পাকিস্তানের প্রধান বোলার শাহিন শাহ আফ্রিদি। কিন্তু ভারতের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মাত্র দুই ওভারের বেশি বল করানো যায়নি তাকে। রোববার গ্রুপ পর্বে বহুল আলোচিত ম্যাচে নিজের প্রথম বলেই ছক্কা হজম করতে হয়েছে শাহিন আফ্রিদিকে। সব মিলিয়ে পাক শাহিনের পারফরম্যান্স দেখে ক্ষুব্ধ পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি, যিনি সম্পর্কে তার শ্বশুর। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের শেষেই তাই সুস্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, অবিলম্বেই শাহিনকে দল থেকে বের করে দেওয়া উচিত।
একটা সময়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা ছিল। কিন্তু সেইসব যেন এখন কেবলই স্মৃতি। দীর্ঘ সময় ধরেই পাকিস্তান এখন অসহায়ভাবে আত্মসমর্পণ করে আসছে। একটা সময়ে দুই মহাশক্তিধর দেশের ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি ক্রিকেট হলেও, সাম্প্রতিক অতীতে একপেশে ম্যাচ দেখেছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। লাগাতার ব্যর্থতার কারণ খুঁজতে গিয়েই পাকিস্তানের ক্রিকেট সংস্কৃতিকে তুলোধোনা করেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা পাক অলরাউন্ডার। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সময় এসেছে পাক দলের তথাকথিত তারকাদের দরজা দেখিয়ে দেওয়ার। বরং তরুণ প্রতিভাদের জাতীয় দলে সুযোগ দিতে হবে।
ভারতের কাছে হারের পর আফ্রিদি বলেন, ‘আমার মনে হয় এখন যদি সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তাহলে আমি শাহিনকেও বাদ দিয়ে দেব। বাবর আজম, শাদাব খানদেরও প্রথম একাদশে রাখা যায় না। বরং যারা বেঞ্চে বসে রয়েছে, নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে সেই তরুণদের সুযোগ দেওয়া উচিত। ভবিষ্যতের কথা ভেবে ওদেরকেই খেলিয়ে যেতে হবে।’ আফ্রিদির মতে, বাবর-শাহিনদের অনেক সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তারা পারফর্ম করতে পারছেন না।
পাকিস্তানের ক্রিকেট সংস্কৃতিকে তুলোধোনা করে সর্বকালের অন্যতম সেরা পাক অলরাউন্ডার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সময় এসেছে পাক দলের তথাকথিত তারকাদের দরজা দেখিয়ে দেওয়ার। বরং তরুণ প্রতিভাদের জাতীয় দলে সুযোগ দিতে হবে।
ভারতের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারা ম্যাচে মাত্র দুই ওভার বল করেই ৩১ রান দিয়েছেন শাহিন। এক ওভারে ১৭ রান দেন শাদাব। বড় টার্গেট তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান যখন একের পর এক উইকেট হারিয়ে ফেলে। পাকভক্তদের আশা ছিল বাবর আজমের উপর। স্পিনের বিরুদ্ধে ভালো খেলা বাবর পাকিস্তানের রক্ষাকর্তা হয়ে ওঠা তো দূরের কথা, অক্ষর প্যাটেলের বলে বোকা হয়ে উইকেট খোয়ালেন মাত্র ৫ রান করে। দেশের তারকা ক্রিকেটারদের এহেন পারফরম্যান্স দেখে শহিদ আফ্রিদি বলেন, এমন সিনিয়রদের খেলানোর চেয়ে জুনিয়রদের সুযোগ দেওয়াই ভালো। বিশ্বকাপে পরের ম্যাচ থেকেই সেটা চান সাবেক এই অধিনায়ক।