আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সত্যি সত্যি ম্যাচটি না খেললে বড় শাস্তির মুখে পড়তে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সাবেক চেয়ারম্যান এহসান মানির দাবি, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বয়কট করার কারণে পাকিস্তানকে শাস্তি দিতে পারে না আইসিসি। তার যুক্তি, এই সিদ্ধান্ত সরকারিভাবে নেওয়া হয়েছে, ফলে এটি আইসিসির শৃঙ্খলামূলক এখতিয়ারের বাইরে পড়ে।
পাকিস্তান ঘোষণা করেছে, ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারতের বিপক্ষে বহুল আলোচিত ম্যাচে তারা মাঠে নামবে না। তবে ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া টুর্নামেন্টের বাকি অংশে জাতীয় দলের অংশগ্রহণে সরকার অনুমোদন দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক বিবৃটিতে পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, তাদের জাতীয় দলটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে, কিন্তু ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে 'মাঠে নামবে না।'
স্পোর্টস্টারকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আইসিসির সাবেক চেয়ারম্যান মানি বলেন, 'সরকারি নির্দেশনা মেনে চললে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো নিষেধাজ্ঞা হতে পারে না। এই যুক্তিতেই ভারত ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ম্যাচগুলো পাকিস্তানে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। এখানে দ্বৈত মানদণ্ড চলতে পারে না। সমস্যার সমাধান করার বদলে আইসিসি কেবল দর্শকের ভূমিকায় দাঁড়িয়ে আছে।'
এক সময় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যানের দায়িত্বেও ছিলেন মানি। তিনি আরও বলেন, ‘এই পরিস্থিতি কার্যত সরকারগুলোর জন্য ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপের দরজা খুলে দিয়েছে—বিশেষ করে যখন পিসিবি চেয়ারম্যান নিজেই পাকিস্তান সরকারের একজন বর্তমান মন্ত্রী।’
তবে আইসিসি পাকিস্তান সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং সতর্ক করেছে যে বেছে বেছে অংশগ্রহণ করলে শাস্তিমূলক পরিণতি হতে পারে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা এখনো পিসিবির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি পায়নি, তবে এই সিদ্ধান্তকে বৈশ্বিক ক্রীড়া ইভেন্টের নীতির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছে।
আইসিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আইসিসি আশা করে পিসিবি নিজ দেশের ক্রিকেটের ওপর এর গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করবে, কারণ এটি বৈশ্বিক ক্রিকেট ইকোসিস্টেমকে প্রভাবিত করবে—যার সদস্য ও উপকারভোগী পিসিবি নিজেই।’
জাতীয় নীতির ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা স্বীকার করলেও আইসিসি যোগ করে, এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক ক্রিকেট কিংবা পাকিস্তানের ভক্তদের কল্যাণের পক্ষে নয়।
আইসিসি জানিয়েছে, তারা পিসিবির কাছ থেকে পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধান খোঁজার প্রত্যাশা করছে এবং টুর্নামেন্ট নির্বিঘ্নে আয়োজনই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
এদিকে পিসিবি বলেছে, সরকারি সিদ্ধান্তের পর তারা অংশগ্রহণ নিয়ে পুনর্মূল্যায়ন করবে এবং জানিয়েছে, এই বয়কট বাংলাদেশের প্রতি সংহতির প্রতিফলন। পাকিস্তান তাদের অভিযান শুরু করবে ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি নামিবিয়ার বিপক্ষে খেলবে। সবগুলো ম্যাচই কলম্বোর এসএসসি গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
আইসিসি ইভেন্টে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ ঐতিহ্যগতভাবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াই, যা সর্বোচ্চ বৈশ্বিক দর্শকসংখ্যা, স্পনসরশিপ আগ্রহ ও সম্প্রচার আয় এনে দেয়। ওয়াকওভার হলে ভারত পূর্ণ পয়েন্ট পাবে, তবে বাণিজ্যিকভাবে বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সম্প্রচারকারীরা বিজ্ঞাপন আয়ে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি রুপি পর্যন্ত ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
