জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলসহ দলের শীর্ষ কয়েকজন নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
বিবৃতিতে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ক্যাম্পেইন টিম নিশ্চিত করেছে যে, সম্প্রতি আমির ডা. শফিকুর রহমানের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টসহ দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে সমন্বিতভাবে সাইবার হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা সাময়িকভাবে জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তবে দ্রুত পদক্ষেপ ও বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে সাইবার টিম অল্প সময়ের মধ্যেই অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। ফলে অন্যান্য অ্যাকাউন্ট ও প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্বল্প সময়ের মধ্যে হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্ট প্রকাশিত হয়, যেখানে জামায়াত আমিরের নামে মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে। স্পষ্টভাবে জানানো হচ্ছে, উক্ত পোস্ট বা কনটেন্ট জামায়াত আমিরের কোনো বক্তব্য, মতামত বা অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। এই মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে সাধারণ জনগণ, গণমাধ্যমকর্মী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের ভুয়া খবর, জাল উদ্ধৃতি ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। এতে বলা হয়, মিথ্যা তথ্য ছড়ানো, পরিচয় জালিয়াতি এবং বিকৃত কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার আইনগতভাবে দণ্ডনীয় এবং নৈতিকভাবে নিন্দনীয়, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
সবশেষে সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়, শুধু অফিসিয়াল ও বিশ্বস্ত সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করে নেওয়ার জন্য। যাচাই ছাড়া কোনো কনটেন্ট শেয়ার না করা এবং সন্দেহজনক বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট দেখলে তা রিপোর্ট করার আহ্বান জানানো হয়। ক্যাম্পেইন টিম ডিজিটাল নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করা হয়।
এর আগে, শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে নিজের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার কথা জানান জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। পরে অ্যাকাউন্টটি উদ্ধার করা হয়। তিনি এক পোস্টে জানান, হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে তার বিরুদ্ধে যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়া ও মনগড়া।
তিনি বলেন, আমি স্পষ্ট করে জানাতে চাই যে, আমার অ্যাকাউন্টটি সম্প্রতি হ্যাক করা হয়েছিল এবং সেখানে আমার নামে ভুয়া কিছু লেখা প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য সংবলিত একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে জানানো হয়, ওই মন্তব্যটি হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত হয়েছিল।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ঢাকার গুলশানে ‘ঘুষ হিসেবে’ একটি ফ্ল্যাট গ্রহণের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি, ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক এবং রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে গেছে। বুধবার ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে এ মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে আদালত অন্য মামলায় ব্যস্ত থাকায় ২৮ জুন নতুন দিন রেখেছে বলে দুদকের কৌঁসুলি মীর আহমেদ আলী সালাম জানিয়েছেন। ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের কাছ থেকে ‘ঘুষ’ হিসেবে ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৫ এপ্রিল টিউলিপ, রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান ও সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা-১ সরদার মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে এ মামলা করে দুদক। মামলা হওয়ার পর জুলাই মাসে আসামি শাহ খসরুজ্জামান তদন্ত স্থগিত চেয়ে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন। হাই কোর্ট খসরুজ্জামানের বিষয়ে তদন্ত তিন মাসের জন্য স্থগিত করে। খসরুজ্জামানকে ছাড়াই বাকি দুই আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করে দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর গত ১৩ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। টিউলিপ সিদ্দিককে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারির পদক্ষেপ চেয়ে আদালতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। ২৬ ফেব্রুয়ারি শুনানি নিয়ে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে। এরপর আসামিদের আদালতে হাজির হতে গেজেট প্রকাশ করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৯৬৩ সালে তৎকালীন বিচারপতি ইমাম হোসেন চৌধুরী গুলশানে ১ বিঘা ১৯ কাঠা ১৩ ছটাক আয়তনের একটি প্লট (বর্তমান ১১এ ও ১১বি) বরাদ্দ পান। সরকারি লিজ চুক্তি অনুযায়ী, ৯৯ বছরের মধ্যে ওই প্লট হস্তান্তর বা ভাগ করে বিক্রি নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু ১৯৭৩ সালে তিনি মো. মজিবুর রহমান ভূঁইয়াকে আমমোক্তার করে প্লটটি হস্তান্তর করেন। মজিবুর রহমান ভূঁইয়া এরপর প্লটটি ভাগ করে স্ত্রী শামসুন নাহার এবং শ্যালিকা জেরিন বেগমের কাছে বিক্রি করেন। শামসুন নাহার পরে ৫০ লাখ টাকায় ওই প্লট বিক্রি করেন ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলামের দুই মেয়ে নাইমা ইসলাম ও কনিতা ইসলামের কাছে। তারা দুই বোন পরে ওই জমিতে ভবন নির্মাণের জন্য তাদের বাবা জহুরুল ইসলামকে ব্যক্তি হিসেবে আমমোক্তারনামা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) দেন। জহুরুল ইসলাম রাজউকের মাধ্যমে প্লটটি দুই ভাগে বিভক্ত করে ছয় তলা ভবন নির্মাণ শুরু করেন। কাজ চলার মধ্যেই তিনি মারা যান। পরে দুই বোন তাদের ভাই মঞ্জুরুল ইসলামকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেন; কিন্তু পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে সেই আমমোক্তারনামা বাতিলও করেন। মঞ্জুরুল ইসলাম তখন আদালতে মামলা করেন। অন্যদিকে তার দুই বোনও তাদের স্বত্ত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য আদালতে মামলা করেন। মামলা চলমান থাকা অবস্থায় দুই বোন ফ্ল্যাট হস্তান্তরের অনুমতি না দেওয়ার জন্য রাজউকে আবেদন করেন। দুদক বলছে, রাজউকের তৎকালীন আইন উপদেষ্টারা তখন দুই দফায় ‘অসত্য তথ্য’ দিয়ে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডকে ‘অবৈধভাবে’ ফ্ল্যাট হস্তান্তরের অনুমোদন দেন, যদিও ইস্টার্ন হাউজিং প্লটের মালিক না। লিজ দলিলের শর্ত অনুযায়ী ৯৯ বছরের মধ্যে ওই প্লট হস্তান্তর করার কথা নয়। আংশিক বিভাজন করে হস্তান্তরেরও সুযোগ সেখানে নেই। সেখানে শর্ত না মেনে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে’ আমমোক্তার নিযুক্ত করা হয়েছে ও প্লটটি বিক্রি, বিভাজন ও হস্তান্তর করা হয়েছে বলে দুদকের ভাষ্য। দুদক বলছে, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের চেয়ারম্যানকে আমমোক্তার নিয়োগের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজউক দুই পক্ষকে ডাকলেও তারা হাজির হননি। ওই আমমোক্তারনামা অনুমোদনই হয়নি। মামলার অভিযোগে বলা হচ্ছে, ওই প্লট ভেঙে দুই টুকরো করে তাতে ভবন তুলে ৩৬টি ফ্ল্যাট বিক্রি বা হস্তান্তর করা হয়। অথচ Individual Person থেকে Legal Person হিসেবে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের মালিকানা স্থানান্তর দুদকের ভাষায় ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ ছিল। দুদক বলছে, নিয়ম ভেঙে প্লটের বিভাজন এবং ৩৬টি ফ্ল্যাট হস্তান্তরের অনুমোদন করিয়ে দেবার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন টিউলিপ সিদ্দিক। তার খালা শেখ হাসিনা তখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ইস্টার্ন হাউজিংকে ওই ব্যবস্থা করিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ‘অবৈধ পারিতোষিক হিসাবে বিনে পয়সায়’ একটি ফ্ল্যাট নিয়েছেন। ‘অবৈধ সুবিধা নেওয়ার প্রমাণ’ হিসেবে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের একটি চিঠির কথা বলছে দুদক, যেখানে ‘রিজওয়ানা সিদ্দিক টিউলিপ’কে বিনামূল্যে একটি ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ইস্টার্ন হাউজিং থেকে রাজউকে ফ্ল্যাট মালিকদের যে তালিকা পাঠানো হয়েছিল, তার ৫ নম্বরে টিউলিপের নাম ছিল। দুদক বলছে, টিউলিপ যে ‘অবৈধ প্রভাব খাটিয়েছেন’ ওই তালিকা তার প্রমাণ। বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় গত ৮ এপ্রিল ঢাকার মহানগর হাকিম জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ মামলাটি ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতে বদলির আদেশ দেন। একইসঙ্গে অভিযোগ গঠনের জন্য ১৬ এপ্রিল দিন ঠিক করা হয়েছিল। বরাবরই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসা এই ব্রিটিশ এমপি বলে আসছেন, তার খালা শেখ হাসিনার প্রতি ‘প্রতিহিংসা’ থেকে তার বিরুদ্ধে এসব ‘মিথ্য ও বানোয়াট’ মামলা দেওয়া হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ এক ডেভেলপারের কাছ থেকে লন্ডনে ৭ লাখ পাউন্ড দামের একটি ফ্ল্যাট ‘উপহার’ পাওয়ার খবর নিয়ে সমালোচনার মধ্যে গত জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন টিউলিপ সিদ্দিক। এর আগে পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির তিন মামলায় দুই বছর করে ছয় বছরের কারাদণ্ড হয়েছে টিউলিপের।
আলোচিত হাদিস হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ১৭ মে দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। তদন্ত সংস্থা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন প্রস্তুত করে আদালতে দাখিল করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলমান থাকায় নতুন করে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এখনো কিছু বিষয় যাচাই-বাছাই বাকি থাকায় পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল প্রতিবেদন দিতে সময় প্রয়োজন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে বিচারক অধিকতর তদন্তের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এর ফলে নতুন তথ্য-উপাত্ত যুক্ত হয়ে মামলার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে, নিহত হাদিসের পরিবার দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। তারা আশা করছেন, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর মামলার বিচারিক কার্যক্রম আরও গতি পাবে। উল্লেখ্য, এ হত্যা মামলাটি জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শুরু থেকেই গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
সড়কে ট্রাফিক আইন ভাঙার ঘটনায় আরও কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এখন থেকে কোনো চালক ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে তাৎক্ষণিকভাবে ‘অটো নোটিশ’ পাঠানো হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজিরা না দিলে জারি করা হবে পরোয়ানা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে। সিসিটিভি ক্যামেরা ও ডিজিটাল মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ শনাক্ত করা হবে। এরপর গাড়ির নিবন্ধন নম্বরের ভিত্তিতে মালিক বা চালকের কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিশ পাঠানো হবে। নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ট্রাফিক বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হাজির হয়ে জরিমানা পরিশোধ বা আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হতে পারে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এ উদ্যোগের ফলে সড়কে আইন মানার প্রবণতা বাড়বে এবং দুর্ঘটনা কমাতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে অনিয়মকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সহজ হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। তবে এই ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়নের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সঠিক ডেটাবেইস ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।