড়ে আছে। এসব প্লটে কোনো শিল্পকারখানা বা উৎপাদন কার্যক্রম নেই। ফাঁকা থাকা প্লটগুলোর মধ্যে ২৫টি প্লট ফরচুন গ্রুপের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, যা মোট প্লটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বিসিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে ফরচুন গ্রুপের নামে এসব প্লট বরাদ্দ দেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেনি। পাশাপাশি জমির কিস্তি ও লে-আউট দাখিল বাবদ প্রায় ১ কোটি ৪৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। বিসিক কর্মকর্তারা জানান, বকেয়া আদায়ে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি ফরচুন গ্রুপের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেছেন তারা। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ঝালকাঠি বিসিক শিল্পনগরীর আয়তন ১১ দশমিক ৮ একর। পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলে শিল্প ও ব্যবসা সম্প্রসারণে এ শিল্পনগরী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে সেখানে মাত্র ১১টি শিল্প ইউনিট উৎপাদনে রয়েছে, যা ২৮টি প্লট ব্যবহার করছে। বাকি ২৬টি প্লটও অব্যবহৃত। উদ্যোক্তারা গ্রহণ না করায় পাঁচটি প্লটের বরাদ্দ ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। শিল্পনগরীতে বর্তমানে মাত্র ১৫৪ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। শিল্পনগরীর উপব্যবস্থাপক মো. আল আমিন বলেন, ফরচুন গ্রুপের বকেয়া আদায়ে অফিসে গিয়ে ও ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং প্লট বরাদ্দ বাতিলের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, শিল্পনগরীর সঙ্গে নদীপথের সরাসরি সংযোগ না থাকায় ভারী শিল্পের উদ্যোক্তারা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এছাড়া পরিবহন ব্যয় বেশি হওয়া এবং স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত দক্ষ শ্রমিকের অভাবও বিনিয়োগে বাধা তৈরি করছে। ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মোমিন উদ্দিন বলেন, ফরচুন গ্রুপ একাই ২৫টি প্লট নিয়ে কোনো কার্যক্রম শুরু না করায় সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা পড়ে আছে। বকেয়া কিস্তির টাকা পরিশোধে তাদের চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফরচুন গ্রুপের বক্তব্য জানতে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। প্রতিষ্ঠানটির সিইও পরিচয়ে একজন কর্মকর্তা ও চেয়ারম্যানের পিএস পরিচয়ে আরেক ব্যক্তি ফোন রিসিভ করে পরে যোগাযোগের আশ্বাস দিলেও আর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের (আইএমএল) পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবছার কামালের বিরুদ্ধে এক ভাষাবিদ ও শিক্ষকের চুক্তিভিত্তিক খণ্ডকালীন নিয়োগের মেয়াদ নবায়নে প্রশাসনিক হয়রানি ও গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দেওয়া এক লিখিত আবেদনে ওই শিক্ষক দাবি করেছেন, তিনি নিয়ম অনুযায়ী আবেদন জমা দিলেও দীর্ঘদিন তা গ্রহণ করা হয়নি। পরে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানের হস্তক্ষেপে আবেদনটি প্রক্রিয়াকরণ শুরু হয়। তবে এক বছরের পরিবর্তে তাকে মাত্র ছয় মাসের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়, যার মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ৩০ জুন। অভিযোগে বলা হয়, চলতি বছরের মে মাসে তিনি যথাসময়ে মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং বিভিন্ন মহলের প্রভাবে তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তিনি। ওই শিক্ষক আরও অভিযোগ করেন, তার আন্তর্জাতিক মানের পাঠদান পদ্ধতির সঙ্গে অন্য এক শিক্ষকের পাঠদানের ধরন মিল নেই— এমন মন্তব্য করে তার পেশাগত সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি জানান, গত ২৫ বছরে যুক্তরাজ্য, ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনসহ বিভিন্ন দেশে শিক্ষকতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এছাড়া ক্যামব্রিজ, অক্সফোর্ড, কিংস কলেজ লন্ডন ও সোয়াসসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা শিক্ষা ও ভাষা অর্জনবিষয়ক সেমিনার, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছেন এবং প্রশিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি নিরসনের জন্য একাধিকবার আইএমএল পরিচালকের সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ জানালেও কোনো সাড়া পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি নিজে এবং তার শিক্ষার্থীরা পৃথকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন। উপাচার্য আবেদনগুলো রেজিস্ট্রার দপ্তরের মাধ্যমে আইএমএলে পাঠালেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তার। এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে অধ্যাপক পদে আবেদন করার সময় যে গোষ্ঠী তার বিরোধিতা করেছিল, একই গোষ্ঠী এখন আইএমএলেও তার বিরুদ্ধে সক্রিয় রয়েছে। নিজেকে দীর্ঘদিনের বৈষম্যের শিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, গবেষণা এবং একাধিক ভাষায় দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও ব্যক্তিগত পক্ষপাতের কারণে তাকে বারবার পেশাগতভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও যোগ্য শিক্ষকদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আইএমএল পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবছার কামাল বলেন, ‘আমাদের ইতোমধ্যে একজন অনারারি অধ্যাপক আছেন। বর্তমানে কোনো শিক্ষক প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওনার যোগ্যতা নিয়ে আমাদের কোনো প্রশ্ন নেই। তবে তিনি আগে ফার্সি বিভাগে ছিলেন। আমাদের কোর্সগুলো খুবই বেসিক, সে হিসেবে তাকে ওভারকোয়ালিফায়েড মনে হয়েছে। এছাড়া সিলেবাস অনুসরণ নিয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ ছিল। এই মুহূর্তে আমাদের শিক্ষকের প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে বিষয়টি দেখব।’