আইসিসির খেলার শর্ত অনুযায়ী, ওয়াকওভার দেওয়ার জন্য প্রতিপক্ষ দলকে টসের সময় মাঠে উপস্থিত থাকতে হয়। তাই ভারতের কলম্বো সফর করার কথা রয়েছে এবং অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব টসের জন্য মাঠে নামবেন বলে আশা করা হচ্ছে। যদি পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগা উপস্থিত না হন, তাহলে ম্যাচ রেফারি ওয়াকওভার ঘোষণা করে ভারতকে দুই পয়েন্ট দিয়ে দেবেন।
মানির মতে, আনুষ্ঠানিক শাস্তি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচ ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকায়, আইসিসির হাতে আর্থিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা থেকেই যাচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। বুধবারের এই ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে আলবিসেলেস্তেরা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিল, যেখানে আগামী রবিবার তারা স্পেনের মুখোমুখি হবে। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে অধিনায়ক লিওনেল মেসি বলেন, তিনি নিশ্চয়ই ওপর থেকে আর্জেন্টিনার এই অর্জন উদযাপন করছেন। এই জয়কে ম্যারাডোনার জন্য একটি বিশেষ উপহার এবং দিনটিকে স্মরণীয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিশ্চয়ই দিয়েগো ওপর থেকে এটি উপভোগ করছেন। এটি তার জন্যও একটি উপহার এবং একটি অত্যন্ত বিশেষ দিন। সূত্র: এনডিটিভি
স্পেনের কিংবদন্তি গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াস আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার পর কিছু ঝাঁঝালো মন্তব্য করেছেন। আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতে ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। এই জয়ের পরই এসব মন্তব্য করেন সাবেক এই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন গোলরক্ষক। প্রথমে রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই গোলরক্ষক ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেলের কৌশল নিয়ে সমালোচনা করেন। অ্যান্থনি গর্ডনের গোলের পর তিনি বলেন, ‘গোল করার পর তারা রক্ষণে নেমে পড়ল। এটা ভীতুর কৌশল। তারা নিজেদের বক্স ছাড়েনি, আর এতেই আর্জেন্টিনা বেশি সুযোগ পেয়েছে। যা হওয়ার তাই হয়েছে।’ ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই তিনি বলেন, ইংল্যান্ড নিজেদের কৌশলের কারণেই ‘একা একা ম্যাচটা হেরেছে’। তিনি আরও বলেন, ইংল্যান্ড ‘৩০ মিনিট ধরে’ আর্জেন্টিনাকে সব কিছু করতে দিয়েছে। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপজয়ী এই গোলরক্ষক বলেন, ‘এটা হতে পারে না। ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি আর্জেন্টিনা। এটা অবিশ্বাস্য কিছু হতে যাচ্ছে।’ এরপর একের পর এক টুইটে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ফাইনালে তিনি স্পেনের ওপর ভরসা রাখছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা চতুর্থ তারাটা সেলাই করতে পারবে না।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘চতুর্থ তারা হবে না। আমরা দ্বিতীয় তারাটার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি! এগিয়ে চলো স্পেন!’ বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচগুলোতে বছরের পর বছর মেসির কাছে ভুগেছেন এই গোলরক্ষক। ম্যাচে প্রথমে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। তবে শেষ দিকে দুর্দান্ত দুটি গোলে ম্যাচের ফল পাল্টে দেয় তারা। প্রথমে গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ, দুর্দান্ত এক শটে। এরপর মেসির ডান পায়ের ক্রস থেকে হেডে গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ। আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই বিশেষ লড়াই জিতে আরেকটি ইতিহাস গড়েছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের গ্র্যান্ড ফাইনালে উঠেছে তারা। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে নিউ ইয়র্ক/নিউ জার্সিতে, ১৯ জুলাই রাতে। শিরোপার জন্য এটি আর্জেন্টিনার সপ্তম ফাইনাল। মেসি ও স্কালোনির হাত ধরে চতুর্থ তারার খোঁজে আছে দলটি।
আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনাল, আরেকটি ইতিহাস গড়ার হাতছানি—সবকিছুই মিলিয়ে গেল টেক্সাসের আর্লিংটন স্টেডিয়ামে। স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে ফ্রান্সকে। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার যে স্বপ্ন দেখছিলেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে, তা ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। ম্যাচ শেষে নিজের সেই ‘অসীম হতাশা’ আর ম্যাচ হারার ভেতরের গল্প অকপটে স্বীকার করেছেন ২৭ বছর বয়সী এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের পথচলা ছিল বেশ রোমাঞ্চকর। আক্রমণভাগের নেতৃত্বে থেকে আটটি গোল করে ফুটবলবিশ্বকে বুঁদ করে রেখেছিলেন এমবাপে। কিন্তু সেমিফাইনালের মঞ্চে স্পেনের কৌশলী ফুটবলের সামনে খেই হারিয়ে ফেলে ‘লে ব্লুজ’রা। ম্যাচ শেষে ফরাসি ব্রডকাস্টার এমসিক্স-এর সঙ্গে আলাপকালে এমবাপে বলেন, ‘যেভাবে খেলতে চেয়েছিলাম—কৌশলগত, টেকনিক্যাল কিংবা সার্বিক পারফরম্যান্সের দিক থেকে—তার কিছুই আমরা মাঠে করে দেখাতে পারিনি।’ নিজের দলের ভুলগুলো লুকাতে চাননি এই ফরাসি অধিনায়ক, ‘বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে যা করা উচিত, তা যদি করতে না পারেন, তবে জয় পাওয়া সম্ভব নয়।’ স্পেনের মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সহজাত ক্ষমতাকে রুখতে ফরাসিদের যে পরিকল্পনা ছিল, তা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলে জানান এমবাপে। তার ভাষায়, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল মাঠের ওপরের দিকে ওদের চেপে ধরা, যেন ওরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে ধীরগতির ছন্দ তৈরি করতে না পারে। কারণ খেলা নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে ওরা আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। আর এই কাজটাই আমরা করতে পারিনি।’ পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে মাঝমাঠের ব্যর্থতাকেই চিহ্নিত করেছেন এমবাপে। মাঠের ঠিক মাঝখানে আদ্রিয়েন রাবিও এবং অহেলিয়াঁ চুয়ামেনির ফরাসি জুটি স্পেনের রদ্রি, দানি ওলমো আর ফাবিয়ান রুইসের ত্রয়ীর কাছে পুরোপুরি পরাস্ত হয়েছে। এমবাপে বলেন, ‘মাঝমাঠে আমরা বারবার তিনজনের বিরুদ্ধে দুজন হয়ে পড়ছিলাম। স্পেনের মতো দলের সঙ্গে এমনটা হওয়া মানেই বড় বিপদ। সব মিলিয়ে এই ভুলের চড়া মূল্য দিতে হয়েছে হারের মাধ্যমে। এটা সত্যিই এক বিশাল হতাশা।’ স্বপ্নভঙ্গের এই বেদনায় ফরাসি শিবির স্তব্ধ হয়ে গেলেও, এই ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে চান এমবাপে। দেশের মানুষকে আরও একবার গৌরবের উপলক্ষ এনে দিতে না পারার আক্ষেপ তার কণ্ঠে, ‘ফাইনালে ওঠা, দেশকে স্বপ্ন দেখার সুযোগ করে দেওয়া আর নতুন ইতিহাস গড়া আমাদের স্বপ্ন ছিল। কিন্তু এখন এই কঠিন বাস্তবতা আমাদের মাথা উঁচু করেই মেনে নিতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, জেতার পর যেভাবে মাথা উঁচু রাখতে হয়, হারের পরও ঠিক সেভাবেই মাথা উঁচু রেখে মাঠ ছাড়তে হয়।’ ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে এমবাপে যোগ করেন, ‘এই মুহূর্তে হতাশার পাল্লাটা বড্ড ভারী। আমি ও আমার দল কতটা হতাশ, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। কিন্তু ফুটবল কারও জন্য অপেক্ষা করে না। তাই কিছুটা যান্ত্রিক শোনালেও আমাদের এখন এই ধাক্কা সামলে উঠতে হবে, ছুটিতে যেতে হবে এবং জীবনের পরের অধ্যায়ে মনোযোগ দিতে হবে। এই ব্যর্থতা পেছনে ফেলে আমাদের নতুন করে শুরু করতে হবে এবং এই ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে।’