আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশের নতুন সরকারকে যে প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের নতুন সরকারের কাছে বিভিন্ন সামরিক ও বাণিজ্যিক প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত।


তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের বিস্তৃত উপস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন এবং চীনের সঙ্গে কিছু সম্পৃক্ততার সম্ভাব্য ঝুঁকি বাংলাদেশের সরকারের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে চায়। বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতার চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সামরিক সরঞ্জাম এবং মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তাব দিতে পারে, যা চীনা ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।


২০২৪ সালের আগস্টে জেন-জি নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে ভারতপন্থী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি দিল্লিতে চলে যান। এরপর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দেয় এবং এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে চীনের প্রভাব বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


সম্প্রতি ভারতের সীমান্তের কাছে একটি ড্রোন কারখানা নির্মাণে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে চীন, যা পশ্চিমা কূটনীতিকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এছাড়া চীন ও পাকিস্তানের যৌথ প্রকল্প জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।


চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কৌশলগত অংশীদার হিসেবে চীন ও বাংলাদেশ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা করে আসছে এবং এই সহযোগিতা পারস্পরিকভাবে লাভজনক। তারা বলেছে, এই সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এতে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না।


মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। হাসিনার দেশত্যাগের পর দুই দেশের সম্পর্কে অবনতি হয়েছে, যার প্রভাব ভিসা সেবা ও ক্রীড়া বিনিময়েও পড়েছে।


বাণিজ্যিক বিষয়ে তিনি জানান, অনেক মার্কিন কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। তবে তারা চায় নতুন সরকার স্পষ্ট বার্তা দিক যে দেশটি ব্যবসাবান্ধব। বাণিজ্যিক কূটনীতি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা খাতে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা এগিয়ে নিতে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ওয়াশিংটন।


বর্তমানে জ্বালানি কোম্পানি শেভরন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে কার্যক্রম চালালেও অন্যান্য মার্কিন কোম্পানির উপস্থিতি সীমিত। উচ্চ করহার ও মুনাফা দেশে ফেরত পাঠানোর জটিলতা বিনিয়োগে বাধা হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশে এখনো স্টারবাকস বা ম্যাকডোনাল্ডসের কোনো শাখা নেই।


রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের জনগণ যে সরকারই নির্বাচিত করুক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র সেই সরকারের সঙ্গেই কাজ করবে।


এছাড়া বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর বিষয়ে তিনি বলেন, মানবিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র এখনো সর্ববৃহৎ দাতা দেশ। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র বড় অবদান রেখে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে শক্তিশালী কর্মসূচি চালু রয়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের সঙ্গে ২০০ কোটি ডলারের একটি বৈশ্বিক তহবিল কাঠামোতে স্বাক্ষর হয়েছে, যা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে মানবিক সহায়তার কার্যকারিতা বাড়াবে।


তিনি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আরও বেশি দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের বোঝা একা যুক্তরাষ্ট্র বহন করতে পারবে না।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল

ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পরও লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।   শুক্রবার (১৯ জুন) মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত এবং ৯৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল একই দিনে বিকাল ৪টা থেকে।   যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক কূটনীতিক সংবাদমাধ্যমকে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও ইরানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এর লক্ষ্য ছিল লেবাননে সংঘাত কমিয়ে আনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়া।   তবে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শুরু হওয়ার পরপরই দক্ষিণ লেবাননে অন্তত ১২টি বিমান হামলা ও ধারাবাহিক গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। এতে বাসিন্দাদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।   এক গালফ কূটনীতিক এএফপিকে জানান, দুই পক্ষ শত্রুতা বন্ধে সম্মত হয়েছে, তবে এটি কঠোরভাবে মেনে চলা না হলে পরিস্থিতি আবারও অবনতি হতে পারে। একই সময়ে একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে বলে তারা ধারণা করছে।   হিজবুল্লাহর এক কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেন, ইসরাইল যদি চুক্তি মানে, তবে যুদ্ধবিরতি বজায় থাকবে। অন্যদিকে এক ইসরাইলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ হামলা না করলে আমাদের জন্য এটি যুদ্ধের সময় নয়।   তবে বাস্তবে হামলা অব্যাহত থাকায় দক্ষিণ লেবাননের মানুষ যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।   লেবাননের টাইর শহর থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক হেইডি পেট বলেন, এটিকে সত্যিকারের যুদ্ধবিরতি বলা কঠিন। প্রতিবারই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলে নতুন করে হামলা শুরু হয়।   এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, লেবানন-ইসরাইল আলোচনা আগামী ২৩ থেকে ২৫ জুন ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হবে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেছেন, যে কোনো আলোচনার ভিত্তি হতে হবে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি।   জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক যুদ্ধবিরতির খবরকে স্বাগত জানিয়ে উভয় পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ ও সংলাপে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।   সূত্র: আলজাজিরা

