কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কারবরো ক্যাম্পাসের কাছে গুলিতে নিহত হয়েছেন ২০ বছর বয়সী এক ভারতীয় শিক্ষার্থী। নিহতের নাম শিবাঙ্ক আবাস্থি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ডক্টরাল (পিএইচডি) পর্যায়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনায় সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারে জনসাধারণের সহায়তা চেয়েছে টরন্টো পুলিশ।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হাইল্যান্ড ক্রিক ট্রেইল ও ওল্ড কিংস্টন রোড এলাকার একটি ঘটনায় জরুরি কল পায় তারা। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক যুবককে উদ্ধার করে। তবে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ হত্যাকাণ্ডটি চলতি বছরে টরন্টোতে সংঘটিত ৪১তম হত্যাকাণ্ড বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গুলির ঘটনার পরপরই সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, শিবাঙ্ক আবাস্থির মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে ভারত। টরন্টোতে অবস্থিত ভারতের কনস্যুলেট জেনারেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কারবরো ক্যাম্পাসের কাছে গুলিতে এক তরুণ ভারতীয় পিএইচডি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসারায়েলের ড্রোন হামলায় সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার সাংবাদকি নিহত হয়েছেন। ওই সাংবাদিকের নাম মোহাম্মদ উইশাহ। বুধবার (৮ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উইশাহ গাজা-মিশর সীমান্তবর্তী অঞ্চল মুবাশেরের সংবাদদাতা। তিনি গাজা শহরের প্রধান সড়কে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এমন সময় তাকে বহনকারী গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। ওই সময় তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। মোহাম্মদ উইশাহের হত্যার মধ্য দিয়ে ২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধে নিহত ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬২ জনে। চলমান ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রেক্ষিতে গাজা শহরের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে আলজাজিরার প্রতিবেদনে। গাজায় যুক্তরাষ্ট্র-ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রায় ছয় মাস হতে চলল। কিন্তু অব্যাহতভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এ হামলার শিকার হচ্ছেন উইশাহের মতো সাংবাদিকরা, যারা গাজা যুদ্ধের শুরু থেকে গণহত্যামূলক পরিস্থিতির সংবাদ সংগ্রহ করে আসছিলেন। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার বার তা লঙ্ঘন করেছে।
দুই সপ্তাহের জন্য ইরানের ওপর ‘বোমাবর্ষণ ও হামলা’ স্থগিত করতে রাজি হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এর আগে গত ৪০ দিন ধরে চলা এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কতটুকু সামরিক শক্তির ব্যবহার হয়েছে, তা নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) এক ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, ‘৪০ দিনেরও কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ১০ শতাংশ যুদ্ধশক্তি ব্যবহার করে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক বাহিনীকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।’ আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে তিনি আরো বলেন, ‘ইরান নিজেকে রক্ষা করতে অক্ষম প্রমাণ হয়েছে। তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযান পরিকল্পনা ও সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিটি লক্ষ্য অর্জন করেছে।’ ব্রিফিংয়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে মার্কিন বাহিনী মোতায়েন করা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভূমিকা এবং মার্কিন সেনারা আশপাশেই থাকবে—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বক্তব্যের ব্যাখ্যায় হেগসেথ বলেন, ‘আমরা কোথাও যাচ্ছি না।’ তবে তিনি বলেন, ‘ইরান যেন যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো মেনে চলে এবং চুক্তির আলোচনায় অংশ নেয়, তা নিশ্চিত করবে মার্কিন সেনারা।’ মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, ‘সেনারা আগের অবস্থানেই থাকবে, প্রস্তুত থাকবে এবং সতর্ক থাকবে; যেন প্রয়োজন পড়লে মুহূর্তের নোটিশে পুনরায় সব কিছু শুরু করা যায়।’ যুদ্ধবিরতির শর্তে হরমুজ প্রণালির বিষয়ে হেগসেথ বলেন, ‘ইরান এই সমুদ্রপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। এটি কার্যকর হতে যাচ্ছে, জাহাজগুলো সেখানে চলাচল করবে।’ ইরান সরকারের চুক্তিতে আসার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এই নতুন সরকারের সামনে কোনো বিকল্প বা সময়—কোনোটিই অবশিষ্ট ছিল না। তাই তারা একটি চুক্তিতে এসেছে। তারা জানে, এই চুক্তির অর্থ হলো তারা আর কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পাবে না।’ এর আগে ইরানের ওপর পূর্বঘোষিত বড় ধরনের ‘বোমাবর্ষণ ও হামলা’ অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করতে রাজি হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে এই সাময়িক যুদ্ধবিরতির পেছনে একটি কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, এই স্থগিতাদেশ তখনই কার্যকর থাকবে যখন ইরান অবিলম্বে ‘সম্পূর্ণ এবং নিরাপদভাবে’ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেবে।
ইরানের ওপর পাঁচ সপ্তাহ ধরে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বার বার সময় বেঁধে দিয়েছেন, যুদ্ধে জয়ী হওয়ার দাবি তুলেছেন এবং একের পর এক হুমকি দিয়েছেন। তবে সেসব হুমকি এবারের মত এতটা স্পষ্ট আগে ছিল না। এবার তিনি বলেছেন, ইরানে নতুন হামলা হবে ভয়াবহ। মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসি সময় রাত ৮টায় (ইরান সময় বুধবার ভোর সাড়ে ৩টা) হামলা শুরু হবে। চার ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের প্রতিটি সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের ভাষায়, এই পরিণতি এড়াতে হলে ইরানকে এমন একটি চুক্তিতে রাজি হতে হবে যা তার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। ওই চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে তেলের জাহাজ চলতে দিতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, ইরানকে খতম করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক রাতের মামলা। তবে একজন সামরিক বিশ্লেষকের বরাত দিয়ে সিএনএন লিখেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওই হুমকি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। গ্রিফিথ এশিয়া ইনস্টিটিউটের ফেলো এবং সাবেক রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান এয়ার ফোর্সের কর্মকর্তা পেটার লেইটনের কাছে সিএনএন জানতে চেয়েছিল, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কি ইরানের শত শত বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং লক্ষাধিক সেতু ধ্বংস করতে পারবে? বিষয়টি বোঝার জন্য একটি কাল্পনিক অভিযানের হিসাব কষেছেন লেইটন। তার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছয়টি বি টু স্পিরিট স্টেলথ বোমারু বিমানের একটি বহর এক মিশনে ২,০০০ পাউন্ডের মোট ৯৬টি জয়েন্ট ডিরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশন (জেডিএএম) বহন করতে পারে। বিমানগুলো যদি দিনে দুটি করে ফ্লাইট সম্পন্ন করতে পারে এবং সব বোমা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষমত হয়, তাহলেও মোট ১৯২টি বোমা ব্যবহার করা সম্ভব। ধরা যাক, এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ৪০টি এফ ফিফটিন ঈগল যুদ্ধবিমান অভিযানে যোগ দিল। সেগুলোর প্রত্যেকটি ছয়টি করে ২,০০০ পাউন্ডের জেডিএএম বহন করতে পারে। তাতে আরও ২৪০টি বোমা যোগ হতে পারে। সব মিলিয়ে, বিপুল সংখ্যক লক্ষ্যবস্তুর বিপরীতে মোট বোমার সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৩২টি। লেইটনের