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারানোর মাধ্যমে সর্বোচ্চ তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। এর মাধ্যমেই পর্দা নেমেছে এবারের আসরের। আর টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার একদিন পরেই সেরা একাদশ ঘোষণা করেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। আইসিসি ঘোষিত সেরা একাদশে জায়গা পেয়েছেন মোট সাতটি দেশের ক্রিকেটাররা। এতে আধিপত্য বিস্তার করেছে ভারত। একাদশে রয়েছে তাদেরই চারজন। দুজন করে রয়েছে ইংল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটার। একজন করে আছেন পাকিস্তান, জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের। এছাড়া দ্বাদশ ক্রিকেটার হিসেবে রাখা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এক ক্রিকেটাররা। ১. সাহিবজাদা ফারহান (পাকিস্তান): টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ৭ ম্যাচে ৭৬.৬০ গড়ে ৩৮৩ রান করেছেন তিনি। এক বিশ্বকাপে দুটি সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটার হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। তাই তাকেই ওপেনিংয়ে রাখা হচ্ছে। ২. ইশান কিশান (ভারত): ওপেনিংয়ে নেমে আগ্রাসী ব্যাটিং করেছেন ইশান কিশান। ৯ ম্যাচে করেছেন ৩১৭ রান। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪৪ বলে ৭৭ এবং ফাইনাল ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২৫ বলে ৫৪ রানের ইনিংস ছিল অনবদ্য। ৩. সাঞ্জু স্যামসন (ভারত-উইকেটকিপার): টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার জিতেছেন সাঞ্জু স্যামসন। সুপার এইটের শেষ ম্যাচ এবং নকআউট পর্বে উঠে ওঠেন অদম্য। সেমিফাইনাল ও ফাইনালে টানা ৮৯ রানের দুটি ইনিংস খেলে ভারতের শিরোপা জয়ে মুখ্য ভূমিকা রাখেন। ৫ ম্যাচে তার গড় ৮০.২৫। ৪. এইডেন মার্করাম (দক্ষিণ আফ্রিকা-অধিনায়ক): দক্ষিণ আফ্রিকাকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত টেনে নেওয়ার কারিগর এইডেন মার্করাম। ব্যাট হাতে ২৮৬ রান করার পাশাপাশি অধিনায়ক হিসেবে বোলারদের দারুণভাবে ব্যবহার করেছেন তিনি। তাই এই দলের নেতৃত্বও থাকছে তার কাঁধেই। ৫. হার্দিক পান্ডিয়া (ভারত): একজন কার্যকর অলরাউন্ডারের যা যা করার প্রয়োজন ছিল, সবই করেছেন হার্দিক পান্ডিয়া। ৯ ম্যাচে ২১৭ রান এবং ৯ উইকেট নিয়েছেন তিনি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৩ বলে ৫০ এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে ২/১৬ ছিল তার সেরা পারফরম্যান্স। ৬. উইল জ্যাকস (ইংল্যান্ড): ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল যাত্রায় বড় ভূমিকা রেখেছেন উইল জ্যাকস। ৮ ম্যাচে ২২৬ রান এবং ৯ উইকেট নেন তিনি। টুর্নামেন্টে শেন ওয়াটসনের সমান সর্বোচ্চ ৪টি ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন এই ইংলিশ অলরাউন্ডার। ৭. জেসন হোল্ডার (ওয়েস্ট ইন্ডিজ): ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে বল ও ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন জেসন হোল্ডার। নেপালের বিপক্ষে ৪/২৭ শিকার এবং ভারতের বিপক্ষে দ্রুতগতির ৩৭ রান তাকে এই একাদশে জায়গা করে দিয়েছে। টুর্নামেন্টে মোট ১০টি উইকেট শিকার করেছেন তিনি। ৮. জাসপ্রিত বুমরাহ (ভারত): বিশ্বকাপের সেরা বোলার জাস্প্রিত বুমরাহ। ৮ ম্যাচে নিয়েছেন ১৪ উইকেট। ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪/১৫ এবং সেমিফাইনালে ১৮তম ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। তাই একাদশে তার জায়গা অবধারিতই ছিল। ৯. লুঙ্গি এনগিডি (দক্ষিণ আফ্রিকা): দক্ষিণ আফ্রিকার পেস আক্রমণের স্তম্ভ। ৭ ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়েছেন লুঙ্গি। ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণও করেছেন। ১০. আদিল রশিদ (ইংল্যান্ড): এই একাদশের একমাত্র বিশেষজ্ঞ স্পিনার আদিল রশিদ। ৮ ম্যাচে নেন ১৩ উইকেট। লঙ্কান কন্ডিশনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২/১৩ এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ বোলিং করে দলকে জিতিয়েছেন তিনি। ১১. ব্লেসিং মুজারাবানি (জিম্বাবুয়ে): জিম্বাবুয়ের ঐতিহাসিক ‘সুপার এইট’ যাত্রার অন্যতম নায়ক ব্লেসিং মুজারাবানি। ৬ ম্যাচে ১৩ উইকেট নেন এই ডানহাতি পেসার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪/১৭ নিয়ে অজিদের হারিয়ে বড় অঘটনের জন্ম দেন তিনি। ১২তম খেলোয়াড়: শাডলি ফন শ্যালকউইক (যুক্তরাষ্ট্র): যুক্তরাষ্ট্রের এই পেসার মাত্র ৪ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। ভারতের বিপক্ষে শুরুতেই ৪ উইকেট নিয়ে দলটিকে বিপদেও ফেলে দিয়েছিলেন এই পেসার। তাই তাকে দ্বাদশ ক্রিকেটার হিসেবে রেখেছে আইসিসি।
২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে আহমেদাবাদের নীল সমুদ্রে অস্ট্রেলিয়ার হলুদ উৎসব দেখতে হয়েছিল রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলিদের। সেই রাতে কেঁদেছেন কোটি কোটি ভারতীয়। সেই আহমেদাবাদে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালটা তাই ভারতের জন্য ছিল শাপমোচনের। সেই কাজ হেসেখেলে, অনায়াসে করে ফেলল সূর্যকুমার যাদবের দল। নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে আবারও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলো ভারত। বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রিকেট ভেন্যু নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে আজ টস হেরে ২৫৫ রানের পর্বত গড়েছিল ভারত। কিউই বোলারদের বেধড়ক পিটিয়েছেন সঞ্জু স্যামসন, অভিষেক শর্মা, ঈশান কিষান, শিবম দুবেরা। জবাবে যশপ্রীত বুমরার ইয়র্কার ও স্লোয়ারে দিশেহারা হয়ে ১ ওভার বাকি থাকতেই ১৫৯ রানে গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। এ জয়ে আরো কিছু অনন্য কীর্তি গড়ল ভারত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে তিনবার চ্যাম্পিয়ন হলো তারা। প্রথম দল হিসেবে নিজেদের মাটিতে ফাইনাল জিতে শিরোপাও ধরে রাখল। ভারতীয় দলে কয়েকজন বাঁহাতি থাকায় ধারণা করা হচ্ছিল অফ স্পিনারদের দিয়ে তাদের ঘায়েল করবে নিউজিল্যান্ড। কিন্তু অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যি, দলের সেরা অফ স্পিনার কোল ম্যাককনকিকে আজ বসিয়ে রেখেছে নিউজিল্যান্ড। ম্যাককনকির জায়গায় খেলতে নামা পেসার জ্যাকব ডাফি ৩ ওভারে দিয়েছেন ৪২ রান। দলের আরেক অফ স্পিনার গ্লেন ফিলিপস ১ ওভার বোলিং করে দিয়েছিলেন মাত্র ৫ রান। কিন্তু এরপর ফিলিপসকে আর বোলিংয়েই আনেননি কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। এই সুযোগের পুরো সদ্ব্যবহার করেছেন অভিষেক, কিষান, দুবেরা। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা স্যামসন আজও উপহার দিয়েছেন ৮৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। তাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে এক আসরে তিনবার ২৫০ রান স্পর্শ করে নিউজিল্যান্ডকে ফাইনালে রেকর্ড লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় ভারত। এভারেস্টসম লক্ষ্য সফলভাবে করতে হলে নিউজিল্যান্ডকে ভারতের মতোই সমানতালে রান তোলার পাশাপাশি উইকেটও ধরে রাখতে হতো। কিন্তু বুমরার বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং ও অক্ষর প্যাটেলের ঘূর্ণি সামলাতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। ওপেনার টিম সাইফার্ট যা একটু ঝড় তুলেছিলেন (২৬ বলে ৫২ রান)। আর অধিনায়ক স্যান্টনারের ৪৩ রান পরাজয়ের ব্যবধান কমাতে সাহায্য করেছে। ব্যাটিং স্বর্গেও ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন বুমরা, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে কোনো পেসারের সেরা বোলিং ফিগার। ফাইনালসেরার পুরস্কারও বুমরার হাতে উঠেছে। টুর্নামেন্টসেরা হয়েছেন স্যামসন। আজকের রাতটা ভারতের জন্য নির্ভুল ক্রিকেট প্রদর্শনীর রাত। এই রাত তাদের জন্য শ্রেষ্ঠত্ব অক্ষুণ্ন রাখার রাত। তাই নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের আকাশে আতশবাজির ঝলকানি, দর্শকদের উল্লাস আর সূর্যকুমার-বুমরা-পান্ডিয়াদের উৎসব যে সহসা থামছে না, তা বলাই যায়। সংক্ষিপ্ত স্কোর ভারত: ২০ ওভারে ২৫৫/৫ (স্যামসন ৮৯, কিষান ৫৪, অভিষেক ৫২, দুবে ২৬*, পান্ডিয়া ১৩; নিশাম ৩/৪৬, রবীন্দ্র ১/৩২, হেনরি ১/৪৯)। নিউজিল্যান্ড: ১৯ ওভারে ১৫৯ অল আউট (সাইফার্ট ৫২, স্যান্টনার ৪৩; বুমরা ৪/১৫, অক্ষর ৩/২৭, অভিষেক ১/৫, পান্ডিয়া ১/৩৬, বরুণ ১/৩৯)। ফল: ভারত ৯৬ রানে জয়ী। ফাইনালের সেরা: যশপ্রীত বুমরা। টুর্নামেন্টের সেরা: সঞ্জু স্যামসন।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ২৫৪ বছরের ইতিহাসে অবিশ্বাস্য এক কীর্তি গড়লেন নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটার Brett Randell। টানা পাঁচ বলে পাঁচ উইকেট নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে বিরল এক নজির স্থাপন করেছেন এই ডানহাতি ফাস্ট বোলার। নিউজিল্যান্ডের McLean Park–এ চলমান Plunket Shield–এর চারদিনের ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে Central Districts cricket team–এর হয়ে খেলতে নেমে Northern Districts cricket team–এর বিপক্ষে এই ইতিহাস গড়েন তিনি। ক্রিকেট পরিসংখ্যান সংস্থা Association of Cricket Statisticians and Historians–এর তথ্য অনুযায়ী, ১৭৭২ সালে প্রথম স্বীকৃত প্রথম শ্রেণির ম্যাচ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কোনো বোলার টানা পাঁচ বলে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়লেন। ৩০ বছর বয়সী র্যান্ডেল তার দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে ব্যাটার Henry Cooper–কে বোল্ড করে উইকেটের সূচনা করেন। এরপর তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই আউট করেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক টেস্ট ওপেনার Jeet Raval–কে। পরের তিন বলেও উইকেট তুলে নিয়ে টানা পাঁচ বলে পাঁচ উইকেটের অনন্য রেকর্ড গড়ে ফেলেন তিনি। শেষ উইকেট হিসেবে অলরাউন্ডার Christian Clark–কে বোল্ড করে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান র্যান্ডেল। এতেই থেমে থাকেননি এই পেসার। পরের ওভারে আরও দুটি উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষ Northern Districts cricket team–কে মাত্র ৮২ রানে অলআউট করতে বড় ভূমিকা রাখেন। এর আগে প্রথমে ব্যাট করে Central Districts cricket team ৩৭৩ রান সংগ্রহ করেছিল। ম্যাচে র্যান্ডেলের বোলিং ফিগার ছিল ২৫ রানে ৭ উইকেট—যা তার ৯ বছরের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে সেরা বোলিং পারফরম্যান্স।