জাতীয়

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগে চীনের প্রতি আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চীনের সুদৃঢ় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ স্বাস্থ্যখাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়াতে চায় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

 

আজ চীনের হাইনান প্রদেশের বোআও ল্যেছেং আন্তর্জাতিক মেডিকেল ট্যুরিজম পাইলট জোনে হাইনান প্রদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা জানান।

 

বৈঠকে হাইনান প্রাদেশিক কমিউনিস্ট পার্টির কমিটির সম্পাদক ফেং ফেই ও ভাইস গভর্নর শিয়ে জিং উপস্থিত ছিলেন।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সরকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিভিন্ন অঞ্চলে ২০টি বড় হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় আমরা চীনের কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ প্রত্যাশা করছি।

 

বৈঠকে বাংলাদেশি মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি, চিকিৎসক বিনিময় ও প্রশিক্ষণ, উষ্ণমণ্ডলীয় রোগ প্রতিরোধ এবং ট্র্যাডিশনাল চাইনিজ মেডিসিনে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়।

 

এছাড়াও স্তন ক্যানসারের মতো অসংক্রামক রোগের পাশাপাশি হাম, ডেঙ্গু ও থ্যালাসেমিয়ার মতো সংক্রামক ও অন্যান্য রোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগ ও চ্যালেঞ্জগুলোও বৈঠকে উঠে এসেছে।

 

বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গ্লাভস, মাস্ক ও ব্লাড ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীর উৎপাদনে হাইনানভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন করতে পারে। এতে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত পণ্য রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে।

 

হাইনানের কর্মকর্তারা বাংলাদেশি চিকিৎসকদের সফর, চিকিৎসা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। উভয় পক্ষ স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে।

 

বৈঠকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব ফাতিমা-তুজ-জোহরা ঠাকুর, চীনে বাংলাদেশ দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর মো. জিয়াউর রহমান এবং মালিশা গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক মারুফ মোল্লা উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
পাতাল মেট্রোরেলের চার প্যাকেজের নির্মাণ চুক্তি সই

রাজধানীর প্রথম পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্প এমআরটি লাইন-১-এর চারটি প্যাকেজের নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব চুক্তির আওতায় টানেল ও স্টেশন নির্মাণ, রেললাইন স্থাপন, বৈদ্যুতিক অবকাঠামো, সিগন্যালিং ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।   বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল ভবনের সম্মেলনকক্ষে চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হয়।   বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্পের অবকাঠামো উন্নয়নে এই চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।   চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলম।   বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি এবং জাইকা বাংলাদেশ অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো। এ ছাড়া প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং চুক্তি স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।   চুক্তি অনুযায়ী, চারটি প্যাকেজের মধ্যে দুটি প্যাকেজে পাতাল রেলের টানেল ও স্টেশন নির্মাণ করা হবে। কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি-০৪-এর আওতায় রামপুরা আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে নতুন বাজার স্টেশন পর্যন্ত ৪ দশমিক ৪৪৭ কিলোমিটার পাতাল রেলপথ নির্মাণ করা হবে।   অন্যদিকে, কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি-০৬-এর আওতায় নদ্দা আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার পাতাল রেলপথ নির্মাণের কাজ হবে। এই দুই প্যাকেজে মোট ৯ দশমিক ৬২৯ কিলোমিটার আন্ডারগ্রাউন্ড রুট নির্মাণ করা হবে।   কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি-০৯-এর আওতায় এমআরটি লাইন-১-এর ট্র্যাক স্থাপনের কাজ করা হবে। এর মধ্যে রেল, টার্নআউট, পয়েন্ট ও ক্রসিংসহ প্রয়োজনীয় ট্র্যাক স্থাপনের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক অবকাঠামো নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   চতুর্থ প্যাকেজ সিপি-১০-এর আওতায় ট্রেন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সিগন্যালিং ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে থাকবে কমিউনিকেশন বেজড অটোমেটিক ট্রেন কন্ট্রোলিং সিস্টেম, অপটিক্যাল ফাইবারভিত্তিক ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক এবং এলটিই প্রযুক্তির রেডিও যোগাযোগব্যবস্থা। পাশাপাশি প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর ও এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ইআরএমএস) স্থাপন করা হবে।   অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসন, যাতায়াতের সময় কমানো এবং নাগরিকদের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত গণপরিবহন সেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও সময়োপযোগী নগর গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   তিনি বলেন, দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল এমআরটি লাইন-১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষর প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক।   নির্মাণকাজে শ্রম আইনসহ দেশের প্রচলিত সংশ্লিষ্ট আইন মেনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন সচিব। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। নির্মাণকাজের কারণে সাধারণ মানুষের সাময়িক ভোগান্তি যেন দীর্ঘায়িত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।   তিনি আরও বলেন, নির্মাণকাজে পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকল্প এলাকার আশপাশে বসবাসকারী মানুষের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের মধ্যে স্বচ্ছ, ধারাবাহিক ও কার্যকর সমন্বয় ও যোগাযোগ বজায় রাখা জরুরি।   বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং উন্নয়ন সহযোগিতার প্রশংসা করেন। মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজের স্থবিরতা কাটিয়ে পুনরায় বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু ও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি। বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে দুই দেশের সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত।   চারটি প্যাকেজের নির্মাণকাজ বাস্তবায়িত হলে এমআরটি লাইন-১-এর টানেল, স্টেশন, ট্র্যাক এবং ট্রেন পরিচালনাসংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত অবকাঠামো নির্মাণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে। এর মাধ্যমে রাজধানীর ক্রমবর্ধমান যাতায়াতের চাহিদা মোকাবিলা, যানজটের চাপ কমানো এবং নাগরিকদের জন্য নিরাপদ,