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি নিয়ে সমালোচকদের কড়া জবাব ট্রাম্পের

ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানে আফগানিস্তানের বিমান হামলা

ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি, জানাল যুক্তরাষ্ট্র

ট্রাম্পের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অনুনয়? মেলোনি বললেন ‘গল্প ফেঁদেছেন’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ছবি তুলতে ‘অনুনয়’ করেছিলেন বলে যে দাবি উঠেছে, তা সরাসরি নাকচ করে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, তিনি বা ইতালি কারো কাছে হাত পাতেন না বা ভিক্ষা করেন না।   ছবি তোলার ‘অনুনয়’ বিষয়ক ট্রাম্পের দাবিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘বানোয়াট’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মেলোনি।   শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় উল্টো ট্রাম্পের নীতি ও আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী।   ছবি তোলা বিষয়ক ট্রাম্পের মন্তব্যে ‘হতবাক’ মেলোনি বলেন, “আমি জানি না মার্কিন প্রেসিডেন্ট বন্ধুদের সঙ্গে কেমন আচরণ করেন। শুধু এটাই বলতে পারি, অত্যন্ত দুঃখজনক যে তিনি পশ্চিমা দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের বিরুদ্ধে একই ধরনের কঠোরতা দেখান না। ওসব দেশগুলোর নেতাদের প্রতি বরং তিনি অনেক বেশি নমনীয় বা আপসকামী।”   চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলীয় একটি অবকাশযাপন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মেলোনিকে বেশ ঘনিষ্ঠভাবে আলোচনা করতে দেখা যায়। পরে ইতালির প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্ক অপরিবর্তিত রয়েছে এবং তাদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি কোনো ক্ষোভ বা অভিযোগ নেই।   এর পরেই ট্রাম্প ফোনে ইতালির একটি টেলিভিশনকে দেওয়া বক্তব্যে দাবি করেন, সম্মেলন চলাকালে মেলোনি তার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য ‘আক্ষরিক অর্থেই’ মিনতি করেছিলেন। মেলোনির জন্য সে সময় তার ‘মায়া’ লাগছিল।   মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে ইতালিজুড়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। ট্রাম্পের মন্তব্যে চরম বিস্ময় প্রকাশ করে মেলোনি ইনস্টাগ্রামে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।   বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই নেতার মধ্যে প্রকাশ্যে এই বাদানুবাদ প্রমাণ করে যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণায় ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পর থেকে গত কয়েক মাসে ইতালি ও মেলোনির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সম্পর্কে বড় ধরনের ‘ফাটল’ ধরেছে।   বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির মধ্যে কূটনৈতিক দ্বন্দ্বও শুরু হয়েছে। মেলোনিকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যের পর ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি যুক্তরাষ্ট্রে তার পূর্বনির্ধারিত সফর বাতিল করেছেন।   বিবিসি লিখেছে, সার্বিক বিষয়ে মন্তব্যের জন্য তারা হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও এখনো তারা কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।   মেলোনি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন। এর জেরে গত এপ্রিলে ইতালির একটি পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেলোনিকে কটাক্ষ করে ট্রাম্প বলেন, “আমি ভেবেছিলাম সে সাহসী। কিন্তু আমি ভুল ভেবেছিলাম।”   ট্রাম্প যখন পরে পোপ চতুর্দশ লিওকে নিয়ে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করেন, তখন মেলোনি সেই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন।   এদিকে ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মেলোনিকে ফোন করে তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেলা।   দেশটির বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির সেনেটর ফিলিপ্পো সেনসিও বলেছেন, “ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এমন অহংকারী সুরে কথা বলার অধিকার কারও নেই।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান চুক্তিতে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন সমীকরণ: লাভবান ইরান, উদ্বিগ্ন প্রতিদ্বন্দ্বীরা

ছবি: সংগৃহীত

‘ট্রাম্পের আগ্রহেই চুক্তি’, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতা নিয়ে খামেনির মন্তব্য