মতে, সব বোমা যদি নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষমও হয়, তারপরও তা ট্রাম্পের লক্ষ্য পূরণের জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে। তিনি বলেন, “এভাবে হামলা করে প্রতিটি লক্ষ্যবস্তুর কিছু ক্ষতি করা সম্ভব হবে, কিন্তু মাঝারি থেকে বড় সেতুগুলো ধ্বংস করা কঠিন, এটা অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে। বিদ্যুৎকেন্দ্র বড় আকারের স্থাপনা, তাই এক আঘাতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করতে চাই খুব সূক্ষ্ম পরিকল্পনা। এ ধরনের স্থাপনা সাধারণত শক্তিশালী কংক্রিট কাঠামো দিয়ে নির্মাণ করা হয়। অবশ্য সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না লেইটন। তিনি বলছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে ঢোকা গেলে জেনারেটরগুলোর ক্ষতি করা সম্ভব। আর বিদ্যুৎকেন্দ্রে সাধারণত অতিরিক্ত জেনারেটর মজুদ থাকে না। যুক্তরাষ্ট্র চাইলে এই অভিযানে বি ওয়ান ল্যান্সার (প্রতিটি ২৪টি জেডিএএম বহনে সক্ষম) বা বি ফিফটি টু স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস (প্রায় ২০টি জেডিএএম বহন করতে পারে) বোমারু বিমানও যুক্ত করতে পারে। তবুও এক রাতের মধ্যে পুরো ইরানকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা কতটা সম্ভব, সেই সন্দেহ থেকে যায়। ফুরিয়ে আসছে সময় চূড়ান্ত সময়সীমা ঘনিয়ে এলেও, ট্রাম্পের আল্টিমেটাম মেনে নেওয়ার কোনো লক্ষণ ইরান এখানো দেখায়নি। অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব তারা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং নিজেদের পাল্টা কিছু দাবি তুলে ধরেছে। বিবিসি লিখেছে, সব মিলিয়ে এক জটিল অবস্থায় পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কোনো সমঝোতা না হলে, গত তিন সপ্তাহে চতুর্থবারের মত তিনি সময়সীমা বাড়াতে পারেন। তবে অশালীন শব্দ আর কঠিন কঠিন সতর্কবার্তা দেওয়ার পর এবারও পিছিয়ে যেতে হলে নিজেকেই খেলো করতে হবে। তাতে ইরান ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে মনে হতে পারে, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিজেদের কাছেই স্পষ্ট নয়। সোমবার বিকেলের সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, আমরা জিতেছি। তারা সামরিকভাবে পরাজিত। তাদের হাতে একমাত্র যা আছে, তা হল পানিতে মাইন ফেলার মনস্তত্ত্ব। বিবিসি লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করতে না চাইলেও ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও মাইন ব্যবহার করে হরমুজ অচল করে রাখার মনস্তত্ত্ব ইরানের একটি শক্তির জায়গা। আবার মার্কিন সামরিক শক্তিরও যে সীমাবদ্ধতা আছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও হয়ত তা বুঝতে পারছেন। হয়ত সে কারণেই তিনি বলেছেন, আমরা তাদের ওপর ভয়াবহ বোমা হামলা চালাতে পারি। তাদের দিশেহারা করে দিতে পারি। কিন্তু প্রণালি বন্ধ করতে একজন সন্ত্রাসীই যথেষ্ট। এখন ইরানকে সমঝোতায় রাজি করাতে না পারলে এবং ট্রাম্প এবার পিছিয়ে যেতে না চাইলে, তার সামনে খোলা থাকবে কেবল হুমকি বাস্তবায়ন করার বিকল্প। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের জনগণ চলমান মার্কিন সামরিক অভিযানের কষ্ট সহ্য করতে প্রস্তুত এবং তারা তাদের শহরে পড়া বোমাকে ‘স্বাগত’ জানাচ্ছে। তবে ট্রাম্প এটাও স্বীকার করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন যা ধ্বংস করবে, তা শেষ পর্যন্ত পুনর্গঠন করতে হবে এবং সেই কাজে যুক্তরাষ্ট্রকেই হয়তো সহায়তা করতে হবে। এর আগে ট্রাম্প ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। সবশেষ মঙ্গলবার তিনি বলেছেন, “আজ রাতে একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে। এই সভ্যতা আর কখনও পুনরুদ্ধার করা যাবে না। আমি চাই না এটি ঘটুক, কিন্তু এটি সম্ভবত ঘটবে।” আবার সেই সঙ্গে তিনি এও বলেছেন, যেহেতু সম্পূর্ণ শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের সুযোগ এসেছে, যেখানে বুদ্ধিমান ও কম উগ্র