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীতছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের জন্য নির্মিত হবে ১০০ শয্যার হাসপাতাল : শ্রমমন্ত্রী

শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

বৃহস্পতিবার থেকেই শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

তিন উন্নয়ন প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত
শ্রমিকদের দাবি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে : শ্রমমন্ত্রী

শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, শ্রমিকদের উত্থাপিত দাবিগুলো সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব দাবি নিয়ে মজুরি বোর্ডে আলোচনা হবে এবং আলোচনার ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।    বুধবার (৪ নভেম্বর) শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে চলমান সংকট নিরসনে আয়োজিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার থেকে শ্রমিকদের নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।   শ্রমমন্ত্রী বলেন, গাজীপুরে শ্রমিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শ্রম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিহতের পরিবারকে তাৎক্ষণিক এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও পরিবারটির পাশে থাকবে সরকার।   তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।   শ্রমিকদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, গাজীপুরের টঙ্গীতে শ্রমিকদের জন্য ১০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে অনুমোদিত সারসংক্ষেপ তার কাছে পাঠানো হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের প্রক্রিয়াগত কাজ শুরু হবে।   চলমান শ্রমিক অসন্তোষ প্রসঙ্গে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সংকট সমাধানে শ্রমিক সংগঠন ও মালিকপক্ষ আন্তরিক সহযোগিতা করছে। অল্প সময়ের নোটিশে শ্রমিক নেতারা আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। একইভাবে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারাও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় উপস্থিত হয়েছেন। উভয় পক্ষের সহযোগিতায় কারখানাগুলো দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।   মন্ত্রী বলেন, নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও যেসব শ্রমিক কারাবরণ করেছেন, তাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে। তবে ভিডিও ফুটেজে যাদের বিরুদ্ধে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   মজুরি নির্ধারণের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, শনিবার রাতে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পর রোববার দুপুর ১২টার আগেই মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। একই দিন সন্ধ্যায় এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়। আগামী চার দিনের মধ্যে আবারও মজুরি বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে।   শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি এবং মালিকদের শিল্প পরিচালনার সক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রাখাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান মন্ত্রী। তার মতে, শিল্পকারখানা সচল থাকলে উৎপাদন ও আয় বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি হবে।   দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের মাধ্যমে অথবা লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাতে হবে। যথাযথ সাড়া না পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো আবেদন বা আলোচনা ছাড়াই সরাসরি কর্মবিরতি কিংবা অচলাবস্থা সৃষ্টি করা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।   বন্ধ ও ছুটি ঘোষণা করা কারখানাগুলো পুনরায় খুলে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান শ্রমমন্ত্রী। পাশাপাশি শ্রমিক নেতাদের নিজ নিজ এলাকার কারখানায় গিয়ে শ্রমিকদের কাজে ফেরার জন্য উদ্বুদ্ধ করার অনুরোধ করেন। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।   শিল্প খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের গার্মেন্টস শিল্প অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা কিংবা শিল্প খাতে অস্থিতিশীলতা তৈরির কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মজুরি বোর্ডের সুপারিশ মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষ মেনে নেবে বলে তিনি আশাবাদী। কারণ, বোর্ডে দুই পক্ষেরই প্রতিনিধি রয়েছেন এবং তারা সুপারিশ মেনে নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন।   শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বানে সাড়া না দিলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষ সহযোগিতা করলে শ্রমিকরাও কাজে ফেরার আহ্বানে সাড়া দেবেন বলে তিনি আশা করছেন।   সবশেষে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার মাধ্যমে শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করার আহ্বান জানান শ্রমমন্ত্রী।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পোশাকশিল্পে অস্থিরতা স্বাভাবিক শ্রমিক আন্দোলন নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