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান বাতিল, জানালেন ইসহাক দার

ছবি : সংগৃহীত
নতুন সমীকরণে সুবিধাজনক অবস্থানে ইরান, বাড়ছে প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া নতুন সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিতের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন ও ইরানি প্রেসিডেন্টের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়েছে। সমর্থকদের কাছে এটি ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’ হিসেবে বিবেচিত হলেও ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলো কাছে এটি উদ্বেগের কারণ।   বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে তিন মাসের যুদ্ধের অবসান ঘটে। জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ফ্রান্সের ভার্সাইয়ে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৪ দফার এই সমঝোতার আওতায় ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হয়েছে, যার মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত। এ সময়ের মধ্যে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা চলবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।   লেবাননের বিশ্লেষক সারকিস নাওমের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের জন্য এটি একটি বড় সমঝোতা, যার সফল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরান আর অর্থনৈতিক সংকট দীর্ঘায়িত করতে পারবে না, আবার ট্রাম্পও নতুন যুদ্ধ শুরু করতে আগ্রহী নন।   ইসরাইলের জন্য ধাক্কা ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ গবেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচ এই চুক্তিকে কৌশলগত ‘বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, যে অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল বা উৎখাত করা, সেটিই শেষ পর্যন্ত ইরানকে আরও বৈধতা দিয়েছে।   সিট্রিনোভিচ বলেন, ইসরাইলের প্রধান দাবিগুলোর কোনোটিই এই চুক্তিতে প্রতিফলিত হয়নি। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীগুলোর ওপর কোনো সীমাবদ্ধতা নেই, এমনকি পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলারও সুস্পষ্ট পথ নির্ধারণ করা হয়নি। এই চুক্তি ইরানকে আরও কৌশলগত সুযোগ দিয়েছে এবং একই সঙ্গে ইসরাইলকে আরও বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শক্তিশালী অবস্থানে ইরান বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তি কার্যকর থাকলে ইরান যুদ্ধের অবসান, ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ, তেল রপ্তানি পুনরায় বৃদ্ধি এবং পুনর্গঠনের জন্য বিপুল অর্থায়নের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থাও কার্যত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে।   অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যে লক্ষ্যগুলো ছিল—ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার পতন, পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস এবং আঞ্চলিক প্রভাব কমানো—তার কোনোটিই পুরোপুরি অর্জিত হয়নি বলে মনে করছেন সমালোচকরা।   চুক্তির ফলে লেবাননেও ইরানের প্রভাব আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তেহরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর অবস্থান আরও সুদৃঢ় হতে পারে এবং দেশটি বৃহত্তর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অংশ হয়ে উঠতে পারে। যদিও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন সম্প্রতি বলেছেন, যুদ্ধবিরতি বা দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের মতো বিষয়ে ইরান লেবাননের পক্ষে আলোচনা করতে পারে না। তবে হিজবুল্লাহ-ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনার ফলে লেবাননের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে, কারণ উভয় পক্ষই নিজেদের মিত্রদের ওপর প্রভাব খাটিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে।   উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ চুক্তি নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোতে। তাদের আশঙ্কা, এটি অঞ্চলে ইরানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করবে। উপসাগরীয় সূত্রগুলোর মতে, এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার ওপর আস্থা হারাতে পারে দেশগুলো এবং ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার পথ আরও জোরালো করতে পারে।   তবে ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক অ্যালেক্স ভাতানকা মনে করেন, বহু বছরের চাপ প্রয়োগের কৌশল ব্যর্থ হওয়ার পর এটি সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান। তার মতে, বৃহত্তর যুদ্ধ হলে উপসাগরীয় অঞ্চল কয়েক দশকের জন্য অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারত।   ‘বড় পরীক্ষা এখনও বাকি’ বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তি বাস্তবায়ন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনা এবং আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়াই নির্ধারণ করবে এই সমঝোতার প্রকৃত সাফল্য। তাদের ধারণা, পুরো প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তার জায়গা হতে পারে ইসরাইল। যদিও ট্রাম্পের পৃষ্ঠপোষকতায় এগোনো এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি ভণ্ডুল করার সম্ভাবনা কম, তবুও বিশেষ করে লেবানন ইস্যুতে নতুন উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে।   একজন ইরানি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যুদ্ধের পর ইসরাইল আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তার দাবি, ইরান তার লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং হিজবুল্লাহর মতো মিত্রদের ত্যাগ না করেই আলোচনায় অংশ নিয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সব বন্দর থেকে নৌযান চলাচলে অবরোধ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েল না থাকলে আমেরিকাও টিকত না : মার্কিন রাষ্ট্রদূত

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ছবি : সংগৃহীত

চুক্তি লঙ্ঘন হলে ফের হামলার হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

0 Comments