মানসিকতা জয়ী হয়েছে, সেহেতু বিপ্লবী চমৎকার কিছু ঘটতেও পারে, কে জানে? সময় যে ফুরিয়ে আসছে, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে সব পক্ষকেই সতর্ক করেছেন কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি। তিনি বলেছেন, আমরা এমন এক পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছি, যেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এই যুদ্ধ চলতে থাকলে কেউই বিজয়ী হবে না। কেন সময় নিচ্ছে ইরান? ইরানের নেতাদের সাম্প্রতিক আচরণে এমন কোনো ইঙ্গিত মেলেনি, যা দেখে বলা যেতে পারে যে, দেশটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের চাপে ভেঙে পড়তে যাচ্ছে। সিএনএন এর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোম্যাটিক এডিটর নিক রবার্টসন লিখেছেন, পেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা ঘনিয়ে আসছে। কিন্তু তেহরানের শাসন ক্ষমতায় এখন যারাই থাকুক না কেন, তারা দীর্ঘমেয়াদি লাভের জন্য কষ্ট সহ্য করার মানসিকতায় অভ্যস্ত। ২৮ ফেব্রুয়ারি এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই ইরান হিসাব কষেছিল, তারা স্বল্পমেয়াদি একটি যুদ্ধ সহ্য করতে পারবে, যদি তারা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ট্রাম্পকে আলোচনার টেবিলে আনতে পারে এবং যুদ্ধ শেষ করার শর্তগুলো নিজেদের পক্ষে রাখতে পারে। এখন দেখা যাচ্ছে, তেলের দামে চাপ সৃষ্টি করে ট্রাম্পকে একটি সংকটপূর্ণ অবস্থানে ঠেলে দেওয়ার লক্ষ্য ছাড়িয়ে গেছে ইরান। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ ব্যবহার করে চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে তারা অর্থনৈতিক সুবিধাও আদায় করতে পারছে, যা তাদের কৌশলকে আরও সময় এনে দিচ্ছে। নিক রবার্টসনের মতে, তেহরান সম্ভবত সাম্প্রতিক যুদ্ধের ইতিহাসও বিবেচনায় নিচ্ছে। ১৯৯৯ সালে নেটোর কসোভো অভিযানে মাসের পর মাস কৌশলগত হামলা চালিয়েও সার্বিয়ার সেনা চলাচল থামানো যায়নি। ১৯৯১ ও ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে। ২০০৬ সালে লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলায় সিরিয়ার সঙ্গে প্রধান সেতুটি ধ্বংস করা হয়েছিল। এবারও লেবাননে হামলা করে সেতু ধ্বংস করেছে ইসরায়েল। কিন্তু এসব আঘাত বড়জোর বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পেরেছে, এক রাতের মধ্যে পরিস্থিতি বদলে দিতে পারেনি। নিক রবার্টসন লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এর আগেও একাধিকবার ইরানকে ধ্বংস করার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে পরে তা পিছিয়েছেন। আবারও তিনি সরে আসবেন কি না, তা একটি প্রশ্ন। তবে ইরান আপাতত নিজেদের সহ্য ক্ষমতা পরীক্ষা করতে প্রস্তুত বলেই মনে হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধ? ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ইউনিভার্সিটি অব আমস্টার্ডামের ফৌজদারি আইনের সহকারী অধ্যাপক মারিয়েকে হুন। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মত বেসামরিক স্থাপনাগুলো যদি কার্যকরভাবে সামরিক সুবিধা দেয়, তাহলে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে। তা না হলে এসব স্থাপনায় হামলা অপরাধ হিসেবেই গণ্য হয়। ইউক্রেইনে বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত যখন রাশিয়ার নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল, তখন এটা স্পষ্ট করেছিল যে, সম্ভাব্য বেসামরিক ক্ষতি যে কোনো সামরিক সুবিধার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। অধ্যাপক হুন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে ভাষা ব্যবহার করছে, তা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতোমধ্যে বলেছেন, ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে দেশটিকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এ ধরনের হুমকি বেসামরিক জনগোষ্ঠীকেও লক্ষ্যবস্তু করার ইঙ্গিত দেয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।