‘এত সুন্দর ও শৃঙ্খলভাবে আগে বিমানবন্দর দেখিনি’, যাত্রীদের সন্তুষ্টির কথা জানালেন বিমানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

গণপূর্তের প্রকৌশলীদের বদলিতে অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন: গণপূর্ত মন্ত্রণালয়

ছবি: সংগৃহীত
পর্যটকের জন্য খুলছে সেন্টমার্টিন, বাড়ছে পরিবেশের ওপর চাপের শঙ্কা

দীর্ঘ নয় মাসের বিরতির পর পর্যটকদের জন্য আবারও উন্মুক্ত হচ্ছে দেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পর্যটন চালুর খবরে দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানো এবং রাত্রিযাপনের অনুমতি দেওয়ায় পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।   এবার পর্যটন মৌসুমে দৈনিক পর্যটকের সর্বোচ্চ সীমা দুই হাজার থেকে বাড়িয়ে সাড়ে তিন হাজার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মৌসুমের শুরু থেকেই দ্বীপে রাত্রিযাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আশাবাদী হলেও পরিবেশবিদদের প্রশ্ন, বাড়তি পর্যটকের চাপ সামলানোর মতো সুপেয় পানির উৎস, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পয়োনিষ্কাশন ও পরিবেশগত অবকাঠামো দ্বীপে কতটা প্রস্তুত।   সম্প্রতি সরেজমিনে সেন্টমার্টিন ঘুরে দেখা গেছে, পর্যটকদের স্বাগত জানাতে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারকাজ। রেস্তোরাঁগুলো খাবারের আয়োজন গুছিয়ে নিচ্ছে। দোকানপাটেও নতুন করে পণ্য তোলা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর্যটক না থাকায় আর্থিক সংকটে পড়া ব্যবসায়ীরা নতুন মৌসুমে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আশা করছেন।   এবার পর্যটক পরিবহনে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাটকে কেন্দ্র করে জাহাজ চলাচলের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগে টেকনাফ থেকেও দ্বীপে যাতায়াত করা যেত। তবে নিরাপত্তা ও পরিবেশগত বিবেচনায় সেই পথ বন্ধ রয়েছে। কক্সবাজার থেকে যাত্রার দূরত্ব বেশি হওয়ায় পর্যটকদের সময় ও খরচ বাড়ছে। এতে পর্যটকদের আগ্রহ এবং স্থানীয় ব্যবসায় কতটা প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।   সরকারের সংশোধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন। দৈনিক সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। অনলাইন ভ্রমণ অনুমতিপত্র ও কিউআর কোডভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর কথা রয়েছে। দ্বীপে প্রবেশের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা। পর্যটকেরা ১ নভেম্বর থেকেই দ্বীপে রাত্রিযাপন করতে পারবেন।   পরিবেশ সুরক্ষায় পর্যটকদের জন্য কয়েকটি বিধিনিষেধও রাখা হয়েছে। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ। সৈকতে উচ্চ শব্দে গানবাজনা, রাতে পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন আলো জ্বালানো এবং উন্মুক্ত স্থানে বারবিকিউ আয়োজনেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। প্রবাল ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ছেঁড়াদ্বীপে পর্যটকদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রিত থাকবে। তবে এসব বিধিনিষেধ বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।   সেন্টমার্টিনের পরিবেশগত সংকটের চিত্র উঠে এসেছে বিভিন্ন গবেষণায়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দ্বীপে স্থাপনা ও উন্নয়নকাজে ব্যবহৃত এলাকার পরিমাণ ২ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়েছে। উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণে ২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে দ্বীপের প্রবালপ্রাচীরের প্রায় ২৫ শতাংশ অবক্ষয়ের তথ্যও উঠে আসে।   পর্যটন নিষেধাজ্ঞার সময়ে দ্বীপের সামুদ্রিক পরিবেশে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। গত ২৯ মে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত দ্বীপের ১০৭টি স্থানের পানির গুণগত মান বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটন নিষেধাজ্ঞার সময়ে সমুদ্রের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা বেড়েছিল। নিষেধাজ্ঞার আগে প্রতি লিটার পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা ছিল ৬ থেকে ৬ দশমিক ৬ মিলিগ্রাম; পরে তা বেড়ে ৭ দশমিক ১ থেকে ৭ দশমিক ৪ মিলিগ্রামে পৌঁছায়।   তবে পানির গুণগত মানের পরিবর্তনের একমাত্র কারণ পর্যটন নিষেধাজ্ঞা নয় বলে গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে। পানির তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, লবণাক্ততা ও নাফ নদীর পানির প্রবাহের মতো প্রাকৃতিক ও মৌসুমি বিষয়ও এতে প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণায় দ্বীপের পূর্বাংশের নমুনা সংগ্রহস্থলকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই পানির মানের উন্নতির পুরো কৃতিত্ব পর্যটন নিষেধাজ্ঞাকে দেওয়া যাবে না। তবে পরিবেশ সংরক্ষণে পর্যটন নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব এতে উঠে এসেছে।   সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দ্বীপের পরিবেশগত সংকটের অন্যতম বড় কারণ দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। পর্যটক বাড়লে প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের প্যাকেট, পলিথিনসহ বিভিন্ন বর্জ্যের পরিমাণও বাড়বে। এসব বর্জ্য যথাযথভাবে সংগ্রহ ও অপসারণ করা না গেলে সৈকত, সমুদ্র ও প্রবালপ্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে বাড়তি পর্যটকের চাপে সীমিত সুপেয় পানির উৎসের ওপর চাপ তৈরি হবে। হোটেল-রেস্তোরাঁর পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা কার্যকর না হলে অপরিশোধিত বর্জ্য সমুদ্রে মিশে সামুদ্রিক পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে।   এ ছাড়া পর্যটকদের চলাচল, নৌযানের শব্দ ও আলো, সৈকতে রাতের কর্মকাণ্ড এবং প্রবালের ওপর অনিয়ন্ত্রিত পদচারণা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। মানুষের উপস্থিতিতে সামুদ্রিক কচ্ছপ, পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্রও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত তদারকি, বর্জ্য অপসারণ এবং পর্যটকদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি।   স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যটন বন্ধ থাকায় দ্বীপের অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, দোকান, নৌযানসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশার মানুষের আয় কমে গেছে। পর্যটন চালু হওয়ায় তাদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।   সেন্টমার্টিনের কটেজ মালিক নুরুল আবছার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রায় সব কটেজ বন্ধ থাকায় মালিকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক কটেজ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সেগুলো সংস্কার করতে অতিরিক্ত খরচ হয়েছে। দ্বীপে বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। বেশিরভাগ কটেজে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হয়, আবার জ্বালানির দামও বেশি। তারপরও দীর্ঘদিন পর পর্যটক আসায় তারা আশাবাদী।   জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ নভেম্বর থেকেই দ্বীপটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হলেও প্রশাসনিক অনুমোদনের কারণে এত দিন নৌযান চলাচল সম্ভব হয়নি। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ায় বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময়েই জাহাজ চলাচল শুরু হবে।   চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ এবং পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। কিন্তু অনেক পর্যটক পর্যটনকেন্দ্রের পরিবেশগত গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন নন। তাদের অসচেতন আচরণে দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।   তার মতে, পর্যটকের চাপ সামলানোর মতো পরিবেশগত অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানো এবং রাত্রিযাপনের সুযোগ সম্প্রসারণ করা উচিত হয়নি। এতে দ্বীপের পরিবেশের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে।   বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) চট্টগ্রামের প্রধান সমন্বয়কারী মুনিরা পারভীন রুবা বলেন, সেন্টমার্টিন শুধু পর্যটনকেন্দ্র নয়; এটি সংবেদনশীল প্রতিবেশব্যবস্থার অংশ। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানো হলে দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তার মতে, পর্যটকের চাপ সামলানোর মতো সুপেয় পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পয়োনিষ্কাশন ও পরিবেশগত অবকাঠামো আগে নিশ্চিত করা জরুরি।   তিনি আরও বলেন, সেন্টমার্টিনের অবৈধ হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা অপসারণ এবং প্রবালসহ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষার দাবিতে ২০০৯ সালে বেলা জনস্বার্থে মামলা করেছিল। ২০১১ সালে এ বিষয়ে হাইকোর্ট গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। তবে এরপরও দ্বীপে অপরিকল্পিত স্থাপনা, পর্যটনের অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার ও পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।   মুনিরা পারভীন রুবা বলেন, পর্যটক বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পাশাপাশি দ্বীপের পরিবেশগত ধারণক্ষমতা নির্ধারণ এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। পর্যটন বন্ধ রাখা বা স্থানীয় মানুষের জীবিকা উপেক্ষা করা স্থায়ী সমাধান নয়। স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে নিয়ন্ত্রিত ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।   টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে আন্তমন্ত্রণালয় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিষ্কাশনের জন্য যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ কাজে দুটি বেসরকারি এনজিও কাজ করছে। দ্বীপের পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কার বিষয়েও প্রশাসন সজাগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যশোরে ট্রেনের ধাক্কায় দ্বিখণ্ডিত কাভার্ডভ্যান, চালক নিহত

ছবি: সংগৃহীত

সংবাদ প্রচারকে ঘিরে ডিবি কার্যালয়ে ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও রাজিব ঘোষ

ছবি: সংগৃহীত

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতির প্রস্তাব

0 Comments